এটা ফারাও, আপনার মহান স্বামীর আদেশে, মহারাণী! ক্যাপ্টেন ব্যাখ্যা করল। সকল পানির থলে সামনের অশ্বারোহী সৈন্যদের জন্য দরকার।
এরকম আদেশ আমার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। মিশরের মহান রাণী হেজারেট আর্তনাদ করল। ঐ পানির থলেগুলো জায়গা মত রাখ।
সৈন্যরা ইতস্তত করল, কিন্তু সার্জেন্ট তার চামড়ার হেলমেটের চূড়া তার তেলোয়ার দিয়ে স্পর্শ করে বলল,
আমাকে ক্ষমা করুন। মহারাণী! আমার আদেশ হল সকল পানি নেওয়া।
তুমি আমাকে অসম্মান করছো? হেজারেট তাকে শাসালো।
দয়া করে ক্ষমা করুন এবং আমার অবস্থাটা বুঝুন, মহারাণী। লোকটি তার স্থানে দাঁড়িয়ে রইল।
আইসিসের সুন্দর নামের কসম, আমি তোমাকে ফাঁসিতে চড়াব ও তোমার দেহ পুড়াব যদি তুমি আমাকে আসম্মান কর।
আমার আদেশ…
তোমার ও তোমার আদেশের উপর প্লেগ পড়ুক। আমি এখন জেনারেল প্রেনের কাছে যাব। যখন আমি ফিরব আমি তোমার জন্য নতুন আদেশ নিয়ে আসবো। তারপর সে তার দেহরক্ষীর দিকে ফিরল। আমার রথ প্রস্তুত কর ও দশ জন লোক দাও।
হেজারেটের তাঁবু থেকে জেনারেল প্রেনের ক্যাম্প দেখা যায়। রথে করে তার দশ মিনিট লাগল সেখানে পৌঁছাতে। কিন্তু সীমানা প্রাচীরের ফটকের রক্ষী বাঁধা দিল, মহারাণী! জেনারেল নে এখানে নেই। সে তাকে বলল।
আমি তা বিশ্বাস করি না। হেজারেট রুষ্ট দৃষ্টিতে তাকাল।ঐ যে পতাকা উড়ছে, এর মানে সে এখানে।
মহারাণী, এক ঘণ্টা আগে তিনি তার সব অশ্বারোহী দল নিয়ে নাজা ফারাও এর আদেশে তার সাথে যোগ দিতে অগ্রণী দলে গিয়েছেন।
তার সাথে আমার দেখা করতেই হবে। খুব জরুরি বিষয়। আমি জানি সে আমাকে না জানিয়ে যাবে না। সরে দাঁড়াও এবং আমি নিজেই দেখে নেব সে এখানে আছে কিনা। সে তার দিকে সরাসরি রথ চালিয়ে দিল এবং দ্রুত প্রহরী লাফ দিয়ে সরে গেল।
সে হলুদ ও সবুজ রঙের ডোরাকাটা তাঁবুর সামনে থামল এবং লাগাম সহিসদের কাছে দিয়ে লাফিয়ে নামল ও তাঁবুর প্রবেশ দ্বারে দিকে দৌড় দিল। তাঁবুটা অরক্ষিত ছিল এবং সে বুঝল তাকে সত্য কথা বলো হয়েছে, প্রেন এখানে নেই। তবুও সে দরজা দিয়ে ঝুঁকে প্রবেশ করল। দুজন বালক মেঝেতে বসে খাবার খাচ্ছিল এবং তারা তার দিকে চোখ তুলে তাকাল।
তোমরা কারা? হেজারেট জানতে চাইল, জেনারেল কোথায়?
কেউ উত্তর দিল এবং তার দিকে নিঃশব্দে তারা তাকিয়ে রইল। হঠাৎ হেজারেটের চোখ সরু হয়ে গেল এবং সে এক কদম তাদের দিকে বাড়ল। তুমি! সে চিৎকার করে উঠল। তোমরা প্রতারক কুকুর। সে তাদের দিকে একটা কাঁপা আঙ্গুলে নির্দেশ করল। রক্ষী প্রহরী। প্রহরী, এখানে এখনই আস।
মিনটাকার যেন জ্ঞান ফিরল। সে মেরিকারার হাত ধরল ও তাকে টেনে তুলল। পিছনের দরজা দিয়ে সবেগে দৌড় দিল দুজন।
প্রহরী! হেজারেট আবার চিৎকার করল। এই দিকে! তার দেহরক্ষীরা তার পিছনের দরজা দিয়ে দৌড় দিল।
তাদের অনুসরণ কর! হেজারেট চিৎকার করল। তাদের পালাতে দিবে না। তারা গুপ্তচর ও দেশদ্রোহী।
তার দেহরক্ষীরা তাদের পিছনে ধাওয়া করল ও ফটকের রক্ষীদের চিৎকার করে বলল, তাদের থামাও। তাদের ধর, তাদের যেতে দিও না। প্রহরীরা তাদের তলোয়ার বের করল ও ফটক আটকাতে দৌড় দিল।
মিনটাকে থামল যখনই সে দেখল যে তারা প্রায় বিভক্ত হতে যাচ্ছে। সে তার চারপাশে বেপরোয়া ভাবে দেখল, তারপর মেরিকারাকে হাতে ধরে টেনে প্রাচীরের কাঁটার বেড়ার দিকে দৌড় দিল এবং ওটা লাফিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু দেহ রক্ষীরা তাদের কাছে চলে এল, তাদের গোড়ালি ধরে দেয়াল থেকে তাদের টেনে নামাল। কাটা তাদের হাত ও পা ছিলে দিল এবং তাদের রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। কিন্তু তারা পাগলের মত লড়াই করল, লাথি মাল, আচড় দিল ও কামড় দিল। কিন্তু সৈন্যরা তাদের হেজারেটের সামনে নিয়ে এল। সে বিজেতার মতো হাসছিল। তাদের শক্ত করে ধর। আমি নিশ্চিত আমার স্বামী, এই মিশরের একমাত্র শাসক তাদেরকে তাদের অপরাধের জন্য উত্তম শাস্তি দিবে যখন সে ফিরবে। আমি তখন তাদের আর্তনাদ উপভোগ করব। তখন পর্যন্ত তাদের পশুর মতো আমার ভাবুর সামনে খাঁচায় ভরে রাখ, যাতে আমি তাদের উপর চোখ রাখতে পারি।
দেহরক্ষীরা তাদের বেঁধে রথে করে নিয়ে এল। একটা বিশাল শূকরের খাঁচায় তাদের ভরা হল ও নির্দেশিত স্থানে রাখা হল।
দিন ও রাত তোমাদের খাঁচার সামনে রক্ষী নিযুক্ত থাকবে। হেজারেট তাদের সাবধান করল। মেরিকারা কাঁদতে লাগল, কিন্তু মিনটাকা তাকে ফিসফিসিয়ে বলল, না আমার সখী, সাহসী হও। তাকে আমাদের কষ্টে আনন্দ পেতে দিও না।
*
ইশমাইলিয়া দুর্গের ওয়াচ টাওয়ার থেকে প্রহরী চিৎকার করে সতর্ক করল, ফারাও! সন্ধানী দল আসছে। নেফার লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল, সে ও টাইটা দুপুরের খাবার খাচ্ছিল তখন। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে সে মঞ্চে উঠে গেল এবং চোখের উপর হাত তুলে ছায়া দিয়ে দূরে তাকাল। হলুদ আলোয় সে সন্ধানী দলটাকে সামনে এগিয়ে আসতে দেখল। যখন নদী তীরে ওয়াদির মধ্যে তার এল তখন রক্ষীরা ফটক খুলে দিল এবং তাদের প্রবেশ করতে দিল।
শত্রুরা দ্রুত এগিয়ে আসছে! নেফারকে চিৎকার করে জানাল দলের সার্জেন্ট।
খুব ভালো সার্জেন্ট, নেফার তাকে বলল। তারপর ফটকের উপরে দেয়ালে দাঁড়িয়ে বাদকে আদেশ দিল, সতর্ক সংকেত বাজাও।
