সারগন একজন অধিকতর মহান লুণ্ঠনকারী যতোটা আমি তাকে ভেবে ছিলাম? টর্ক এটা প্রশংসার বাণীর মতো বলল।
কমপক্ষে এখানে যথেষ্ট পরিমাণ আছে আমাকে দাক্ষিণ্য দিতে যা আপনি ওয়াদা করেছেন। ইশতার মৃদু পরামর্শ দিল।
আমার মনে হয় আমাদের এটা পরে আলোচনা করা উচিত। টর্ক সদায়ভাবে তার দিকে হাসল। আমি একজন দয়ালু ও ভদ্র মানুষ, ইশতার, যেমনটা তুমি খুব ভালো করেই জান। যাইহোক, অতি ভদ্রতা বোকামির একটা লক্ষণ। কি অসভ্য আমি না?
রত্নভান্ডার ছাড়াও শহরটাতে আরো অনেক কিছু দেখার ছিল এবং বিস্মিত হওয়ার আছে। টর্ক ও নাজা প্রাসাদ ঘুরে এল, টাওয়ারের শীর্ষ, তাদের ঝর্ণা, বাগান ও বন।
এই উচ্চতা থেকে তারা উভয় বিশাল নদীটা নিচে দেখল এবং সংকীর্ণ জলা এবং প্যাপিরাসে বিশাল বন শহরের দেয়ালে বাইরে।
পরে তারা মন্দিরগুলো দর্শন করল, কারণ এসব চমৎকার ভবনগুলোর গঠন সুন্দর, তাদের আসবাবপত্র, গোপনস্থান, মোজাইক ও অন্যান্য সব কিছু শিল্পকর্মে ঠাসা। যখন তারা এগুলো সরাল নাজা ও টর্ক অধিষ্ঠিত প্রভুর সাথে কথোপকথন করে কথা বলল, সে ভ্রাতা, প্রভু ও সমমানের বলে তাদের সম্বোধন করল। টর্ক ব্যাখ্যার করল যে ব্যাবিলন আর একটা রাজধানী শহর নয় বরং তা এখন মিশরের একটা অংশ। তাই প্রভুর উচিত তার পৃথিবীর আসন অ্যাভারিসে সরিয়ে নেয়া, যেখানে টর্ক তাকে উপযুক্ত বাসস্থান দেওয়ার দায়িত্ব নিল। প্রভুর সম্পদের অপসারণ ধার রূপে বিবেচনা করা উচিত যা পরে শোধ করা হবে।
ঔসব মন্দিরগুলোর সবচেয়ে বৃহৎটি হল মারজুকের। টর্ক এটাকে শুধু দামী ধাতু ও গহনার খনি নয় বরং অসীম আবাসস্থলের একটা স্থান বলে স্বীকার করল।
ইশতার মারজুকের একজন ভক্ত এবং তরুণ অবস্থায় সে এই একই মন্দিরের প্রধান যাজকের কাছে যাদু শিখেছে। যেহেতু সে এখনও তার পুরস্কার পায়নি তাই সে টর্কের এত কাছাকাছি লেগে আছে যে যেন একটা আটুলি একটি সিংহের পেটে। সে টর্ককে নির্দেশনা দিয়েছিল মারডুকের পূজার মধ্যে এবং টর্ক মন্তব্য করল, মারডুকের স্বাদ আমার নিজের অনেক পরিচিত সেথের স্বাদের কাছাকাছি। তারা ভাই ভাই।
তা সবসময় সুস্পষ্ট, মহারাজ। যাই হক মারজুকের ক্ষুধা মানুষের বলীর জন্যে, তা সেথের ক্ষুধার চাইতে বেশি এবং সে খুঁতখুতে তা কীভাবে তার কাছে উপস্থাপিত হলো সে বিষয়ে।
সে টর্ককে অলিগলি ধরে বাগানের উঠান দিয়ে মন্দিরের গভীর স্থানে পবিত্রদের পবিত্র স্থানে নিয়ে এল, যেটা নিজেই একটা ছোট শহর ছিল। তারা শেষে এল চুল্লী ভবনে।
যখন তারা প্রধান বলী কক্ষের উপর দাঁড়াল, টর্ক নিচে এর ভেতরে তাকাল, সে এর নকশা ও স্থাপনা দেখে সম্পূর্ণ বিমোহিত হয়ে গেল। এটা আমার কাছে ব্যাখ্যা কর। সে ইশতারকে আদেশ করল।
দুইটা চুল্লী আছে, আলাদা আলাদা নয়, ঐ দেয়ালের পিছনে প্রত্যেকটা। ইশতার চকচকে কপারের দেয়ালগুলোর দিকে নির্দেশ করল। যখন কাঠ কয়লার আগুন জ্বলে ওঠে তারা বিশাল গর্জন করে উস্কে দেয় যতোক্ষণ না ধাতব দেয়াল গুলো উদিয়মান সূর্যের মতো তাপে জ্বলতে থাকে। দেয়ালগুলো অপসারণ যোগ্য। কপিকলের সাহায্যে কাজ করা হয়, ফলে তা তাদের সামনে গড়িয়ে যেতে সক্ষম অথবা তাদের টানে আলাদা করতে সক্ষম হয়…।
যখন ইশতার তার ব্যাখ্যা শেষ করল, টর্ক তার বর্মপরা হাতটি মুঠি করে অন্য হাতের তালুতে দুম করে আঘাত করল। সেহ্ ও মারডুকের কসম, আমি কখনো এমনটা শুনি নি। আমাকে এটা স্বচক্ষে দেখাতে হবে। যদি এটা এমন হয় যেমনটি তুমি বর্ণনা করলে, আমি তেমন একই অদ্ভুত নির্মাণ অ্যাভারিসে আমার নিজের মন্দিরে করবো। যাজকদের তাদের নারকীয় চুল্লীটা জ্বালাতে আদেশ কর। আমরা আমাদের বিজয় উদ্যাপন করব মারডুককে একটা বলী দিয়ে।
চুল্লীটা আশানুরূপ তাপে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। ইশতার তাকে সর্তক করল।
আমি কয়েক দিনই আছি, আমাকে লুটের মালের প্রেরণ দেখাশুনা করতে হবে এবং আমাকে সারগনের বিশ জন কমবয়সী স্ত্রীর সন্তুষ্টি ও ভালোটাও দেখা শুনা করতে হবে।
সে তার চোখ ঘোরালো। সবচেয়ে দুঃসাধ্য কাজ, যে কোন ঘটনায়, আমরা বদমায়েশরা এখনো শহর লুঠতে ব্যস্ত। আমি তাদের সজ্ঞানে ফিরিয়ে আনতে কিছু সময় ব্যয় হবে শুধু।
তিন দিন পর টর্ক তার উচ্চপদস্থ অফিসারীদের জন্য একটা বিজয়ী ভোজ সভার আয়োজন করল বিলাশ ভাবনের সর্বোচ্চ ছাদে। অতিথিরা বিশাল কাদার পাত্রে বেড়ে ওঠা কমলা গাছের বনের মধ্যে এলিয়ে পড়ল; সবই পূর্ণ বিকশিত তাই বাতাসটাও মিষ্টি সুবাসে পূর্ণ। তাদের ঘিরে ঝর্ণাগুলোও কলকল শব্দে বয়ে চলল। ভোজের টেবিল সিল্কের কার্পেট দিয়ে ঢাকা। সকল বোল ও পাত্রগুলো বুপা ও স্বর্ণ এবং দামী পাথরে খচিত, ওগুলো মন্দিরে নৈবেদ্য থেকে আনা হয়েছে। টুলের উপর যে অতিথিরা বসেছিল তারা সারগনের স্ত্রী, তারা ছিল সোনার চেইন ব্যতীত সম্পূর্ণ নগ্ন। পরে যখন ফেনিত বীয়ার ও মিষ্টি মদের বোতলগুলো প্রভাব বিস্তার করল তখন এই জীবন্ত টুলগুলো বালিশ ও গালিচা হিসাবে ব্যবহৃত হল সবার।
এই আনন্দের মাঝে ইশতার হামাগুড়ি দিয়ে টর্কের পাশে এল এবং তার কানে ফিসফিসিয়ে বলল, ফারও প্রভু। যে সমুদ্র গলাধঃকরণ করে এবং তারা ভক্ষণ করে, চুল্লী প্রস্তুত।
