টাইটা তাকে কোন উত্তর দিতে পারল না। যা সে করল তা হল নেফারের কাঁধে তার হাতের জোড় বাড়াল এবং তাকে শক্তি ও শান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করল।
আমি কি গাছটির সবুজ অংকুর? নেফার বলে গেল। তুমি তা দেখেছ। তুমি জান যে কোবরাটা আমাকে ধ্বংস করার জন্য অপেক্ষা করছে যেমনটা সে আমার বাবাকে করেছে। তাই তুমি আমাকে সৈন্যদের সাথে থেবসে যেতে দাও নি। তুমি জান কোবরাটা আমার জন্যে সেখানে অপেক্ষা করছে।
তুমি ঠিক নেফার। আমরা ততোক্ষণ থেব ফিরতে পারব না যতক্ষণ না তুমি নিজেকে রক্ষা করার মত শক্তিশালী হও। আমাদের এই মিশর থেকে চলে যেতে হবে। পূর্বে অনেক জায়গা ও ক্ষমতাবান রাজা আছে। আমার উদ্দেশ্য তাদের কাছে যাওয়া এবং তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া। তাদের সহায়তায় কোবরাটাকে ধ্বংস করতে হবে।
কিন্তু কে এই কোবরা? তুমি কি তোমার স্বপ্নে তার চেহারা দেখেছ?
আমরা জানি সে তোমার বাবার সিংহাসনের নিকটে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ স্বপ্নের মধ্যে ওটা গাছটাকে জড়িয়ে ছিল এবং তাকে সমর্থন দিচ্ছিল। সে একমুহূর্ত থামল এবং তারপর যেন সিদ্ধান্ত নিল এমনভাবে বলল। ঐ কোবরাটার নাম নাজা।
নেফার তার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল। নাজা! সে ফিসফিসিয়ে বলল।
নাজা! এখন আমি বুঝতে পারছি কেন আমরা থেব ফিরে যাই নি। এক মুহূর্তের জন্যে সে থামল, তারপর বলল, পূর্বের রাজ্যে ঘুরে আমরা দুজন সমাজ ছাড়া, ভিক্ষুক হয়ে যাব।
স্বপ্ন দেখিয়েছে যে তুমি শক্তিশালী হবে। আমাদের অবশ্যই আমন-রা-এর ধাঁধার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
বাবার মৃত্যু-শোকের পরও অবশেষে নেফার ঘুমাল, কিন্তু ভোর হবার আগে অন্ধকার থাকতেই টাইটা তাকে জাগাল।
তারা আবার ঘোড়ায় চড়ল এবং পূর্ব দিকে চলল যতক্ষণ না খারাপ ভূমিটা অনেক পিছনে পড়ল এবং নেফার ভোরের বাতাসে সমুদ্রের লোনা গন্ধ পেল।
জেদ এর বন্দরে আমরা একটা জাহাজ জোগাড় করে হুরিয়ান পার হব। টাইটার মনে হল তার মনের কথাটাই সে পড়ল। ব্যাবিলিয়নের ও অ্যাশিরিয়ার রাজা সারগন এবং যে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস-এর মধ্যবর্তী বিশাল রাজ্যসমূহের রাজাও, তোমার পিতার প্রিয়ভাজন। সে হিকস্ ও আমাদের অন্য সব শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য প্রদানে তোমার পিতার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি মনে করি সে তার ওয়াদা রাখবে কারণ সে একজন সম্মানি ব্যক্তি। আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করব যে সে আমাদের গ্রহণ করবে এবং সংযুক্ত মিশরের সিংহাসন অধিকারে সে তোমাকে সাহায্য করবে।
তাদের সম্মুখে সূর্যটা জ্বলন্ত চুল্লির ন্যায় প্রজ্জ্বলিত এবং তারা যখন পরবর্তী চূড়াটা অতিক্রম করল দেখল নিচে সমুদ্রটা সদ্য গড়া ব্রোঞ্জের যুদ্ধ ঢালের ন্যায় জ্বলজ্বল করছে। টাইটা দূরত্বটা পরিমাপ করল। আমরা আজ বিকেলের সূর্যাস্তের পূর্বেই উপকূলে পৌঁছে যাব। তারপর সে চোখ সরু করে পিছনের দিকে তাকাল। নাক দিকে সে একটা বিতৃষ্ণ শব্দ তুলল এবং দেখল একটা নয় চারটি হলুদ ধুলার পুচ্ছ ভূমির উপর তাদের পিছু আসছে।
হিলটো, আবার, সে বিরক্ত হল। সে ঘোড়া থেকে নামল এবং একটা উঁচু জায়গা খুঁজে নিল দেখার জন্যে, রাতে নিশ্চয়ই সে পাথুরে জায়গাটা ঘুরে এসেছে। এখন সে আমাদের চাকার দাগ খোঁজার জন্যে রথগুলোকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যে পূর্ব দিকে যাচ্ছি এটা তাকে বলে দেয়ার জন্য কোন কালো যাদুকরের দরকার নেই।
দ্রুত সে লুকানোর জন্যে চারপাশে তাকাল। যদিও পাথুরে এ জায়গাটা লুকানোর জন্য যথেষ্ট নয় তবু সে একটা স্থান খুঁজে নিল যেখানে তারা চলে আসলে লুকাতে পারে। নেমে এসো, সে নেফারকে আদেশ করল। আমাদের যতোটা সম্ভব মাথা নিচু করে রাখতে হবে এবং যাতে তারা আমাদের চিহ্নিত না করতে পারে সে জন্যে কোন ধুলা উড়ানো যাবে না। সে মনে মনে নিজেকে তিরস্কার করল কেন সে রাতে তাদের দাগগুলো মুছে দেবার ব্যাপারে সতর্ক ছিল না। আর তাই এখন যখন তারা লুকানোর স্থানের দিকে যাচ্ছে তখন যতোটা সম্ভব নরম মাটি এড়িয়ে যাচ্ছে এবং শক্ত পাথরের উপর দিয়ে এগোচ্ছে যাতে কোন দাগ পড়ে। তারা লুকানোর জায়গায় পৌঁছে দেখল জায়গাটা ঘোড়া লুকানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
চিন্তিত নেফার পিছনে তাকাল। তাদের পিছনে সবচাইতে কাছের রথটা মাত্র আধক্রোশ দূরে এবং খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। বাকিগুলো অর্ধ বৃত্তাকারে ছড়িয়ে আছে।
এখানে লুকানোর কোন জায়গা নেই আর পালানোর জন্যেও যথেষ্ট দেরি হয়ে গেছে। তারা আমাদের ঘিরে ফেলেছে। টাইটা তার মাদি ঘোড়াটার পিঠ থেকে পিছলে নামল, নরম সুরে জটার সাথে কথা বলতে লাগল এবং নিচু হতে তার সামনের পাগুলো আদরে আদরে স্পর্শ করল। মাদিটা পা দাপালো এবং নাক দিয়ে আওয়াজ করল। কিন্তু টাইটা জোর করতেই ওটা অনীহা সত্ত্বেও নিচু হল এবং তার পাশে টান হয়ে শুয়ে পড়ল। প্রতিবাদে তখনো জটা নাক দিয়ে শব্দ করছিল। এরপর টাইটা নিজের স্কার্ট খুলে ওটার চোখ বেঁধে দিল যাতে জীবটা আবার উঠার চেষ্টা না করে।
তারপর সে দ্রুত নেফারের বাচ্চা ঘোড়াটার কাছে গেল এবং একই কৌশল অবলম্বন করল। যখন দুটো ঘোড়াই বসে পড়ল তখন সে নেফারকে পরিষ্কারভাবে বলল, স্টার-গেজারটার মাথার উপর বস এবং যদি ওটা উঠতে চায় তবে তাকে নিচের দিকে চেপে রাখবে।
