তুমি কি কল্পনা করতে পার যদি যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে আংকেল টংকা এবং তার দল নিজেদের পিছন থেকে সরিয়ে নেয়। সে নেফারকে বলল।
আমরা আর এ ব্যাপারে কোনো কথা বলব না। নেফার দাঁড়িয়ে গেল এবং তার মুঠি দিয়ে টেবিলের উপর চাপড় দিল। তুমি মেরিকারার সাথে এই দুর্গে থাকবে অভিযানের বাকিটা সময়। যদি তুমি আমার কাছে এখন ওয়াদা না কর যে তুমি এসব বোকামি তোমার মাথা থেকে বের করে দিচ্ছ না, আমি তোমার কক্ষের দরজায় খিল লাগিয়ে রাখব এবং প্রহরা বসাব।
তুমি আমার সাথে এরকম ব্যবহার করতে পারব ন। রাগে তার কণ্ঠ পট পট করে উঠল।
আমি এখনও তোমার স্ত্রীও না। আমি তোমার কোনো আদেশ মানতে বাধ্য নই।
আমি তোমার রাজা এবং আমি তোমার কাছে সম্মতি চাই যে তুমি তোমার বোকামির দ্বারা নিজেকে এমন বিপদে ফেলবে না।
এটা কোন জরুরি ব্যাপার নয় এবং আমি তোমাকে কথা দিব না।
টাইটাকে অভিব্যক্তিহীন দেখাল। এটা তাদের প্রথম কথা কাটাকাটি এবং সে জানে সকল তিক্ততার কারণ হলো তাদের একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা। সে কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করল দেখার জন্য যে কীভাবে এটা শেষ হয়।
তুমি ইচ্ছে করেই গালালায় আমার আদেশ অমান্য করেছিলে। আমি তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি না যে তুমি এবারও তা করবে না। তুমি আমার জন্য আর কোন পথ খোলা রাখলে না। নেফার তাকে গম্ভীরভাবে বলল এবং চিৎকার করে দরজার বাইরের রক্ষীকে ডাক দিয়ে জাগ্গা কে পাঠানোর জন্য বলল যে রাজকীয় হারেমের প্রধান খোঁজা।
আমি মেরিকারাকেও বিশ্বাস করতে পারি না। নেফার মিনটাকার দিকে ফিরল। সে সম্পূর্ণ তোমার নিয়ন্ত্রণে এবং যদি তুমি তোমার মন এটার মধ্যে রাখ তবে তুমি তাকেও তোমার দলে নিয়ে নিবে। আমি তোমাদের দুজনকেই অ্যাভারিসের মহলের অন্দর মহলে পাঠাচ্ছি। তোমরা সেখানে জান্নার অধীনে থাকবে। তোমরা বাও খেলে সময় কাটাতে পার যতোদিন না যুদ্ধ শেষ হয় ও যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হয়। এবং জাগ্গা এসে মিনটাকাকে নিয়ে গেল। দরজায় সে তার কাঁধের উপর দিয়ে নেফারের দিকে ফিরে তাকাল। এবং টাইটা হাসল যখন সে তার অভিব্যক্তিটা পড়ল। নেফার ভূয়া ফারাওদের শত্রুতার চেয়েও বেশি একগুয়ে শত্রুর সাথে টক্করে লেগেছে।
ঐ সন্ধ্যায় টাইটা তাকে তার নতুন আবাসস্থলে দেখতে গেল, যেখানে মেরিকারাও ছিল। এক জোড়া বৃহদাকায় খোঁজা দরজায় ছিল এবং আরেক জোড়া বন্ধ করা দরজার বাইরে। মিনটাকা এখনো রাগে জ্বলছে এবং মেরিকারাও তার প্রিয় মিনটাকার সাথে রাগান্বিত ব্যবহার করার ফলে ফুঁসছে। কমপক্ষে এ থেকে তোমরা শিখেছো যে একজন রাজার সাথে মোকাবেলা করলে কোন লাভ হয় না যদিও সে তোমাদেরকে ভালোও বাসে। টাইটা তাদের সুন্দর ভাবে বলল।
আমি তাকে ভালোবাসি না। মিনটাকা উত্তর দিল চোখে রাগ ও হতাশার অশ্রু নিয়ে। সে আমার সাথে শিশুর ন্যায় ব্যবহার করেছে এবং আমি তাকে ঘৃণা করি।
আমি তাকে আরও বেশি ঘৃণা করি। মেরিকারা ঘোষণা করল। যদি শুধু ম্যারন এখানে থাকত।
নেফার যা করেছে তা হল তোমাদের প্রতি তার ভালোবাসার প্রমাণ এবং তোমাদের নিরাপত্তার প্রতি তার ভাবনা, নয় কি? টাইটা পরামর্শ দিল। সে জানে যদি তুমি নাজা কাইফান ও হেজারেটের হাতে পড় তবে তোমার ভাগ্যের কি পরিণতি হবে।
পরদিন সকালে নেফার ও টাইটা উভয়েই দুর্গের পাঁচিলে দাঁড়িয়ে হোট ক্যারাভানানের দলটাকে ইশমায়ালিয়া ত্যাগ করতে দেখল অ্যাভারিসের উদ্দেশ্যে। মিনটাকা ও মেরিকারা কলামের মাঝখানে সিঙ্কে পর্দা টানা পালকির মধ্যে কাছাকাছি বসে ছিল। তারা নিজেদেরকে দেখাতে কিংবা টাইটা ও নেফারের কাছ থেকে তাদের বিদায়ও নিল না।
ব্যক্তিগত ভাবে, আমি একটি মৌচাক একটা ছোট লাঠি দিয়ে খোঁচা দিতে পছন্দ করতাম। টাইটা বিড়বিড় করল।
তাদের শেখা উচিৎ যে আমি ফারাও এবং এমনকি তাদের কাছেও আমার কথা আইনতুল্য। তাদের মেয়েলি বিষয়াদি ছাড়াও আমার আরও কাজ আছে চিন্তা করার। নেফার বলল, তারা তা কাটিয়ে উঠবে। সে দেয়ালের উপর দাঁড়িয়ে দেখতে থাকল যতোক্ষণ না দুল্যমান পালকি ও ক্যারাভানটা দূরে অদৃশ্য হয়ে গেল।
*
টাইটা এবং নেফার পাথরের দেয়ালগুলো পরীক্ষা করতে বের হল, শাবাকো সেগুলো তড়িঘড়ি করে তৈরি করেছে যেগুলো ইশমালিয়ার মরুদ্যানের পূর্ব পাশে অবস্থিত।
শাবাকোর এই প্রয়াস ইতিহাসের পাতায় মহান স্থাপত্য অর্জনের মধ্যে লেখা রবে না। টাইটা মন্তব্য করল। কিন্তু সব কিছু ভালোর জন্য। এ পথে যেদিক থেকে নাজা আসবে তারা এগুলোকে প্রাকৃতিক অবয়ব মনে করবে এবং তাদের কোন সন্দেহের সৃষ্টি করবে না যতক্ষণ না সে ফানেলে প্রবেশ করবে এবং সম্মুখ দিকে ধীরে ধীরে চাপানো খুঁজে পাবে।
তোমার পরিকল্পনা আমাদের নিজেদেরকে নিজেদের যুদ্ধের ময়দান পছন্দ করতে সক্ষম করেছে। নেফার মাথা নাড়াল। হুরাসের সাহায্যে আমরা এটাকে কসাইখানায় পরিণত করব। তারপর সে তার হাত টাইটার চর্ম-সর্বস্ব বাহুতে রাখল। আমি আবার তোমার কাছে গভীরভাবে ঋণী, বৃদ্ধ পিতা। এগুলোর সব তোমার কাজ।
না। টাইটা তার মাথা নাড়ল। এটা একটা আলোর কিঞ্চিৎ স্পর্শ যা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম। বাকি সব তোমার। তুমি তোমার পিতা ফারাও ট্যামোসের সৈন্যবাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছ। তুমি বিশালত্ব অর্জন করবে যা তার হতো। যদি সে নির্মমভাবে খুন না হতো শত্রুর হাতে, আজ যাদের আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
