জাগ্গা কঠিন বিপদে পড়ল। মন্দিরে ভিতর ছিল অরক্ষিত। সে তার দায়িত্ব ফেরত চাইতে পারবে না, এমন কি ফারাও এর কর্তৃপক্ষ হিসেবেও নয়। তার একমাত্র খোলা পথটা হল ইশমাইলিয়ায় ফিরে যাওয়া এবং তার ব্যর্থতা স্বীকার করা। কিন্তু তা ঝুঁকিপূর্ণ। তরুণ ফারাও এখনো তার প্রকৃত রূপ দেখাননি এবং তার ক্রোধটা হতে পারে মারাত্মক।
*
যে মুহূর্তে মন্দিরের দরজা তাদের পিছনে বন্ধ হল, মিনটাকা ব্যাকুলভাবে জানতে চাইল, আপনি ব্যবস্থা করেছেন, পবিত্র মাতা?
কোন ভয় নেই, কন্যা। সব প্রস্তুত। যাজিকার বাদামী চোখ বিস্ময়ে চকচক করল। আমি খোঁজার মদে একটু খানি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছি। সে ফিক করে হাসল, আশা করি তোমরা ভাববে না যে আমি আমার সীমা ছাড়িয়ে গেছি এবং সে হলে তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও।
মিনটাকা তার মসৃণ মলিন গালে চুমু খেল, আমি নিশ্চিত আমার মতো হাথোরও আপনাকে নিয়ে গর্ব করবে।
যাজিকা তাদের সে কক্ষে নিয়ে গেল যেখানে মিনটাকার চাহিদামত জিনিসপত্র রাখা রয়েছে। তারা তড়িঘড়ি করে খসখসে কৃষকের পোশাক পরিধান করল এবং তাদের মাথা পশমি চাদর দিয়ে ঢাকল। তারপর কাঁধে চামড়ার ঝোলা ঝুলিয়ে তারা প্রধান যাজিকাকে বারান্দার গোলক ধাঁধার মধ্য দিয়ে অনুসরণ করল। অবশেষে তারা এক নিচু দরজা দিয়ে সূর্যালোতে বেরিয়ে এল এবং একটা জেটিতে নামল যেখানে একটা বড় এক মাস্তুলে নৌকা নোঙ্গর করা। ক্যাপ্টেনকে তোমরা আমাকে যে স্বর্ণ দিয়েছিলে তা দিয়েছি এবং সে জানে কোথায় যেতে হবে। অন্য আর যা। তুমি চেয়েছিলে সব নৌকায় তোমার কেবিনে রয়েছে। সে বলল।
আপনি জানেন তো জান্নাকে কি বলতে হবে? মিনটাকা বলল এবং বৃদ্ধ মহিলা আবার ফিক করে হাসি দিল।
আমি নিশ্চিত যে হাহোর আমাকে এই তাৎপর্যপূর্ণ মিথ্যাবাদীতার জন্য ক্ষমা করবেন, এটা একটা ভালো কারণ।
যখন যুগলদ্বয় লাফিয়ে নৌকায় উঠল নাবিকটা যে ছায়ায় ঝিমোচ্ছিল হামাগুড়ি দিয়ে দাঁড়াল এবং দ্রুত পাল তুলতে এগিয়ে এল। অনুমতির অপেক্ষা না করেই নাবিকটি ডেল্টার দিকে যাত্রা করল। দিনের বাকিটা সময় মিনটাকা ও মেরিকারা জাহাজের ছোট কেবিনে রইল, যাতে তীর থেকে বা কোন নৌকা থেকে কেউ তাদের চিনতে না পারে।
পড়ন্ত বিকালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জাহাজটা পূর্ব তীরে নোঙর করল এবং দুজন অস্ত্রধারী লোক জাহাজে এল, ভারি বস্তা নিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপ্টেন আবার রওনা দিল। লোক দুজন কেবিনে এল এবং মিনটাকার সামনে হাজির হল।
সকল প্রভু আপনাকে ভালোবাসুক, মহামান্য। দুজনের মধ্যে বড় জন বলল, একটা দাড়িওয়ালা হিকস্ বড় নাক ও শক্তিশালী দেহ কাঠামো বিশিষ্ট সে।
আমরা আপনার কুকুর। আমরা এসেছি যখনই আপনার ডাক পেয়েছিল।
লক! মিনটাকা সন্তুষ্টিতে হাসল এবং তারপর অন্য লোকটার দিকে ঘুরল।
এবং নিশ্চয়ই এটা তোমার ছেলে, লক্কা। সে তার বাবার মতই বড়, সাহসী ও বলবান। তোমাদের দুজনকে স্বাগতম। তুমি লক, আমার পিতাকে ভালো সেবা দিয়েছে। তুমি ও তোমার ছেলে কি তা আমার জন্য তা করবে। সে হিকস্সিয়ান ভাষায় বলল।
আমাদের জীবন দিয়ে, মহাত্মা! তারা তাকে বলল।
তীরে না যাওয়া পর্যন্ত আমার কাছে তোমাদের জন্য কোন কাজ নেই, কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রাম নাও এবং তোমাদের অস্ত্র প্রস্তুত কর।
জাহাজের ক্যাপ্টেন ডেল্টার অনেকগুলো মুখ থেকে একটাকে বাছাই করল যেখানে স্রোত কম, জলা লেগুন দিয়ে ধীরে বয়ে গেছে এবং যার উপরে জলচর পাখির মেঘ ঘুরে বেড়ায়। ভোলা সমুদ্রে পৌঁছার পূর্বেই অন্ধকার নামল। কিন্তু ক্যাপ্টেন নির্ভুলভাবে চালল গভীরতা ও লুকানো বালির তটের মধ্য দিয়ে, যতোক্ষণ জালার পচা দুর্গন্ধ ভূমধ্যসাগরের পরিষ্কার লবনাক্ত বাতাস দিয়ে তাড়িত হল।
এখন, জাগ্গা বুঝবে যে আমরা পালিয়েছি। মিনটাকা মেরিকারার উদ্দেশ্যে হাসল। আমি ভেবে পাই না সে নেফারকে কি বলবে, যে আমরা মন্দিরের মধ্যে প্রধান যাজিকার অধীনে নিরাপদে আছি? আমি ও রকমটাই আশা করি।
জাহাজের ক্যাপ্টেন এবার পূর্ব দিকে ঘুরল এবং চাঁদের আলোয় সারা রাত উপকূল ঘেঁষে চলল। ভোরবেলা মিনটাকা ও মেরিকারা উষ্ণতার জন্য তাদের শালের নিচে কুন্ডলী পাকিয়ে জাহাজের সম্মুখভাগে দাঁড়াল। তারা দক্ষিণে তাদের ডান দিকের নিচু নির্জন মরু তীরে তাকাল।
ভেবে দেখো যে নেফার ওখানে মাত্র কয়েক ক্রোশ দূরে; মিনটাকা ফিসফিস করল। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি তাকে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে পারব।
ম্যারনও সেখানে পূর্ব দিকে একটু এগিয়ে। কি আশ্চর্য যে তারা জানবে না আমরা খুব কাছাকাছি।
আমার হৃদয় নেফারের জন্য ব্যাকুল। আমি সব সময় হুরাস ও হাহোরের এর কাছে তার নিরাপত্তার জন্যে প্রার্থনা করি।
তাহলে তুমি আর তাকে ঘৃণা করো না। মেরিকারা প্রশ্ন করল।
আমি কখনো তা করিনি। মিনটাকা উষ্ণভাবে অস্বীকার করল, তারপর ইতস্ততঃ করল, সম্ভবত এক মুহূর্তের জন্য এবং মাত্র একটু খানি।
আমি জানি ঠিক তুমি কতটুকো তাকে অনুভব কর। মেরিকারা তাকে আশস্ত করল। মাঝে মাঝে তারা খুব জেদি ও গোঁয়ার এবং … সে উপযুক্ত শব্দ খুঁজল তা বর্ণনা করতে, … এবং পুরুষোচিত।
হ্যা! মিনটাকা সম্মতি জানাল, ঠিক তাই। বাচ্চাদের মতো। আমার মনে হয় আমাদের তাদেরকে ক্ষমা করতে হবে, কারণ তারা নিজেদের সাহায্য করতে পারবে না।
