.
টর্ক দুলতে দুলতে দাঁড়িয়ে হাততালি দিল। সম্মানিত ভ্রাতাগণ! সে তার
অফিসারদের সম্বোধন করল এবং তারা আনন্দে গর্জে উঠল।
আমার কাছে আপনাদের জন্যে একটা বিনোদন আছে, আমার সাথে আসুন, এবং সে অস্থিরভাবে সিঁড়ির দিকে এগোল তার পিছনে তার লোকজনের ভিড় নিয়ে।
তারা পাঁচিলে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল এবং বলীর কক্ষে তাকাল। চুল্লী দুটো দিয়ে ধোয়া তাদের মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে গেল, এবং তারা তাপে ঘামাতে লাগল যা উজ্জ্বল ধাতব দেয়াল থেকে প্রতিফলিত হচ্ছে।
আমারা আজ এখানে মহান প্রভু মারডুক উৎসর্গ করতে জমায়েত হয়েছি, যে আমাদেরকে তার শহর যুদ্ধের উপহার হিসেবে দিয়েছে। টর্ক তাদের বলল প্রধান যাজকের কন্ঠ নকল করে। তারা আনন্দিত ভাবে তাকে উৎসাহ দিল।
একজন রাজা ও তার রাজপরিবার ছাড়া আর কোন ভালো বলী আমরা দিতে পারি? তারা আবার উল্লাস ধনি করল।
টর্ক ইশতারের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ল, যে দ্রুত বেগে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে কক্ষের দিকে নিচে গেল যেখানে একশ দাস চরকির কাছে দাঁড়িয়ে আছে ও যন্ত্র চালনা করতে প্রস্তুত। প্রধান যাজকের নির্দেশে তারা মারড়ুকের উদ্দেশ্যে মন্ত্র পড়তে শুরু করল।
পুরোহিত তখন খোলা কক্ষের উপর তার বেদীতে উঠল পিছনে মন্ত্র পাঠরত দাসদের নিয়ে। সে তার উভয় বাহু তুলে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে লাগল চওড়া কণ্ঠে।
তার নির্দেশে চুল্লী কক্ষের পাথরের দেয়ালে একটা ছোট দরজা খুলে গেল; এবং অন্য যাজকেরা এক সারিতে থাকা মানুষগুলোর দিকে এগিয়ে গেল। তারা সাধারণ সাদা পোশাকে ছিল এবং দাঁড় ছাড়া আর কোন অলংকার তাদের শরীরে ছিল না।
তারা উভয় লিঙ্গের ছিল এবং সব বয়সের, কেউ ছিল কেবল শিশু তাদের মাতৃ কোলে; কিছু ছিল মাত্র হাঁটতে শিখছে; অন্যরা ছিল বয়ঃসন্ধি কালের। কিন্তু সব চেয়ে লম্বা জন ছিল একজন বাঁকা সাদা চুলের মানুষ একজন রাজা, যুদ্ধার ভঙ্গিমায়।
জয়! সারগরন, স্বর্গের ও পবিত্র ভূমি মহান শাসক দুই নদীর মধ্যেখানের। টর্ক তাকে বিদ্রূপ করল। আমি তোমার জন্য তা করব যা তুমি তোমার জন্যে করার সাহস পাও নি। আমি তোমাকে পাঠাচ্ছি বাহক হিসাবে তোমার প্রভুর স্নেহার্ত বাহুতে, মারজুকের কাছে। আমি একজন সহানুভূতিশীল ব্যক্তি এবং আমি তোমার স্ত্রীদের চাই না এবং তোমার ছোট ছেলে ও মেয়েরা তোমার জন্য দুঃখ করুক তাও চাই না। আমি তাদেরকে তোমার সাথে তোমার পথে সঙ্গী হিসাবে পাঠাচ্ছি। সে তার লোকদের হাসি দমিত হতে দেওয়ার জন্য থামল। তারপর সে বলে চলল, এই বার্তাটা মারডুককে দিও, যখন তুমি তার সাথে মুখোমুখি দাঁড়াবে। বলো তাকে যে টর্ক, তার মহান ভাই, তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং তার সুদৃষ্টি কামনা করেছে।
সারগন তার চারপাশে তার পুত্রদের জড়ো করল এবং টর্কের দিকে তাকাল না বা তার কথার উত্তর দিল না।
টর্ক প্রধান যাজকের দিকে তাকাল, এখন যাজক, দেখান আমাদের আপনার এই যন্ত্রের কাজ কেমন।
প্রধান যাজক আবার গাইতে শুরু করল কিন্তু এক ভিন্ন প্রার্থনা, কর্কশ ও অপরিচিত। তার পিছনে কক্ষে দাসরা তার সাথে গাইল এবং এক সাথে ধাপ আগে বাড়াল, তারপর তাদের নগ্ন পায়ে তাল তুলল. পাথর খন্ডের উপর বজ্রপাতের শব্দের ন্যায়। প্রতিবারে এক ধাপ চরকিটা ঘুরতে শুরু করল।
থমে কোন পরিবর্তন চোখে পড়ল না তখন ইশতার ফিসফিসিয়ে বলল, জ্বলন্ত দেয়াল গুলোতে দেখুল, মহান টর্ক, সফল নায়ক- রাজাদের মহান। দেখুন তারা কি ভাবে একে অন্যের দিকে চলতে শুরু করেছে, ধীরে ধীরে, ওহ, খুব ধীরে ধীরে। যতোক্ষণ না তারা অবশেষে মিলিত হল এবং বলীগুলো মচমচে এবং কালো হয়ে গেল প্রদীপের শিখায় পড়া মথের মতন। টর্ক সামনে ঝুকল, তার চেহারা ঘাম ও উত্তেজনায় চকচকে।
*
মারডুক সম্ভষ্ট, ইশতার ঘোষণা করল মদের পাত্র থেকে মুখ তুলে উপরে তাকিয়ে। আপনি তাকে চুল্লীতে যা উৎসর্গ করলেন তা তার কাছে সবচেয়ে গ্রহণীয়।
টর্ক মাথা ঝাঁকাল, আমার ভাই মারডুককে বলা আমি সন্তুষ্ট তার সন্তুষ্টিতে।
টর্ক সিংহের চামড়ার একটা স্তূপের উপর হাঁটুগেড়ে বসল যা মন্দিরের ভেতরের কক্ষে পাথরের উপর মারজুকের বেদির সামনে ছড়ানো। প্রভুর সোনার মূর্তিটা ছিল নব যৌবনের এক হাসিতে প্রসন্ন মুখ। মূর্তিটা স্বাভাবিক আকারের তিন অথবা চার গুণ। একমাত্র বৈশিষ্ট্য যা প্রভুকে একজন নশ্বর থেকে আলাদা করে, তার আকার ছাড়া অন্য কিছু তা- তার কোকড়া চুলের মাথার প্রত্যেক পাশে ক্ষুদ্র ছাগলের মত শিং এবং পায়ের পরিবর্তে দ্বিখন্ডিত খুর।
তুমি আমাকে বলেছিলে মারডুক একজন ভয়ংকর প্রভু ছিল, অধিক নিষ্ঠুর ও হিংস্র যে কোনো বাঘ থেকে, এমনকি সেথের থেকেও হিংস্র, টর্ক ইশতারকে চ্যালেঞ্জ করছে, যখন প্রথমে সে মূর্তিটা দেখল। সে দেখছি এক জন সুন্দর বালক।
মহান ফারাও প্রতারিত হবেন না! ইশতার তাকে সর্তক করল, এই চেহারাটা মারডুক মানুষের দুনিয়াকে দেখায়। তার আসল রূপ এতোটাই বীভৎস যে, যে তা দেখবে সাথে সাথে অন্ধ হয়ে যাবে ও বকবক করে পাগল হয়ে যাবে।
চিন্তায় গম্ভীর হয়ে টর্ক মূর্তির সামনে হাঁটুগেড়ে বসল এবং শান্ত রইল যখন যাজকেরা নবজাত দুটি শিশু নিয়ে এল। ইশতার সোনার বোলটা বেদির পূর্বে স্থাপন করে তাদের প্রভুর উদ্দেশ্যে বলি দিল।
