নেফার তার শেষ মজুদ যা সে নদী রক্ষায় রেখেছিল তাদের তুলে আনল এবং যখন তারা ইশমাইলিয়ার আশে পাশে ক্যাম্প করল নেফার তার কমান্ডারদের সভায় ডাকল। এমনকি টর্কের যান সহ, যা আমরা গালালায় আটক করেছিলাম তা সহ নাজা আমাদের থেকে তিনগুণ এগিয়ে। সে তাদের বলল। তার সব লোকেরা প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ এবং তার ঘোড়াগুলো প্রশিক্ষিত ও স্বাস্থ্যবান। আমরা তাকে সীমান্ত পার হয়ে নদী পর্যন্ত পৌঁছাতে দিতে পারি না। আমরা তাকে মোকাবেলা করব এবং লড়াই করব এখানে এ মরুভূমিতে।
সারা রাত তারা সভা করে কাটাল, এবং নেফার তার যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করল এবং তার আদেশগুলো জারি করল। তারা নাজাকে বিনা বাধায় প্রথম পাঁচদিন আসতে দিবে। তারপর যখন সে দলকে পুরোপুরি গোছাতে ব্যস্ত থাকবে তখন তারা তাদের ঘেরাও করে তার পানির মজুদ ধ্বংস করে দিবে, তার অভিযানের সামনে ও পিছন থেকে। এটা তাকে বালির মধ্যখানে ফাঁদে ফেলবে।
আমি নাজাকে ভালো করেই জানি। আমি নিশ্চিত সে এমন কি যখন আমরা তার পানির সংগ্রহ নষ্ট করে দিব তখনও সে পিছু হটবে না বরং সামনে এগিয়ে যাবে। তার সৈন্যরা বাধ্য হবে ইশমাইয়ালিয়া পৌঁছাতে অনেক দিন মরুর শুষ্ক যাত্রার পর। আমরা তখন তাদের সাথে আমাদের ঘোড়া ও সৈন্যদের নিয়ে মোকাবেলা করবো, যারা পূর্ণ বিশ্রাম প্রাপ্ত এবং পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্ত থাকবে এবং তা হবে আমাদের নিজেদের পছন্দের একটা যুদ্ধ ময়দানে। এটা আমাদের বিরোধী পক্ষের শক্তিতে প্রভাব ফেলবে।
সভার এ দীর্ঘ সময় ধরে টাইটা নেফারের ক্যাম্পিং চৌকির ছায়ায় চুপচাপ বসে ছিল। মনে হচ্ছিল সে ঝিমাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ সে তার চোখ খুলে একটা ঘুমন্ত পেঁচার ন্যায় চোখ পিটপিট করল, তাদের আবার বন্ধ করল এবং তার চিবুকটা বুকের উপর নামাল।
আমাদের সবচাইতে বড় অভাব হল আমাদের রথের সংখ্যা ও অবস্থা। নেফার শুরু করল, কিন্তু আমরা ধনুক, বর্ম ও বর্শায় নাজার প্রায় সমকক্ষ। আমি নিশ্চিত যে যখন সে তার পানির সংকটটা বুঝবে নাজা তার পদাতিক বাহিনীকে তার সব রথ দিয়ে সামনে পাঠাবে তখন। টাইটা এবং আমি তার ভ্যানগুলোকে একটা ফাঁদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি যেখান থেকে আমরা একটি সুবিধা পেতে পারি। শহর ও কূপগুলোর সামনে আমরা ছোট পাথরের দেয়াল নির্মাণ করব যার পিছনে আমাদের ধনুকধারী ও পদাতিক বাহিনী নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখবে। এ কাজগুলো ভালোভাবেই রথের আগ্রগতি রুখে দিবে। একটা কাঠ কয়লার দন্ড দিয়ে নেফার প্যাপিরাসের খন্ডের উপর একটা নকশা তৈরি করল। হিল্টো, শাবাকো, সোক্কো এবং তার বাকি সৈন্যরা দেখার জন্য সামনে ঝুঁকে এল।
দেয়ালগুলো একটা মাছের টোপের নকশায় তৈরি করা হবে। সে একটা উল্টো চোঙ্গার আকৃতি আঁকল।
আপনি কিভাবে তাদের ফাঁদে নিয়ে আসবেন। শাবাকো জিজ্ঞেস করল।
আমাদের রথের আক্রমণ ও মিথ্যে পিছু হটা যা আপনারা অনেকবার অনুশীলন করেছেন। নেফার ব্যাখ্যা করল, আমাদের ধনুকধারী ও গুলতি ধারীরা লুকানো থাকবে দেয়ালের পেছনে যতক্ষণ না নাজা আমাদের চোঙ্গ পর্যন্ত অনুসরণ করবে। যতো গভীরে তার প্রবেশ করবে ততই তার সৈন্যরা দেয়ালের নিকটবর্তী হবে। তারা আমাদের গুলতিধারী ও ধনুকধারীদের খুব সুন্দর একটা লক্ষ্যে পরিণত হবে যখন তারা খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে।
এমনকি শাবাকোকেও গভীরভাবে প্রভাবিত হতে দেখাল। আপনি তাদেরকে গবাদি পশুর মতই গোয়াল ঘরে বন্দী করতে ইচ্ছুক ঠিক যেমনটা আপনি টর্কের সাথে করেছেন।
পরিকল্পনাটা তারা উৎসাহ নিয়ে আলোচনা করল, পরামর্শ দিল ও ভুলত্রুটি শোধরালো। শেষে নেফার শাবাকোকে দেয়ালগুলো তৈরির দায়িত্ব দিল। টাইটা গত পাঁচদিন তা পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করে ব্যয় করেছে, যাতে পরদিন যখনই আলো ফুটবে তক্ষুনি কাজ শুরু করা যায়।
আমাদের হাতে সময় খুব কম। নেফার তাদের সতর্ক করল। আমরা জানি সে নাজার সৈন্যরা খাতমিয়ার উচ্চতায় চলে এসেছে এবং তার পানির ওয়াগানগুলোও প্রায় স্তূপ করা শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে সে পাহাড়ের ঢাল থেকে নামতে শুরু করবে। অবশেষে সভা ভাঙ্গতেই অফিসারেরা দ্রুত কাজে লেগে গেল যা নেফার তাদের নির্দেশ করেছে। অবশেষে ইসমাইলিয়ার পুরনো দুর্গের উচ্চকক্ষে শুধুমাত্র তিনজন রইল–নেফার, টাইটা এবং মিনটাকা।
মিনটাকা প্রথম বারের মতো কথা বলল, আমরা এরই মধ্যে প্রেন, আমার আংকেল টংকার বিষয়ে আলোচনা করেছি।সে বলল এবং নেফার মাথা ঝাঁকালো কিন্তু পরিহাসমূলক দৃষ্টিতে তাকালো। যদি আমি তার সাথে দেখা করতে পারি, যদি তার সাথে মুখোমুখি কথা বলতে পারি, আমি নিশ্চিত যে আমি তাকে বুঝিয়ে নাজার বিরুদ্ধে আমাদের দলে নিয়ে আসতে পারবো।
তুমি কী বলতে চাও? নেফারের কণ্ঠ সূক্ষ্ম ও তার অভিব্যক্তি কঠোর।
বালকের মতো পোশাক পরে কয়েক জন লোক ও দ্রুতগামী ঘোড়া নিয়ে আমি নাজার প্রধান আর্মির দিকে যেতে পারি এবং পিছনে গিয়ে আংকেল টংকার সাথে দেখা করতে পারি। এর মধ্যে একটু ঝুঁকি থাকবে।
নেফারের চেহারা রাগে লাল হয়ে গেল। পাগলামি!! সে গম্ভীরভাবে বলল। এই রকম কঠিন পাগলামি তুমি গালালায় দেখিয়েছ যখন তুমি নিজেকে টর্কের সামনে টোপ হিসাবে উপস্থাপন করেছিলে। আমি এই বিষয়ে আর একটি শব্দও শুনব না। তুমি কি ভাবতে পার নাজা তোমাকে কি করবে যদি তুমি তার হাতে ধরা পর?
