আমরা ফারাও টর্কের খবর নিয়ে এসেছি। যিনি আপনার প্রভু ভাই এবং মিশরের দ্বৈত শাসক। অফিসার বলল।
বল! নাজা আবার আদেশ দিল কারণ লোকটা দেরি করছে।
গালালার মরুভূমিতে একটা বিশাল যুদ্ধ হয় ফারাও টর্ক উরুকের আর্মি ও দখলদার নেফার সেটির মধ্যে। সে চুপ হয়ে গেল আবার।
চালিয়ে যাও, নাজা উঠে দাঁড়াল।
বার্তাবাহক দ্রুত শুরু করল, কাপুরুষচিত কাজ ও ডাইনীবিদ্যা দিয়ে আমাদের ফারাও টর্ক উরুকের সৈন্যদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করেছে। যারা বেঁচে আছে তারা শত্রুদের সাথে যোগ দিয়েছে এবং ভুয়া ফারাও নেফার সেটির জয়ধ্বনি তুলছে, সেথ তার উপর তার ক্রোধ বর্ষণ করুক। সেই শয়তান তার সব শক্তি নিয়ে এখন অ্যাভারিস অভিমুখে।
নাজা তার সিংহাসনে ফিরে গেল এবং তার দিকে বিস্ময়ে চেয়ে রইল। তার পাশে হেজারেট হাসল। সে নাজার বাহু স্পর্শ করল এবং তার দিকে ঝুঁকে তার কানে কানে ফিসৃফিসিয়ে বলল, প্রভুদের কাছে প্রার্থনা করুন, এবং সকল জয়ধ্বনি শুধু মিশরের নিম্ন ও উচ্চ রাজ্যের একমাত্র শাসক ফারাও নাজা কাইফানের।
নাজা কঠোর ও অভিব্যক্তিহীন থাকতে চাইল। কিন্তু আমি তার মুখে তলোয়ারের তীক্ষ্ণ ফলার ন্যায় উচ্চারিত হল, তুমি এক ফারাও প্রভুর মৃত্যুর খবর এনেছ। দুঃখ হচ্ছে এখন তোমার জন্যে, কারণ তুমি এখন এর চরম মূল্য দিতে যাচ্ছ। সে দেহরক্ষীদের দিকে ইশারা করল। তাদের নিয়ে যাও এবং মারডুকের যাজকদের বলো তাদের চুল্লীতে বলি দিতে।
যখন তাদের বাধা হল ও বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হল তখন নাজা আবার দাঁড়াল এবং ঘোষণা করল, প্রভু ও ফারাও টর্ক উরুক মৃত। আমি তোমাদের সামনে ঘোষণা করছি আমি এই মিশরের একমাত্র মহান ফারাও, ফারাও নাজা কাইফান।
বাক-হার! সকল নেতা ও ক্যাপ্টেনরা চিৎকার দিল, যারা সিংহাসনের চারদিকে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা তাদের তলোয়ার বের করল তাদের ঢলের সাথে আঘাত করে শব্দ করল, বাক হার! বাজা প্রভু নাজা কাইফান।
সবাইকে খবর দিন আমরা আজ দুপুরে যুদ্ধ সভায় মিলিত হব।
তারপর এগার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাজা সারগনের প্রসাদে বৈঠক করল কড়া নিরাপত্তার মাঝে। বারতম দিনে নাজা তার সেনা দলকে আদেশ দিল এবং ব্যাবিলন ও মিশরের সীমানার সকল জমিদার ও ছোট রাজাদের কাছে দূত পাঠাল। সে তাদের যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করতে বলল এবং তার কমান্ডাদের নেফার সেটির বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে বলল।
পরবর্তী পূর্ণ চাঁদে, যখন তার বাহিনী ব্যাবিলন শহরের নীল ফটকের সামনে জমায়েত হল, তারা ছিল চল্লিশ হাজার শক্তিশালী প্রশিক্ষিত যোদ্ধা, অস্ত্রে সুসজ্জিত, ঘোড়া, রথ, ধনুক ও তলোয়ার নিয়ে।
কি গৌরবান্বিত দৃশ্য। হেজারেট কেল্লার উপর তার স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে বলল।
আমরা যখন যাত্রা শুরু করব আমাদের মাতৃভূমির দিকে তখন আমাদের সংখ্য আরো বৃদ্ধি পাবে সুমেরীয় এবং হিটিটিস, হুরিয়ান এবং অন্যান্য দখলকৃত রাজ্যের আর্মি দ্বারা। আমরা মিশরে ফিরে যাব দুই হাজার রথ সহযোগে। তুমি কি তোমার ভাই নেফারের জন্য কোন করুণা অনুভব করছো না?
না, এতোটুকুও না! সে মাথা ঝাঁকাল। আপনি আমার ফারাও ও আমার স্বামী। যে-ই আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সে দেশদ্রোহী এবং মৃত্যু পাবার যোগ্য।
মৃত্যু সে পাবে এবং প্রতারক ওয়ারলক-এর শেষকৃত্যের আগুন ভাগ করে নেবে এবং তার পাশে পুড়বে সে। নাজা গম্ভীর ভাবে ওয়াদা করল।
*
নেফার ও মিনটাকা এক সাথে তার রথে গালালার থেকে ক্যারাভানের পথে দীর্ঘ শোভা যাত্রার মাথায় চলছে। ম্যারন ও মেরিকারা তার ডান পাশে দ্বিতীয় সারিতে। মেরিকারা প্রতিবাদ সত্ত্বেও জেদ করে ম্যারনের রথে চড়েছে যে কিনা এখনো দুর্বল ও অসুস্থ এই অজুহাতে।
আমি গালালার যুদ্ধ পাই নি, কিন্তু আমি প্রতিজ্ঞা করেছি যে আমি তার একটাও মিস করব না। যতোদিন আমার দেহে শ্বাস থাকবে আমি আমার রাজা ও সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সাথে চলব। যদিও একটা সারসের মতো পাতলা ও মলিন দেখাচ্ছে তাকে তবুও সে পানিতে লাগাম হাতে উচ্চশিরে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথম রথগুলো পাহাড়ের ঢালের শীর্ষে উঠল এবং তদের নিচে ছড়িয়ে আছে নীলের সবুজ উপত্যকা, মহান নদী যে নিজে তরল কপারের ধারার ন্যায় ঝিকঝিক করছে। লাল আভা ছড়াল সকালের সূর্যালোকে। নেফার ঘুরে পাশের রথে থাকা ম্যারনের উদ্দেশ্যে হাসল। আমরা ঘরে ফিরছি। মিনটাকা গান গাইতে শুরু করল, প্রথমে নরম সুরে তারপর অধিক জোরালো ভাবে, নেফারও তার সাথে যোগ দিল।
দেবতাদের ভূমি, মন্দিরের দেশ;
দশ হাজার বীরের দেশ আমার,
পৃথিবীর সেরা তুমি, প্রিয় সবার
আমাদের প্রাণের মাতৃভূমি,
আমাদের প্রাণপ্রিয় মিশর, ধন্য তুমি ॥
তারপর ম্যারন ও মেরিকারা তাদের সাথে গান গাইল এবং গানটা সারি থেকে সারিতে ছড়িয়ে পড়ল।
অন্য আর্মিরাও তাদের সাথে যোগ দিল, অস্ত্রে সজ্জিত রথীরা, জেনারেল ও ক্যাপ্টেন তাদের রেজিমেন্ট ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে। তাদের পিছনে এল সকল ধর্মের যাজক, শাসক ও লর্ডরা; কেউ হৈ চৈ করে, কেউ ঘোড়ায় চড়ে, কেউবা রথ নিয়ে। কেউ গাড়িতে, কেউবা পালকিতে চড়ে। তাদের পর এল সাধারণ নাগরিকেরা হাসতে হাসতে ও নাচতে নাচতে। কিছু মহিলা তাদের শিশু কোলে নিয়ে এগিয়ে এল আনন্দে কাঁপতে কাঁপতে, যখন তারা তাদের স্বামীদের, প্রেমিকদের, ভাইদের ও পুত্রদের সৈন্য সারিতে দেখল।
