আমি পারব, টাইটা।
যদি প্রভুদের ইচ্ছে হয়, টাইটাও সম্মতি জানাল এবং মাথা ঘুরিয়ে নিল যেন বালকটি ভাবে সে পর্বত, সাগর ও মরু যা তাদের শূন্যে ছড়িয়ে তাদের প্রশংসা করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে তার ঠোঁটের নড়া-চড়াটা সে ওকে দেখাতে চাচ্ছে না যে সে প্রার্থনা করছে। মহান হুরাস! আপনার আশীর্বাদের পাখা ছড়িয়ে দিন, কারণ এই একজন যাকে আপনি পছন্দ করেছেন। সাজিয়ে দিন তাকে, আমার মিসট্রেস লসট্রিস, যে এখন একজন দেবী, কারণ এটা আপনার গর্ভের ফল এবং আপনার রক্ত। খারাপ সেথ, তুমি তোমার হাত সরিয়ে নাও এবং তাকে ছোবে না কারণ যারা বাচ্চাটাকে রক্ষা করছে তাদের দলে তুমি নও। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল এবং বুঝল যে অন্ধকার ও অশুভ দেবতাকে সে চ্যালেঞ্জ করেছে। একটা শংকা তাকে পেয়ে বসল। তারপর সে তাদের খুশি করতে নরম স্বরে বলল: ভালো সেথ, তাকে সফল করো এবং কথা দিচ্ছি পরবর্তীতে যখন আমি তোমার মন্দির অ্যাবিডোসের পথ দিয়ে যাবো তখন একটা ষাড় আমি তোমার উদ্দেশ্যে বলি দেবো।
সে উঠে দাঁড়াল। চল যাত্রা শুরু করা যাক।
সে চূড়ার আড়াআড়ি পথ বরাবর চলতে লাগল এবং দাঁড়িয়ে দূর নিচে ক্যাম্পের দিকে দেখল এবং ঘাস খাওয়ারত ঘোড়াগুলো দেখল। ওগুলোকে এতো ছোট দেখাল যেন মনে হচ্ছিল ইঁদুরের সদ্য জন্মানো ছানা। মা-বাজটা গিরিখাদের উপর আভিজাত্যের সাথে চক্কর দিচ্ছিল। তার আচরণ কিছুটা অন্যরকম মনে হল বিশেষ করে যখন ওটা জোড়ে চিৎকার করল এবং যতোদূর মনে পড়ে সে আগে কখনো এমন শোনেনি। আশপাশে পুরুষ পাখিটার কোন চিহ্ন নেই যদিও সে আকাশ পর্যন্ত খুঁজে দেখল।
তারপর সে নিচে দৃষ্টি নামাল এবং প্রধান চূড়ার অতল গহ্বরে দিকে তাকাল। এবং ঐ তাকটা যেটার উপর গতকাল তারা দাঁড়িয়েছিল তা দেখল। এটা তার মধ্যে শক্তি জোগাল। পাথরে শূন্যে থাকায় নীড়টা দেখা যাচ্ছে না। সে ধীরে কিনারা বরাবর চলতে লাগল যততক্ষণ না সে খাজের দেখা পেল। খাজটা নিচের দিকে নেমে পাথরের খোলা মুখে গিয়ে শেষ হয়েছে। আর বাজ পাখিটা ওখানেই তার বাসা তৈরি করেছে।
সে একটা পাথর তুলে কিনারা দিয়ে নিচে ফেলে দিল। যখন এটা দেয়ালের নিচে এবং দৃশ্যের বাইরে চলে গেল তখনই তা আওয়াজ করল। সে আশা করল নীড়টা ওখানেই আছে এবং ওটার সঠিক অবস্থান বুঝতে চাইল, কিন্তু নীড়ের কোন চিহ্ন তার চোখে পড়ল না। শুধু মা-পাখিটাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে ও নিঃসঙ্গভাবে চিৎকার করতে শুনল।
টাইটা নেফারকে তার কাছে ডাকল এবং দড়ির এক প্রান্ত তার কোমরে বেঁধে দিল। তারপর সতর্কতার সাথে সে বাঁধনটা পরীক্ষা করল এবং ইঞ্চি ইঞ্চি করে দড়িটা পরীক্ষা করে দেখল তাতে কোন দুর্বল জায়গা আছে কিনা। স্যাডল ব্যাগে বয়ে পাখির বাচ্চাটা আনতে পারবে। সে স্যাডল ব্যাগের গিটটা পরীক্ষা করল এবং নেফারের কাঁধে ঝুলালো যাতে চড়ার সময় এটা তার কোন সমস্যা না করে।
অস্তিরতা বন্ধ করো, টাইটা। আমার পিতা ঠিকই বলতো যে মাঝে মাধ্যে তুমি বৃদ্ধা মহিলার মত আচরণ করো।
তোমার পিতার আমাকে আরও একটু বেশি সম্মান দেখানো উচিত ছিল। আমি তাকে তার জন্মের পর থেকে লালন-পালন করেছি, যেমন এখন তোমাকে করছি। টাইটা নাক দিয়ে আওয়াজ করল এবং আবার গিটগুলো পরখ করতে লাগল ও তার কোমরের গিটটা দেখল। নেফারের মনে হচ্ছিল যেন সে তাকে তার সৌভাগ্যের দিকে যাওয়াটাকে দেরি করিয়ে দিচ্ছে। তারপর নেফার কিনারা বরাবর হেঁটে গেল এবং কোন অস্বস্তি ছাড়াই ওখানে গিয়ে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াল।
সারাটা দিন আমরা এখানে নষ্ট করতে পারি না। নেফার তার বাবার একটা বিখ্যাত কথা লর্ডের ন্যায় উচ্চারণ করল।
টাইটা নিচে বসল এবং এমন একটা অবস্থায় বসল যেন সে তার গোড়ালি কোন খাজের সাথে আটকে নিতে পারে এবং পিছনে হেলে কাঁধের উপর দিকে দড়িটা ধরে রাখতে পারে। সে নেফারের উদ্দেশ্যে মাথা নাড়াল এবং বালকটির মুখে হাসি দেখল। সে খাদের কিনারে নামল। আর যখন নেফার নামতে লাগল টাইটা ধীরে ধীরে দড়ি ছাড়তে লাগল।
এভাবে নেফার দেয়ালের চওড়া অংশটায় পৌঁছে গেল এবং দুই হাতে রশি ধরে ভয়ংকর রকম ঝুলতে থাকল। তার পা-গুলো নিচের কোন খাজ খুঁজতে লাগল। শেষ পর্যন্ত সে পায়ের পাতার নিচে একটা খাঁজ খুঁজে পেল এবং খালি পায়ে তার উপর ভর করে দাঁড়াল। তারপর কব্জি ঘুরিয়ে ভালো করে রশিটা ধরে গড়িয়ে নামতে লাগল। শেষবারের মতো একবার সে টাইটার দিকে তাকাল, হাসার চেষ্টা করল; কিন্তু হাসিটা দুর্বল মনে হল। তারপর সে ঝুলে পড়ল। আরেকটা খোল পাবার পূর্বে খাজের মধ্যে তার পাটা পিছলে গেল এবং সে দড়ির উপর আংটায় ঝুলে সে ঘুরতে লাগল। পা রাখার কোন জায়গা খুঁজে না পাওয়ায় সে শূন্যে অসহায়ভাবে ঝুলে ঘুরতে লাগল। তার সন্দেহ হল উপরের বৃদ্ধ মানুষটি তাকে উঠানোর শক্তি রাখে কিনা। সে পাগলের মত খাঁজের উপর আচড় কাটল এবং তার আঙুল আটকে গেল। অন্য হাত দিয়ে ঝুঁকে পরের খোলটা ধরল। সে স্ফিত অংশের চারপাশে ছিল। তার হৃদপিন্ড হাঁতুড়ির মতো পিটাচ্ছিল এবং তার কণ্ঠে হিস হিস আওয়াজ হচ্ছিল।
তুমি ঠিক আছ তো? সে টাইটার কণ্ঠ শুনতে পেল।
ঠিক আছি। সে চিৎকার করে উত্তর দিল। দুই হাঁটুর মাঝখান দিয়ে সে নিচে তাকাল এবং নীড়ের উপরের পর্বতের খাঁজের চওড়া অংশটা দেখতে পেল। তার বাহুগুলো ক্লান্তিতে কাঁপছিল। সে তার ডান পা নিচে নামাল এবং আরেকটা খাঁজ খুঁজে পেল।
