নেফার বাচ্চাগুলোর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিচে উঁকি দিল। তার পেট গুলিয়ে উঠল কিন্তু বিষয়টাকে সে কোন পাত্তা দিল না। টাইটা যেমন বলেছে আসলে তাই। তাহলে কিভাবে আমি নীড়টার কাছে যাব, টাইটা? আমি বাচ্চাগুলো চাই।
নীড়টার উপরে তাকাও! টাইটা তাড়াতাড়ি তাকে দেখাল। দেখ কিভাবে চূড়াগুলো উপরের দিকে উঠেছে, পর্বতের খুব উপরে।
নেফার মাথা নোয়াল–টাইটা যে ভয়ংকর পথটা তাকে দেখাল সে দিকে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সে কিছু বলল না।
আমরা নীড়টার উপরে উঠার একটা পথ খুঁজে বের করবোই। সাথে করে আমরা দড়ি নেব। উপর থেকে ধীরে ধীরে আমি তোমাকে নিচে নামিয়ে দেব। তুমি যদি খালি পায়ে গিঁট ধরে হাতের মুঠো নীড়ের খোলা দিকে নিতে পার তবে তুমি তাদের ধরতে পারব। আর এদিকে রশি টেনে ধরে আমি তোমাকে সোজা করে রাখব।
এখনও নেফার কিছু বলল না। টাইটার কথায় তার বমি বমি ভাব লাগছিল। কোন জীবিত ব্যক্তির পক্ষে নিশ্চিত এভাবে চড়া ও টিকে থাকা অসম্ভব। টাইটা তার মনের অবস্থা বুঝল তাই কোন জবাবের জন্য জোর করল না।
আমার মনে হয়… নেফার ইতস্তত করে অস্বীকার করতে লাগল, তারপর চুপ হয়ে গেল এবং নীড়ের বাচ্চাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে এটাই তার লক্ষ্য। সেগুলোর একটা তার গড-বার্ড এবং এটাই তার পিতার মুকুট অর্জনের একমাত্র পথ। এখন ফিরে যাওয়া মানে ঐ সব কিছুকে অস্বীকার করা যার জন্য প্রভু তাকে পছন্দ করেছেন। সে অবশ্যই যাবে।
টাইটা বালকটির এই মুহূর্তটা অনুভব করল ও যে বুঝল তারপাশে থাকা নেফার বাজটাকে গ্রহণ করল এবং অবশেষে সে সত্যিকারের পুরুষে পরিণত হতে পেরেছে। মনে মনে সে খুব খুশি হল কারণ এটাই তার লক্ষ্য।
আমি কাজটা করব, নেফার সহজভাবে বলল এবং পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল। চল নিচে যাই ও নিজেদের প্রস্তুত করি।
*
পরদিন সকালে তারা অস্থায়ী ক্যাম্প গুটিয়ে অন্ধকার থাকতেই পর্বতে উঠা শুরু করল। কোন রকমে পা রাখার জন্যে টাইটা একটা পথ পেয়েছিল যা নেফারের তরুণ চোখও দেখেনি। তারা প্রত্যেকে রশির ভারি গোছা বহন করছে যা লিনেন ও ঘোড়ার চুল দ্বারা তৈরি। এগুলো ঘোড়া বাধতে ব্যবহার করা হয়। তারা একটা ছোট পানির থলেও এনেছে। টাইটা সতর্ক করে দিয়েছে যে সূর্য উপরে উঠলে পর্বত চূড়া উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।
পূর্ব পাশের চূড়ার দূরবর্তী অংশ দিয়ে উপরে যখন তারা উঠতে লাগল ততক্ষণে আলো ফুটতে শুরু করেছে এবং সে আলোয় তারা পর্বতের সম্মুখ ভাগ দেখতে পেল। এক ঘণ্টা সময় নিয়ে টাইটা উপরে উঠার একটা রাস্তা তৈরি করে নিল। অবশেষে সে সন্তুষ্ট হল। হুরাসের নামে, যিনি সর্ব ক্ষমতার অধিকারী, চলো শুরু করি। সে বলল এবং শূন্যে প্রভুর নামে চিহ্ন আঁকল। তারপর নেফারকে সে তার পছন্দের ঐ স্থানে নিয়ে গেল যেখান থেকে বেয়ে সে উপরে উঠবে।
আমি রাস্তা দেখাব, রশির এক মাথা নিজের কোমরে বাঁধতে বাঁধতে সে বালকটিকে বলল। যখন আমি এগুতে থাকবো তখন রশি ছাড়বে। লক্ষ্য করো আমি কি করি এবং যখন আমি বলবো তখন নিজেও এটা কোমরে বাঁধবে এবং আমাকে অনুসরণ করবে। যদি পিছলে যাও আমি তোমাকে টেনে ধরবো।
প্রথমে ভয়ে ভয়ে নেফার টাইটার পথ অনুসরণ করে উঠতে লাগল। তার অভিব্যক্তি স্থবির এবং ভয়ে মুখখানা বরফের মতন সাদা হয়ে গেছে। টাইটা উপর থেকে তাকে উৎসাহ জোগাল এবং উপরে উঠতে প্রতি পদক্ষেপে বালকটির আত্মবিশ্বাস বাড়তে লাগল। তারপর একসময় সে টাইটার পাশে চলে এল এবং দাঁত বের করে হাসল। সহজই তো।
সামনে একটু কঠিন হবে, টাইটা তাকে নিশ্চিত করল এবং পরের শিলাভাগে উঠা শুরু করল। এবার নেফার তার পিছনে বানরের ন্যায় এগিয়ে চলল, উত্তেজনায় ও আনন্দে বিচিত্র শব্দ পর্যন্ত করতে লাগল। তারা একটা পাথরের চিমনির নিচে দাঁড়াল যা একটা সরু খাজের চূড়ার দিকে সরু হয়ে শেষ হয়েছে।
এখন যেভাবে উঠব সেভাবে তোমাকে নীড়ের কাছে নামতে হবে। দেখ কিভাবে আমি হাত ও পা খাজের মধ্যে রাখি। টাইটা চিমনি থেকে বেড়িয়ে এল এবং ধীরে চলতে লাগল কিন্তু কোন বিরতি দিল না। যখন সে চূড়ার সরু প্রান্তটায় পৌঁছে থামল, তাকে নিচ থেকে মনে হচ্ছিল যেন কোন মইয়ের অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে আছে। তার সরু পায়ে তাকে অদ্ভুত দেখাচ্ছিল।
উপর থেকে টাইটা তাকে ডাকল এবং অনেকটা নাচতে নাচতে ছন্দের তালে নেফার পাথর বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।
কেন? এটাও তো ওরকম হবে? টাইটা তার অহংকারকে নির্দিষ্ট সীমায় রাখার চেষ্টা করল। আর ধমনীতে যুদ্ধ ও মহান দৌড়বিদদের রক্ত বয়ে চলে। সে হাসল এবং তার চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল যেন সে আবার তরুণ হয়ে গেছে। শিক্ষা শুরু হিসেবে সে আমাকে পেয়েছে–অবশ্যই সে সব অতিক্রম করে যাবে।
যখন তারা পূর্ব পাশের পর্বত-চূড়ায় এক সাথে দাঁড়াল তখন সূর্য মাত্র অর্ধেক পথ অতিক্রম করেছে।
আমরা এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেব! টাইটা তার কাঁধ থেকে পানির থলেটা নিল এবং বসে পড়ল।
আমি ক্লান্ত নই, টাইটা।
তবুও, আমরা বিশ্রাম নেব, টাইটা তাকে পানির থলেটা দিল এবং দেখল অন্তত ডজন বার সে পানি গিলল। নীড়ের কাছে নামাটা আরো কঠিন হবে। নেফার যখন দম নিচ্ছিল তখন সে তাকে বলল।
তোমাকে সেখানে পথ দেখানোর কেউ থাকবে না এবং একটা স্থান আছে যেখানে তুমি তোমার পা পর্যন্ত দেখতে পারবে না, যেখানে পাথর হেলে তোমাকে দূরে সরিয়ে রাখবে।
