সে তার একটা অভিলাষ পুরোপুরি বুঝল এবং হঠাৎই বুঝল নাজা তার কাছে কি চায়। জ্ঞান তাকে শক্তি দিয়েছে এবং একটা অবরুদ্ধ শহরের দরজার মতো তা তার সামনে উন্মোচিত হল।
হাজার বছর ধরে সকল রাজা ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা অনন্ত জীবনের রহস্যের খোঁজ করেছেন। সে নরম সুরে বলল।
সম্ভবত একা একজন মানুষই তা পেয়েছে, নাজা ব্যাকুলভাবে কুনুই তার নিজের হাঁটুর উপর রেখে সামনে ঝুকল।
আমার লর্ড, আমার মত বৃদ্ধ মানুষের জন্য প্রশ্নটা খুবই গভীর, দুশ বছর অনন্ত জীবন নয়। টাইটা অসম্মতি সূচকভাবে হাত ছড়াল কিন্তু চোখ নামিয়ে নিল যাতে নাজা তা বুঝতে পারে। দ্বৈত মুকুট ও অনন্ত জীবন, সে ভাবল এবং মনে মনে হাসল যদিও তা বাইরে প্রকাশ করল না। এই প্রতিভূর চাওয়টা অল্প ও সাধারণ।
নাজা সোজা হল। আমরা এ গভীর ব্যাপারে অন্য সময় কথা বলব। তার হলুদ চোখে বিজয়ের আলো। কিন্তু এখন আপনাকে আমি অন্য কিছু জিজ্ঞেস করব। এটা আমার সম্বন্ধে ভালো ধারণা প্রমাণ করার বলতে পারেন আপনার একটা সুযোগ। সেই সাথে সঙ্গতভাবে আপনি আমার অসীম কৃতজ্ঞতাও পেতে পারেন। সে বান মাছের ন্যায় ঘুরল। টাইটা ভাবল, একদা আমি তাকে নীরস মাটির-পিন্ড সৈন্য মনে করতাম। আমাদের সবার কাছ থেকে প্রদীপের আলো লুকিয়ে রাখার মত শক্তি তার আছে। সে জোরে সহজভাবে শুধু বলল, যদি তা আমার ক্ষমতার মধ্যে হয়, আমি ফারাও-এর রাজ-প্রতিভূকে কিছুই অস্বীকার করব না।
আপনি একজন আমন-রা ধাঁধার অধিকারী। নাজা নিশ্চিয়তা নিয়ে বলল যা অস্বীকার করার যা কোন পথ নেই।
আরো একবার টাইটা লোকটার মাঝে উচ্চাশার ছায়াময় গভীরতা দেখল। শুধুমাত্র মুকুট-ই নয় অনন্ত জীবনও সে চায়! সে তার ভবিষ্যৎটাও জানতে চায়। টাইটা অবাক হল কিন্তু অনুগতভাবে মাথা নাড়ল ও বলল, আমার লর্ড আমি সারাজীবন রহস্য অনুসন্ধান করেছি এবং সম্ভবত খুব অল্পই আমি শিখেছি।
আপনার পুরো দীর্ঘ জীবনে, নাজা জোর দিয়ে বলল, এবং আপনি অনেক কিছু জেনেছেন?
টাইটা মাথা নামাল ও চুপ রইল। কেন আমি ভেবেছি যে সে আমাকে হত্যা করবে? টাইটা নিজেকে প্রশ্ন করল। সে আমাকে তার নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করবে কারণ সে যা বিশ্বাস করে তা আমার হাতের মুঠোয়, অমরত্বের চাবি।
টাইটা; রাজা ও প্রভুদের প্রিয়জন, আমি চাই আপনি আমার জন্যে আমন-রা এর ধাঁধা অনুশীলন করেন।
আমার লর্ড, আমি কোন রানী বা ফারাও অথবা এমন কেউ যে মিশরের সিংহাসনের বসবে না এমন কারো জন্যে আমি কখনো ধাঁধা অনুশীলন করি নি।
তবে এখন ঐ রকম একজন আপনাকে বলছে, নাজা খুব জোর দিয়ে বলল।
মহান হুরাস তাকে আমার নিকট এনে দিয়েছেন। আমি তাকে আমার হাতে পেয়েছি, টাইটা ভাবল এবং বলল, আমি ফারাও এর রাজ-প্রতিভূ-র ইচ্ছা মাথা পেতে গ্রহণ করলাম।
আজ থেকেই কি আপনি আমার জন্যে ধাঁধা অনুশীলন করা শুরু করবেন? আমি প্রভুদের ইচ্ছা জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। নাজার সুন্দর মুখটা উত্তেজনা ও লোভে জীবন্ত হয়ে উঠল।
কেউ-ই ধাঁধায় হালকা ভাবে ও সহজে প্রবেশ করতে পারে না, টাইটা আপত্তি করল। সেখানে অনেক বিপদ, শুধু তা আমার জন্যই নয় বরং তার জন্যও যে এই অলৌকিক কাজের জন্যে অনুরোধ করে। ভবিষ্যৎ যাত্রার জন্যে প্রস্তুত হতে সময় লাগবে।
কতটা সময়? নাজার কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা ঝরে পড়ল।
টাইটা তার কপালে গভীর চিন্তার বলিরেখা ফুটিয়ে তুলল। টোপটা গিলতে তাকে কিছু সময় দাও, টাইটা ভাবল। এটা তাকে টোপটা গিলতে আরো ব্যাকুল করে তুলবে। অবশেষে সে চোখ তুলে তাকাল। অ্যাপিস উৎসবের প্রথম দিন।
*
পর দিন সকালে যখন সে তার বড় তাবু থেকে বের হল তখন গতকালের বস মরুদ্যানে প্রবেশ করা ধুলোয় আচ্ছাদিত ও গন্ধময় অদ্ভুত ভূষণ থেকে ফারাও সেটি তার আসল রূপে ফিরে এল। রাজকীয় ব্যক্তিত্ব যা তার সঙ্গীদের আতঙ্কিত করে থাকে তা দ্বারা সে নাপিতদের তার মাথা ন্যাড়া করা থেকে বিরত রেখেছে। পরিবর্তে তার কালো কোঁকড়া চুলে শ্যাম্পু করা হয় ও যতক্ষণ না তা প্রভাতের সূর্যালোকের ন্যায় কপিল বর্ণের মতো জ্বলজ্বল করতে লাগল ততোক্ষণ তা আঁচড়ানো হল। মাথার উপর সে নেবেত, শকুন দেবী এবং নাজা, কোবরাটার মুকুট পরিধান করেছে। লাল ও লাল রঙের কাঁচের চোখ দিয়ে তার কপালের উপর তা জোড়া লেগেছে। চিবুকের উপর রাজত্বের নকল দাড়িও সে লাগিয়েছে। তার মেক-আপটা দক্ষতার সাথে করা হয়েছে যাতে তার সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায় এবং লোকজন যারা তাঁবুর সামনে অপেক্ষা করছিল তারা প্রশংসা ও ভয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল এবং মাথা নিচু করে সম্মান জানাল। তার নকল আঙুলের নখগুলো স্বর্ণের তৈরি এবং পায়ে চটিটাও স্বর্ণের। বুকে সে ধারণ করে আছে মিশরের মুকুটের সবচাইতে মূল্যবান পাথরের একটা: ট্যামোসের চিত্র খচিত হার যাতে প্রভু হুরাসের চিত্রকর্ম, বাজ পাখিটা অলংকৃত করা। সে রাজকীয় ভঙ্গিতে হাঁটল, হাতে দন্ড এবং হৃৎপিন্ডের উপর সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষার ক্রসটি তার ধরা। শান্তভাবে সে সামনের দিকে চেয়ে রইল যতোক্ষণ না সে চোখের কোনা দিয়ে টাইটাকে লোকজনের সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখল এবং তার উদ্দেশ্যে সে দুষ্টুমির ভঙ্গিতে ইশারায় চোখ নাড়ল।
চারপাশে সুগন্ধির মেঘ উড়িয়ে, লর্ড নাজা তার এক কদম পিছনে অলংকার শোভিত হয়ে হাঁটছে এবং কতৃত্ত্বে গুরুগম্ভীর। তার কোমরে ঝুলছে নীল তোবারি এবং ডান বাহুতে বাজ পাখির সীল মোহর। তারপর এল রাজকুমারীরা। তারা মাথায় দেবী আইসিসের সোনালি পালক ও হাতের আঙ্গুল ও পায়ের পাতায় সোনার আংটি পরিধান করে আছে। তারা আজ আর কঠিন নয়, গতকালের মতো তাদের পরাধীন লাগছে না। গলা থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত তার লিনেন কাপড়াবৃত আর তা এতো সুন্দর ও স্বচ্ছ যে ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন নদীর মতই সূর্যালোক তার মধ্য চলাচল করছে।
