মেরিকারার নিতম্ব সরু ও বুক পুরুষালী ধরনের। কিন্তু হেজারেট এর দেহে নারীত্বের ভাবটা স্পষ্টত। তার বুক স্ফীত আর নিতম্বটাও ভারি।
ফারাও সিঁড়ি বেয়ে উঠে তার রাজকীয় বাহনে আসন নিল। লর্ড নাজা ডান পাশে দাঁড়াল ও রাজকন্যারা তার পায়ের কাছে বসল।
যাজকদের সঙ্গিরা যারা থেবস্ এর ৫০টি বিভিন মন্দির থেকে এক জন করে এসেছে আগে চলতে চলতে তারা বাঁশি, ঢোল-ডাগর, হর্ন বাজাতে লাগল ও প্রভুদের সম্মানে গান গাইতে লাগল। আসমরের বডি গার্ডরা যাত্রায় তাদের অবস্থান নিল এবং তারপর এল হিলটোর রথের বহর, সবগুলো সরু পতাকা ও ফুল দিয়ে সাজানো এবং ঝকঝক করছিল। ঘোড়াগুলোর চামড়া টান টান করা হয়েছে এবং তাদের শরীর মূল্যবান ধাতুর ন্যায় চমকাচ্ছিল এবং তাদের কেশর পাজরের উপর বিনুনি করে রাখা। এঁড়ে বাছুরগুলো নিখুঁত সাদা, তাদের কুজগুলো লিলি ও ওয়াটার হাইয়াচিন দিয়ে সাজানো হয়েছে। তাদের দীর্ঘ প্রসারিত শিংগুলো এবং এমন কি তাদের খুরগুলোও স্বর্ণের পাত দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। এগুলোর চালকেরা হল বিবস্ত্র নুবিয়ান দাস। তাদের দেহ ও শরীর থেকে প্রতিটি লোম তুলে ফেলা হয়েছে। তাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত দামী তেল মাখা হয়েছে, যাতে তারা সূর্যের আলোতে চমকায়, কালো দেখায়–সেথের চোখের ন্যায়–যা তাদের এঁড়ে বাছুরের সাদা চামড়ার সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা দলটাকে তাড়া দিল এবং এঁড়ে বাছুরগুলো ধুলার মধ্য দিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে চলল। তাদের পিছনে দশ হাজার ফেট গার্ড যোদ্ধা এক সাথে প্রশংসায় গান গেয়ে উঠল। থেবসের জনগণ তাকে স্বাগত জানাতে শহরের প্রধান ফটক খুলে দিল এবং দেয়ালের উপরে পর্যন্ত সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল। বাইরের এক মাইল পর্যন্ত ধুলোর রাস্তা তারা পাম পাতা, খড় ও ফুল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।
থেবসের দেয়াল, টাওয়ার ও ভবনগুলো রোদে পোড়া ইট দিয়ে তৈরি পাথরের টুকরাগুলো সমাধি ও মন্দির তৈরির জন্যে সংরক্ষিত। নীলের উপত্যকায় কদাচিৎ বৃষ্টি হয় তাই এসব জিনিস নষ্ট হবার কোন সম্ভাবনা নেই; মাত্র সবকিছু চুনকাম করা হয়েছে এবং ট্যামোস হাউজের আকাশি রঙের ব্যানার টানানো হয়েছে।
নাচ-গানে মশগুল লোকদের নিয়ে শোভাযাত্রাটি প্রধান ফটক দিয়ে শহরে প্রবেশ করল। তারা আনন্দে কাঁদছিল; সরু রাস্তাটা পূর্ণ হয়ে গেল। ফলে রাজকীয় বহরটার গতি বিশাল কচ্ছপের ন্যায় শ্লথ হয়ে পড়ল। যাত্রা পথে প্রতিটি মন্দিরে রাজকীয় যান দীর্ঘক্ষণ যাত্রা বিরতি করল এবং ফারাও প্রভুদের উদ্দেশ্যে বলী দিতে নামল।
নদীর তীরবর্তী ডকে পৌঁছবার পূর্বেই বিকেল হয়ে গেল এবং সেখানে ফারাও এর দলকে নদী পার করে পশ্চিম তীরের মেমননের প্রাসাদে পৌঁছে দিতে ফেরি অপেক্ষা করছিল। তারা চড়তেই ২০০ বৈঠা চালক দ্রুত প্যাডল চালাল। ড্রাম বাজিয়ে ছন্দ তুলল এবং বড় সারস পাখির ন্যায় ডানা মেলে তারা এগিয়ে চলল।
দাঁড়-টানা নৌকাটা আরো অসংখ্য ছোট ছোট নৌকা সহযোগে সূর্যের শেষ আলোতে নদী পার হল। এমনকি যখন তারা পশ্চিম তীরে পৌঁছল তখনও রাজার প্রথম দিনের দায়িত্ব শেষ হয়নি। অন্য একটি রাজকীয় বাহন তাকে জনগণের মধ্য দিয়ে তার পিতা, ফারাও ট্যামোস এর শেষ কৃত্যের মন্দিরে নিয়ে গেল।
উঁচু সড়কে তারা উঠার পূর্বেই অন্ধকার নামল। দুই পাশে আগুন জ্বেলে আলোকিত করা হল এবং রাজকোষ থেকে দেওয়া বিয়ার ও ওয়াইনে জনগণ নিজেদের ভাসিয়ে দিচ্ছে।
যখন ফারাও ট্যামোসের মন্দিরে নামল এবং তার পিতা ও তার রক্ষক হুরাসে বিশাল মূর্তির মাঝের সিঁড়ি দিয়ে উঠল তখন জনগণের চিৎকারে তার কানে তালা লাগার উপক্রম। হুরাসের স্বর্গীয় ১০০ টা রূপের প্রতিটি মূর্তি-বাচ্চা হারপোক্রাটেস রূপে, এক পাশে চুল ও একটা আঙ্গুল মুখে দেওয়া; আইসিস-এর দুগ্ধ পান রত অবস্থায় কিংবা ফুটন্ত পদ্মফুলে বসা, অথবা বাজপাখির মাথা বিশিষ্ট ইত্যাদি। রাজা ও প্রভু মনে হল যেন এক হয়ে গেছে।
লর্ড নাজা ও যাজকেরা বালক ফারাওকে লম্বা কাঠের ফটক দিয়ে দুঃখের কক্ষে নিয়ে গেল, ঐ পবিত্র স্থানটায় যেখানে ট্যামোস-এর মমি পাথরের আয়তকার কালো বেদীর উপর শায়িত। অন্য কক্ষের দেয়ালে কবর রক্ষক দেবতা আনুবিস এর কালো মূর্তি পাহারারত। পাশেই মুক্তার ন্যায় অ্যালাবাসটারের স্বচ্ছ জারে ফারাও-এর হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও নাড়িভূড়ি রাখা রয়েছে।
বিপরীত দিকের দ্বিতীয় প্রকোষ্ঠে স্বর্ণে আবৃত শবধান রাজ-শব গ্রহণ করতে প্রস্তুত। কফিনের ঢাকনা ফারাও-এর একটা চিত্রকর্ম বহন করছে যা এতো জীবন্ত যে তা দেখে নেফারের হয় মুড়ে উঠল, মনটা দুঃখে ভরে গেল এবং তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। অশ্রু মুছে সে যাজকদের অনুসরণ করে যেখানে ঘরটার মধ্যখানে তার পিতার দেহ শায়িত সেখানে এল।
লর্ড নাজা বেদীর অন্য পাশে নেফারের মুখোমুখি অবস্থান নিল এবং প্রধান পুরোহিত মৃত রাজার মাথার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। যখন সবাই মৃত রাজার মুখ খোলার জন্যে প্রস্তুত হলো দুজন পুরোহিত লিনেনটা যা দ্বারা শবটা ঢাকা ছিল তা এক পাশে সরাল এবং নেফার অজান্তেই তার পিতার দিকে চেয়ে গুটিসুটি মেরে গেল।
আর মৃত্যুর পর সপ্তাহ জুড়ে, যখন নেফার ও টাইটা মরুভূমিতে ছিল, মমি কররা রাজার দেহ নিয়ে কাজ করেছে। প্রথমে তারা লম্বা হাতওয়ালা একটা চামচ তার নাক দিয়ে ঢুকিয়ে মাথার খুলির মধ্য থেকে মগজ বের করে নিয়েছে। এরপর তারা তার চোখ খুলে নিয়েছে যা সহজেই পচন ধরে, এবং অক্ষি কোঠর ও খুলির গহ্বর ন্যাট্রোন লবণ ও সুগন্ধি হার্ব দ্বারা পূর্ণ করে দেয়। তারপর তারা মাথা উপরের দিকে দিয়ে মৃত দেহটাকে ঘন লবণের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে এবং ত্রিশ দিন এভাবে রেখেছে ও প্রতিদিন ক্ষারের দ্রবণ পরিবর্তন করেছে। ফলে চর্বি শুষে চামড়া শক্ত হয়। শুধুমাত্র চুল ও মাথার চামড়াটা অপরিবর্তিত থাকে।
