সে আকাশের দিকে তাকাল এবং দেখল তারা খচিত আকাশের মাঝে একমাত্র লাল তারা দিগন্তে নিচু হয়ে আছে যা দেবী লসট্রিসের তারা। সে মাদুলিটা নিয়ে দেবীর প্রশংসায় মন্ত্র পড়তে শুরু করল। প্রথম অংশ শেষ না করতেই একটা রাগান্বিত অচেনা উপস্থিতি অনুভব করল। অন্য একটা প্রভুকে এ পথে আহ্বান করা হয়েছে এবং যেহেতু সে ইশতারকে জানে তাই অনুমান করতে পারল এটাকে। সে প্রশংসার দ্বিতীয় স্তবক শুরু করল এবং তার সামনের খালি পাহাড়ে একটা ঝলক গঠিত হতে লাগল, মারজুকের মন্দিরের চুল্লীতে কপারের দেয়ালের মতন যখন বলির আগুন জ্বলছিল।
মারডুক মুখোমুখি হল এবং তার রাগ দেখাল, সে সন্তুষ্টি নিয়ে ভাবল। সে ক্ষীণ রক্তিম আভার উপর দাঁড়াতে গেল এবং বলল, তুমি তোমার নিজের ভূমির মন্দির থেকে এতো দূরে চুল্লীর মারডুক। এ মিশরে অল্প কয়েকজন তোমাকে পূজা দেয়। তোমার ক্ষমতা শেষ। আমি দেবী লসট্রিসকে আহ্বান করেছি এবং তুমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না।
সে তার স্কার্ট খুলে ফেলল, আমি তোমার আগুন নিকুচি করি, মারডুক। সে বলে চলল, এবং একজন মহিলার মতো করে বসে সে পাথরের উপর প্রসাব করল। দেবী লসট্রিসের নামে, মারডুক সরে যা এবং আমাকে যেতে দে।
পাথরটা দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে গেল এবং যখন বাষ্প মিলিয়ে গেল, সে আরো একবার মেডির ছায়াময় চিহ্ন চিহ্নিত করতে পারল, সে পর্দাটা যা ইশতার ছাড়িয়েছে তা ছিন্ন ও বিদীর্ণ হয়ে গেল, টাইটা তার মধ্যে দিয়ে এগোল এবং আবার তাকে অনুসরণ করল।
দিগন্ত বিবর্ণ হয়ে পূর্বে আলো সোনালী রশ্মিতে পরিণত হল। টাইটা জানে যে সে দৃঢ়ভাবে তা অর্জন করছে এবং সে চোখ বড় বড় করে বাড়ন্ত আলোর মধ্যে তাকাল তার শিকারকে দেখতে। সে দ্রুত থেমে গেল। তার পায়ের কাছে একটা গভীর খাদ, যার তীক্ষ্ম পার্শ্বগুলো অনেক নিচে অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। কোনো মানুষ ঐ গভীরতা মাপতে পারবে না এবং এই বাঁধার চারপাশে কোন রাস্তা নেই, টাইটা অন্য পারটা দেখল। এটা কমপক্ষে ১০০০ কদম দুরে এবং পাড়টা আরো বেশি ভয়ংকর দেখাচ্ছে।
অনেকগুলো শকুন তলহীন খাদের উপর অনেক উঁচুতে উড়ছিল। টাইটা সম্মানিত সূচক মাথা নাড়ল। চমৎকার, ইশতার। সে বিড়বিড় করল। এমন কি শকুনগুলোও একটা দক্ষ স্পর্শ। আমি এর উৎকর্ষ সাধন হয়তো করতে পারব না, কিন্তু এ রকম একটা প্রয়াস শক্তি বিধায় ব্যয় কারক। এটা তোমার অনেক শক্তি ক্ষয় করেছে।
টাইটা পর্বতের কিনারা থেকে সরে এল এবং ফাঁকা স্থানে না চলে সে অন্য পথে গেল।
খাদ আর নেই এবং ওটার স্থান পাথুরে ভূমির মতো সমতল পথ। নিচু অন্য পারের ছায়া এখনো নীল। এই সমতলের মাঝপথ ৫০০ কদমও দূরে নয়, ইশতার দাঁড়িয়ে আছে। সে দুই হাত মাথায় তুলে টাইটাকে মোকাবেলা করছে, তার সৃষ্ট যাদু বজায় রাখতে পাগলের মতো চেষ্টা করছে। যখন দেখল সে ব্যর্থ এবং টাইটা তার দিকে এগিয়ে আসছে একটা রাগান্বিত জ্বিনের ন্যায় সে অসহায়ভাবে তার হাত নামিয়ে নিল, আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে নরম শিলার পাহাড়ের দিকে ঘুরে পাথুরে ভূমির অন্য পাশে দৌড় দিল, তার পিছনের কাপড় তার পায়ের উপর দিয়ে ঘুরল।
টাইটা তাকে দীর্ঘ পদক্ষেপে অনুসরণ করল এবং যখন ইশতার পিছনে তাকাল তখন তার নীল চেহারায় এক উন্মাদ ভাব দেখা গেল। এক মুহূর্তের জন্য ভীত বিহ্বল ভাবে সে লম্বা চুলের অবয়বের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর ঘুরে দৌড় দিল। এক মুহূর্তে সে টান দিল, ফাঁকা পড়ল তারপর দৌড় ধীরে হয়ে গেল এবং টাইটা তাকে নির্মমভাবে ধরল।
ইশতার তার কাঁধ থেকে পানির থলেটা ফেলে দিল এবং দৌড় দিল আরো সহজে কিন্তু সে টাইটার থেকে মাত্র কয়েকশ কদম এগিয়ে। সে নিচু পাহাড়ের কাছে পৌঁছে একটা খাতের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।
টাইটা খাদের মুখে পৌঁছে সামনের পাথুরে রাস্তায় ইশতারের পায়ে চিহ্ন দেখতে পেল কিন্তু যেখানে খাতটা সম্পূর্ণ ডানে মোড় নিয়েছে সেখানে তা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। টাইটা তা অনুসরণ করল। কিন্তু যখন সে বিবর্ণ নরম শিলাটার কাছে পৌঁছল তখন সে বন্য পশুর গর্জন শুনল। ঘুরে দেখল যে খাজটা তার সামনে সরু হয়ে গিয়েছে এবং একটা চারপেয়ে জম্ভ পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাণীটা তার লেজ এপাশ-ওপাশ নড়ছে, একটা বিশাল পুরুষ সিংহ ওটা।
সিংহটার কেশর দাঁড়িয়ে গেল, একটা বিশাল ঝোঁপ প্রতি গর্জনে যা বাতাসে যেভাবে ঘাস নড়ে সেভাবে নড়ল। এর চোখ সোনালি ও মণিটা নির্মম কালো। পশুর গন্ধে রাতের গরম বাতাস সে ভারি হয়ে আছে।
টাইটা বালুময় মাটির দিকে তাকাল, যার উপর ওটার বিশাল থাবা গেথে আছে। সে ইশতারের পায়ের ছায় দেখতে পেল, কিন্তু সিংহের থাবার কোন চিহ্ন সেখানে ফেলেছিল না।
টাইটা তার গতি থামল না। সে মাদুলিটা তুলে ভয়ংকর প্রাণীটার দিকে এগিয়ে গেল। আক্রমণ করার পরিবর্তে ওটার গর্জন থেমে গেল সাথে সাথে। তার মাথায় বহিঃস্তর স্বচ্ছ হয়ে গেল এবং সে ওটার মধ্য দিয়ে খাতের পাথুরে দেয়ালগুলো দেখতে পারল। তারপর নদীর কুয়াশার মতো প্রাণীটা মলিন হলে ও হারিয়ে গেল।
টাইটা যেখানে ওটা দাঁড়িয়ে ছিল তার মধ্যে দিয়ে গেল এবং কোনটা ঘুরে এল। তার সামনে খাতটা আরো সরু হয়ে গিয়েছে এবং পার্শ্বশুলো পিচ্ছিল। এটা হঠাৎ একটা পাথুরে দেয়ালে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে।
