শেষ টানে নেফার উপরে উঠে এল এবং বৃদ্ধ লোকটির বাহুতে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সেখানে শুয়ে সে হুস-হুঁস করে দম নিতে লাগল। ঠিকভাবে কথা বলতে পারল না। টাইটা তাকে জড়িয়ে ধরে রাখল। সে নিজেও আবেগে ও পরিশ্রান্তিতে কাঁপছিল। ধীরে ধীরে তারা শান্ত হল এবং পুনরায় তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হল। টাইটা নেফারের দিকে পানির থলে এগিয়ে ধরল। তা থেকে সে পানি নিল, গিলল এবং আবার নিল। তারপর সে টাইটার মুখের দিকে এমন করুণভাবে তাকাল যে টাইটা তাকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে নিল।
এটা ভয়ংকর। নেফারের শব্দগুলো অল্পই বোঝা গেল। ওটা নীড়ের মধ্যে ছিল। ওটা বাজ পাখিগুলোকে মেরে ফেলেছে, সবগুলোকে ওহ্, ঈশ্বর! টাইটা, ওটা ভয়ানক।
ওটা কি ছিল, নেফার? টাইটা শান্তভাবে জিজ্ঞেস করল।
ওটা আমার গড বার্ড মেরে ফেলেছে।
আরাম করে বসো। আরো একটু পানি খাও। সে তাকে পানির থলেটা আবার দিল।
নেফার আবার পানি খেল এবং তাড়াহুড়োয় সে ভীমড়ি খেল। তারপর কথা বলার শক্তি ফিরে পেয়ে বলল। ওটা আমাকেও খুন করতে চেয়েছিল। খুব বড় ও খুব কালো।
ওটা কি ছিল, বালক? স্পষ্ট করে আমাকে বল।
একটা কোবরা, একটা বড় কোবরা, পাখির নীড়ে আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল। এটা বাচ্চাগুলোকে কামড়ে হত্যা করেছে এবং সে সাথে পুরুষ পাখিটাকেও। যেই আমাকে দেখল আমাকে মারতে এল। আমি কল্পনায়ও কখনো ভাবি নি যে একটা কোবরা এতো বড় হতে পারে।
তোমাকে কি কামড় দিয়েছে? টাইটা ভয়ে জানতে চাইল এবং টেনে নেফারকে তার পায়ের উপর দাঁড় করাল পরীক্ষা করার জন্যে।
না, টাইটা, আমি ব্যাগটা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছি। ওটা আমাকে ছুতে পারেনি। নেফার প্রতিবাদ করল, কিন্তু টাইটা তার স্কার্ট খুলে ফেলল এবং নগ্ন করে দাঁড় করিয়ে সারা শরীরের আঘাতের চিহ্ন খুঁজল। তার আঙুলের একটা গাঁট এবং উভয় হাঁটু একটু কেটে গিয়েছে। এর বাহিরে তার শক্ত তরুণ দেহে শুধুমাত্র ফারও বিশেষ চিহ্ন অঙ্কিত যা ভিতরের উরুর মধ্যে আঁকা তা দেখতে পেল। টাইটা নিজে এই নকশা এঁকেছে। এটা একটা ক্ষুদ্র শিল্পকর্ম যা চিরদিন নেফারের দ্বৈত মুকুটের দাবির প্রমাণ বহন করে।
ঐ প্রভুকে ধন্যবাদ যে তোমাকে রক্ষা করেছে। টাইটা বিড়বিড় করে বলল। এই কোবরার মাধ্যমে হুরাস তোমাকে বিপদের সংকেত পাঠিয়েছেন। তার মুখটা গম্ভীর দেখাল ও তাতে দুঃখের ছায়া স্পষ্ট। ওটা কোন সাধারণ সাপ নয়।
হ্যাঁ, টাইটা, আমি এটাকে কাছ থেকে দেখেছি। বৃহৎ কিন্তু এটা একটা সত্যিকারের সাপ।
কিন্তু কি করে ওটা পাখির নীড়টায় পৌঁছল? কোবরা তো আর উড়তে পারে, এবং খাঁজে উঠার আর কোন রাস্তা নেই।
নেফার অবাক হয়ে তার দিকে চেয়ে রইল। এটা আমার গড বার্ড হত্যা করেছে। সে জোরে বলল। এবং রাজকীয় পুরুষ বাজ পাখিটাও মেরে ফেলেছে যা ফারাও এর প্রতিমূর্তি। টাইটা গম্ভীরভাবে সম্মত হল, এখন তার চোখে দুঃখের ছায়া। এখানে কোন রহস্য লুকায়িত। আমি আমার স্বপ্নে তাদের ছায়া দেখেছি। কিন্তু তোমার সাথে আজ যা ঘটল তা দ্বারা আরো নিশ্চিত হলাম। ব্যাপারটা স্বাভাবিক ঘটনার বাইরে।
আমাকে খুলে বলো, টাইটা। নেফার জোর করল।
টাইটা তার স্কার্ট ফিরিয়ে দিল। প্রথমে আমাদের এখান থেকে নামতে হবে এবং যে বিপদ আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে তার থেকে দূরে সরে যেতে হবে।
সে এক মুহূর্ত থামল এবং আকাশের দিকে চিন্তিত ভাবে তাকাল। তারপর চোখ নামিয়ে নেফারের মুখের দিকে তাকাল। তোমার জামাটা পড়ে নাও। এটুকুই শুধু সে বলল।
সে তৈরি হতেই টাইটা তাকে চুড়ার অন্য পাশে নিয়ে গেল এবং দ্রুত নামতে লাগল। এবার তাদের পথ জানা ছিল এবং টাইটা বারবার তাড়াতাড়ি নামতে তাগিদ দিল। ঘোড়াগুলো সেখানেই আছে যেখানে তারা রেখে গিয়ে ছিল। কিন্তু ঘোরায় চড়ার পূর্বে নেফার বলল, কোবরাটা যেখানে পড়েছে সে জায়টা এখান থেকে দূরে নয়। সে হাত দিয়ে পর্বতের খাজের উপরে যেখানটায় নীড়টা এখনো রয়েছে তার নিচের জায়গাটা দেখাল। চল আমরা মৃত দেহটা খুঁজে দেখি। হয়তো আমরা ওটার কোন অংশ পেতে পারি যার উপর তুমি কাজ করে ওটার ক্ষমতা ধ্বংস করতে পারবে।
তা হবে মূল্যবান সময়ের অপচয়। কোন মৃত দেহ নেই। টাইটা তার মাদি ঘোড়ার পিঠে চড়ল। চলো, নেফার। কোবরাটা ছায়াময় সেই জায়গায় ফিরে গেছে। যেখান থেকে ওটা এসেছিল।
কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভয়ে নেফার কেঁপে উঠল এবং দ্রুত ঘোড়ার পিঠে চড়ল।
তারা উপরের ঢাল পেরিয়ে এগিয়ে গেল এবং পূর্বের ভাঙা ছোট পাহাড়ের পাদদেশে যাবার পূর্ব পর্যন্ত কেউ কোন কথা বলল না। নেফার জানে টাইটা যখন এমন শূন্যের মুহূর্তে থাকে তখন তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা বৃথা। সে তার ঘোড়াটা টাইটার পাশে নিয়ে গেল এবং সম্মানের সাথে নির্দেশ করল। টাইটা এটা তো গেবেল নাগারে যাওয়ার রাস্তা নয়।
আমরা যেখানে ফিরে যাচ্ছি না।
কেননা?
বেদুঈনরা জানে আমরা সেখানে বসন্তে ছিলাম। তারা তাদের তা বলবে যারা আমাদের খুঁজছে। টাইটা ব্যাখ্যা করল।
নেফার হতভম্ব হয়ে গেল। কারা আমাদের খুঁজছে?
টাইটা তার মাথা ঘুরাল এবং এমন করুণ দৃষ্টিতে বালকটির দিকে চাইল যে সে চুপ হয়ে গেল। আমি তোমাকে সব বলব। আগে আমরা এই অভিশপ্ত পর্বত থেকে বেড়িয়ে একটা নিরাপদ স্থানে যাই তারপর।
