টাইটা কিছুই বলল না। সে সোনার মাদুলিটা ঠোঁটে চেপে দাঁড়িয়ে আছে এবং তার চোখ উপরের দিকে ঘুরল এমন ভঙ্গিতে নেফার খুব ভালো করেই চেনে।
শত্রুরা এখন অনেক কাছে কারণ নেফার চলন্ত যানের ভিড় থেকে টর্কের রথ চিনতে সক্ষম হল। টর্ক তার প্রধান সৈন্য দলের কেন্দ্রস্থলে ছিল, তার প্রতি পাশে দশটা করে রথ, উপত্যকাকে এপাশ ওপাশ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট চওড়া সম্মুখ। তার পিছনে তার বাকি রথগুলো সুগঠিত। ধুলা তার চারপাশে শান্ত হল এবং একটা ভয়ংকর নিরবতা তাদের উপর নেমে এল। একমাত্র শব্দ ছিল পলায়নরত উছুল জনতার বকবকানি ও কোলাহল তাদের সম্মুখস্থ সরু উপত্যকার ভেতরে।
এসো, টর্ক উরুক! নেফার বিড় বিড় করে বলল। আক্রমণ করতে আদেশ দাও! ঐতিহাসিক স্থানটার দিকে এগোও!
অগ্রগামী রথের বিশাল বাহিনীর সামনে ইশতার দি মেডি টর্কের বিশাল দেহের পাশে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে। এতে কৃশকায় যে টর্কের দাঁড়িতে লাগানো ফিতের নিচে পড়ে রয়েছে ইশতার।
বাতাসে ওয়ারলকের গন্ধটা তীব্র, মনে হচ্ছে দশ দিনের পচা কোন বস্তু। তার কণ্ঠ তীক্ষ্ণ শোনাল। জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে উপরে আকাশে ভেসে থাকা মেঘের দিকে তাকাল একবার। একটা অনুভূতি তার চেহারায় খেলা করতে দেখা গেল। সে ওখানে একটা শিকারী পশুর মতো অপেক্ষা করছে। আমি তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারছি। উপরে তাকান, মহান ফারাও!
টর্ক এতো চিন্তিত ছিল যে, আকাশের দিকে দৃষ্টি দিতে তার কষ্ট হল। শকুনগুলো অনেক নিচে নেমে এসেছে। টর্ক উপত্যকার পিছনে দূরে তাকাল। কিন্তু শত শত শকুন আকাশ ও ভূমির মধ্যবর্তী স্থানে ছড়িয়ে ছিল, সে দ্বিধান্বিত হয়ে গেল।
উপত্যকার পাশে ছড়িয়ে থাকা পাথরের আড়াল থেকে নেফার তাকে দেখছিল। এখন সে আরো কাছাকাছি, সে তার চেহারার অভিব্যক্তিগুলো স্পষ্ট পড়তে পারছিল।
এগোও টর্ক! নেফার বিড়বিড় করল প্রার্থনার মতো করে। আক্রমণ করতে বল। তোমার আর্মিকে উপত্যকায় প্রবেশ করতে বল। সে টর্ককে দ্বিধান্বিত হতে দেখল এবং অস্তিরতায় সে হাত কচড়াচ্ছিল। মাথা ঘুরিয়ে টর্ক পাশে থাকা শীর্ণকায় ইশতারের দিকে তাকাল।
মেডির নীল চেহারাটা উত্তেজনায় ফেটে পড়তে চাইছে। সে টর্কের বর্মের উপর হাত রেখে বলল, এটা একটি ফাঁদ, ওয়ালকের তৈরি। আপনি যদি আগে কখনও আমাকে বিশ্বাস নাও করে থাকেন এখন অবশ্যই তা করতে হবে। চারপাশের বাতাসে মৃত্যুর গন্ধ এবং চক্রান্তের আভাস। টাইটার যাদুর জাল আমার মুখে বাদুরের ডানার মতো ঝাঁপটা মারছে।
টর্ক তার দাঁড়ি ইতস্ততভাবে ঘষতে লাগল, রথের সারি তার নির্দেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
পাহাড়ের পাশে নেফার চোখ সরু করে তাকিয়ে রইল, পাশ ফিরে সে তার ছদ্মবেশী সৈন্যদের দেখল। মূল্যবান সময়গুলো পার হয়ে যাচ্ছে। টর্ককে কি আটকে রেখেছে? সে কি আক্রমণের নির্দেশ দিবে না? নেফার উত্তেজনায় স্বর উঁচু করল। যদি সে এখন আক্রমণ না চালায়…!
উপত্যকার মাথায় তাকাও। টাইটা তার চোখ না খুলেই বলল। বিরক্ত হয়ে নেফার তার কথামতো তাকাল এবং ভয়ের একটা শিহরণ তার হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল।
এ অসম্ভব! সে বিস্ময়ে বলল।
উপত্যকার শেষ প্রান্তে উঁচুতে, কিন্তু টর্কের রথ থেকে যা পুরোপুরি দৃষ্টিগোচর সেখানে একটা উঁচু পাথর অবস্থিত। তার উপর একটি মানব মূর্তি দেখা গেল, একা। যা একটি মেয়ে মানুষের, যুবতী ও স্লিম। এ দূর থেকেও যা রাজকীয় কেউ বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল না, অ্যাপেপির রাজবংশের কেউ।
মিনটাকা! নেফার জোরে শ্বাস ছাড়ল। আমি তাকে আদেশ দিয়েছিলাম ম্যান এবং মেরিকারার সাথে গেবেল নাগার যেতে।
আমরা জানতাম সে কখনও তোমার অবাধ্য হবে না। টাইটা তার চোখ খুলে একটা উপহাস সূচক হাসি দিল।
এটা তোমার কাজ। নেফার তিক্ত কণ্ঠে বলল। তুমি তাকে টর্কের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে। তুমি তাকে বিপদে ফেলছ।
যদিও আমি খামসিনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি কিন্তু মিনটাকা অ্যাপেপিকে নিয়ন্ত্রণ করতে কখনও পারি না। সে যা করছে তা তার নিজের ইচ্ছাতেই।
তাদের নিচে তখন টর্ক তার রথ সারিতে আদেশ দিল নিচের মানুষগুলোকে ছেড়ে গালালার ঝর্ণা দখল করতে, যেমনটা ইশতার তাকে বলেছে। তখন সে তার পাশে থাকা ইশতারকে বিড়বিড় করতে শুনল, কিছু একটা আছে, টাইটা জাল বুনেছে।
টর্ক চারপাশে তাকাল দীর্ঘ উপত্যকা বরাবর। হঠাৎ তার চোখে উঁচু হলুদ পাথরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা অবয়টা ধরা পড়ল। তাকে সে চিনতে পারল, সাথে সাথে তার ঘৃণা ও রাগ চরমে পৌঁছে গেল। মিনটাকা অ্যাপেপি! সে ফোঁস করে উঠল। আমি তোর কাছে আসছি, বেশ্যা মাগী। আমি তোকে মৃত্যুর পথে পৌঁছে দেব।
এটা একটি যাদুর মায়া ফারাও! নিজেকে ওয়ারলকের ফাঁদে পড়তে দিয়েন না।
এটা কোন যাদু নয়,। টক দাঁত চেপে বলল। আমি তোমাকে এর প্রমাণ দেবো যখন তার উষ্ণ দেহে আমার তলোয়ারটা ঢুকাবো এবং সেখান দিয়ে রক্ত বের হবে।
ওয়ারলক আপনাকে মায়ায় আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। চারদিকে আমি মৃত্যুর ছায়া দেখতে পাচ্ছি। কথাটা বলেই ইশতার পাদানি থেকে নেমে পালাতে চাইল। নাজা তার কাঁধ শক্ত করে ধরে ফেলল। না, ইশতার! আমার পাশেই থাকো। তুমি এর প্রমাণ পাবে। তারপর টর্ক তার পরবর্তী আদেশ দিল। সামনে চল! আক্রমণ!
