পিতার মৃত্যুর খবর শুনার পর এই প্রথম নেফার হাসল। পশুদের সাথে টাইটার ভাব কখনো তাকে আনন্দ দিতে ব্যর্থ হয় না। কি করে তুমি জীবগুলোকে বাধ্য করাও, টাইটা?
যদি তুমি তাদের কথা বলে বুঝাতে পারো তবে তুমিও তাদের যা বলবে তা-ই তারা করবে। এখন, জটার পাশে বসে এবং তাকে শান্ত রাখো।
তারা ঘোড়াগুলোর পিছনে শুয়ে পড়ল এবং সমতল ভূমির দিক থেকে বৃত্তাকারে রথের কলামকে দ্রুত ধুলো ছড়িয়ে এগিয়ে আসতে দেখল।
পাথুরের ভূমিতে তারা আমাদের চিহ্ন খুঁজে পাবে না, পাবে কি তারা? নেফার আশা নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
টাইটা নাক দিয়ে বিচিত্র একটা শব্দ করল। সে কাছের রথটির আগমন দেখছিল। মরীচিৎকার নড়াচড়ায় তাদের প্রতিবিম্বগুলোকে অলীক, কম্পমান ও ভগ্ন দেখাচ্ছে ঠিক যেমন পানির নিচে কোন কিছু দেখায়। ওটা ধীর গতিতে এগোচ্ছিল আর যখন তাদের ঘোড়ার পায়ের চিহ্ন খুঁজছিল তখন রথটা এপাশ-ওপাশ দুলছিল। হঠাৎ রথটা অরো অধিক আত্মবিশ্বাস ও উদ্দেশ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে এল এবং টাইটা দেখতে পেল যে রথি তাদের নিশানা খুঁজে পেয়েছে এবং তা অনুসরণ করছে।
আরো এগুতেই তারা পাদানিতে দাঁড়ানো রথিদের পরিষ্কারভাবে চিনতে পারল। ড্যাশবোর্ডের উপর ঝুঁকে সবাই মাটির উপর তাদের চিহ্ন খুঁজছে। হঠাৎ টাইটা অস্বস্তি সহকারে বিড়বিড় করে উঠল। সেথের দুর্গন্ধময় নিঃশ্বাসের কসম, তাদের সাথে নুবিয়ানদের একটা দল রয়েছে।
বকের তৈরি মুকুট পরিধান করায় লম্বা কালো লোকটা যেন আরো বেশি লম্বা হয়ে গেছে। তারা যেখানে লুকিয়ে আছে তার থেকে ৫০০ কিউবিট দূরে নুবিয়ান লোকটি চলমান যান থেকে লাফিয়ে থামল এবং ঘোড়ার আগে দৌড়াতে লাগল। তারা এখন সেই জায়গায় আছে যেখান থেকে আমরা বাক নিয়েছিলাম। টাইটা ফিসফিস করে বলল। হে হুরাস! আমাদের প্রাণীগুলোর পায়ের চিহ্ন ঐ কালো জংলিটার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখো। বলা হয়ে থাকে যে নুবিয়ানরা বাতাসে একটা শালিকের চিহ্নও খুঁজে বের করতে পারে।
নুবিয়ান লোকটি হাত দিয়ে ইশারায় রথ থামাল। যেখানে তারা পাথুরে রাস্তায় বাঁক নিয়েছিল সেখানে সে চিহ্ন হারিয়ে ফেলেছে। একাধিকবার সে খালি মাটির উপর বৃত্তাকারে ঘুরল। এ দূরত্ব থেকে তাকে একটা শিকারী পাখির ন্যায় লাগছে যা সাপ ও ইঁদুর শিকার করতে ব্যস্ত।
তুমি কি যাদু বলে আমাদের লুকাতে পারো না, টাটা? নেফার অস্বস্তিতে ফিস্ ফিস্ করে বলল। যখন তারা গজলা হরিণ শিকার করত তখন টাইটা মাঝে মাঝে তা করত। টাইটা উত্তর দিল না কিন্তু যখন নেফার তার দিকে তাকাল সে দেখল যে বৃদ্ধ লোকটি ইতোমধ্যে তার হাতে শক্তিশালী মায়া, অসাধারণ কারুকাজ খচিত সোনালি পাঁচ কোনাওয়ালা তারা, লসট্রিসের মাছুলিটি ধরে আছে। নেফার জানত এর ভেতরে এক গোছা চুল আছে যা সে রাণী লসট্রিসের মাথা থেকে সে নিয়েছে। তার দেবীত্বে পরিণত হওয়ার আগে যখন লসট্রিস মমি করার টেবিলের উপর শুয়ে ছিল তখন সে তা সংগ্রহ কছে। টাইটা নীরবে শত্রুর চোখ থেকে লুকানোর মন্ত্র পড়তে পড়তে এটা ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ করল।
বাইরে সমতলে নুবিয়ান লোকটা তার উদ্দেশ্য ঠিক করল এবং তাদের বরাবর সরাসরি তাকাল।
সে আমাদের চিহ্নের মোড় খুঁজে পেয়েছে। নেফার বলল। তারপর সে দেখল রথটা তার পিছু আসছে এবং তারা পাথুরে ভূমি দিয়ে তাদের বরাবর আসতে শুরু করল।
টাইটা নরম স্বরে বলল, আমি ঐ শয়তানকে ভালো করে জানি। তার নাম বে, এবং সে উসবাক উপজাতির একটা ভণ্ড।
যখন রথ এবং রথি সরাসরি আসতে লাগল নেফার উত্তেজিত হয়ে পড়ল। রথি পাদানির উপর উঁচুতে দাঁড়িয়েছিল। নিশ্চিত সে সেখানে থেকে নিচে তাদের দেখতে পাবে। কিন্তু সে তাদের দেখার কোন চিহ্ন দেখল না।
কাছে আসতেই টাইটা রথিকে চিনতে পাল, হিলটো, এমনকি তার ডান গালের নিচের যুদ্ধের সাদা দাগটাও সে দেখতে পেল।
নড়ো না। টাইটার কণ্ঠ ঠিক মৃদু বাতাস যেভাবে উজ্জ্বল সমতলের উপর দিয়ে বয়ে যায় ঐ রকম নরম লাগল।
বে, নুবিয়ানটা এখন এতো কাছাকাছি যে নেফার তার নগ্ন বুকে ঝুলানো নেকলেসের সব মনোরম অলংকার দেখতে পেল।
বে হঠাৎ থেমে গেল এবং তার কুৎসিত চেহারাটা কুচকে গেল। সে তার মাথা ঘুরিয়ে শিকারী কুকুরের গন্ধ শুকার মতন চারদিকে ধীরে ধীরে তাদের খুঁজল।
এখনও! টাইটা ফিস্ফিস্ করে বলল, সে আমাদের গন্ধ পাচ্ছে।
বে ধীর পায়ে কিছু কদম এল তারপর আবার থামল এবং তার হাত তুলল। রখটা তার পিছু পিছু এল। এদিকে ঘোড়াগুলো অশান্ত ও অস্থির হয়ে উঠল। হিলটো তার হাতের বর্ষার অগ্রভাগ দিয়ে ড্যাশবোর্ড স্পর্শ করল। একটা ছোট ঘ্যাঁস ঘ্যাঁস শব্দ নিরবতার মধ্যে আরো বেশি শোনাল।
বে এখন সরাসরি নেফারের চেহারার দিকে চেয়ে আছে। নেফার অন্ধকার দিয়ে ঐ নিষ্করুণ চোখের অপলক দৃষ্টিকে ঢাকার চেষ্টা করল। কিন্তু এতে তার চোখে পানি এসে গেল। বে সামনে এগোল এবং তার নেকলেসটা তুলে ধরল। নেফার বুঝল এটা একটা মানুষ-খাদক সিংহের বুকের ভাসমান হাড়, টাইটারও এমন একটা আছে যা তার বাজুর তাবিজ ও যাদুর মাদুলির মধ্যে থাকে।
বে তার আফ্রিকান গুরুগম্ভীর করুণ সুরে মন্ত্র পড়তে লাগল। তারপর একটা খালি পা দিয়ে শক্ত মাটিতে আঘাত করল এবং নেফারের দিকে নির্দেশ করল।
