সতর্ক সংকেত বাজাতেই সৈন্য সারি ও রথের কলাম যার যার অবস্থানে চলে যেতে শুরু করল।
টাইটা উঁচু মঞ্চে আরোহণ করল এবং নেফার তার দিকে চেয়ে হেসে বলল, তাহলে এমনকি পানির অভাবেও নাজা পিছু হটে নি।
আমরা কখনো ভাবিনি সে তা করবে। নরম সুরে বলল টাইটা।
পূর্ব দিগন্তে কালো হতে শুরু করল যেন অসময়ে রাত নামল। বিশাল বিস্তৃত হয়ে শত্রুরা গঠনরত একটা ঝড়ের মত এগিয়ে আসছে।
এখনো দুপুর হতে কয়েক ঘণ্টা লাগবে। নেফার নির্মম সূর্যটার দিকে তাকাল। নাজার ঘোড়াগুলো তিন দিনে অল্প পান করেছে এবং আমাদের এখানে দ্রুতই পৌঁছাতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হবে। সে জানে সে অবশ্যই জিতবে এবং আজ দিনেই কুয়ার কাছে পৌঁছাবে, এছাড়া তার আর কোন পথ নেই।
তুমি কি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আমার সাথে যাবে, বৃদ্ধ পিতা? নেফার জিজ্ঞেস করল।
না! টাইটা তার বাম হাত তুলল। আঙুলে সে রক্তাভ লাল রুবি বসানো সোনার আংটি পড়েছে, যখন এটার উপর সূর্যালোক পড়ল তা ঝলমল করে উঠল। নেফার তা চিনতে পারল, এটা নাজা এই কয়েক বছর আগে তাকে দিয়েছিল নিদর্শন হিসেবে তার নিজের আঙুল থেকে খুলে, যখন সে বিশ্বাস করেছিল ম্যাগোস তার জন্যে তরুণ ফারাওকে খুন করেছে। নেফার বুঝল এটা একটি শক্তিশালী কবজ হিসেবে কাজ করবে কেননা এতে নাজার স্পর্শ রয়েছে। আমি এখান থেকে যুদ্ধ দেখব এবং আমি আমার নিজের পদ্ধতিতে তোমাকে সাহায্য করব।
নেফার হাসল। তোমার অস্ত্রগুলো অধিক ধারালো ও অধিক বিশ্বস্ত ভাবে উড়ে অন্তত আমি যতো অস্ত্র আমার হাতে নিয়েছি তার থেকে। হুরাস তোমাকে ভালোবাসুক ও রক্ষা করুক, বৃদ্ধ পিতা?
ধনুকধারী ও গুলতিধারী ব্যাটেলিয়ান নিজেদের অবস্থান নিল। পদাতিক সৈন্যরা দ্রুত এগোলো লক্ষ্য বরাবর। তারা সবাই জানে তাদের কি করতে হবে, বহুবার তারার এর অনুশীলন করেছে। সবাই তারা আড়াল নিলে মাঠটাকে নির্জন মরু ছাড়া আর কিছুই মনে হল না।
যখন নাজার অভিগমনের ধুলোর মেঘ এক ক্রোশের চেয়ে কম দূরে ছিল, নেফার টাইটাকে আলিঙ্গন করল এবং মই বেয়ে নেমে গেল। সে দৃঢ় পদক্ষেপে ফটক দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে যখন রথের কাছে এল তখন সমাবেশ থেকে একটা গর্জন এলো। সে তার সৈন্যবাহিনীর কাছে গেল এবং তার ক্যাপ্টেন ও সর্দারদের তাদের মধ্যে দেখল, সাহস রেখো, হিল্টো! আমার জন্য আরেক বার, শাবাকো! আজ রাতে আমরা বিজয়ের পেয়ালা এক সাথে পান করতে চাই, সোক্কো!
ম্যারনের হাতে ডোভ ও ক্রুস ছিল যখন সে লাফিয়ে পাদানিতে উঠল। নেফার তার কাছ থেকে লাগামটা নিল এবং ভোভ তার স্পর্শ চিনতে পারল ও তার বিশাল উজ্জ্বল চোখ দিয়ে তার দিকে ফিরে তাকাল। এক দিকে তার ঘাড় বাঁকা করল এবং সামনের একটা খুর দিয়ে মাটিতে চাপ দিল বারবার।
নেফার তার ডান হাত উপরে তুলে আদেশ দিল, এগিয়ে চল! সামনে।
যুদ্ধের ধ্বনি বাজল এবং সে সৈন্যদের সারির পর সারি নিয়ে বাড়ল সামনে। তারা চমৎকার ভাবে এগোল নিচু দেয়ালের মধ্য দিয়ে যেগুলোর পিছনে কেউ একটা ধনুকধারীকেও দেখল না। বাইরে খোলা সমতলে সে বেরিয়ে গেল।
নেফার আরেক হাতের সংকেত দিলে গঠন খুলে গেল। পাশাপাশি প্রথম সারি সামনে এগুলো বিশাল ধুলার মেঘটাকে মোকাবেলা করতে যা তাদের দিকে গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে। কয়েক সপ্তায় আগে সে যে চিহ্নগুলো দিয়েছিল তার সামনে এসে নেফার তার প্রধান রথ থামল এবং ঘোড়াগুলোকে বিশ্রাম দিল, যখন সে শত্রুদের আগমন পর্যবেক্ষণ করতে লাগল।
এবার যেখানে পিঙ্গল ধুলার মেঘ ধূসর মরুকে ক্ষীণভাবে ছুঁয়ে গেল সেখানে সে কালো দাগের একটা লাইন দেখল এবং অসংখ্য ধাতুর ঝলকও দেখা গেল উষ্ণ বাতাসে। তারা এগিয়ে এল মরীচিকা ভেঙে, নাজার প্রথম সৈন্য সারি দুমড়ে মুচড়ে এগিয়ে এল এবং তাদের আকৃতি পরিবর্তিত হল।
তারপর তারা শক্ত হল ও দৃঢ় আকার ধারণ করল এবং সে ঘোড়াগুলো ও বর্ম পরিহিত লোকগুলোকে ঝুকতে দেখল তাদের যানের উপর।
ম্যারন বিড়বিড় করল, প্রিয় হুরাস মনে হয় সে তার সব রথ নিয়ে আসছে এবং একটাও মজুদ রাখেনি।
তারা নিশ্চয়ই পানির জন্যে পাগল। তার বেঁচে থাকার একমাত্র সুযোগ হল সম্মুখ আক্রমণে আমাদের সৈন্যদের ভেঙ্গে ফেলা এবং কূপগুলোর দখল নেয়া।
শত্রু সামনে এগিয়ে এল এবং এখন তারা তাদের রঙ ও পতাকা দিয়ে রেজিমেন্টদের চিহ্নিত করতে পারল এবং ক্যাপ্টেনকে চিনতে পারল যে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
দুই হাজার কদম দূরে শত্রুরা থেমে গেল। চারপাশে বিশাল নিরবতা নেমে এল, শুধু বাতাসের আওয়াজ ছাড়া। পড়ন্ত পর্দার মত ধুলো যখন পড়ে গেল দুই সৈন্যবাহিনীর প্রতিটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল তখন।
শক্রদের কেন্দ্রস্থল থেকে একটা যান সামনে এগিয়ে এল। যদিও ধুলায় ঢাকা, তবু গাড়ির কারুকার্য সূর্যের আলোতে ঝিকমিক করে উঠল এবং চালকের মাথার উপর উড়ছে রাজকীয় বিশেষ পতাকাটা। নাজা তার একশ কদম এগিয়ে থামল ফলে নেফার তার নির্মম সুন্দর মুখটা চিনতে পারল নীল যুদ্ধ মুকুটের নিচে।
জয়, নেফার সেটি, কুকুরের ছানা। যার পিতাকে আমি আমার নিজ হাতে হত্যা করে ছিলাম। নাজা তার সুমধুর কণ্ঠে বলল।
নেফার তার সাহসের পরিমাণ দেখে রাগে শক্ত হয়ে গেল। যে সবার সম্মুখে তা স্বীকার করছে।
