এখন আমার সে সময় তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার। নেফার বলল। চলো নিশ্চিত হই যেন কোবরাটা আবার আমাদের থেকে পিছলে বেরিয়ে না যায়।
সামনের দিনগুলোতে নেফার তার সৈন্য অনুশীলন করিয়ে এবং তার প্রতিরক্ষার পরিকল্পনা ও কৌশলের বিস্তারিত রিহার্সেল দিল। ধনুকধারী ও গুলতিধারী ব্যাটেলিয়নরা প্রতিদিন সকালে কুচকাওয়াজ করে বের হল এবং রুক্ষ অস্থায়ী দেয়ালগুলোর পিছনে তাদের অবস্থান নিল। তারা দেয়ালের সামনে পাথরের ছোট স্তূপ স্থাপন করল দূরত্ব মাপার জন্য যাতে তারা ফঁদটা ঠিক সামনে টানার জন্য বিবেচনা করতে সক্ষম হয়। তারা হাতের খুব কাছে অতিরিক্ত তীরের বান্ডিল রাখল যাতে যুদ্ধের সময় অস্ত্রের সরবরাহ কম না পড়ে। গুলতিধারীরা কাদার ছোট ছোট বল তৈরি করল এবং আগুনে পোড়ালো যতোক্ষণ না এগুলো পাথরের মত শক্ত হল, তারপর তারা এই মারাত্মক অস্ত্রগুলো দেয়ালের পিছনে তাদের হাতের কাছে নিয়ে রাখল। অনুশীলনের সময় নেফার ও তার কমান্ডাররা নাজার সৈন্যবাহিনীর ভূমিকা পালন করল এবং মরুভূমি থেকে আসল, তাদের অবস্থান সূক্ষ্ম চোখে দেখল, নিশ্চিত হল যে তারা দেয়ালের আড়ালে ঠিক মতই লুকিয়েছে।
তারপর যখন তারা অপেক্ষা করল, নেফার তার কৌশলগুলো রিহার্সেল করল। দেয়ালের সামনে ধাওয়া, রথ চালনা ও ফিরে আসার অনুশীলন করল যাতে তার লোকেরা প্রতিটি ভাজ, সমতল, খাদ, গর্ত ও মাঠের অন্যান্য ছোট বাঁকগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পারে। সে দেয়ালের পিছনে একটা নিরাপদ স্থান সতর্ক ভাবে পছন্দ করল যুদ্ধের সময় ঘোড়াগুলোকে পানি খাওয়ানোর জন্য এবং সেখানে তাদের মজুদ রাখা হবে যতক্ষণ না তাদের দরকার হয়। আমার ভয় কোন শত্রু কমান্ডার না আবার তা অনুমান করে বসে যে খেলাটা আমরা তাদের সাথে খেলতে যাচ্ছি। নেফার টাইটাকে বলল এবং তার সৈন্যদের আবার অনুশীলন করার আদেশ দিল।
সন্ধ্যায় সে তার দলের সম্মুখ দিয়ে রথ চালিয়ে দুর্গে ফিরল। তার সারা দেহে ধূলা ও ঘাস মিশে একাকার। সে ক্লান্ত ছিল কিন্তু সন্তুষ্ট। সে তার ক্ষমতার মধ্যের সব কিছু করেছে তার সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করার জন্য।
যখন সে ক্রুস ও ডোভ-কে টেনে থামাল, লাগামটা সহীসদের হাতে দিল এবং লাফিয়ে নামল, তার ভালোলাগা অনুভূতিটা উধাও হয়ে গেল। জাগ্গা রাজকীয় অন্দরমহলের প্রধান খোঁজা, তার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার চোখ কান্নায় লাল ও কণ্ঠে ভয়। মহান ফারাও! আমাকে ক্ষমা করুন। আমরা সর্বোত্তমটাই করেছিলাম কিন্তু সে শৃগালীর মতো চালাক। সে আমাকে বোকা বানিয়েছে।
কে এই শৃগালী? নেফার জানতে চাইল, যদিও সে জানত কে হতে পারে।
রাজকুমারী, মিনটাকা।
তার কি হয়েছে? নেফারের কণ্ঠ বিপদাভাসে শুষ্ক।
সে পালিয়েছে এবং সাথে রাজকুমারী মেরিকারাকেও নিয়ে গেছে। জান্না বোকার মত বলল এবং যে কোন শাস্তির জন্যে মাথা পেতে দাঁড়িয়ে রইল।
*
মিনটাকা ও মেরিকারা অ্যাভারিসের ফিরতি পথের বেশিটা সময় তাদের পালানোর পরিকল্পনার উপর আলোচনা করে কাটাল, তারা ফিসফিসিয়ে কথা বলল। প্রথমে তারা ভাবল তাদের নিজের বাহিনীর একটা রথ নিয়ে পালাবে, কিন্তু শীঘ্রই তা বাতিল করল। কারণ তারা জানে এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা তাদের পিছনে মিশরের সব আর্মিদের দেখা পাবে, এক ক্রোধান্বিত ফারাও-এর নেতৃত্বে। তবে ধীরে ধীরে ভালো পরিকল্পনা তাদের আলোচনা থেকে উঠে এল।
মিনটাকার প্রথম কাজ ছিল জান্নর ভরসা জেতা, যে তাদের অভিভাবক অ্যাভারিসের প্রাসাদে। সে তার নরম কোমল নিষ্পাপ স্বভাব দ্বারা তাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিল অ্যাভারিস পৌঁছানোর চার দিন পর। তারপর সর্বত্র সুন্দর ও বিমোহিত উপায়ে, সে জাগ্গার কাছে আবেদন করল তাকে আর মেরিকারাকে হাথোরের মন্দিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে যুদ্ধে নেফারের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করতে। কিছু শর্ত দিয়ে জাগ্গা ঐ দুজন মহিলাকে মন্দিরের প্রধান যাজিকার সাথে এক ঘণ্টা সময় কাটানোর অনুমতি দিল। জাগ্গা মন্দিরে দরজায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করল কারণ কোন পুরুষ অথবা এমনকি কোন খোঁজার ভিতরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
যখন অবশেষে মিনটাকা ও মেরিকারা বেরিয়ে এল জাগ্গা প্রাণ ফিরে পেল। কয়েক দিন পর তারা আবার মন্দিরে যেতে চাইল দেবীকে উৎসর্গ করতে এবং জাগ্গা খুব সহজেই রাজি হল তাতে।
আবারো প্রধান যাজিকা মন্দিরের সামনে মিনটাকা ও মেরিকারকে অভিবাদন জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে ছিল ও তাদের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। কোন শর্ত ছাড়াই জাগ্গা তাদের ফিরে আসার অপেক্ষা করল। প্রধান যাজিকা তার দুজন সহকারীকে তাকে সুস্বাদু খাবার ও চমৎকার মদ দিয়ে সেবা করতে পাঠাল। সে সব খাবার খেল ও মদ পান করল এবং দেবী গরু সদৃশ মূর্তির ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ল। যখন সে জাগল তখন সূর্য ডুবে গেছে এবং সে একা। সে দেখল পালকি বাহকেরা চলে গিয়েছে। সে মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য চিৎকার করল এবং তার লাঠি দিয়ে মন্দিরের দরজায় আঘাত করল। অনেকক্ষণ কেটে গেলে একজন যাজিকা তার কাছে একটা বার্তা নিয়ে এল: দুজন রাজকন্যা মন্দিরে আশ্রয়ের জন্য অনুনয় করেছে। পবিত্রমাতা তাদের আবদার অনুমোদন করেছেন এবং তাদের তার নিরাপত্তার অধীনে নিয়েছেন।
