আমাকে ক্ষমা করুন, সে মিন মিন করল। আপনাকে ভুল বুঝেছিলাম। সে ভেঙ্গে পড়ল এবং মিনটাকা মাধুর্যপূর্ণ ভাবে হাসল।
অবশ্যই, আপনাকে ক্ষমা করা হল। আপনি কি আমাদের পক্ষ থেকে একটা বার্তা সেনারক্ষক প্রেনের কাছে নিয়ে যাবেন? সে মোড়ানো কাগজের টুকরাটা দেখাল। সার্জেন্ট এক মুহূর্ত ইতস্তত করল ওটা নেওয়ার পূর্বে।
আমি দুঃখিত যে আপনাদের এখানে অপেক্ষা করতে হবে যতোক্ষণ না আমি তার কাছ থেকে কোন নির্দেশ না পাই।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে সে দ্রুত ফিরে এল। সম্মানীয় মহোদয়া, আমি দুঃখিত যে আপনাদের অপেক্ষা করিয়েছি। দয়া করে আমাকে অনুসরণ করুন।
সে তাদেরকে সীমানা প্রাচীরের কেন্দ্র স্থলে রঙিন কাপড়ের প্যাভিলিয়নে নিয়ে গেল এবং তারপর তারা কাবাকোতে প্রবেশ করল। অন্দর মহল সুন্দর করে সাজানো, মেঝে প্রাণীর চামড়ার দিয়ে ঢাকা, অরিক্স, জেব্রা ও সিংহের। এগুলোর উপর একজন মানুষ আসন করে বসে মানচিত্র খুলে দেখছিল। সে চোখ তুলে তাকাল যখন মেয়েরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। তার চেহারা রোগা। তার গাল মলিন এবং এমনকি তার দাড়ির ফিতাগুলোও ঢাকতে পারল না যে দাড়িসমূহ কালো থেকে ধূসরই বেশি। তার এক চোখ একটা চামড়ার টুকরায় ঢাকা। সে তাদের দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল।
আংকেল টংকা! মিনটাকা প্রদীপের আলোয় আসল এবং তার শাল পিছনে ফেলে দিল। লোকটি ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ দাঁত বের করে সে হাসল এবং তার একমাত্র চোখ ঝিকঝিক করে উঠল।
আমি ভাবতাম না এটা সম্ভব! সে তাকে আলিঙ্গন করল এবং তাকে তুলে ফেলল। আমি শুনেছিলাম যে তুমি আমাদের ছেড়ে গিয়েছ এবং শত্রুদের দলে ভিড়েছ।
যখন সে তাকে আবার নিচে নামাল এবং সে এই স্নেহের প্রদর্শনী একটু সামলে নিয়েছে সে, সে শ্বাস নিল, ঐ বিষয়েই আমি আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি, আংকেল টংকা।
তোমার সাথে এটা কে? সে মেরিকারার দিকে তাকাল তারপর তার একমাত্র ভালো চোখটা পিটপিট করল, সেথের জঘন্য শ্বাসের কসম। আমি তোমাকে চিনি।
এ হচ্ছে প্রিন্সেস মেরিকারা, মিনটাকা তাকে বলল।
নাজার পালিয়ে যাওয়া স্ত্রী। সে আপনাকে ফিরে পেয়ে খুশি হবে। সে মুখ টিপে হাসল। তোমরা দুজন কি খেয়েছ? তারপর তাদের উত্তরের অপেক্ষা না করে, সে তার চাকরদের আরো মাংস, রুটি ও মদ আনতে বলল। মেয়ে দুজন তাদের মুখ আবার ঢাকল যখন তা পরিবেশন করল চাকরেরা কিন্তু যখন তারা চলে গেল মিনটাকা তার কাছাকাছি গিয়ে বসল। তার ভালো কানের কাছে এবং তার কণ্ঠ ফেলে দিল যাতে তাদের কথা তাঁবুর দেয়ালের বাইরের কোন না শুনতে পায়।
সে তার কথা নিরবে শুনল। কিন্তু যখন সে ঐ রাতের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করল, যে রাতে তার পিতা ও তার সব ভাইদের তাদের জাহাজে বালাসফুরায় পুড়িয়ে মারা হয়েছিল তা শুনে টংকার অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হয়ে গেল। মিনটাকার মনে হল সে তার চোখের কোনায় অশ্রুবিন্দু দেখল। সে জানত দুর্বলতার এমন প্রকাশ একজন রেড নেতার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রেন তার মুখ ঘুরিয়ে ফেলল এবং যখন সে আবার তার দিকে তাকাল অশ্রু চলে গেছে এবং সে বুঝল যে তার হয়তো ভুল হয়েছে।
যখন অবশেষে সে শেষ করল, প্রেন সাধারণভাবে তখন বলল, আমি তোমার পিতাকে ভালোবাসতাম, প্রায় ততোখানি তোমাকেও ভালোবাসি। তবে তুমি যে প্রস্তাব রাখলে তা বেঈমানী। সে আরো কিছুক্ষণ চুপ রইল এবং তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
এসব আমাকে ভাবতে হবে। কিন্তু এর মধ্যে তুমি ফিরতে পারবে না যেখান হতে তুমি এসেছিলে। এটা অনেক বেশি ঝুঁকির। তোমাকে আমার অধীনে থাকতে হবে, তোমাদের দুজনকেই, যতোদিন বিষয়টা না নিষ্পত্তি হয়।
আমি কি কমপক্ষে নেফার সেটকে একটা বার্তা পাঠাতে পারি? মিনটাকা অনুনয় করল।
ওটাও খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ধৈর্য ধরো বেশি সময় লাগবে না। নাজ খাতমিয়ার উচ্চতায় আছে। কয়েক দিনের মধ্যে সে ইশমাইলিয়ারদিকে যাত্রা শুরুরবে। ওশিরসের পূর্ণ চাঁদের আলো হ্রাস পাওয়ার শুরু হওয়ার পূর্বেই যুদ্ধের ফলাফল স্থির হয়ে যাবে। তার কণ্ঠ গর্জনে পড়ে গেল, এবং আমি একটা সিদ্ধান্তে এর মধ্যে উপনীত হব।
*
অনেক দূর থেকে ম্যারন নাজার বিশাল বাহিকে খাতমিয়ার ঢাল থেকে অনুর্বর ভূমিতে নামতে দেখল এবং সে এক জোড়া পায়রা ছেড়ে দিল যা টাইটা তাকে দিয়েছিল। দুইটা পাখির যদি একটা বাজ পাখি নিয়ে যায় তবে অন্যটা খবর বয়ে নেবে। উভয় পাখির পায়ে সাথে লাল রঙের সুতার একই গুচ্ছ বাঁধা আছে যার সাংকেতিক অর্থ হল অভিগম শুরু হয়ে গিয়েছে। নেফার তাদের অগ্রগতি নজরে রাখল এবং এমনকি রাতে গিয়ে কাছ থেকে দেখে আসল।
পঞ্চম রাতে নাজার পূর্ণ সেনাদল সম্পূর্ণ রূপে পারাপার শেষ করল এবং প্রধান উপাদানগুলো খাতমিয়া ও ইশমাইলিয়ার মধ্যকার ব্যবধানে অর্ধেক রাস্তা পেরিয়ে গিয়েছে। ম্যারন পশ্চাৎ দলের পিছন দিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল এবং পানির মজুদ পরীক্ষা করল যেগুলো তারা তাদের পিছনে ফেলে এসেছে। সে আবিষ্কার করল যে তাদের প্রায় সব ব্যবহৃত হয়ে গেছে অথবা বহন করে তারা নিয়ে গিয়েছে। নাজা তার জয়ের ব্যাপারে এতো আত্মবিশ্বাসী যে সে কোন মজুদ রেখে যায়নি কোন সম্ভাব্য পশ্চাৎ হটার জন্য। অব্যবহৃত জারগুলো থেকে ম্যারন তার নিজের পানির থলেগুলো পূর্ণ করল যেগুলো প্রায় খালি হয়ে গিয়েছিল এবং সে যে জারগুলো রয়ে গেল তা গুঁড়িয়ে দিল।
