কি হল, বৃদ্ধ পিতা?
টাইটা একটা হাত তার বাহুতে রাখল। অশুভ সংকেত মিথ্যা না, সে এতোটুকুই বলল। বিপদ এখানে।
সাগরটা ঘুঘুর পেটের মতো ধূসর হচ্ছিল, কিন্তু যখন আলো শক্তিশালী হলো তখন উপরিস্তর সাদা ফুটকিতে ভরে গেল।
বাতাস সমুদ্রটাকে কশাঘাত করে সাদা ঘোড়ায় পরিণত করেছে। নেফার বলল।
না। টাইটা তার মাথা ঝাঁকাল, ওগুলো কোন সফেন তরঙ্গ নয়। ওগুলো পাল। পালের নিচে একটা জাহাজ।
সূর্য দূরের পর্বতের চূড়ার উপরে তার উপরিতল ধাক্কা দিয়ে উদিত হলো এবং ক্ষুদ্র ত্রিভুজে সাদা হয়ে জ্বলল, নীড়ে ফেরারত সারস পাখির বিশাল ঝাকের ন্যায়, এক মাস্তুল বিশিষ্ট একটা ঝাক যুদ্ধ জাহাজ সাফাগা বন্ধরের দিকে আসছে। যদি এটা টর্ক ও নাজার আর্মি হয়, তবে কেন তারা সাগর দিয়ে আসবে? নেফার শাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল।
এটা মেসোপটেমিয়া থেকে সরাসরি ও সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাস্তা। নৌকায় পারাপার ঘোড়া ও মানুষগুলোকে মরুভূমির কষ্টদায়ক ভ্রমণ থেকে রক্ষা করবে। সাপ ও বাজপাখির বিপদ সংকেত ছাড়া, আমরা এদিক থেকে বিপদ আশা করতাম না। টাইটা উত্তর দিল।
এটা একটা সুচতুর কাজ। সে সম্মতিতে মাথা নাড়ল। মনে হয় তারা সমগ্র লোহিত সাগর পার হওয়ার জন্যে প্রতিটি ব্যবসায়ীর যান ও মাছের নৌকা দখল করেছে।
তারা পর্বত বেয়ে নিচের গিরিখাতের ক্যাম্পে ফিরে এল। সৈন্যরা জেগে ছিল ও সচকিত। নেফার প্রহরীদের ডাকল এবং তাদের আদেশ দিল। দুজন সর্বোচ্চ গতিতে গালালায় ফিরে যাবে। সোক্কোর কাছে তার আদেশ নিয়ে, যাকে সে শহরের দায়িত্বে রেখে এসেছে। অন্য লোকদের অধিকাংশকে সে জোড়ায় জোড়ায় ভাগ করল এবং দক্ষিণে পাঠাল হিল্টো ও শাবাকোর দলকে খুঁজতে এবং তাদেরকে নিয়ে আসতে। সে তার সাথে পাঁচ জন সৈন্য রাখল। নেফার ও টাইটা লোকদের দেখল যাদের সে দ্রুত সংবাদ প্রেরণে পাঠিয়েছে, তারপর তারা পর্বতে চড়ল এবং পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সাফাগায় চলল পাঁচ জন লোক নিয়ে যাদের নেফার বাছাই করেছে। তারা সকালের মাঝামাঝি সময়ে বন্দরের উপরের উঁচু ভূমিতে পৌঁছাল। টাইটা তাদের একটা পরিত্যক্ত ওয়াচ টাওয়ারে নিয়ে গেল যেখান থেকে বন্দর ও তাদের অভিগম দেখা যাবে। তারা সৈন্যদের দায়িত্বে ঘোড়াগুলোকে রেখে ভাঙ্গা মই দিয়ে টাওয়ারের শেষ তলায় উঠে গেল।
প্রথম নৌকাগুলো উপসাগরে প্রবেশ করছে। নেফার ওগুলো চিহ্নিত করল। ওগুলো খুব বোঝাই করা কিন্তু বাতাসের সাহায্যে তারা দ্রুত এল। তারা তীর থেকে একটু দূরে থামল এবং ভারি প্রবালের নোঙ্গরগুলো ফেলল। টাওয়ারের শীর্ষ থেকে নেফার ও টাইটা নিচে খোলা ডেকের সবকিছু পরিষ্কার দেখল, যেটা লোজন ও ঘোড়ায় জনাকীর্ণ। যখনই এক মাস্তুলের জাহাজগুলো নোঙ্গর ফেলল, তখনই লোকগুলো জাহাজের পাশের কাঠের প্রান্ত সরিয়ে ফেলল। তাদের ক্ষীণ চিৎকার ভাঙ্গা ওয়াচ টাওয়ার থেকেও শোনা গেল যখন তারা ঘোড়াগুলোকে লাফিয়ে নামতে উৎসাহ দিচ্ছিল। তারা বিশাল পানি ছলকে পানিতে নেমে এল। তারপর লোকগুলো তাদের কাপড় খুলে ফেলল এবং তাদের পিছনে লাফিয়ে পড়ল। তারা ঘোড়াগুলোর কেশর ধরে তাদের পাশাপাশি সাগরের তীরে রিয়ে এল। প্রাণীগুলো তীরে এসে তাদের শরীর থেকে পানি ঝাড়ল যা সুন্দর কুয়াশা তৈরি করে সূর্যালোতে রংধনুতে পরিণত হল।
এক ঘণ্টার মধ্যে বীচটা মানুষ ও ঘোড়ায় গিজগিজ করল। ঘোড়া বাঁধার খুঁটি পোঁতা হলো ছোট বন্দরটার কাদার তৈরি ভবনগুলোর চতুর্দিকে।
যদি আমাদের রথের একটা দল থাকত, নেফার আক্ষেপ করল, এটাই হতো আঘাত করার সময়। মাত্র তাদের অর্ধেক সৈন্য তীরে এবং তাদের রথগুলো ভাঙা। আমরা তাদের টুকরো টুকরো করতে পারতাম। টাইটা কেন উত্তর দিল না।
এরই মধ্যে উপসাগরটা জাহাজে ভরে গেল। নৌকাগুলো যেগুলো রথ ও মালপত্র বহন করবে সেগুলো কাছেই নোঙ্গর করা এবং যখন ভাটা নামল তারা ভূমিতে নিয়ে এল ও তালিকা করল। শীঘ্রই পানি হাঁটু পর্যন্ত গম্ভীর হলো তাদের ঘিরে। তীরের লোকেরা পানি ঠেলে মালপত্র নামাতে শুরু করল। তারা ভেঙে রাখা। রথের অংশ তীরে বয়ে আনল এবং তীরে এনে তাদের সংযোগ করল।
পশ্চিম পর্বতে সূর্য ডুবছিল যখন শেষ জাহাজটা উপসাগরে প্রবেশ করল। এটা ছিল সবগুলো থেকে বৃহৎ এবং তার খাটো ও মোটা মাস্তুলের চূড়ায় গর্জনরত সিংহের মাথার পতাকা ও টর্ক উরুক এর হাউজের জমকালো রঙগুলো উড়ছিল।
ওই যে সে। নেফার মাস্তুলের অগ্রভাগে সন্দেহাতীত অবয়বটা নির্দেশ করল।
এবং ওটা ইশতার টর্কের পাশে। কুকুর ও তার প্রভু। টাইটার ধূসর চোখে একটা হিংস্র ঝলক ছেয়ে গেল যা নেফার পূর্বে কদাচিৎ দেখেছে। তারা অদ্ভুত যুগলকে পানি ঠেলে তীরে আসতে দেখল। তীর থেকে একটা পাথুরে জেটি বেরিয়ে গেছে। টর্ক ওটার উপর উঠল।
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ কোন জাহাজে নাজা? নেফার জিজ্ঞেস করল এবং টাইটা তার মাথা ঝাঁকাল।
টর্ক একা অভিযান চালবে। সে নিশ্চয়ই নাজাকে ব্যাবিলিয়ন ও মেসোপটেমিয়া ধরে রাখতে রেখে এসেছে। সে তার ব্যক্তিগত ব্যবসা দেখা শুনা করতে এসেছে।
তুমি কীভাবে তা জান? নেফার জানতে চাইল।
তার চতুর্দিকে একটা আভা বিরাজ করছে। এটা একটা গাঢ় লাল মেঘের মত। আমি এমনকি এখান থেকেও তা অনুভব করতে পারছি। টাইটা নরম সুরে বলল। তার সব ঘৃণা মাত্র একজন মানুষের উপর নিবদ্ধ। সে কখনো নাজা বা অন্য কাউকে তাতে ভাগ বসাতে দেবে না, প্রতিশোধের নেশা যা তাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
