প্রেন তৎক্ষণাৎ এল এবং ফারাও এর সামনে হাঁট গেড়ে বসল। আপনি আমাদের কৃতজ্ঞতা অর্জন করে দিন। নেফার তাকে বলল। আপনাকে ছাড়া আমরা জিততে পারতাম না। আপনার পুরস্কার হবে আমার অন্য ক্যাপ্টেনদের থেকেও বেশি।
ফারাও মহান।
যুদ্ধের শুরুতে, আপনি রাজকন্যা মিনটাকার কথা বলেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম সে অ্যাভারিসে হাথোরের মন্দিরে নিরাপদ আছে। আপনি তাকে শেষ কোথায় দেখছেন ও কখন?
ফারাও আপনি ভুল করছেন। রাজকুমারী মিনটাকা মন্দিরে নেই। সে আমার কাছে আপনার বার্তা নিয়ে এসেছিল। আমি আমার সাথে তাকে যুদ্ধে আনতে পারি না, তাই তাকে আমি দুদিন আগে আমার ক্যাম্প মরুভূমিতে রেখে এসেছিলাম, এই স্থান ও খাতমিয়ার মধ্যকার রাস্তায়।
নেফারকে একটা ভয় ঝেকে ধরল। আপনি এই ক্যাম্পে আর কাকে রেখে এসেছেন?
আরেকজন রাজকন্যা মেরিকারা যে মিনটাকার সাথে এসেছিল এবং মহান রাণী হেজারেটকে।
হেজারেট! নেফার লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। যদি মিনটাকা ও মেরিকারা হেজারেটের অধীনে থাকে তবে যখন সে শুনবে যে আমি তার স্বামীকে হত্যা করেছি তখন সে তাদের কি করবে? সে দৌড়ে বেরিয়ে গেল এবং ম্যারনকে ডাকল। মিনটাকা ও মেরিকারা ভীষণ বিপদে। তাকে বলল সে।
আপনি কিভাবে তা জানলেন? ম্যারনকে হতভম্ব দেখাল।
প্ৰেনের কাছ থেকে এবং টাইটা বাজ পাখিটার চিৎকার পড়েছে। আমাদের এখনই রওনা দিতে হবে।
*
সেই ভয়ংকর রাতে ঊষার পূর্বেই হেজারেট জেগে গেল। প্রথমে সে বুঝল না কিসে তার ঘুম ভাঙ্গল কিন্তু তারপর সে বাইরে অনেকগুলো কণ্ঠ শুনল। সে উঠে বসল এবং শব্দগুলো বুঝতে সক্ষম হল।
হেরে গেছে এবং হত্যা করেছে এবং এখনই পালাও।
সে চিৎকার করে তার দাসীদের ডাকল এবং দুজন এল, অর্ধ জাগ্রত ও নগ্ন, তেলের প্রদীপ হাতে নিয়ে।
কি হচ্ছে? হেজারেট জানতে চাইল।
আমরা জানি না। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম।
বোকা মেয়েরা! যাও জেনে আস। হেজারেট রাগান্বিতভাবে আদেশ দিল।
এবং নিশ্চিত করো যে বন্দীরা এখনো খাঁচায় আছে। তারা চলে গেল।
যখন হেজারেট বাতি জ্বালাল ও পোশাক পড়ল তার দাসী দুজন তাঁবুতে ফিরে এক দমে ও প্রায় অমঙ্গল ভাবে বলল,
ইশমাইলিয়ায় ভয়ংকর যুদ্ধ হয়েছে, মহারাণী।
হেজারেটের খুশি অনুভূত হল। নাজা জিতেছে এই ব্যাপারে সে নিশ্চিত।
যুদ্ধের ফলাফল কি?
আমরা জানি না, মালকিন। আমরা জিজ্ঞেস করি নি।
হেজারেট কাছের মেয়েটার চুল মুঠি করে ধরে ঝাঁকাল, তোর মাথায় কি কোন জ্ঞান নেই? বলেই তার গালে চড় মারল সে। একটা প্রদীপ নিয়ে দ্রুত বাইরে এল ও দৌড়ে খাঁচার সামনে গেল এবং যখন তার বন্দীদের ওখানে দেখল তার দুশ্চিন্তা অর্ধেক কমে এল। হেজারেট তাদের রেখে গেল এবং দেখল সবাই চলে যাচ্ছে। শত শত সৈনিক পায়ে হেঁটে দ্রুত চলে যাচ্ছে এবং হেজারেট দেখল তাদের অধিকাংশ তাদের অস্ত্র ফেলে দিয়েছে।
তোমরা কোথায় যাচ্ছ? সে তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করল। কি হচ্ছে? কেউ উত্তর দিল না, এমনকি কেউ তার উপস্থিতির ব্যাপারে সচেতনও নয়। সে দৌড়ে রাস্তায় গেল এবং একজন সৈন্যের হাত ধরল। আমি রাণী হেজারেট, সমগ্র মিশরের ফারাও-এর স্ত্রী! সে তার হাত ঝাঁকি দিল, বদমাশ, আমার কথা শোন।
সৈনিকটা খুব জোরে হেসে উঠল এবং হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু হেজারেট তাকে শক্ত করে ধরে রাখল যতোক্ষণ না সৈন্যটা তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ধুলায় ফেলে দিল।
সে নিজেকে টেনে তুলে আরেকজন সৈন্যের দিকে এগিয়ে গেল যে একজন সার্জেন্টের ব্যাচ পরিহিত। যুদ্ধের খবর কি? আমকে বল। ওহ্, দয়া করে আমাকে বল, সে অনুনয় করল। ক্ষীণ আলোতে সৈনিকটি তাকে চিনতে পারল।
ভয়ংকর খবর, মহারাণী! তার কণ্ঠ কর্কশ। খুব ভয়ংকর যুদ্ধ হয়েছে এবং শত্রুরা জিতেছে। সব কিছু শেষ, শত্ৰু এগিয়ে আসছে এবং শীঘ্রই আক্রমণ করবে। আপনার এখনই পালানো উচিত।
ফারাও-এর খবর কী? আমার স্বামীর কী হয়েছে?
লোকে বলে যুদ্ধে তিনি হেরে গিয়েছেন এবং নেফার সেটি নিজে তাকে হত্যা করেছে।
হেজারেট তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, নড়তে বা কথা বলতে অক্ষম সে।
আপনি কি যাবেন, মহারাণী? সার্জেন্ট জিজ্ঞেস করল। খুব দেরি হয়ে যাওয়ায় আগেই এবং বিজেতারা আসার আগে, লুণ্ঠন শুরুর পূর্বে এবং ধর্ষণ শুরু হবার আগেই। আমি আপনাকে রক্ষা করব।
কিন্তু হেজারেট তার মাথা ঝাঁকাল। এটা সত্য নয়। নাজা মরতে পারে না। সে ঘুরে গেল। সকাল পর্যন্ত সে আরো অনেককে জিজ্ঞাসা করল এবং সবাই একই। কথা বলল।
হেজারেট রাগে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেল এবং নিজের মাথায় বালি ছড়িয়ে দিল, দুঃখে চুল ছিঁড়তে লাগল ও কর্ণভেদী আর্তনাদ করল। তার দেহরক্ষী ও দাসীরা তাকে ধরতে এল। তার ফোঁপানো ও আর্তনাদ আরো জোরালো হলো তখন। আকাশের দিকে হাত উঠিয়ে সে আহাজারি করতে লাগল দেবতাদের দায়ী করে। তার ব্যবহার বেপরোয়া হয়ে পড়ল এক সময়। সে তার সাথে রাখা ছোট অলংকার খুঁচিত ছুরি দিয়ে তার স্তন কেটে ফেলল, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে নিচে জমা জলে যে কাদা হল তাতে গড়াগড়ি করল। তারপর হঠাৎ সে লাফ দিয়ে দাঁড়াল এবং সীমানা প্রাচীরে দিকে ছুটে সে দৌড়ে গাড়ির উপরে থাকা শূকরের খাঁচাটার সামনে গেল এবং চিৎকার করে মেরিকারাকে বলল, আমাদের স্বামী মৃত। আমাদের দৈত্য ভাই তাকে খুন করেছে।
