আমি বুঝলাম না। কোথায় তোমাদের আক্রমণ করা হয়েছিল?
আমরা এখানে অপেক্ষা করছিলাম। আমি দেখলাম ফারাও অধৈর্য হয়ে পড়লেন। পাথরের ওপাশ থেকে লর্ড নাজা কিছুক্ষণ পর শিষ বাজায়। তখন ফারাও ওঠে দাঁড়ালেন, চলো সৈন্যরা! তিনি আমাদের বললেন এবং পথ ধরে উপরে চলে যান।
তুমি কি তার কাছাকাছি ছিলে?
না, আমি সারির পিছনে ছিলাম।
পরে কি ঘটেছিল ও দেখেছিলে?
ফারাও বড় পাথরের ওপাশে অদৃশ্য হয়ে যান। তারপর চিৎকার শুনতে পাই এবং সেই সাথে যুদ্ধের আওয়াজ। আমি হিকস্দের কণ্ঠ শুনি এবং তীর ও বর্শা পাথরে গাঁথার শব্দ। আমি সামনের উদ্দেশ্যে দৌড়েছিলাম কিন্তু আমাদের লোক যারা পাথরের এপাশে বসে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তাদের দ্বারা পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ি।
গিল সামনে দৌড়ে গিয়ে তাকে দেখাল কিভাবে পথ সরু হয়েছে এবং লম্বা পাথরটার সামনে থামল। এই পর্যন্তই আমি গিয়েছিলাম। তখন লর্ড নাজা চিৎকার করে বলছিল যে ফারাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। আমার সামনে লোকেরা গাদাগাদি করেছিল এবং হঠাৎ-ই তারা আমি যেখানে দাঁড়ানো ছিলাম সেখানে রাজাকে বসিয়ে দেয়। আমি তখনই ভেবেছিলাম ফারাও মৃত।
হিকা কতো কাছাকাছি ছিল? তারা কজন ছিল? তারা কি অশ্বারোহী ছিল নাকি পদাতিক বাহিনী? তুমি তাদের চিনতে পেরেছিলে? টাইটা জানতে চাইল। হিকদের প্রতিটি দল আলাদা রকম রাজ চিহ্ন পড়ে থাকে যা মিশরীয় সৈন্যদের পরিচিত।
তারা খুব কাছে ছিল, গিল বলল। এবং তারা অনেক ছিল। কমপক্ষে এক স্কোয়াড্রেন।
কোন বাহিনী? টাইটা জোর দিল। তুমি কি তাদের পালক চিনতে পেরেছো?
প্রথম বারের মত গিলকে অনিশ্চিত দেখাল ও তার মুখ লজ্জানত হল। আমার লর্ড, আমি শত্রুদের উপর চোখ রাখিনি। তারা পাথরের পিছনে ওখানে ছিল।
তাহলে তুমি কি ভাবে তাদের শক্তি ও সংখ্যা জানলে? টাইটা ভ্রু-কুঁচকে জিজ্ঞেস করল।
লর্ড নাজা চিৎকার করছিল, গিল ভেঙ্গে পড়ল ও তার চোখ নামিয়ে নিল।
নাজা ছাড়া আর কেউ কি শত্রুদের দেখেছে?
আমি জানি না, সম্মানীয় ম্যাগোস। লর্ড নাজা আমাদের আদেশ দিয়েছিল রথের কাছে ফিরে যেতে। আমরা দেখলাম ফারাও খুব জখম হয়েছেন, হয়তোবা মৃত। আমাদের মন ভেঙে গিয়েছিল।
তুমি নিশ্চয়ই এটা পরে তোমার সাথীদের সাথে আলাপ করেছ। তাদের কেউ কি বলেছে যে তারা শত্রুদের দেখেছে? কিংবা তাদের কেউ কি তীর বা বর্শা দিয়ে কোন হিকত্সকে আঘাত করেছে?
গিল সন্দেহ ভরে মাথা নাড়ল। আমার মনে নেই। না, আমার তা মনে হয় না।
রাজা ছাড়া আর কি কেউ আঘাত পেয়েছিল?
কেউ না।
কেন তুমি এসব কাউন্সিলকে বলোনি? কেন তুমি বলোনি যে তুমি শত্রুদের দেখনি? টাইটা এখন রেগে গেল।
লর্ড নাজা আমাদের বলেছে শুধুমাত্র প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং বেশি কথা বলে কাউন্সিলের সময় নষ্ট না করতে আদেশ দিয়েছেন। গিল লজ্জায় কাঁধ কুঁজো করল। আমার যতোদূর মনে হয় যুদ্ধ না করে পালিয়ে যাওয়াটা আমাদের কেউ মেনে নিতে চায় নি।
লজ্জা পেয়ো না গিল। তুমি তোমাকে করা তোমার আদেশ পালন করেছে। দয়ার্দ্র কণ্ঠে টাইটা তাকে বলল। এখন এখানে পাথরের উপর ওঠো এবং চোখ খোলা রাখ। আমরা এখন হিকদের রাজ্যে। আমি বেশিক্ষণ থাকবো না। টাইটা ধীরে সামনে এগোল এবং বড় পাথরটার ওপাশে গেল যা রাস্তাকে আটকে রেখেছে। সে থামল ও সামনের মাটি ভালো করে পরীক্ষা করল। এদিক থেকে সে ওয়াচ টাওয়ারের ভাঙ্গা উপরের অংশটা দেখতে পেল। রাস্তাটা ওদিকে চলে গেছে। তারপর তা খাঁজের চূড়ার ওধারে হারিয়ে গেছে যা ভালোই খোলামেলা। হিক সৈন্যদের জন্য তা যথেষ্ট নয়। মাত্র কিছু পাথরের টুকরো ও সূর্যে পোড়া কিছু কন্টক বৃক্ষ সেখানে রয়েছে শুধু। তখন তার মনে পড়ল ঘটনাটা রাতে ঘটেছে। কিন্তু কিছু একটা তার খটকা লাগাল। টাইটা ক্ষতির একটা অস্পষ্ট আভাস অনুভব করল, তার মনে হল যেন কোন শক্তিশালী শত্রু তাকে দেখছে।
এই অনুভূতি এতো জোরালো যে সে সূর্যালোর মধ্যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল এবং চোখ বন্ধ করল। সে তার মন ও আত্মাকে খুলল, যা শুকনো স্পঞ্জ-এর মত হয়ে চার পাশের বাতাস থেকে যে কোন প্রভাব বোঝার চেষ্টা করল। প্রায় তৎক্ষণাৎ তার অনুভব আরো জোরালো হল যে এখানে কোন ভয়ংকর কিছু রয়েছে এবং শয়তানের দৃষ্টিটা সামনেই কোথা থেকে আসছে, তার থেকে বেশি দূরে নয়। সে চোখ খুলল এবং ধীর হেঁটে ওদিকে গেল। ওখানে দেখার কিছু ছিল না শুধু গরম পাথর ও কণ্টক ছাড়া কিন্তু এখনও সে গরম বাতাসে অশুভ কিছুর গন্ধ পাওয়া যচ্ছে। ক্ষীণ কিন্তু পচা-মাংস খেকো বন্য কোন প্রাণীর নিঃশ্বাসের ন্যায়।
সে থামল ও শিকারী কুকুরের মতো নাক কুঁচকালো এবং সাথে সাথে বাতাসটা ধুলোময় ও শুষ্ক লাগলো কিন্তু পরিষ্কার। যা তার কাছে প্রমাণ করে যে পলায়নপর গন্ধটি স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কিছু। সে নারকীয়তার একটা ক্ষীণ প্রতিধ্বনি ধরতে পারল যা এই জায়গায় সংগঠিত হয়েছিল। কিন্তু যখন সে নিখুঁতভাবে তা খুঁজতে গেল তখন সব অদৃশ্য হয়ে গেল। সে এক কদম সামনে এগোল, তারপর আরেক কদম এবং আরেকবার অসহ্য দুর্গন্ধটা তার নাকে এসে ধাক্কা দিল। আরেক কদম এবং এখন গন্ধটার সাথে গভীর দুঃখের একটা অনুভূতি যোগ হল যেন সে অমূল্য কোন কিছু হারিয়ে ফেলেছে যার অভাব অন্য কিছু দিয়ে পূরণ হবার নয়। সে নিজেকে জোর করে, বলতে গেলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাথুরে রাস্তাটায় আরেক পদক্ষেপ এগিয়ে নিল এবং মুহূর্তেই কিছু একটা তাকে জোরে আঘাত করল যা তার ফুসফুস থেকে বাতাস বের করে দিল। সে যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল এবং হাঁটুর উপর বসে পড়ল, বুক চেপে ধরল, তার দম নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এটা ভীষণ যন্ত্রণার, মৃত্যু যন্ত্রণা এবং সে তার সাথে যুদ্ধ করতে লাগল। যেন একটা কোবরা–যে তাকে পেঁচিয়ে ধরেছে। সে কোনরকমে রাস্তায় ফিরে এল এবং তখন সাথে সাথে ব্যথাটা চলে গেল।
