এখন! টাইটা বলল এবং তার লাঠি দিয়ে কোবরাটাকে আঘাত করল। একই মুহূর্তে নেফারও লাফ দিয়ে সরে গেল, এবং সাপটা লাঠিতে ছোবল মারল। টাইটা সরিয়ে নিল তাই কোবরাটা লক্ষভ্রষ্ট হল এবং এক মুহূর্তের জন্য এটা শূন্য মাটিতে ছড়িয়ে গেল। ছোবলটা থেকে অধিকতর গতিতে টাইটা তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করল, এবং স্বস্তির একটা চিৎকার বেরিয়ে এল দর্শকদের মধ্যে থেকে।
কোবরাটা লাঠির প্রান্তে জড়িয়ে গেল এবং কুন্ডলী করে একটা উজ্জ্বল বল হয়ে গেল। টাইটা হাত বাড়িয়ে কুন্ডলীর মধ্য দিয়ে তার হাত ঢুকাল যততক্ষণ না সে সাপটাকে তার মাথার পিছনে চেপে ধরতে পারল। তারপর সে তা উপরে তুলে ধরল এবং লোকজন তা খেয়াল করে হাফ ছাড়লো। তারা সহজাত ভাবেই পিছু হইল যখন এটা টাইটার দীর্ঘ সরু বাহুতে প্যাচিয়ে গেল। তারা চাইল সে ওটাকে হত্যা করুক। কিন্তু মুচড়ানো সাপটাকে নিয়ে টাইটা তাদের সারির মধ্য দিয়ে হেঁটে গেল ও খোলা মরু ভূমিতে বেরিয়ে গেল।
সেখানে সে সাপটাকে তার হাত থেকে নিক্ষেপ করল এবং ভূমিতে পড়তেই তার কুন্ডলী খুলে গেল। পাথুরে মাটির উপর দিয়ে পিছলে পিছলে চলে গেল এবং টাইটা মগ্ন হয়ে দেখতে লাগল সাপটিকে।
হঠাৎ উপরের আকাশ হতে একটা গগনবিদারী চিৎকার ভেসে এল। তারা সবাই সাপ ধরতে এতো মগ্ন ছিল যে কেউ তাদের উপরে নীল আকাশে বাজ পাখিটাকে চক্কর দিতে দেখেনি। এখন এটা মাটির দিকে নিচু হল কোবরাটার দিকে পড়ছে। শেষ মুহূর্তে সাপটা নিজের বিপদ বুঝতে পারল এবং আবার দাঁড়িয়ে গেল, ফলা পূর্ণ প্রশস্ত করে। বাজপাখিটা তার ধারালো নখর সাপটার মাথার পিছনে স্ফীত ফণায় এক ইঞ্চি বসিয়ে ভারি ডানা ঝাঁপটিয়ে উঠে গেল কোবারটাকে তার থাবার নিচে ঝুলিয়ে ও প্যাচিয়ে নিয়ে।
টাইটা লক্ষ্য করল পাখিটা সাপটাকে নিয়ে চলে গেল এবং শেষে নীলাভ ধূসর তাপের আস্তরের আড়ালে বিন্দুর ন্যায় অদৃশ্য হয়ে গেল। টাইটা দীর্ঘক্ষণ পিছনে তাকিয়ে থাকল। সে ঘরে নেফার যেখানে সেখানে ফিরে এল। তার অভিব্যক্তি ছিল গম্ভীর এবং সে দিনের বাকিটা সময় চুপ করে রইল। সন্ধ্যায় সে নেফারের পাশে রথে করে গালালায় ফিরল, তখনো নীরব।
একটা কোন অশুভবাণী ছিল, নেফার বলল এবং তার দিকে তাকাল। সে টাইটার চেহারায় দেখল তখনও গম্ভীর। আমি লোকদের কথা শুনেছি নেফার শান্তভাবে বলে চলল। তাদের কেউ আগে কখনো এমনটা হতে দেখেনি। কোবরা রাজকীয় বাজ পাখির স্বাভাবিক শিকার নয়।
হ্যাঁ, টাইটা বলল, এটা একটা অশুভ সংকেত, একটা বিপদ সংকেত ও একটা ওয়াদা প্রভুর কাছ থেকে।
এর অর্থ কি? নেফার তার চেহারা পর্যবেক্ষণ করল।
কোবরাটা তোমাকে হুমকি দিয়েছিল, তার অর্থ বিশাল বিপদ। বাজ পাখিটা পূর্ব দিয়ে উড়ে গেল কোবরাটাকে তার নখরে নিয়ে এর অর্থ পূর্বদিকে বিশাল বিপদ। কিন্তু শেষে বাজ পাখিটা জিতল।
তারা উভয়ে পূর্বদিকে তাকাল। আমরা কাল ভোরের প্রথম আলোতে একটা তাল্লাশি অভিযান চালাবো। নেফার সিদ্ধান্ত নিল।
*
ভোরের পূর্বে অন্ধকারের ঠাণ্ডায় নেফার ও টাইটা পর্বতের চূড়ায় অপেক্ষা করছিল। তল্লাশি দলটার বাকি সদস্যরা পিছনের ঢালে ক্যাম্প করেছে। তারা বিশ জনের মত। লুকিয়ে থাকার জন্য তারা রথগুলোকে গালালায় রেখে এসেছে এবং তারা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এসেছে।
হিল্টো ও শাবাকো অন্য তল্লাশি বাহিনীকে নিয়ে দক্ষিণের ভূখন্ড পর্যবেক্ষণ করতে নিয়ে গেছে, তাদের মাঝখানে তারা গালালায় প্রতি হুমকি সকল পূর্ব শক্তিকে উড়িয়ে দিতে পারে।
নেফার তার দলকে গেবেল অববাহিকার দিকে লোহিত সাগরের পশ্চিম তীর বরাবর এনেছে। রাস্তার পাশের প্রতিটি বন্দর ও জেলেদের গ্রামে দেখেছে। কয়েকটা বাণিজ্যের ক্যারাভান ও বেদুঈনদের ভ্রমণ দল ছাড়া তারা আর কিছু খুঁজে পায়নি। বিপদের কোন চিহ্নই। এখন তারা সাফাগা বন্দরের উপরে ক্যাম্প করেছে।
টাইটা ও নেফার অন্ধকার থাকতেই জেগেছে এবং প্রহরী স্থানের চূড়ায় উঠার জন্য ক্যাম্প ছেড়ে এসেছে। তারা কাছাকাছি নিরবতায় বসল। নেফার অবশেষে কথা বলল।
এটা কি একটা মিথ্যা অশুভ সংকেত হতে পারে?
টাইটা নাক দিয়ে বিতৃষ্ণার একটা শব্দ করল ও থু থু ফেলল। একটা বাজপাখি তার নখরে একটা কোবরা নিয়ে? এটা স্বাভাবিক নয়। এটা একটা অশুভ সংকেত ছিল, নিঃসন্দেহে কিন্তু সম্ভবত মিথ্যা। ইশতার দি মেডি ও অন্যরা এরকম ফাঁদ পাততে সক্ষম। এটা সম্ভব।
কিন্তু তুমি এ রকমটা মনে করছ না? নেফার জোর দিল। তুমি আমাদের দিয়ে এতো কষ্ট করাতে না যদি তুমি বিশ্বাস করতে এটা মিথ্যা।
ভোর দ্রুত চলে আসে। টাইটা প্রশ্ন এড়িয়ে গেল এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পূর্ব আকাশে তাকাল যেখানে শুকতারা ঝুলে আছে, একটা লণ্ঠনের মতো, নিচু দিগন্তের উপর। আকাশটা একটা পাকতে থাকা ফলের মত নরম, খেজুর পাকা ডালিমের মত রং ধারণ করেছে। অন্য তীরের পর্বতগুলো ছিল কালো এবং তীক্ষ্ম ও ছিন্ন। বৃদ্ধ কুমিরের ছেদন দাঁতের ন্যায় আকাশের আলোকিত হওয়া প্রেক্ষাপটের বিপরীতে।
হঠাৎ টাইটা দাঁড়িয়ে গেল এবং তার লাঠির উপর ঝুকল। নেফার কখনো অবাক হতে ব্যর্থ হয়নি ঐ ধূসর বৃদ্ধ চোখগুলোর তীক্ষ্ণতা দ্বারা। সে জানত টাইটা কিছু দেখেছে। নেফার তার পাশে দাঁড়াল।
