সে তখন ইশতারের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে গেল। তার মন খুলতেই বাতাসে মেডির ছায়া অনুভব করল। সে তার ফেলে যাওয়া চিহ্ন দিয়ে এগুলো।
ইশতার নিজেকে আড়াল করতে তার যাদু প্রয়োগ করেছে। টাইটা চোখ বন্ধ করে তাকে খুঁজল।
পানির থলে, সে বিড়বিড় করল এবং সামনে তাকাতেই থলেটা সে দেখতে পেল। তুলে নিয়ে দেখল খালি ওটা। আরও দূর গিয়ে সে আরেকটি খালি পাত্র পেল। পানির থলে নিয়ে ইশতার গালালার পথ ধরেই এগিয়েছে।
রাত নেমে এল, কিন্তু টাইটা থামল না। মাঝে মাঝে মেডির চিহ্ন হারিয়ে যাচ্ছিল।
মেডিও অনুভব করল কেউ তার পিছু নিয়েছে। সে আর কেউ নয় স্বয়ং টাইটা। যাদু বলে সে বুঝল টাইটা অতি নিকটে। সে যাদুর জাল বুনল এবং টাইটাকে ভুল পথে চালনা করল।
বেশ কিছু দূর এগুবার পর টাইটা মেডির চিহ্ন হারিয়ে ফেলল। অনেক চেষ্টা করেও সে তার গন্ধ বাতসে পেল না। চোখ বন্ধ করে সে তার অনুভূতিসমূহ এক করল এক মনে। সব কিছু অস্পষ্ট। সাথে সাথে সে বুঝল যে এটা মেডির যাদুর প্রভাব এবং তাকে সে ভুল পথে চালিত করেছে।
শিকারের এতো কাছাকাছি আমার আরো বেশি সচেতন থাকা উচিত ছিল, মেডি আমাকে চিহ্নিত করেছে।
সে থলে থেকে একটু পানি পান করল, তারপর সাবধানতায় সামনে আগে বাড়ল। সে তার লাঠি দিয়ে সামনে নির্দেশ করল এবং ধীরে ধীরে তা এপাশ ওপাশ দোলালো। সে লাঠির নির্দেশিত পথ অনুসরণ করল এবং তার সামনে দেখল, চাঁদনী রাতে ঝিক ঝিক করছে রাস্তার পাশে বিবর্ণ পাথরের একটা বৃত্ত।
মেডির একটা উপহার, সে জোরে বলল, বিতৃষ্ণা তাকে আবার জেকে ধরল।
সে তার লাঠি দিয়ে মাটিতে আঘাত করে প্রচন্ড শক্তিতে বলল, নকিউব! তার বিতৃষ্ণা কমে গেল, এবং সে বৃত্তটার কাছাকাছি গেল।
এটা যথেষ্ট জরুরি নয় যে আমাকে তার মন্ত্র ভাঙ্গাতে হবে। সে গম্ভীরভাবে চিন্তা করল, আমি এটা মেডির উপরেই ঘুরিয়ে দেব।
সে তার লাঠির ডাল ব্যবহার করে একটা নুড়ি পাথর বৃত্ত থেকে সরল ও এটার শক্তি নষ্ট করল। এবার সে বৃত্তটার পাশে বসল আসন করে। কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হয়ে কোন নুড়ি স্পর্শ না করেই সে কাছাকাছি ঝুঁকে গেল এবং তাদের গন্ধ শুকল। মেডির গন্ধ তাদের উপর জোরালো এবং সন্তুষ্টিতে হাসল সে।
সে খালি হাতে তাদের স্পর্শ করেছি। টাইটা ফিসফিস করে বলল। ইশতার তার ঘামের চিহ্ন তাদের উপর ফেলে গিয়েছে। টাইটা ঐ ক্ষুদ্র স্রোতধারা ব্যবহার করতে পারবে। সতর্ক রইল একই ভুল সে না করতে। সে তার লাঠির ডাল দিয়ে নুড়িগুলোকে সরাল এবং তাদের অন্য একটা প্যাটার্ন দিল–একটা তীরের মাথা ঐ দিকে যে দিকে ইশতার গিয়েছে। সে থলে থেকে মুখ ভর্তি পানি নিয়ে তা নুড়ির মধ্যে ফেলল যেগুলো ভিজে চকচক করল চাঁদের আলোয়। তারপর সে তার লাঠিটা বল্লামের মত তীরের মাথা সেদিকে নির্দেশ করেছে সেদিকে নির্দেশ করল।
খাইদাস! যে চিৎকার করল এবং অনুভব করল যে কানের পর্দায় চাপ পড়ছে যেন সে সমুদ্রের অনেক গভীরে ডুবে গিয়েছে। এটা অসহনীয় হওয়ার আগেই ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করল এবং সে একটা ভালো লাগা ও সন্তুষ্টি অনুভব করল। এটা অবশেষে সে তা মেডির উপর ঘুরিয়ে দিয়েছে।
*
এক ক্রোশ সামনে ইশতার রাস্তা ধরে দ্রুত চলছে। সে এখন অনুসরণ সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন। সে এখন আত্মবিশ্বাসী, যে বাধা সে রাস্তায় স্থাপন করেছে তার অধিকাংশ লোকদের থামায়। কিন্তু সে জানে এটা টাইটাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারবে না।
হঠাৎ সে দুলে উঠল এবং দুই হাতে কান ঢাকল। ব্যথা বাড়ছিল, যেন একটা লাল গরম চাকু তার কানের গভীরে আঘাত করছে। সে আর্তনাদ করে হাঁটুগেড়ে বসে পড়ল। এটা ওয়ারলক, সে ফুঁপিয়ে উঠল। ব্যথাটা এতো তীব্র যে সে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারল না। সে তার আমার উপরেই তা ঘুরিয়ে দিয়েছে।
কাঁপা কাঁপা হাতে সে বেল্টের ঝোলাতে হাত বাড়াল এবং তার সবচেয়ে ক্ষমতাধর মাছুলি বের করে আনল, এতো ফারাও ট্যামোসের একটা সন্তানের যে জন্মের পরেই হলুদ ফুলে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল, তার একটা শুকনো মমি করা হাত। ইশতার এটা ছোট প্রিন্সের কবর থেকে চুরি করেছে। হাতটা কালো এবং বানরের থাবার মতো হয়ে আছে।
সে এটা তার যন্ত্রণা কাতর মাথার কাছে ধরল এবং অনুভব করল ব্যাথাটা কমতে শুরু করেছে। সে অস্থিরভাবে দাঁড়াল এবং পা টেনে টেনে নাচতে শুরু করল, মন্ত্র পড়ল এবং আর্তনাদ করল, তার কানের ব্যথা চলে গেল। সে বাতাসে শেষ লাফটা দিয়ে যে পথে সে এসেছে সেদিকে ফিরে দাঁড়াল, কাছে কোথাও সে ওয়ারলকের উপস্থিতি অনুভব করল, গ্রীষ্মের বজ্রপাতের হুমকির ন্যায়।
সে তাদের জন্যে একটা ফাঁদ পাতার চিন্তা করল, কিন্তু জানে টাইটা তা তার উপর ঘুরিয়ে দিবে। আমাকে সরে যেতে হবে এবং আমার পথ লুকাতে হবে। সে সিদ্ধান্ত নিল এবং ঘুরে রাস্তা বরাবর দৌড় দিল যতোটুকু সম্ভব।
সে একটা কঠিন রাস্তা বেছে নিল, তার উপর এমনকি টর্কের সৈন্যরাও কোন চিহ্ন ছেড়ে যেতে পারে নি।
সে তার বাম তর্জনী দিয়ে পাথরের উপর মারজুকের সংকেত হালকা করে আঁকল, ওটার উপর থু থু দিল এবং প্রভুর তিনটা লুকানো নাম উচ্চারণ করল যা তাকে হাজির করতে পারবে।
আমার শত্রু থেকে আমাকে লুকান, মহান মারডুক। আমাকে নিরাপদে আপনার ব্যাবিলনের মন্দিরে নিয়ে যান, এবং আমি আপনার সবচেয়ে পছন্দের বলি দিবো। সে ওয়াদা করল। মারডুক সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে ছোট মেয়েকে তার চুল্লীতে পাঠানো। ইশতার এক পায়ে দাঁড়িয়ে পাঁচ থেকে পঞ্চাশ কদম লাফিয়ে পিছনে এল, মারজুকের রহস্যময় সংখ্যা যা শুধু তার ভক্তরাই জানে। তারপর সে একটা তীক্ষ্ণ বাক নিয়ে ডানদিকে মোড় নিল উত্তরের বন বরাবর। সে দ্রুত এগোতে লাগল, তার ও আর অনুসারীর মাঝে দূরত্ব বাড়ালো চেষ্টা করল।
৯. টাইটা সেই স্থানে এল
টাইটা সেই স্থানে এল যেখানে ইশতার তার রাস্তা লুকিয়েছে এবং হঠাৎ থেমে গেল, যে আভাসটা একটু আগেও খুব শক্তিশালী ছিল তা হঠাৎ বিলীন হয়ে গেল উদিত সূর্যের তাপে কুয়াশার ন্যায়। মেডির কোন গন্ধ না স্বাদ কোনটাই নেই। সে রাস্তায় আর একটু গেল, কিন্তু দেখল রাস্তাটা শূন্য ও শীতল। দ্রুত সে যেখানে ইশতারে আভা হারিয়েছিল সেখানে এল। ইশতার শুধুমাত্র লুকানোর জন্য সময় নষ্ট করেনি। সে জানে যে ছাই অথবা পানি ও রক্ত আমাকে কদাচিৎ থামাতে পারলে। সে ভাবল।
