জীবিতরা তাদের অস্ত্র ফেলে দিল, কেউ হাঁটুগেড়ে বসল এবং অরণ্যে রোদন করল। তাদের কেউ ছুরিকাঘাতে নিহত হল এবং দূরমুজের আঘাত পেল যখন যারা হাঁটু গেড়ে বসেছিল। অন্যরা পিছনের দরজা দিকে পালিয়ে গেল এবং টর্ক তার লোকদের বিশাল কপিকলটার দিকে নিয়ে গেল। এর প্রতি স্পোকে দুজন করে লোক নিয়ে তারা ফটকগুলো খুলতে শুরু করল।
কিন্তু বিপদ ঘণ্টা শহরের রক্ষীদের জাগিয়ে দিয়েছে। যারা তাদের ব্যারাক থেকে মাছির মতো বেরিয়ে এল। কয়েক জন বর্ম ছাড়া এবং এখনো অর্ধ ঘুমন্ত এবং প্রবেশ পথ রক্ষা করতে দৌড় দিল।
টর্ক কপিকল কক্ষের ভারি খিল আটকে দিল এবং প্রবেশমুখে লোক নিযুক্ত করল তা প্রতিরোধ করতে। প্রবেশ পথের উপরের পাচিল থেকে তার লোকেরা প্রহরীদের হত্যা করেছে অথবা তাদের দেয়ালের শীর্ষ স্থান থেকে নিক্ষেপ করছিল, এখন তারা ঢালু পথে লড়াই করল, আক্রমণরত ব্যাবিলনদের আটকে রাখল।
কপিকল কক্ষের দরজাটা কেঁপে উঠল এবং ফাঁপা হয়ে গেল যখন ব্যাবিলিয়নরা ওটা পাগলের মতো ভাঙ্গতে চেষ্টা করল কিন্তু কপিকলগুলো টর্কের লোকদের প্রয়োগে ধীরে ধীরে ঘুরল এবং বিশাল ফটকগুলো তাদের স্থান ছেড়ে নিচে ফাঁকা স্থানে নির্মমভাবে নেমে গেল।
এখান ফটকের দিকের রাস্তা ব্যাবিলনের রক্ষীদের দ্বারা জনাকীর্ণ। কিন্তু তারা তাদের নিজেদের সংখ্যায় বাধাগ্রস্থ হল। এক সাথে মাত্র চারজন ঢালু পথে উঠতে পারল দেয়ালের শীর্ষের দিকে এবং টর্কের লোকেরা তাদের সাক্ষাৎ করল এবং তাদের সজোরে পিছনে নিক্ষেপ করল। অন্যরা এখানো দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে যার মধ্যে কপিকলগুলো অবস্থিত কিন্তু দরজাটা নিরেট। যখন অবশেষে তারা তাদের গুঁড়িয়ে দিল তারা দেখল টর্ক ও তার লোকেরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
দেয়ালের বাইরে নাজার লোকেরা মৌমাছির ঝাকের মতো সামনে আসছে বাকা লৌহদন্ড ও লিভার নিয়ে। তারা ভারি ফটকগুলোকে প্রশস্ত থেকে প্রশস্তর করল, যতোক্ষণ না অবশেষ রথের একটা দল অতিক্রম করতে পারল। তারপর তারা সরে দাঁড়াল এবং নাজার যুদ্ধ রথের একটা দল ফটক দিয়ে পশুর বেগে প্রবেশ করল এবং রাস্তার পাশ থেকে পাশে ঠেলা দিল মিশরের আর্মি পিছনে আসল। টর্ক সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে নিল ও শহরের মধ্য দিয়ে প্রাসাদে তার দলকে ছুটাল।
ব্যাবিলনে লুণ্ঠন শুরু হয়ে গেল।
*
প্রাসাদের প্রতিরক্ষা ছিল কঠোর, স্বয়ং সারগনের নেতৃত্ব। যাইহোক, ঐ সন্ধ্যার মধ্যে টর্ক প্রথম প্রাসাদের বাইরের দেয়ালে একটা ফাঁটল ধরাল। একটা শক্তিশালী সৈন্য দল ওটার দিকে নেতৃত্ব দিল এবং প্রতিরক্ষা ভেঙে গেল। তারা সারগনের শয়নকক্ষ ভেঙ্গে প্রবেশ করল। সারগন তখন মারডুকের প্রতিমূর্তির সামনে হাঁটু গেড়ে বসেছিল, মেসোপটেমিয়ার ক্ষুধার্ত প্রভু একটা রক্তাক্ত তলোয়ার তার হাতে নিয়ে। তার পাশে পড়ে আছে তার প্রিয় পত্নীর দেহ। একজন ধূসর চুলের মহিলা
সে তার সাথে ত্রিশ বছর যাবৎ বাস করছে, সে তাকে একটি সকরুণ মৃত্যু উপহার দিয়েছে সেটা থেকে যা সে টর্কের লোকদের কাছ থেকে আশা করতে পারত। যাই হোক, সারগন নিজেকে, তার নিজের তলোয়ারে পড়ার মতো শক্ত করতে সক্ষম ছিল না। টর্ক তার হাত থেকে আস্ত্রটা ফেলে দিল।
আমাদের অনেক কিছু আলোচনা করার আছে মহারাজ; সে তাকে ওয়াদা করল। এটা কি আপনি নন যে আমাকে সেথের কালো বৃক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন? আশা করি আমি আপনাকে বিশ্বাস করাতে পারছি যে আপনি আমাকে ভুল রং-এ এঁকেছেন।
অন্দর মহলের মহিলাদের দল বেঁধে প্রাসাদ থেকে বের করা হলো, মাত্র তাদের পাঁচশ জন পাঁচ হাজার নয় যা ইশতার বলল। টর্ক তার নিজের বিনোদনের জন্য সবচেয়ে কম বয়সী ও সুন্দরী বিশ জন বাছাই করল এবং বাকিদের তার উচ্চপদস্থ অফিসারদের দেওয়া হল, তারা তাদের উপভোগ করার পর তাদেরকে সাধারণ সৈনিকদের কাছে দিয়ে দিবে।
প্রাসাদের নিচে মাটির গভীরে সমাহিত রত্ন ভান্ডার ভেঙ্গে বের করতে আরো দুদিন লাগল, কারণ অনেক সুনিপুণ স্থাপনা ও কৌশলে তাদের রক্ষা করা হয়েছিল। ইশতারের দক্ষতা ও প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছাড়া প্রধান রত্ন ভাণ্ডারের প্রবেশ করতে হয়তো আরো বেশি সময় লাগত।
রাস্তা পরিষ্কার হলে, টর্ক ও নাজা, হেজারেটসহ সিঁড়ি দিয়ে নামল এবং কক্ষে প্রবেশ করল। ইশতার একশ তেলের প্রদীপ দিয়ে অভ্যন্তরটা আলোকিত করেছে এমন কি দুই ফারাও ও হেজারেট রত্নের দীপ্ততা দেখে বিমোহিত হয়ে গেল। রুপার বার সাজানো, সোনা চোঙ্গাকৃতি পিন্ডে পরিণত করা যেগুলো একে অন্যে সাথে সমাঞ্জস্য করে সাজনো সুবিধার্থে। সবগুলোর উপর স্বর্ণকারের চিহ্ন ও সারগনের স্মারক আঁকা।
হেজারেট কিছুক্ষণের জন্য ভাষাহীন হয়ে পড়ল, তার নাজুক চোখে ধাতুর ঝালক থেকে বাঁচানো জন্য ছায়া দিতে হল। নাজা সারির মাঝখান দিয়ে ধীরে ধীরে সামনে হেঁটে গেল, যেগুলো তার মাথা থেকেও উঁচু। কয়েক পদক্ষেপ পর পর থামল পিন্ডগুলোকে হাত বুলানো জন্যে। অবশেষে তার কণ্ঠ ফিরে পেল সে এবং ফিফিস্ করে বলল। তারা মসৃণ ও উষ্ণ, একজন কুমারী দেহের মতই।
টর্ক প্রতি হাতে একটি করে বার নিল এবং আনন্দে হাসল। কত ওজন? সে ইশতারের কাছে জানতে চাইল।
হায়! মহান রাজা, আমারা এখনো তা হিসেব করার সুযোগ পাই নি। কিন্তু আমরা সারগনের অনুলিপির স্ক্রৌলটা দেখেছি। তারা রুপার হিসাব রেকর্ড করেছে সর্বমোট ৫৫ লাখ আর স্বর্ণ তেত্রিশ। সে তার ট্যাটু করা হাতগুলো অনুমোদনের ভঙ্গিতে ছড়ালো। কিন্তু কে এক জন ব্যাবিলিয়ানের হিসাব বিশ্বাস করে?
