টক অবশেষে আদেশ দিল। নেফার নরম স্বরে বলল। কিন্তু কি লাভ? যদি সে মিনটাকাকে … সে বেশি ভাবতে পারল না।
এখন তোমার লড়াই করার মতো কিছু একটা রয়েছে। টাইটা শান্তভাবে বলল।
নেফার মিনটাকার জন্যে প্রচণ্ড ভালোবাসা অনুভব করল এবং তা তার মনে ক্রোধ সৃষ্টি করল। সে পাথরের আড়াল থেকে বের হয়ে এল এবং রথের বিচ্ছিন্ন অংশসমূহের সামনে এসে দাঁড়াল। টর্ক ও তার বাহিনীর পুরো মনযোগ তখন অসহায় শিকারের দিকে, মিনটাকার দিকে। তার লম্বা অবয়টা কেউ লক্ষ্য করল না। কিন্তু নেফারের প্রতিটি লোক তাকে দেখতে পেল, যারা উপত্যকার বিভিন্ন পাথরের আড়ালে ছিল। নেফার তার তলোয়ারটা মাথার উপর তুলে উঁচু করল এবং শেষ রথটা নিচে নেমে আসতেই সে তা নিচু করলো সংকেতে। তার সংকেত পেতেই পাহাড়ের উপর থেকে ওয়াগনগুলো যাদের শুধু চাকা লাগানো তা তার লোকেরা ছেড়ে দিল, ওগুলো আগে থেকেই তৈরি ছিল। দুপাশ থেকে ওগুলো প্রচন্ড গতিতে নিচে নেমে আসতে লাগল।
ইশতার চিৎকার দিয়ে উঠতেই টর্ক মিনটাকার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে পাশে তাকাল এবং তার বাহিনীকে ছিন্ন বিছিন্ন করতে যানগুলোকে নেমে আসতে দেখল।
পিছনে! সে চিৎকার করে উঠল। পিছনে ফিরে চল। কিন্তু রথীরা তাদের রথ থামাতে ব্যর্থ হল।
প্রথম ওয়াগনটা সারির মাথায়, ভেঙ্গে পড়ল। হট্টগোল, চিৎকার এবং কাঠ ভাঙ্গার শব্দে চারপাশ নরকে পরিণত হল। দুপাশ থেকে ওয়াগনগুলো তাদের উপর নেমে আসছিল, উঁচু থেকে নামায় তাদের গতিও ছিল বেশ।
টর্কের কিছু লোকজন লাফিয়ে পালাতে চাইল। কিন্তু তাদের ভারি বর্মের কারণে তারা তা সময় মতো পারল না। কারো মাথা, কারো পা, হাত টুকরো টুকরো হয়ে গেল। এমন সময় পাথরের আড়াল থেকে নেফারের লোকজন যারা বেঁচেছিল তাদের দিকে বর্শা নিক্ষেপ শুরু করল।
টক চারপাশে তাকাল এবং ফাঁদ থেকে বেরিয়ে যাবার পথ খুঁজল। ভাঙা ওয়াগনের জঞ্জাল তার সামনের পথ রোধ করে আছে। পিছনে এতো ভীড় যে এগোবার উপায় নেই, এ দিকে তীর এবং বর্শা বৃষ্টির মতো চারপাশে বর্ষিত হচ্ছে।
টর্কের এই অমনযোগের সুযোগে ইশতার চুপিসারে পাদানি থেকে নেমে পড়ল এবং রথের সারি, ঘোড়া, মানুষদের কাছ থেকে গা বাঁচিয়ে পালাতে লাগল।
টর্ক সামনে আবার তাকাতেই দেখতে পেল মিনটাকা তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।
সে সাথে সাথে খাপ থেকে একটা তীর তুলে নিল, কিন্তু তৎক্ষণাৎ আবার সিদ্ধান্তটা পাল্টাল, না! এই বেশ্যার জন্যে তীর হবে বড় বেশি সম্মানের। আমি নিজ হাতে তাকে গলা টিপে মারবো।
সে তলোয়ারটা হাতে নিয়ে রথ থেকে লাফিয়ে নামল। ঘোড়র নিচ দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে এল, নেফারের দুই জন লোক তখন পাথরের আড়াল থেকে লাফিয়ে তার দিকে ধেয়ে এল। কিন্তু তার তলোয়ারের সামনে তারা দাঁড়াতে পারল। সে মেয়েটির জন্যে এতো ক্ষুধার্ত যে কোন কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
নেফার দেখতে পেল টর্ক ফাঁদ থেকে বের হয়ে পাথর থেকে পাথরে লাফিয়ে সামনে চলেছে।দৌড়, মিনটাকা! পালাও! সে তার উদ্দেশ্যে চিৎকার দিল।
টর্কও তার চিৎকার শুনল এবং উপরে তাকাল, তুইও আয়, বাচ্চা ছেলে, আমার তলোয়ারে যথেষ্ট ধার করার দুজনের জন্য।
দৌড় না থামিয়েই নেফার তার হাতের বর্শাটা নিক্ষেপ করল, কিন্তু টর্ক সহজেই তা হাত দিয়ে সরিয়ে দিল। অস্ত্রটা বাধা পেয়ে দূরে সরে গেল, যা মিনটাকার পায়ের কাছে পাথরটার উপর গিয়ে শব্দ করে পতিত হল। মিনটাকা কোন পাত্তা দিল না।
মুহূর্তের জন্য অস্ত্রটা টর্কের গতি থামিয়ে দিয়েছে এবং নেফার দ্রুত লাফিয়ে তার পাশে চলে এল। নেফারের ক্রোধ থেকে বাঁচতে টর্ক প্রতিক্ষার জন্যে হাত তুলল এবং ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল। ডান হাতে ব্রোঞ্জের তলোয়ারটা তুলে সে বলল, আয় খোকা! তোর দ্বৈত মুকুটের স্বাদ মিটিয়ে দেই।
নেফার এগিয়ে এল, টর্ক তার দিকে তলোয়ার চালাল এবং নেফার পাশ কাটিয়ে আঘাতটা এড়াল।
নেফারের লোকজন দেখতে পেল নেফার যুদ্ধ করছে। যারা আড়ালে ছিল তারা সবাই বেড়িয়ে এসে যাকে সামনে পেল ধরাশায় করতে লাগল। চারিদিকে প্রচন্ড হট্টগোল লেগে গেল।
নেফার টর্কের নিতম্ব বরাবর যেখানে বর্মটা একটু উঠানো ছিল তা লক্ষ্য করে আঘাত হানল। টর্ক ওটা ফেরাতে উদ্যোত হতেই নেফার দ্রুত তার মুখ বরাবর আঘাত করল। আঘাতের শক্তি ও দ্রুততায় টর্ক হতভম্ভ হয়ে গেল। মাথা ঝাঁকিয়ে সে সরে গেলেও হেলমেটের খোলা অংশ দিয়ে নেফারের তলোয়ারের ফলা তার কপাল স্পর্শ করল এবং সে অনুভব করল সেখান দিয়ে রক্ত ঝরছে। আঘাতটা তাকে পাগল করে দিল, সে গর্জে উঠে নেফারের দিকে তেড়ে এল। চতুর্দিক থেকে আঘাত করতে লাগল সে। নেফার আঘাতগুলো এড়াতে পিছু হটতে বাধ্য হল এবং এক সময় মিনটাকার কাছাকাছি হলো যেখানে সে দাঁড়িয়ে।
জানে এভাবে সে বেশিক্ষণ টিকতে পারবে না টর্কের ঐ ভয়ংকর ক্রোধের সামনে। এ ধরনের লড়াইয়ে খুব কম লোকই টর্কের সামনে দাঁড়াতে পারে।
টর্কের আঘাতগুলো ছিল যেন অপ্রাকৃতিক। নেফার অনুভব করল যেন সে প্রচন্ড কোন ঝড়ের কবলে পড়েছে। নেফার জানে এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল দ্রুত গতিতে পাশ ফিরে সুবিধে মতো অবস্থান নেওয়া। কিন্তু তার পিছন দিকে পাথরের প্রাচীর।
