ধুলা, কোলাহল ও শোর-গোলের মধ্যে নেফার পাগলের মত নাজার রথ ও রাজকীয় লাল পতাকা খুঁজল। সে জানে যদি সে নাজাকে ব্যক্তিগত যুদ্ধে বাধ্য করতে পারে এবং তাকে হত্যা করতে পারে তবে সে এখনো দিনটা চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু তার কোন চিহ্ন ছিল না সেখানে। সম্ভবত দেয়ালের মাঝে গিরি সংকটে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। অথবা সে আহত অথবা মৃত অবস্থায় কোথাও যুদ্ধের ময়দানে পড়ে আছে।
কাছে নেফার দেখল হিল্টোর রথ দুজন সৈন্য দ্বারা পরিবেশিত এবং বৃদ্ধ যোদ্ধা আহত হলেও মাটিতে নিক্ষিপ্ত। হিল্টোর দলটা তাকে পড়ে যেতে দেখল এবং দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ল। নেফার অনুভব করল হতাশার একটা ঠাণ্ডা হাত তার হৃদয় পিষে দিচ্ছে। তারা যুদ্ধটা হারতে যাচ্ছে।
তখন সে দেখল লাল রথের একটা লাইন বৃত্তাকারে বেরিয়ে এসে তার ধনুকধারী ও গুলতিধারীদের পিছন দিয়ে ঘিরে ফেলল এবং তাদের তীর ও বল্লম দিয়ে হত্যা করছে। পদাতিক বাহিনী ছড়িয়ে পড়ল ও পালিয়ে গেল, একটা উশৃঙ্খলতা এবং হতাশা তাদের মধ্যে বিরাজ করছে যা ছিল ছোঁয়াচে। বিষণ্ণভাবে নেফারের মনে পড়ল যে টাইটা এটা বলে, ছোট পাখির প্রভাব এমনই–যখন একজন পালিয়ে যায় তখন তারা সবাই পালায়।
নেফার বুঝল তার সেনাবাহিনী শীঘ্রই ধরাশায়ী হবে এবং সে তাদের শক্তি, সাহস ও উৎসাহ দেয়ার জন্য আরেকটি লাল রথকে ধাওয়া করল, কিন্তু ততক্ষণে ডোভ ও ক্রস প্রায় জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে এবং শত্রু তাদের থেকে দূরে চলে গেল।
তখন তার পাশ থেকে ম্যারন চিৎকার করে বলল, দেখুন, ফারাও! এবং মরু ভূমির পূর্ব দিকে নির্দেশ করল সে। হাতের উল্টো দিক দিয়ে নেফার মুখ থেকে তার ঘাম ও শক্রর রক্ত মুছল, এবং ঐ দিক তাকিয়ে রইল।
সব সন্দেহ ছাপিয়ে সে জানত সব শেষ, এবং তারা যুদ্ধটা হেরে গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক রথের একটা শক্ত দল তাদের দিকে ধেয়ে আসছে। হঠাৎ কোথা থেকে এরা এল নেফার বুঝতে পারল না। সে ভেবেছিল নাজা তার সব যান পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন আর কোন বিষয় না কে যুদ্ধ হেরে গিয়েছে।
কত সংখ্যক নেফার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
দুইশত! ম্যারন অনুমান করল, তার বেশিও হতে পারে। তার কণ্ঠে হতাশা।
সব শেষ, ফারাও! আমরা যুদ্ধ করতে করতে মরব।
একটা শেষ আক্রমণ। নেফার তার সবচেয়ে কাছের রথগুলোর উদ্দেশ্যে চিৎকার করল। নীল বাহিনী! সম্মানের সাথে মৃত্যু।
তারা কর্কশভাবে চিৎকার দিল জবাবে এবং রথ চালিয়ে তার উভয় পাশে এল। এমন কি ডোভ ও কুসও মনে হল নতুন শক্তি পেল এবং নীল রথের একটা ক্ষুদ্র লাইন তাদের নতুন শত্রুদের দিকে ছুটল, তাদের মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধ করতে। যখন তারা কাছাকাছি এল তারা দেখল যে প্রধান রথে একজন জেনারেল, যার রথে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পতাকা উড়ছে, হুরাসের কসম, আমি তাকে চিনি। ম্যারন চিৎকার করল। এটা প্রেন, বৃদ্ধ পায়ু কামুক। তারা এখন এতো কাছাকাছি যে নেফার বৃদ্ধ অবয়বটা চিনতে পারল। এক চোখে কালো কাপড়ে ঢাকা সে তাকে রাজা অ্যাপেপির কর্মকর্তাদের দলে দেখেছে যখন তারা হাথোরের মন্দিরে শান্তি চুক্তি করছিল।
তার আগমন বড় অসময়ে। নেফার বিষণ্ণভাবে বলল। কিন্তু সম্ভবত আমরা তরুণ বালকদের পরের প্রজন্মকে তার লোলুপ আকর্ষণ থেকে বাঁচাতে পারব।
সে ডোভ ও ক্রুসকে সোজাসুজি প্রেনের দিকে চালাল, গতির দিক পরিবর্তন করতে ও তার বল্লম নিক্ষেপের জন্য ফাঁকা স্থান পাওয়া চেষ্টা করছে সে। কিন্তু যখন তারা কাছাকাছি এল, ম্যারন চিৎকার করল, হতভম্ব! সে নীল পতাকা উড়াচ্ছে! প্রেনের পতাকা পিছনে উড়ছিল, ঠিক তাদের বরাবর, সেই কারণে নেফার লক্ষ্য করে নি। কিন্তু ম্যারন ঠিকই দেখেছে। প্রেন ট্যামোস হাউজের নীল পতাকা উড়াচ্ছে এবং সেই সাথে তার সব রথও। যখন প্রেন ধীর হল, নেফারকে স্যাটুল করে চিৎকার করল, জয় ফারাও! আপনি দশ হাজার বছর বেঁচে থাকুন, নেফার সেটি।
অবাক বিস্ময়ে নেফার বল্লমটা নামিয়ে নিল যা সে প্রায় ছুঁড়তে যাচ্ছিল এবং ঘোড়াগুলোকে থামাল।
আপনার আদেশ কি, ফারাও! প্রেন চিৎকার দিল।
এটা কেমন অদ্ভুত কাজ জেনারেল প্রেন, কেন আপনি আমাকে আদেশ করতে বলছেন? নেফার উল্টো প্রশ্ন করল।
রাজকুমারী মিনটাকা আমাকে আপনার বার্তা দিয়েছে এবং আমি আমাকে আপনার দলভুক্ত করতে এসেছি, সেই সাথে রাজা অ্যাপোপি ও ফারাও ট্যামোসের হত্যার প্রতিশোধ নিতে সাহায্য করতে এসেছি।
মিনটাকা? নেফার দ্বিধান্বিত। কারণ সে নিশ্চিত ছিল সে অ্যাভারিসের মন্দিরে। নিজেকে সামলে নিয়ে সে বলল, ভালো সাক্ষাৎ জেনারেল প্রেন, ঠিক সময়েই এসেছেন। আপনার রথ আমার পাশে আনুন এবং আমরা এই ভূমির শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত শত্রু উড়িয়ে দেব।
তারা পাশাপাশি আক্রমণ চালাল এবং নেফার দেখল ছত্রভঙ্গ ও ছড়িয়ে পরা নীল পতাকার সেনারা ফিরে আসছে ও সে তাদের যুদ্ধ চিৎকার শুনল, হুরাস এবং নেফার সেটি! এবং যুদ্ধের রেম্প ঘণ্টা বেজে উঠল এবং তারা নতুন শপথ নিল। নাজা কাইফানের লাল বাহিনীর অবস্থা খুব ভালো ছিল না এবং তারা প্রেন বাহিনীর সামনে দাঁড়াতেই পারল না। তারা কিছুক্ষণ লড়াই চালাল কিন্তু তারা ছিল তৃষ্ণার্ত। অনেকে রথ থেকে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে ধুলায় হাঁটু গেড়ে বসে আত্মসমর্পণ করল, জীবন ভিক্ষা চাইল ও নেফার সেটির প্রশংসায় চিৎকার করতে লাগল। তাদের আচরণ অন্যদের মধ্যে ছোঁয়াচে হয়ে যুদ্ধের ময়দানে ছড়িয়ে পড়ল, কারণ লাল রথীরাও তাদের অস্ত্র ফেলে দিল ও হাঁটুগেড়ে বসে পড়ল।
