নেফার ক্রুসকে ঘুরিয়ে নাজাকে আক্রমণ করতে ছুটল। নাজা দুলতে দুলতে যন্ত্রণায় কাতরে উঠে দাঁড়াল এবং তার বুকের উপর দিকে তার ভাঙ্গা ডান কাঁধটা ধরে ছিল। পতনের ফলে তার হাত থেকে নীল তলোয়ার ছুটে গিয়েছে এবং ওটা তার কাছ থেকে দশ কদম দূরে গিয়ে পড়ে আছে।
নাজা ঢুলতে ঢুলতে অস্ত্রটার দিকে চলল, কিন্তু সে দেখল ক্রুস সরাসরি তার দিকে আসছে এবং ভয়ে সে ঠাণ্ডা ছাইয়ের বর্ণ ধারণ করল এবং ঘুরে দৌড়াতে শুরু করল।
নেফার ক্রুসের পিঠে ঝুঁকে বালি থেকে তলোয়ারটা নিল এবং নাজাকে ধাওয়া করতে ক্রুসকে ঘোরাল। নাজা তার পিছনে ঘোড়ার খুরের আওয়াজ বৃদ্ধি পেতে শুনল এবং পিছনে তাকাল। কাজল তার গাল বেয়ে নেমে গিয়েছে কালো অশ্রুর মতো এবং ভয় তাকে বিকৃত করে ফেলল। সে তখন বুঝল আজ তার আর নিস্তার নেই। সে তার হাঁটুগেড়ে বসল এবং আত্মসমর্পণ করতে দুই হাত উপরে তুলে।
পশ্চাৎ অংশে চাপড় দিয়ে ও একটা তীক্ষ্ম শীষ বাজিয়ে নেফার হাঁটু গেড়ে বসা লোকটার কাছে ক্রুসকে থামাল। লাফিয়ে নামল ও নাজার সামনে এসে দাঁড়াল।
দয়া করুন! ফুঁপিয়ে উঠল নাজা,
আমি আপনার কাছে দ্বৈত মুকুট ও সকল রাজ্য সমর্পণ করছি। সে করুণভাবে নেফারের পায়ে লুটিয়ে পড়ল।
আমি ইতোমধ্যেই তা পেয়েছি। আমার শুধু একটা জিনিসের অভাব। প্রতিশোধ!
দয়া করুন, নেফার সেটি! দেবীর দোহাই ও আপনার বোনের দোহাই। দেবী হেজারেটের এবং তার শিশুর দোহাই যা সে তার গর্ভে ধারণ করছে। হঠাৎ সে তার ডান হাতে একটা ছুরি তুলে নিয়ে নেফারের কুচকিতে আঘাত করতে উঠাল। নেফারের প্রায় লেগেই গিয়েছিল তা। কিন্তু একদম ঠিক সময়ে সে মুচড়ে সরে গেল এবং ছুরির ফলাটার ডগায় তার স্কার্ট কেটে গেল। তার হাতের নীল তলোয়ারের ফলার এক ঝটকার তার হাত থেকে অস্ত্রটা ফেলে দিল নেফার।
আমি তোমার স্থিরতার প্রশংসা করি। শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার আসল রূপ দেখিয়েই দিলে। নেফার নির্মমভাবে হাসল। তুমি আমার পিতা ফারাও ট্যামোসকে যে রকম দয়া দেখিয়েছিলে তেমনি দয়া আমি তোমার জন্য মঞ্জুর করলাম। সে নীল তলোয়ারে ডগা নাজার বুকের কেন্দ্রস্থল দিয়ে চালিয়ে দিল এবং তা তার পাজরের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে গেল। যন্ত্রণায় নাজার চেহারা ছেয়ে গেল।
তুমি এই পবিত্র ফলাটা নোংরা করেছিলে। এখন আমি তা তোমার রক্তে ধুয়ে নিলাম। নেফার বলল, হেচকা টান দিয়ে মুক্ত করে, তারপর ওটা ঢুকিয়ে দিল আবার।
নাজা ধুলায় লুটিয়ে পড়ল এবং আরেক বার দম নিল, কিন্তু তার ফুসফুস থেকে বাতাস বুদবুদ হয়ে তার পিঠের ক্ষত দিয়ে বের হলো এবং একটা কাঁপুনি দিয়ে মরে গেল।
নেফার দেহটার পায়ে রশি বেঁধে তা ক্রুসের হার্নেসের সাথে বাঁধল এবং টেনে নিয়ে গেল মাঠের উপর দিয়ে। জয়ধ্বনি তাকে অনুসরণ করল পিছনে যখন সে ঘোড়া চালিয়ে গেল দুর্গের ফটকের দিকে। সে রশিটা কেটে দিল এবং নাজার দেহ ধুলায় তখন মাখামাখি।
দখলদারের দেহটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে শহরের সবখানে ঝুলিয়ে দাও। মিশরের প্রত্যেক নাগরিককে প্রতারণা ও রাজ হত্যার ফল অবলোকন করতে দাও।
তারপর সে ওয়াচ টাওয়ারে উপর দাঁড়ানো প্রতিমূর্তিটার দিকে তাকাল এবং রক্তমাখা তলোয়ারটা তুলে তাকে সম্মান জানাল। টাইটা তার ডান হাত তুলে তার স্বীকৃতি জানাল।
সারাদিন টাওয়ারে ছিল সে। ম্যাগাস যুদ্ধে কি ভূমিকা রাখল? নিজেকে জিজ্ঞেস করল নেফার। আমরা কি তার প্রভাব ছাড়া জিতেছি? কোন উত্তর নেই, এবং সে চিন্তাটা সরিয়ে দিল। সে মই দিয়ে টাওয়ারের শীর্ষে উঠে টাইটার পাশে এসে দাঁড়াল। তারপর সেখান থেকে সে তার লোকদের উদ্দেশ্যে কথা বলল, সে তাদেরকে তাদের দায়িত্ববোধ ও সাহসের জন্য ধন্যবাদ দিল। সে তাদের পুরস্কার দেওয়ার ওয়াদা করল–লুটের মালের অংশ, এবং উদ্বেলিত সোনার চেইন ও পদবির সম্মানসূচক টাইটেল।
সে তাদের নাম নিল, সূর্য তখন পটে নামছিল, তার কথা প্রার্থনা দিয়ে শেষ হল তখন।
আমি এই জয় সোনালি হুরাসকে উৎসর্গ করি, প্রভুদের বাজপাখি! সে চিৎকার করল। শেষ সূর্যালোক এক ফালি মেঘ ভেদ করে এল এবং দুর্গের টাওয়ার আলোকিত করল। নেফারের মাথায় থাকা নীল যুদ্ধের মুকুট ও নীল তলোয়ারটা ঝলকে উঠল তাতে।
সেই সময়ে একটা তীক্ষ্ম চিৎকার ভেসে এল উপর থেকে। সবাই মাথা তুলল এবং প্রতিটি চোখ আকাশের দিকে ঘুরে গেল। লোকজনের মধ্যে একটা গুঞ্জন এ দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল, রাজ বাজ পাখি নেফারের মাথার উপর তিনবার চক্কর দিল এবং ডানা ঝাঁপটিয়ে আলো হয়ে আসা পূর্বদিকে চলে গেল তারপর।
প্রভুর আশীর্বাদ। সৈন্যরা মুগ্ধভাবে বলল। জয়, ফারাও! এমনকি প্রভুরাও আপনাকে সম্মান দেন।
কিন্তু যখনই তারা একা হল টাইটা আস্তে আস্তে কথাটা বলল, ফলে কক্ষের কেউ শুনতে পেল না। বাজপাখিটা এটা বিপদ সংকেত এনেছিল এবং কোন আশীর্বাদ নয়।
কিন্তু বিপদ সংকেতটা কি? নেফার শান্ত ভাবে জানতে চাইল কিন্তু গভীর মনোযোগে।
যখন পাখিটা ডাকল, আমি মিনটাকার চিৎকার শুনলাম। টাইটা ফিসফিস করে বলল।
মিনটাকা! নেফার যুদ্ধের উত্তেজনায় তার কথা ভুলেই গিয়েছিল। তার সম্বন্ধে প্রেন আমাকে কি বলেছিল? যে তাঁবুর প্রবেশ দ্বারের দিকে ঘুরল ও গার্ডদের চিৎকার করে বলল, প্রেন! সর্দার প্রেন কোথায়?
