নাজা অশিরিশের একজন ভক্ত এবং তার অভিব্যক্তি স্থির ছিল। টাইটা জানে যে সময় ও স্থান সে পছন্দ করছে তার দ্বারা নাজা প্রভাবিত হবে। যেমনটি আপনার ইচ্ছে, নাজা সম্মত হল।
*
রাজকীয় নৌকা যোগে বুশিরিসে যেতে দুদিন সময় লাগল এবং আসমরের বাহিনী চারটা নৌযানে করে তাদের অনুসরণ করল। মন্দিরের শূন্যের হলুদ সমুদ্রতীরে তারা নামল এবং যাজকেরা স্তুতিগান ও সুগন্ধি নিয়ে রাজ-প্রতিভূকে স্বাগতম জানাতে অপেক্ষা করছিল। রাজ প্রতিভূর সুগন্ধি প্রিয়তার খবর রাজ্যব্যাপী সবার জানা। তাদের জন্য প্রস্তুত কোয়ার্টারে তাদের নিয়ে যাওয়া হল। নাজা গোসল করে সুগন্ধি মাখল এবং ফল ও শরবত খেয়ে সতেজ হল। টাইটা প্রধান যাজকের সাথে মন্দিরের বেদী পরিদর্শন করল ও মহান প্রভু অশিরিশের উদ্দেশ্য বলী দিল। পরে টাইটার পরামর্শে প্রধান যাজক চলে গেল এবং তাকে তার সান্ধ্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্যে একা রেখে গেল। অতীতের ধাঁধা অনুশীলনের সময় যে কয়জন জীবিত ব্যক্তি বর্তমান আছে তাদের মধ্যে লর্ড নাজা কখনো ছিল না। তাই টাইটা ঠিক করল তাকে সন্তুষ্ট করতে অভিনয় করবে, প্রকৃত নিয়ম ও রীতিতে নিজেকে নিঃশেষ করার কোন ইচ্ছা টাইটার নেই।
সূর্য ডোবার পর প্রধান যাজক রাজ-প্রতিভূকে ভোজ দিল। তার সম্মানে সে মন্দিরের চারপাশে জন্মানো আঙ্গুরের ক্ষেত থেকে তৈরি বিখ্যাত আঙুর মদ পরিবেশন করল। এই বুশিরিসেই মহান প্রভু অশিরিশ মিশরে প্রথম আঙুর পরিচয় করান। মদ পান করতে করতে যাজকরা মহান প্রভুর জীবন কাহিনী নাটকীয় ভঙ্গিমায় ক্রমান্বয়ে অভিনয় করে দেখাল। একেকটি অশিরিশ মূর্তি একেক রঙের ছিল, কোনটা মৃতের ন্যায় সাদা, কোনটা কালো, কোনটাবা লাল। তবে প্রতিটির চেহারায় সব সময় এক শোষকের ভাব বজায় ছিল। শেষ অংকে শাক-সবজির প্রতীক সবুজ রং ধারণা করল। মিলেট, যে শস্য এখন মিশরীয়রা খায়, যা জীবনের প্রতীক। তারপর অশিরিশকে মাটির শূন্যে কবর দেওয়া হয় যা মৃত্যুর প্রতীক। তারপর পরকালের অন্ধকার রাজ্যে সে মিলেট বীজের ন্যায় অংকুরিত হল এবং এরপর অনন্ত জীবনে নিয়ে উপরে উঠে আসল। তখন প্রধান যাজক প্রভুর শক্তির নাম জপল: রাতের চোখ, অনন্ত শ্রেষ্ঠ জীব, গেবের পুত্র এবং ওয়েনেফার, শ্রেষ্ঠ মহানুভব।
ধূপ জ্বেলে, ড্রাম বাজিয়ে যাজকেরা প্রভু ও শয়তানের যুদ্ধ কাহিনী একে একে বর্ণনা করে গেল। কিভাবে সেথ তার ভালো ভাই অশিরিশকে শত্রুতাবশত পর্বত চূড়ায় বন্দি করে রেখেছিল এবং নীলে নিক্ষেপ করেছিল ডুবে মরার জন্য। যখন তাঁর মৃত দেহ নদীর তীরে ভেসে এল তখন সেথ তা টুকরো টুকরো করল এবং বিভিন্ন স্থানে পুঁতে দিল। এখানে এই বুশিরিসে তার মেরুদন্ড লুকিয়ে ছিল। তারপর তাদের বোন আইসিস তার দেহের সব অংশ খুঁজে বের করে একত্রিত করে এবং তারপর তার সাথে মিলিত হয় এবং নিজের পাখা দ্বারা বাতাস দিয়ে তাঁকে নিঃশ্বাস দিয়ে জীবন ফিরিয়ে দেয়।
মধ্যরাতের অনেক আগেই মিশরের রাজ-প্রতিভূ মদের নেশায় বুঁদ হয়ে গেল। যখন পূর্ণ চাঁদের রূপালি আলো ছাদের ফোকর দিয়ে প্রবেশ করল প্রধান যাজক সবাইকে হাত দিয়ে ইশারা করল এবং নাজা ও টাইটা ছাড়া সবাই প্রস্থান করল।
যাজকদের গান যখন আর শোনা গেল না, তখন টাইটা রাজ-প্রতিভূকে হাত ধরে নিয়ে চলল এবং চাঁদের আলোয় গোপন কুঠরীতে নিয়ে গেল। তারা দরজায় কাছে পৌঁছতেই তা আপনা-আপনি খুলে গেল। লর্ড নাজা হয়তো পিছু হটতো কিন্তু টাইটা তাকে সামনে নিয়ে চলল।
ঘোট কুঠরীটির এক কোনে রাখা মশালের আলোয় ঘরটি আলোকিত, মেঝের ঠিক মাঝখানে নিচু একটা টুল রাখা। টাইটা নাজাকে তার নিকট নিয়ে গেল ও ইশারায় বসতে বলল। সেখানে সে বসতেই পিছনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল এবং লর্ড নাজা ভয়ে চারদিক তাকাতে লাগল। সে দাঁড়িয়ে যেতে উদ্যত হতেই টাইটা তার কাঁধে হাত রেখে তাকে তা থেকে বিরত করল। যাই আপনি দেখবেন কিংবা শোনবেন তখন নড়বেন না। কোন কথা বলবেন না। যদি জীবনের প্রতি আপনার মায়া থাকে কিছু করবেন না। কিছু বলবেন না।
টাইটা তাকে বসিয়ে রাখল এবং রাজকীয় ভঙ্গিমায় প্রভুর মূর্তির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। সে তার হাত উঠাল এবং যাদু বলে হঠাৎ একটা সোনার পানপাত্র আনল, যা থেকে ধূয়া উদ্গরিত হচ্ছিল। সে তা উঁচু করে ধরল এবং অশিরিশকে পাত্রটার মধ্যে আশীর্বাদ দিতে বলল। তারপর নাজার নিকট এনে তা তাকে পান করতে বলল। পানীয়টা ছিল মধু, মাশরুম ও গোলাপের পাপড়ির তৈরি। টাইটা হাত তালি দিতেই পাত্রটা আবার গায়েব হয়ে গেল।
তারপর সে খালি হাতটা নাজার সামনে এনে ধরল এবং যাদু কসরতের মতো করে তা নাজার মুখের সামনে দুলাতেই চোখের পলকে আমন-রা-এর ধাঁধা তার হাতে চলে এল। টাইটা তাকে তা তার নিজ হাতে ঢেকে দিতে বলল, এবং সে আমন-রা-এর মন্ত্র পড়তে লাগল। আলো ও আগুনের মহান অধীশ্বর, স্বর্গীয় মহানুভবতায় জাগ্রত, আসুন এবং আমাদের আবেদন শুনুন।
ধাঁধাটা তার স্পর্শে গরম হতেই নাজা টুলের উপর ঝিমুতে লাগল এবং তা টাইটার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সে স্বস্তি পেল। বৃদ্ধ লোকটি যখন ধাঁধাগুলো নিয়ে ঘরটির মধ্য দিয়ে হেঁটে বিশাল মূর্তির পায়ের কাছে রাখছিল তখন সে খুব ঘামছিল। টাইটা হাঁটুগেড়ে বসে প্রণাম করল। কিছু সময়ের জন্য সেখানে অগ্নি শিখার হিসহিস আওয়াজ ছাড়া আর কোন শব্দ শুনা গেল না; এবং ছায়ার নড়া-চড়া ছাড়া আর কোন নড়াচড়া ছিল না, যা দেয়ালের উপর মশালের আলোয় সৃষ্টি হয়ে নাচছিল। তারপর হঠাৎ কক্ষটির ভেতর এক ভয়ানক আওয়াজ হল। এমন আওয়াজ যেন আবার প্রভুর দেহটা তার শয়তান ভাই কর্তৃক ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। নাজা গোঙানির মত আওয়াজ করল ও শাল দিয়ে মাথা ঢাকল।
