তুমি আবার উপাধিটা ব্যবহার করলে। আমাকে বল কেন।
যেহেতু আপনি আদেশ করলেন, মহামান্য, আমি আপনাকে সব বলব। মহান অশিরিশ তাঁর ভয়ংকর মহিমার সর্বোচ্চ পর্যায় আরোহণ করলেন এবং আপনাকে সিংহের পিঠ থেকে নামিয়ে তার পাশে আগুন ও স্বর্ণের সিংহাসনে বসালেন, তিনি আপনার মুখ ও হৃদপিন্ড স্পর্শ করলেন এবং স্বর্গীয় ভাই বলে সম্বোধন করলেন।
তিনি আমাকে স্বর্গীয় ভাই বলেছেন? এটা দিয়ে প্রভু কি বুঝিয়েছেন?
টাইটার রাগ হল। নাজা সবসময়ই একজন চালাক, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও অনুভূতি প্রবণ মানুষ। তাকে অযথা সব ব্যাখ্যা করে বলা দরকার নেই। টাইটার যাদুর মশরুমের শরবত এবং ধূয়া যা গতরাতে টাইটা যা তার উপর চালনা করে ছিল তার বেশ এখনো কাটেনি। তার মাথা পরিষ্কার হতে আরো কয়েকদিন লাগবে। আমাকে খুব ভালো বর্ণনা দিতে হবে, সে সিদ্ধান্ত নিল এবং বলে গেল, আমি নিজেও দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম তার কথায়। অর্থটা আমার কাছেও স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু তারপর মহান প্রভু আবার কথা বললেন; আমি আপনাকে দেবতাদের স্বর্গীয় মন্দিরে স্বাগত জানাই, স্বর্গীয় ভাই।
নাজার চেহারা পরিষ্কার হল এবং তার অভিব্যক্তিতে গর্বিত ও জয়ীভাব ফুটে উঠল। আমাকে তিনি কি দেবত্ব দান করেনি, টাইটা? নাশত এটা ছাড়া তার আর কোন অর্থ নেই।
যদিও সন্দেহ ছিল তাও তিনি দ্রুত দূরে করে দিলেন। কারণ অশিরিশ উচ্চ ও নিম্ন মিশরের দ্বৈত মুকুট নিলেন এবং আপনার মাথায় স্থাপন করলেন এবং আবার বললেন, জয়, স্বর্গীয় ভাইয়ের। জয়, যে ফারাও হবে। নাজা চুপ করে রইল কিন্তু জ্বলজ্বল চোখে টাইটার দিকে চেয়ে রইল। অনেকক্ষণ পর টাইটা বলল, মাথায় মুকুট সহকারে আপনার পবিত্রতা প্রকাশ পেল। আমি আপনার সামনে হাঁটুগেড়ে বসলাম এবং অন্য প্রভুদের সাথে পূজা করলাম।
নাজা তার আবেগ লুকানোর কোন চেষ্টা করল না। সে স্বপ্নের আকাশে উড়তে লাগল। সে বিমোহিত হয়ে গেল। টাইটা সুযোগটা নিল। তারপর অশিরিশ আবার কথা বললেন, তোমার সব কাজে তোমার পথপ্রদর্শক হবে বৃদ্ধ জ্ঞানী টাইটা কারণ সে জাদুকর ও আমন-রা এর অধিকারী। বিশ্বস্ততার সাথে তার নিদের্শনা অনুসরণ করবে এবং যতো উপহার দেব বলেছি সব তোমার হবে।
সে নাজার প্রতিক্রিয়া দেখল। সে এটা কি বেশি নির্দিষ্ট করে ফেলল কিন্তু সে অবাক হল নাজা কোন বাধা ছাড়াই তা মেনে নিল।
আর কি টাইটা? প্রভু আমাকে আর কি বলেছেন?
আপনাকে আর কিছু বলেনি কিন্তু তিনি তারপর আমাকে সরাসরি বললেন। তার কথাগুলো আমার আত্মায় গিয়ে বিধল কারণ তিনি আমার উপর গুরুদায়িত্ব অর্পণ করলেন। তার কথা যার প্রতিটি শব্দ আগুনের মত আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে।
টাইটা, ধাঁধার অধিকারী, আপনার আর কোনো ভালোবাসা, আনুগত্য ও দায়িত্ব নেই। আপনি আমার রাজকীয় ও স্বর্গীয় ভাই নাজার দাস। আপনার একমাত্র কাজ তাকে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করা। যতোক্ষণ না আপনি তার মাথায় উচ্চ ও নিম্ন রাজ্যের দ্বৈত মুকুট দেখবেন ততোক্ষণ আপনি থামবেন না।
অন্য কোন আনুগত্য বা ভালোবাসা, নাজা নরম স্বরে বলল। তার মনে হল। তাকে অগ্নি পরীক্ষার সবচাইতেও খারাপ অবস্থায় ফেলা হল। তার শক্তি ফিরে আসছে এবং তার পরিচিত চতুর আলো তার হলুদ চোখে জোরালো হল। এবং তুমি কি তোমার সে দায়িত্ব গ্রহণ করেছ যা তোমার উপর ন্যস্ত হয়েছে, টাইটা? সত্য কথা বল, তুমি কি এখন আমার লোক নাকি তুমি মহান পিতাকে অস্বীকার করেছো?
কিভাবে আমি মহান প্রভুকে ফিরিয়ে দিতে পারি? টাইটা স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করল। সে তার মাথা নামাল ও কপাল ডেকের উপর রাখল। দুই হাতে সে নাজার খালি ডান পা নিল ও তার নিজের মাথার উপর স্থান দিল। প্রভু আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি তা গ্রহণ করেছি। আমি আপনার লোক স্বর্গীয় মহামান্য। হৃদয় ও মাথা ও আত্মা, সর্বত্র আমি আপনার।
তোমার অন্য দায়িত্বের কি হবে? ফারাও নেফার সেটির জন্মের সময় যে ওয়াদা করেছিলে তার কি হবে এবং এমন কি তুমি তার রাজ অভিষেকের দিনটিতে যা করেছো?
মহান প্রভু অশিরিশ আমাকে পূর্বের সব দায়িত্ব থেকে অবসর দিয়েছেন। আপনার কাছে যে ওয়াদা করেছি সেটা ছাড়া অন্য শপথের কোন অর্থ আমার কাছে আর নেই।
নাজা তাকে উঠাল এবং তার চোখে তাকিয়ে রইল, সেখানে মিথ্যা ও প্রতারণার চিহ্ন খুঁজল। টাইটা শান্তভাবে তার দিকে তাকাল, সে রাজ-প্রতিভূর সন্দেহ, আশা ও সংশয় বুঝল যা ঝুরির মধ্যে রাখা ইঁদুরের মতো জড়াজড়ি করে আছে, যা বাজপাখির খাদ্য হবার অপেক্ষায়। পিতার ইচ্ছাই কর্ম, টাইটা ভাবল। সে নিজেকে বিশ্বাস করাবে, কারণ সে তা চায়।
ঐ হলুদ চোখগুলোতে সন্দেহ দূর হতে সে দেখল এবং নাজা তাকে জড়িয়ে ধরল। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। আমি যখন দ্বৈত মুকুট পরব তখন তুমি তোমার আশা বা কল্পনার চাইতেও বেশি পুরস্কৃত হবে।
*
ঐ দিন থেকে নাজা টাইটাকে তার কাছাকাছি রাখল এবং বৃদ্ধ মানুষটি তার বিশ্বস্ত তা অর্জনের মাধ্যমে নিজের নতুন পদকে কাজে লাগিয়ে রাজ-প্রতিভূর কিছু অঘোষিত উদ্দেশ্য বদলে দিতে লাগল। নাজার কথায় টাইটা পূর্ব লক্ষণগুলোকে আরেক বার যাচাই করে দেখল। সে একটা ভেড়া জবাই করল এবং ওটার নাড়িভূড়ি, যা রাজপ্রাসাদ থেকে একটা বাজপাখি ছাড়তেই তা নিয়ে উড়াল দিল এবং তারা তার চলে যাওয়ার দিকটা দেখল। এসব থেকে সে নিশ্চিত করল যে প্রভু রাজকন্যাদের সাথে নাজার বিয়ের অনুমতি দেননি যতক্ষণ না অন্তত পরবর্তী নীলের বন্যা শুরু হয় অথবা নিশ্চিতভাবে বন্যা না হয়। নাজা ঝুঁকি নিতে পারবে না, তাহলে ওটা দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। মিশরের জীবন মহান নদীর বন্যার উপর নির্ভর করে। এই ভবিষ্যৎ বাণী দিয়ে টাইটা নেফারের বিপদ ও রাজকন্যাদের জ্বালা-যন্ত্রণা দেরি করাল।
