আরো দুটা সৈন্য দল তাদের মিশনে যোগ দিল, দল নেতা ও জেনারেল নিজেদের ফারাও-এর রথের সামনে হাজির করল। নেফার নেমে যাদের চিনল তাদের তুলে নিল ও আলিঙ্গন করল।
যখন সে আবার চড়ল তারা তার পিছনে পড়ে গেল এবং তাকে নীলের তীরে অনুসরণ করল। সেখানে নেফার আবার নামল এবং সম্পূর্ণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় পানিতে নামল। যখন তারা তীরে সারিবদ্ধ হলো ও জয়ধ্বনি করল ও গান গাইল, সে গোসল করল ও ঘোলা বাদামি পানি পান করল রীতি অনুযায়ী।
যখন তারা শহরের ফটকে পৌঁছল শহরের তোরণ তখন সম্পূর্ণ খোলা ও জনগণ রাস্তায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের অপেক্ষা করছে, তাদের হাতে ব্যানার, ফুলের তোরা ও ফুলের ঝুড়ি। তারা নেফারের জন্য সম্মানের এবং স্বাগতিক গান। গাইল যখন সে মিনটাকাকে পাশে নিয়ে বাঁকানো তোরণের নিচ দিয়ে প্রবেশ করল।
তরুণদ্বয়কে দেব ও দেবীর মতই সুন্দর দেখাচ্ছে, তারা প্রথমে নদী পাড়ের মন্দিরে গেল যেটা টর্ক উরুক নিজের দেবত্ব উপস্থাপন করতে তৈরি করেছিল। নেফার সপ্তাহ আগেই টর্কের মূর্তি সরাতে ও ভুয়া ফারাও এর সকল স্মৃতি চিহ্ন দেয়াল থেকে মুছে ফেলতে আদেশ দিয়েছিল। তারা এখনো ফারাও নেফার সেটি ও হুরাসের একসাথে প্রতিমূর্তি আঁকতে ব্যস্ত, গালালার যুদ্ধে তার বিজয়ের বর্ণনা সহ।
নেফার সেখানে গিয়েছে তার প্রথম দায়িত্ব প্রভুকে ধন্যবাদ দিতে ও দুটো নিখুঁত কালো ষাড় পাথরের বেদিতে উৎসর্গ করতে। ধর্মীয় রীতিশেষে সে এক সপ্তাহের ছুটি ঘোষণা করল। উৎসব ও ভোজে রুটি, গোরুর মাংস, মদ ও বীয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত রইল এবং খেলাধুলা নাটকের আয়োজন করা হল তাদের আনন্দ দিতে।
তুমি খুব ভালোলোক, আমার হৃদয়; মিনটাকা তাকে প্রশংসিতভাবে বলল, তারা তোমাকে আগেও ভালোবাসত, কিন্তু এখন তারা তোমার পূজা করবে।
কত দিনের জন্যে? নেফার অবাক হলো। যখন দূরে নাজা আমাদের অ্যুত্থানের কথা শুনবে তখন সে রওনা দিবে আক্রমণ করতে, যদি না সে এরই মধ্যে তা না করে থাকে। সাধারণ জনগণ আমাকে ততোক্ষণই ভালোবাসবে যতক্ষণ না সে দরজায় কড়া নাড়ছে।
*
ফারাও নাজা কাইফান তার বিশ্বস্ত জেনারেল আসমর-কে ব্যাবিলয়নের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিল। সে তাকে পাঁচশত রথ, দুই হাজার ধনুক ও সৈন্যসহ ব্যাবিলন রক্ষার্থে রেগে এল। এরপর বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে সে মিশরের দিকে তার সাম্রাজ্য ও সিংহাসন উদ্ধার করতে রওনা দিল। পর্বতের পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়া তুষারের বলের মতো, ফারাও নাজা কাইফানের আর্মিরা শক্তি ও তেজ একত্রিত করে পশ্চিম দিকের সমতল ও পর্বত দিয়ে এগোতে লাগল মিশরের দিকে। রাস্তায় তার সেনাবাহিনীর সংখ্যা বাড়তে লাগল এবং যখন সে খাতমিয়া পাস-এর উচ্চতায় দাঁড়াল তখন তার আর্মি প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাজা পশ্চিম দিকে প্রশস্ত বালির মরুভূমির উপর দিয়ে তাকাল যা ইশমাইলিয়া শহরের মহান তিক্ত হ্রদের মাথায় এবং তার মাতৃভূমির সীমান্তের উপর অবস্থিত। তাদের সামনে বিশাল বিস্তৃত মরু, বিশ্রাম নেওয়ার জন্য না কোন বন–না কোন মরুদ্যান আছে যতোক্ষণ না যে ইশমাইলিয়া পৌঁছাবে। আরো একবার সামনের রাস্তায় সে পানির সমস্যায় পড়বে। সে আলোর ঝলকানির মধ্যে চোখ বড় করে তাকাতেই পানির গাড়ির সারিটা দেখতে পারল, মাটির পাত্রে ওগুলো বোঝাই, পর্বতের ঢালের নিচে চাকার দাগে পড়া রাস্তা দিয়ে গিরিমাটি বর্ণের ভূমি দিয়ে মুচড়ে মুচড়ে চলছে।
মাস জুড়ে তারা পানির পাত্রগুলোর মরুতে তৈরি করতে ব্যয় করেছে, পূর্ণপাত্রগুলো বালিতে পুঁততে তারপর অতিরিক্ত সৈন্য রেখেছে তাদের পাহাড়া দিতে যখন তারা পরবর্তী মাল আনতে গেল। এতে তার আর্মিদের দশদিন সময় ও রাত পার হয়ে গেল। এই সময়টাতে তারা তাদের রেশন খুব হিসেব করে খরচ করল।
আমি আপনার সাথে অগ্রণী দলে থাকব। হেজারেট তার কনুইয়ের কাছ থেকে বলল, চিন্তায় ছেদ ঘটিয়ে নাজা তার দিকে তাকাল। এ ব্যাপারে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। সে কুটি করল। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে তার রূপ ও সৌন্দর্য বিতৃষ্ণাকর হতে শুরু করেছে, তার ক্ষুদ্রতা–হিংসা ও মেজাজ দ্বারা আচ্ছাদিত। এখন নাজা অধিক থেকে অধিকতর সময় তার উপপত্নীদের সাথে কাটায় যা তার হিংসা আরো বাড়িয়ে দেয় যখন সে তার বিছানায় আসে।
তুমি অন্য মহিলাদের সাথে মালের গাড়ির সাথে আসবে, প্রেনের তত্ত্বাবধানে যে পশ্চাৎ দলের নেতা।
হেজারেট ঠোঁট ফোলালো এক সময় যেটা ছিল আবেদনময়ী, কিন্তু আজ তা বিরক্তিকর। যাতে তুমি লাসাকে সন্তানসহ রাখতে পার যেমনটা তুমি তার বোনকেও পেয়েছে। সে অভিযোগ করল। সে দুজন রাজকন্যার কথা বলছে যাদের নাজা সুমেরিয় প্রতিনিধি হিসেবে তার দায়িত্বে দিয়েছে তার আনুগত্যের প্রতীক রূপে। দুরাজকন্যাই যুবতী, চিকন ও আবেদনময়ী এবং বৃহৎ স্তনের অধিকারী। তারা তাদের স্তনের বোঁটা এঁকেছে সুমেরীয় লজ্জাহীন ফ্যাশনে এবং তাদের সাথে প্রবাসে যাচ্ছে নগ্ন ও উন্মুক্ত হয়ে হেঁটে।
তুমি বিরক্তিকর হয়ে যাচ্ছো, স্ত্রী। নাজা তার উপরের ঠোঁট হাসি দিয়ে তুলল যা ছিল অধিক বিতৃষ্ণাকর। তুমি জান যে এটা একটি রাজনৈতিক কৌশল। আমার তাদের থেকে একটা ছেলে দরকার ছিল সিংহাসনে বসাতে যখন বৃদ্ধ লোকটা মারা যাবে।
