আমি তার ঘৃণার বস্তু? নেফার জিজ্ঞেস করল।
না, তুমি না।
তাহলে কে?
সর্বোপরি সে মিনটাকার জন্য এসেছে। যখন সূর্য ডুবল, নেফার ও টাইটা পাঁচ জন সৈন্যকে টর্কের পিছু করতে রেখে এল এবং রাতে দ্রুত তারা গালালার দিকে রওনা দিল।
*
সাফাগায় তার আগমণের পরের সকালে, টর্ক দুজন বেদুঈনকে আটক করল যারা সাফাগার রাস্তায় তাদের গাধা নিয়ে চলছিল। বিনা সন্দেহে তারা সোজাসুজি তার বাহুতে ধরা দিয়েছে। টর্কের সম্মান এমনকি মরুর অসীমতাও বিদ্ধ করেছে, তাই যখনই তারা জালন কে তাদের বন্দিকর্তা বেদুইনরা তখন তাকে সন্তুষ্ট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তারা টর্ককে প্রাচীন শহরটির পুনরুত্থানের চমকপ্রদ খবর দিল। তারা মিষ্টি ঝর্ণার কথা বলল যা এখন পাহাড়ের গুহা থেকে প্রবাহিত হয় এবং সবুজ ঘাসের ও বনের কথা যেগুলো গালালাকে ঘিরে আছে। তারা তাকে রথের একটা আনুমানিক হিসাব দিল যা নেফার সেটির আছে। টর্ক বুঝল হিসেব করে দেখল সে তার শক্রর চেয়ে পাঁচগুণ এগিয়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা তাকে সাফাগান থেকে পুরানো শহরে যাওয়া রাস্তার পূর্ণ বর্ণনা দিল। এখন পর্যন্ত টর্কের শুধুমাত্র গালালায় অভিযানের পরোক্ষ জ্ঞান ছিল এবং মনে হলো সে তাকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল যে দ্রুত চললে তিন থেকে চার দিনে যাত্রা এবং সে পরিকল্পনা করেছিল তার নিজের পানি ও পশুর খাদ্যের ওরাগনগুলো তার সাথে উপকূল থেকে বহন করবে। এটা একটা দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য পদ্ধতি হত। এই নতুন তথ্য সব কিছু বদলে দিল। বেদুঈনরা তাকে নিশ্চয়তা দিল যে সে গালালায় এক দিন ও এক রাতের শক্ত ভ্রমণেই পৌঁছতে পারবে।
সে ঝুঁকি ও বিপদের কথা পরিমাপ করল, তারপর মরু দিয়ে গালালায় দ্রুত যাত্রার সিদ্ধান্ত নিল শহরটাকে চমকে দিতে। তবে তাকে তার সোজাসুজি যুদ্ধের দীর্ঘ যাত্রা নিঃশোষিত ঘোড়া ও শূন্য পানির থলে নিয়েই করতে হবে। যাই হোক তারা ঝর্ণার মাথা ও সবুজ ভূমি দখল করতে পারে যা বেদুঈনরা তার কাছে বর্ণনা করেছে। একবার যখন তারা ঐ সব আশীর্বাদগুলো নিয়ে নেবে, বিজয় নিশ্চিত। তার সব সৈন্য বাহিনী অবতরণ এবং রথ জোড়া লাগাতে জন্য আরো দুদিন লেগে গেল। দ্বিতীয় সন্ধ্যায় সে গালালার উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত হলো।
পানির থলে পূর্ণ করে অগ্রগামী সৈন্য দল সাফাগা থেকে বের হলো যখন সূর্য ডুবন্ত ও সূর্যের তাপ চলে গেল। প্রতি রথের দুইটা অতিরিক্ত দল থাকল ওটার পিছনে। তারা রাতে ঘোড়াগুলোর বিশ্রামের জন্য থামবে না বরং তাদের বদলে দিবে যখন তারা ক্লান্ত হবে। যে কোন ক্লান্ত প্রাণী ছেড়ে দেওয়া হবে এবং ফেলে যাওয়া হবে অশ্ব সরবরাহ দলের তা আনার জন্য।
টর্ক সামনের দলটাকে নেতৃত্ব দিল এবং ভয়ংকর গতি তুলল। পর্যায়ক্রমে ঢালে উলঠ, তারপর চাবকিয়ে ঘোড়াগুলোকে দুলকি চালে অথবা দৌড়িয়ে পাহাড় থেকে নামাত এবং সমতলে যখন পানির থলে শূন্য হয়ে গেল তখনও কেউ পিছু হটল না। পরের দিনে মধ্য সকালে তাপ ভয়ংকর হয়ে গেল এবং তারা বেশির ভাগ অতিরিক্ত ঘোড়া ব্যবহার করে ফেলেছে।
বেদুঈনদের দিক নির্দেশনায় টর্ক নিশ্চিত থাকল যে সে গালালা সামনে খুব বেশি দূরে নয়। কিন্তু প্রতিবার তারা একটা চূড়ার শীর্ষে উঠল ও একই অলস সংকীর্ণ সরু পথ, পাহাড় ও শুকনো মাটি পেল ও তাপের মরীচিকা তাদের সামনে ঝিকিমিকি করল।
পড়ন্ত বেলায় বেদুঈন পথ প্রদর্শন করা ছেড়ে গেল। জ্বিনের যাদুতে তারা তাপের মরীচিৎকার মধ্যে গলে গেল এবং যদিও টর্ক এক জোড়া রথ তাদের পিছে পাঠাল তবুও তাদের আর দেখা গেল না।
আমি আপনাকে সতর্ক করেছিলাম, ইশতার দি মেডি আত্মতৃপ্তভাবে টর্ককে বলল, আপনার আমার উপদেশ শোনা উচিতে ছিল। ঐ প্রভুহীন সৃষ্টিগুলো সম্ভবত টাইটা, ওয়ারলকের পাঠানো। প্রায় নিশ্চিতভাবে সে পথ ঢেকে দিয়েছে এবং আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি না কত দূরে এই উপকথার গালালার অথবা ঐ বিষয়ের কারণে যদি তা সত্যি থেকে থাকে। এই আমন্ত্রণহীন মতামতের জন্য টর্ক তর ট্যাটু করা মুখে চাবুক মারল। একটা সর্বনাশ ও নৈরাশ্য অনুভূতি টর্ককে জেকে বসল, তা লাঘব করার জন্য কিছুই করতে সে পারছিল না। সে ঘোড়াগুলো আরো একবার চাবকালো এবং তাদের পরবর্তী দীর্ঘ পাথুরে ঢালের উপরে নিয়ে গেল যেটা তাদের মুখোমুখি হল। সে অনেক ঘোরাঘুরি করল, তাদের ধৈর্য্যের প্রায় শেষ সীমায় এলে গেল এবং সে সন্দেহ করল যে তারা রাতে যেতে পারবে।
কোনভাবে তারা ঘোড়া চালিয়ে এগুল, তার অধিকাংশ সৈন্য তা করল। পঞ্চাশ অথবা ষাটটা রথ তাদের ঘোড়ার সবশেষ দলটাকে ব্যবহার করে ফেলল এবং টর্ক তাদের রাস্তার পাশে ছড়িয়ে ফেলে এল।
দ্বিতীয় দিন সূর্য উঠল–চুমুর মতো উষ্ণ, রাতের ঠাণ্ডার পর, কিন্তু এটা একটা প্রতারণাপূর্ণ চুমু। শীঘ্রই এটা তাদের লাল লাল চোখে যন্ত্রণা ধরিয়ে দিল ও ধাধিয়ে দিল। প্রথমবারের মতো টর্ক মরে যাওয়ার সম্ভাবনার মুখোমুখি হল, যেন এই ভয়ংকর রাস্তার কোন শেষ নেই।
আবার একটা পাহাড়, সে তার ঘোড়ার শেষ দলটাকে বলল এবং চাবুক পিটিয়ে দলটি তারা চালিয়ে আনার চেষ্টা করল। কিন্তু ঘোড়াগুলো হোঁচট খেল, সহজ ঢালুতে তাদের মাথা ঝুলছে এবং ঘাম অনেক আগেই শুকিয়ে সাদা লবণ হয়ে গিয়েছে তাদের শরীরে। ঠিক চূড়ার নিচে টর্ক তার আর্মির পিছিয়ে পড়া সারির দিকে ফিরে তাকাল। এমনকি না গুণেই সে দেখল সে তার অর্ধেক রথ হারিয়েছে। শত শত পদাতিক সৈন্যরা সারি পিছনে টলমল ভাবে হাঁটছে। এমনকি সে খেয়াল করে দেখল দুই অথবা তিন জন করে তারা পড়ে যাচ্ছে এবং রাস্তার পাশে মরা মানুষের মতো তারা পড়েই রইল। আকাশে শকুনরা তাদের অনুসরণ করছিল, শত শত কালো বিন্দু আকাশের গায়ে উঁচু বৃত্তে ঘুরছে। সে দেখল কিছু তির্যকভাবে নেমে এল খাবারের দিকে যা সে তাদের জন্য প্রস্তুত।
