ইশতার দেয়ালের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পাগলের মতো টাইটার দিকে তাকাল। চোখটা হলুদ ও লাল, শিউপিল কালো ও প্রসারিত। হিংস্র পশুটার দুর্গন্ধের চাইতেও তার ভয়ের গন্ধ জোরালো। সে তার ডান হাত তুলল এবং একটা দীর্ঘ হাড্ডিসার আঙুল টাইটার দিকে নির্দেশ করল। পিছু হট! ওয়ারলক! সে চিৎকার করল। আমি তোমাকে সাবধান করছি।
টাইটা তার দিকে হেঁটে গেল, সে আবার চিৎকার করল এবং একটা অদৃশ্য অস্ত্র টাইটার দিকে নিক্ষেপ করল। কিন্তু দ্রুত টাইটা লসট্রিসের মাদুলিটা তার চোখের সামনে ধরল এবং কিছু একটা মসৃণ গতিতে তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল অনুভব করল, উড়ন্ত তীরের ন্যায়।
ইশতার ঘুরল এবং পাথরের একটা সংকীর্ণ ফাঁকা দিয়ে দ্রুত বেগে দৌড় দিল তার পিছনে যা তার দেহ দ্বারা টাইটার কাছ থেকে লুকানো ছিল। টাইটা প্রবেশ মুখে থামল এবং পাথর ঠুকল। পাথর প্রকৃত আওয়াজ করল। সে ইশতারে পদধ্বনির প্রতিধ্বনিত হতে শুনল। টাইটা প্রায় নিশ্চিত যে এটা কোন ভ্রম নয় বরং একটা গুহাময় নরম শিলা, পর্বতের ফাটলের প্রকৃত মুখ।
টাইটা তার পিছে রওনা দিল, এবং দেখল সে একটা নিচু পাথুরে পথে সে চলছে যা সূর্যলোকে ক্ষীণ আলোকিত। তার সামনে গুহার মেঝে ঢাল এবং সে চলতে লাগল; সে সতর্কভাবে চলল। এখন বুঝল পথটা বাস্তব, মেডির জাদু নয়। যখন সে অন্ধকারে সামনে বাড়ল টাইটা তার পদক্ষেপ আবারো শুনল।
হঠাৎ টানেলটা একটা তীক্ষ্ম বাঁক নিল, যখন ঘুরল টাইটা নিজেকে একটা বৃহৎ গুহার মধ্যে পেল যার ছাদটা উঁচু। গুহার অপর পাশের দেয়ালে ইশতার জমাট, গুটি মেরে আছে। পালানোর আর কোন পথ নেই। যখন সে টাইটাকে টানলের মুখে দেখল সে কান ফাটানো চিৎকার দিল ও বলল, দয়া করুণ মহান ম্যাগোস! আমাদের দুজনের মধ্যে একটা বাধন আছে। আমার ভাই, আমাকে ছেড়ে দাও এবং আমি তোমাকে এমন রহস্য দেখাব যা তুমি কখনো স্বপ্নেও ভাবনি। আমি আমার সকল শক্তি তোমাকে দিয়ে দেব। আমি তোমার বিশ্বস্ত কুকুর হব। আমি আমার সারা জীবন তোমার সেবায় নিয়োজিত করবো।
তার ওয়াদাগুলো এতো ঘৃণিত ছিল যে টাইটা তার সিদ্ধান্ত দ্বিধান্বিত হয়ে যাওয়া অনুভব করল। এটা ছিল তার মনের একটু সন্দেহ, কিন্তু ইশতার তার বর্মের একটু খানি তুলে তার বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনী দিয়ে একটা বৃত্ত আকল, মাড়ুকের চিহ্ন এবং চিৎকার করে কিছু বলল।
তার পিছন হতে টাইটা আর ঘাড়ে অ-বহনযোগ্য ওজন অনুভব করল। কোন অদৃশ্য দ্বৈত অক্টোপাশ তাকে জড়িয়ে ধরেছে, তার বাহু তার পার্শ্ব ঠেসে ধরছে। তার কণ্ঠটাও খুব ভয়ানকভাবে চেপে ধরছে। সে মানুষের মাংসের ঝলসানো গন্ধ পেল। রাক্ষুসের আভা তার দম বন্ধ করে দিতে চাইছে। সে নড়তে পারল না। অন্যপাশে ইশতার নাচল ও তার ট্যাটু করা মুখ বীভৎসভাবে বিকৃত হয়ে গেল। তোমার ব্যর্থ দেবী তোমাকে এই মাটির গভীরে রক্ষা করতে পারবে না। তুমি আর বেশিক্ষণ টিকতে পারবে না। সে চিৎকার করল। আমাদের প্রতিযোগিতা শেষ। আমি তোমাকে ও তোমার সব জন্তুকে হারিয়ে দেব। ওয়ারলক! এখন তুমি মরবে।
টাইটা উঁচু অন্ধকারময় গুহার ছাদের দিকে চোখ ঘুরালো এবং তার সব মনোযোগ দীর্ঘ উজ্জ্বল ছাদের উপর নিবন্ধ করল, সে তার নব শক্তি একত্রিত করল। তার লাঠি ডান হাতে তুলে উপরে নির্দেশ করল। তার ফুসফুসের শেষ দমটুকু দিয়ে সে চিৎকার করল, খাইদাস!
বরফে চিড় ধরলে যেমন শব্দ হয় তেমন একটা শব্দ উপরে হল। শক্তির শব্দে ছাদ থেকে পাথর ভেঙে নিচের দিকে দ্রুত এল। নিজের অপ্রচুর ওজন দিয়ে তা ইশতারে কাঁধে আঘাত করল। তার ঘাড়ের জোড়ার কাছাকাছি। এটা ইশতারকে ছিন্ন ভিন্ন করে বেরিয়ে গেল। যখন ইশতার মুচড়ালো ও কাঁপল ও ভয়ংকরভাবে লাথি মারল, টাইটা তার কাঁধ ও গলা থেকে ওজনটা প্রশমিত হতে অনুভব করল। মারডুক হেরে গিয়েছে এবং টাইটা আবার নিশ্বাস নিতে পারল। পোড়া মাংসের গন্ধ চলে গেল। বাতাস আবার প্রাচীন ও অসাড় হয়ে ঠাণ্ডা হল, শুধু ফাংগাসের গন্ধ পাওয়া গেল।
টাইটা তার জিনিসগুলো তুলে নিল। তোমার জঘন্য প্রভুও তোমাকে তোমার কবর থেকে মুক্ত করতে পারবে না। চিরদিন এখানে শুয়ে থাক, ইশতার। টাইটা বলল ও ঘুরে চলে এল। তার লাঠি পাথরে ঠুকতে ঠুকতে, সে গালালার পথে বেরিয়ে পড়ল।
*
বসন্তে তিনজন বার্তা বাহক ব্যাবিলনে পৌঁছাল।
ফারাও নাজা কাইফান ব্যাবিলনের প্রাসাদের সর্বোচ্চ ছাদের বাগানে সাক্ষাৎ করল তাদের সাথে। রাণী হেজারেটা তার পাশে সিংহাসনে বসা, গহনায় ভীষণ সজ্জিত।
বার্তা বাহক সবাই ছিল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। যাদের ফারাও টর্ক পশ্চিমে চার মাস আগে নিয়ে গিয়েছিল। তারা তাদের জীবন বাজি রেখে দিন রাত ধরে পাহাড়, মরুভূমি ও চূড়া পাড়ি দিয়ে এসেছে এবং তাদের শীর্ণ দেখাচ্ছে। এরা নিজেদের নাজার সিংহাসনে পায়ের কাছে ফেলল। সকল জয় আপনার, ফারাও নাজা, মিশরে সবচেয়ে মহান প্রভু। তাদে সোধনটা নাজা ও তার স্ত্রীর নিকট অস্বস্তিকর লাগল। আমরা ভয়ানক খবর নিয়ে এসেছি। আমাদের দয়া করুন। যদিও আমরা যা বলব তা আপনাকে অসন্তুষ্ট করবে। দয়া করুন এবং আমাদের উপর থেকে আপনার ক্রোধ সরিয়ে নিন।
বল! নাজা কঠোরভাবে জানতে চাইল। আমি একাই বিবেচনা করব তোমাদের মাফ করব কি না।
