আমার মাথায় আমি সেই মুকুট পড়ে আছি যা আমি ফারাও ট্যামোসের থেকে নিয়ে ছিলাম যখন সে মারা যাচ্ছিল, আমার হাতের মধ্যে, সে মহান নীল মুকুটটা তুলে ধরল, আমি তার সেই জিনিসটাও এনেছি যে তার মুঠিতে ধরে ছিল শেষ সময় পর্যন্ত। তুমি কি তা চাও কুকুর ছানা? নেফার অনুভব করল রাগে তার হাত কাঁপতে শুরু করেছে এবং রাগ লাল মেঘের মত তার দৃষ্টি অস্পষ্ট করে দিল।
স্থির হউন! ম্যারন তার পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল। তার ফাঁদে নিজেকে প্রলুব্ধ হতে দিবেন না। খুব কষ্টে নেফার তার রাগের পর্দাটা এক পাশে সরিয়ে রাখল এবং তার চেহারা অভিব্যক্তিহীন রাখল তবে তার কণ্ঠ পাথরের উপর ধাতু যে শব্দ করে ওরকম করে বাজল। তৈরি হও! এবং সে তার তলোয়ার উপরে তুলল।
নাজা হাসল, শব্দহীন ভাবে। রথ চালিয়ে পূর্বের স্থানে তার সৈন্য দলের মাঝে ফিরে গেল, এগিয়ে চল! সম্মুখে। তারপর নীল তলোয়াটা উঠাল নাজা। তার সম্মুখ দল নেফারের লাইনের দিকে এগিয়ে এল। দ্রুত ছোট! আক্রমণ কর?
নেফার তার জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইল এবং তাদের আসতে দিল, যদিও তার ইচ্ছে হচ্ছিল এগিয়ে গিয়ে নাজাকে মোকাবেলা করতে ও তাকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে। কিন্তু সে খুব কষ্টে নিজেকে শান্ত রাখল এবং অপেক্ষা করে গেল। তারপর সে তার তলোয়ার তুলে তা তিনবার নাড়াল, অর্থপূর্ণ সংকেতে। তার সেনাবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিল, একটা পাখির ঝাঁকের মত তারা দিক পরিবর্তন করল। তারা এমনভাবে ঘুরল যেন তাদের সবার মন এক এবং ছুটে চলল সমতল দিয়ে যে পথে তারা এসেছে।
নাজার সম্মুখের সৈন্যদল আক্রমণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে রেখেছিল, কিন্তু তারা কোন বাধার সম্মুখীন হল না, বরং অদৃশ্য বাঁধায় একটা হোঁচট খাওয়া লোকের মতো তারা গতি হারাল। যতোক্ষণে তারা সামনে নিল, নেফার ততোক্ষণে আরো একশ কদম এগিয়ে গিয়েছে। এবার তার সেনাবাহিনী মসৃণভাবে তাদের গঠন পরিবর্তন করল এবং একসাথে টেনে প্রসারিত অবস্থা থেকে চারটা কলামে সজ্জিত হল।
নাজা তার পিছনে ছুটে এল। কিন্তু তিনশ কদমের মধ্যে তার সেনাদল তাদের উভয় পাশে উঁচু পাথুরে দেয়াল দেখতে পেল যা বুক সমান। তারা এখন থামতে পারবে না, তাই তারা তাদের বাম ও ডান পার্শ্বকে তাদের কেন্দ্রস্থলের দিকে মোড় দেয়ালো। চাকায় চাকায় টক্কর লাগায় এবং ঘোড়ার দলগুলো বাধ্য হল একে অন্যকে স্থান দিতে, আক্রমণ দুলে উঠল এবং ধীর হল।
সেই মারাত্মক মুহূর্তে মাঠ পেরিয়ে যুদ্ধ ঘণ্টা বাজল এবং সংকেত পেতেই ধনুকরী ও গুলধারী নিচু দেয়ালের পিছন থেকে উভয় পাশে উঠে দাঁড়াল। তীর লাগানোই ছিল এখন শুধু তা টেনে ছেড়ে দিল তারা। এক মুহূর্ত তারা তাদের লক্ষ্য স্থির করল সতর্কভাবে। গুলতিধারীরা তাদের অস্ত্র অনেক উঁচুতে উঠিয়ে ঘোরালো, দীর্ঘ রশির প্রান্তে চামড়ার থলেতে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা কাদার বল ভরা তাতে। বাতাসে তা গুঞ্জন তুলল যখন তারা তা ভয়ংকর ঘুরাতে লাগল।
নাজার অগ্রগামী সৈন্যদল ফানেলের অনেক ভেতরে ঢুকে গেছে যখন আবার ঘণ্টা বাজল এবং ধনুকধারীরা নিক্ষেপ করল। তাদের বলা হয়েছে ঘোড়াগুলোর দিকে লক্ষ্য করতে এবং শত্রুদের ক্যাপ্টেনদের দিকে তীরগুলো নিরবে উড়ে গেল। তীর নিক্ষেপের ফিসফিস শব্দ বাজছিল এবং কাদার তীরে এক মুঠো নুড়ি পতনের মত তীরের মাথাগুলো জীবম্ভ মাংসে আঘাত করল। নাজার আক্রমণের প্রথম দল শেষ। যখন ঘোড়াগুলো পড়ে গেল রথগুলো তাদের শবদেহের উপর উল্টে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য দিকে ছুটল, উল্টা পাল্টা হয়ে গেল এবং গড়িয়ে পড়ল।
তারপর গুলতিধারী তাদের অস্ত্র নিখুঁতভাবে ছাড়ল। কঠিন পোড়ানো মাটির বলগুলো মানুষ ঘোড়ার খুলি ফাটিয়ে দিল, পা ভেঙ্গে অথবা পাজর গুঁড়িয়ে দিল। তারপর তারা লক্ষ্য স্থির করল পরবর্তী আক্রমণের।
সে যানগুলো তাদের পিছনে অনুসরণ করছিল তা সামনে আনা সম্ভব ছিল না এবং সামনের ভগ্নাংশে বাধা পেয়ে ওগুলো পড়ে গেল। লোকজন ককপিট থেকে সজোরে নিক্ষিপ্ত হল এবং পিছনের ঘোড়ার মারাত্মক খুরের নিচে পিষ্ট হল।
তার সেনাদলের সামনে নেফার হাতের ইশারা দিল যে জন্যে তার লোকেরা অপেক্ষা করছে এবং একঝাক পদাতিক বাহিনী লুকানো স্থান থেকে লাফিয়ে থামল এবং কন্টক ঝোঁপগুলো টেনে সরিয়ে দিল। খোলা মুখগুলোকে ইচ্ছে করেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। নেফারের রথ তাদের মধ্য দিয়ে গতি পরিবর্তন করল এবং বেড়িয়ে এল দেয়ালের ওপাশে খোলা মাঠে। এবার সুগঠিত নয়, তারা খেলার মাঠে কৌশল দেখানোর জন্য মুক্ত। তারা উল্টো দিকে সবেগে ছুটল। নাজার ফাঁদে আটক সৈন্য পিছন দিয়ে বৃত্ত করছে এবং তাদের উপর সৈন্য দল ঝাঁপিয়ে পড়ল।
এখন সেনাবাহিনীদ্বয় যুদ্ধে লিপ্ত হল লড়াইরত ষাঁড়ের মতন শিং উঁচিয়ে। নাজার সব রথ ফাঁদে আটকা পড়েনি। এবার রয়ে যাওয়া রথগুলো নেফারকে আক্রমণের জন্য ছুটল এবং একটা ঐতিহ্যগত রথের যুদ্ধ শুরু হল। রথগুলো বৃত্তাকারে ঘোরে আক্রমণ করল এবং পিছু হটল তারপর আবার আক্রমণ করল।
শুরুর দিকে বিশাল সংখ্যক সৈন্য হারানো পরও নেফার এখনও নাজার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। যখন সুযোগে সামনে পিছনে দুলল, নেফার বাধ্য হল তার মজুদ শক্তি ব্যবহার করতে যাদের সে দুর্গের পিছনে লুকিয়ে রেখেছে। এখন সে তাদের শেষ দলটাকে ইশারা করল।
