দিনের বাকি সময় ও পরের রাত জুড়ে তারা পূর্ব দিকের উপকূল ধরে চলল। পরের সকালে জাহাজটা এল আরিস এর বীচের নিকটবর্তী হল। পানি কোমর সমান গম্ভীর হতেই দেহরক্ষী দুজন লক ও লক্কা, মহিলাদের তীরে বয়ে নিয়ে গেল। তারা পানি ঠেলে আবার নৌকায় মালপত্র নিতে এল। তাদের সব কিছু নামানোর পর এক মাস্তুলের জাহাজটা মিশর ও ডেল্টার দিকে ফিরে চলল।
বেশ, আমরা তা করেছি, মেরিকারা অনিশ্চিত ভাবে বলল। মিনটাকার সঙ্গ সত্তেও তার বিরক্ত ও একাকী লাগছে। কিন্তু এখন কি করতে হবে? সে কানের কাছে চিৎকার করে বলল।
আমি লককে আমাকের জন্য বাহন আনতে পাঠাব। মিনটাকা বলল এবং তাকে আরেকটু স্বস্তি দেয়ার জন্য ও আত্ম বিশ্বাসী করার জন্য সে মেরিকারার কাছে ব্যাখ্যা করল, নেফার আমাদের মরুভূমি দিয়ে যাওয়ার সময় রুখে দিতে পারে আংকেল টংকাকে খুঁজে পেতে। কিন্তু আমারা তাকে বোকা বানিয়েছি। সে আরো উদ্ভাসিত হয়ে হাসল। ভেবে দেখ নেফার ও ম্যারন কতটা রাগান্বিত হত যদি তারা শুধু মাত্র তা জানত! তারা এক সাথে হাসল এবং মিনটাকা বলে গেল, এখানে আমরা নাজার অভিগমন রত আর্মির পিছন দিকে এবং বীরসেবা ও ইসমাইলিয়ার মধ্যকার রাস্তা আমাদের থেকে মাত্র কয়েক ক্রোশ দূরে। যখন লক একটা গাড়ি বা ওয়াগান খুঁজে পাবে আমাদের জন্য তখন আমরা আমাদেরকে নাজার আর্মির মালামালের গাড়িতে সামিল করতে পারব এবং লুকিয়ে থাকব ক্যাম্প অনুসারীদের মধ্যে যতোক্ষণ না আমরা আংকেল টংকার হেড কোয়ার্টারে পৌঁছাব।
মিনটাকা যেমনটা বলল গাড়ি পাওয়া তত সহজ ছিল না। নাজার সৈন্যদলের নেতা তাদের সামনে এবং ওয়াগন ও ঘোড়া দখল করে নিয়েছে। সাধারণ জনগণের খাবার ও সেই সাথে শেষে তারা পাঁচটা জরাজীর্ণ গাধার ব্যবস্থা করতে পারল, তাদের এ জন্যে চড়া মূল্যও দিতে হল, দুইটা ভারি সোনার আংটি এবং দুটি রূপা। প্রাণীগুলো মহিলা দুজনের ওজন বহন করতে সক্ষম ছিল না তাদের সঙ্গীদের কথা তো বাদই দিতে হল। তাই তাদের বেশির ভাগ রাস্তা হেঁটে চলতে হল এবং অবতরণের পর তৃতীয় দিনে তারা একটা চূড়ার শীর্ষে উঠল এবং তাদের নিচের উপত্যাকায় ফারাও নাজার বাহিনীকে দেখতে পেল। যতোদূর চোখ গেল তারা শুধু নাজার বাহিনীই দেখল এবং দাবানলের সৃষ্ট ধোয়ার মতো তা আকাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেল।
তারা এর সাথে যোগ দিতে নেমে গেল এবং নিজেদেরকে মালপত্রের গাড়ির আড়াল করল। তারা ওয়াগান ও প্রাণীর সাথে দীর্ঘ ক্যারাভেনে নেমে পড়ল। মিনটাকা ও মেরিকারা তাদের মাথা ও চেহারা ঢেকে রাখল এবং তাদের পুরানো ধূলিমাখা পোশাক কাউকে বিরক্ত করল না। লক ও লক্কা খুব কাছাকাছি থেকে তাদের রক্ষা করল এবং অন্য ভ্রমনকারীদের থেকে নিরুৎসাহিত করল, অভিযামনের মাত্রা খুবই ধীর।
মিনটাকা ও মেরিকারা তাদের জীর্ণ গাধাগুলোর সর্বোচ্চ গতি ব্যবহার করে এগুলো এবং প্রথম রাতটা খোলা আকাশের নিচে কাটাল। ভোরে যখন পায়ের নিচের পথ দেখার মত আলো ফুট তারা আবার রওনা দিল। দুপুরের পূর্বে তারা প্রধান আর্মির পশ্চাৎ দলকে ধরে ফেলল। তারপর তারা অশ্বারোহী বাহিনীর লাইন অতিক্রম করল, প্রতি সারিতে বিশটি করে। তার পিছনে গবাদি পশুর খাবারের ওয়াগান ও পানির গাড়ি। মিনটাকা সংখ্যা দেখে বিস্মিত হল কখনো এটা মনে হয়নি যে মিশরে এতো প্রাণী আছে।
ঐ দিন সন্ধ্যায় প্রধান আর্মি থেমে যাওয়ার পরও তারা চলল এবং সূর্যাস্তের পর তারা রাস্তার পাশে খুঁটি ও কাঁটা গাছের ঝোঁপের বৃহৎ সমাবেশের সামনে এল। এটা স্থাপন করা হয়েছে নিচু পাহাড়ে সহজে সুরক্ষিত গিরিখন্দের প্রবেশ দ্বারে কড়া নিরাপত্তায় এবং এর চারপাশে অনেক ব্যস্ততা, পথচারীদের গমন ও অভিগমন দাস দাসীদের ছুটাছুটি এবং রথের আসা যাওয়া যেগুলোকে লাল পদবীধারী অফিসারেরা চালাচ্ছে। সীমানা প্রাচীরের ফটকের উপর সেনাদলের চিহ্নিত পতাকা উঠল এবং মিনটাকা তৎক্ষণাৎ তা চিনতে পারল। একটা বন্য ভালুকের ছিন্ন মাথা ওটার উপর অঙ্কিত ছিল,যার জীব ওটার দাঁতাল চোয়ালের কোনা দিয়ে ঝুলে আছে।
এই সেই ব্যক্তি যাকে আমরা খুঁজছি। মিনটাকা ফিসফিসিয়ে মেরিকারাকে বলল, কিন্তু তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আমরা কি ভাবে ঢুকব? মেরিকারা জিজ্ঞেস করল অনিশ্চিত ভাবে, প্রহরীদের দিকে তাকিয়ে।
তারা তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পটা একটু দূরে করল, কিন্তু জেনারেল প্রেনে যিনি লাল বাহিনীর প্রধান, তার কার্যালয় দৃষ্টিগোচরে রেখে।
একটা চামড়ার স্যান্ডেল ব্যাগ থেকে মিনটাকা দামি তেলের প্রদীপ বের করল যা সে তার সাথে নিয়ে এসেছে এবং এর আলোতে সে একটা ছোট বার্তা প্যাপিরাসের কাগজের টুকরোয় লিখল। সম্বোধন করা হল আংকেল ভালুক বলে এবং সই করা হল আপনার ছোট ঝিঁঝি পোকা লিখে।
মহিলা দুজন তাদের মুখ থেকে ধুলা ধুয়ে পরিষ্কার করল, একে অন্যের চুল ঠিক করে দিল এবং তাদের পোশাক পড়ে নিল। তারপর একে অন্যের হাত ধরে তারা সীমানা প্রাচীরে ফটকের সামনে এগিয়ে গেল। রক্ষীদের সার্জেন্ট তাদের আসতে দেখল এবং তার পা বাড়িয়ে সামনে গেল তাদের থামাতে।
এখন এসো। এখানে কোন সুযোগ হবে না। ভাগ এখান থেকে।
আপনাকে একজন দয়ালু ও ভালো মানুষের মতো দেখা যায়। মিনটাকা তাকে সাধারণভাবে বলল। আপনি কি কোন বদমাশকে ঐ অসভ্যভাবে আপনার মেয়ের সাথে কথা বলার অনুমতি দিবেন? সার্জেন্ট থেমে গেল এবং তার দিকে তাকাল। সে হিকস্স ভাষায় প্রকৃত উচ্চারণ ও স্টাইলে কথা বলল। সে তার লণ্ঠন তুলে তাদের চেহারা আলোকিত করল। তাদের পোশাক সাধারণ কিন্তু তারা সম্ভবত উচ্চ শ্রেণির কম বয়সী মহিলা। প্রকৃতপক্ষে তাদের চেহারা তার পরিচিত মনে হল, যদিও সে তৎক্ষণাৎ চিনতে পারল না।
