কিন্তু কোথা দিয়ে পানি শহরে ঢোকে? কিভাবে এটা বেরিয়ে যায়, নিশ্চয়ই এ দেয়ালগুলোর নিচ অথবা উপর দিয়ে? ইশতার জোর দিল এবং নাজা ও টর্ক এক অর্থপূর্ণ উপলব্ধির দৃষ্টি বিনিময় করল।
*
ব্যাবিলনের অর্ধমাইল উত্তরে, শহরের দেয়ালের বাইরে, ইউফ্রাতিসের পূর্ব তীরে, একটা স্থানে যেখানে নদী প্লাবিত হয় ও মন্থর গতিতে বয়ে গেছে, যেখানে নিনুরতা মন্দিরটি অবস্থিত; ইউফ্রাতিসের সিংহ মাথার ডানাওয়ালা প্রভু যে। এটা পাথরের স্তম্ভের উপর নির্মিত তা, নদীর মধ্যবর্তী বর্ধিত স্থানে। প্রভুর নানা রকম প্রতিমূর্তি একটা বিশেষ দেয়ালে অঙ্কিত যা ভেতরের চারটা দেয়াল ঘিরে আছে। প্রবেশে পথের উপরে আক্কাডিয়ান ভাষায় পাথুরে দেয়ালে সবার জন্য একটা সতর্ক বাণী খোদাই করা, যাতে বলা আছে যারা গোপন কুঠরী আক্রমণ করার সাহস করবে তাদের উপর প্রভুর কঠোর দণ্ড নেমে আসবে।
ইশতার প্রবেশ পথের উপর একটা মন্ত্র চালনা করল অভিশাপটা অকার্যকর করতে, দুজন বন্দীর গলা লম্বালম্বি কেটে এবং তাদের রক্ত তোরণে ছড়িয়ে দিয়ে। পথ পরিষ্কার হতেই পিছনে বিশ জন জন সৈন্য নিয়ে সে মন্দিরের উঠানে দ্রুত পদক্ষেপ প্রবেশ করল সেখানে লাল পোশাক পরিহিত নিনুরতার যাজকেরা জমায়েত হয়েছিল। তারা মন্ত্র পড়ছিল এবং অঙ্গভঙ্গি করছিল, অনাহুত প্রবেশকারীদের দিকে তারা হাত নাড়ছে, ইউফ্রাতিসের পানি তাদের পথে ছড়িয়ে নিনুরতাকে আহ্বান করছে একটা অদৃশ্য যাদুর দেয়াল তৈরি করে টর্ককে ফিরিয়ে দিতে।
বিনা বাধায় টর্ক দেয়ালের ভেতর দিয়ে বড় বড় পদক্ষেপ এগিয়ে প্রধান যাজককে হত্যা করল, বৃদ্ধ লোকটার গলার মধ্যে এক আঘাতেই। তার এই পরিণতি দেখে অন্য যাজকেরা নিজেদেরকে তার সামনে সমর্পণ করল আনুগত্য প্রকাশ করতে।
টর্ক তার তলোয়ার নিচু করে ক্যাপ্টেনের উদ্দেশ্যে মাথা ঝুকালো, যে রক্ষীদের কমান্ড ছিল। তাদের সবার হত্যা নিশ্চিত কর, কেউ যেন বেঁচে না যায়।
তারাপ দ্রুত তার আদেশ পালন করল এবং আঙ্গিনাটা রক্তিম কাদার দেহে ভরে গেল। টর্ক তখন আদেশ দিল। তাদের নদীতে নিক্ষেপ করো না। আমি চাই না শহরের রক্ষী তাদের ভেসে যেতে দেখুক এবং অনুমান করুক আমরা কোথায় আছি। তারপর সে ইশতারকে দেখতে ঘুরল, সে তখন আঙ্গিনায় প্রবেশ করে আরেকটা মন্ত্র প্রয়োগ করছে প্রভুর অশুভ প্রভাব ব্যর্থ করে দিতে যা তারা আহ্বান করছিল। চার কোনায় সে ধূপ পোড়াল, যা পুরু পিচ্ছিল ধোয়া নির্গত করল যা নিনুতার অপছন্দনীয় এবং টর্ক আনন্দে তাকে উৎসাহ দিয়ে গেল। পবিত্রকরণ সম্পন্ন হলে ইশতারের মন্দিরের পবিত্র স্থান দিয়ে পথ দেখল এবং টর্ক ও তার সৈন্যরা তাকে অনুসরণ করল, রক্তমাখা প্রাসাদ পেরিয়ে।
তাদের কীলক দেওয়া স্যান্ডেল উঁচু, গুহাময় হলের অন্ধকার গুপ্তস্থানে তা এমনভাবে প্রতিধ্বনি তুলল যে এমনকি টর্কও একটা ধর্মীয় শিহরণ অনুভব করল যখন তারা প্রভুর প্রতিমূর্তির সামনে এগিয়ে গেল। সিংহের মাথা নিরবে দাঁত বের করে গর্জন করছে যেন এবং পাথুরে ডানাগুলো প্রসারিত। ইশতার প্রভুর উদ্দেশ্যে আরেকবার প্রার্থনা করল তাকে শান্ত করতে। তারপর টর্ককে নিয়ে গেল সরু পথ দিয়ে, পিছনের দেয়াল ও মূর্তির পিঠের মধ্যে দিয়ে। এখানে সে লোহার গ্রিলে ঘেরা গেইট খুঁজে পেল যা ভালোমত নিনুরতার দেহকে ঘিরে তৈরি। টর্ক গ্রিলের দন্ডগুলো ধরে তাদেরকে তার ভালুকের শক্তি দিকে নাড়াল। তারা নড়ল না।
আরেকটা অধিকতর পথ আছে, সর্বজ্ঞানী ফারাও, ইশতার মিষ্টি করে পরামর্শ দিল। চাবিটা প্রধান যাজকের দেহের উপর হবে।
ওটা আন। টর্ট তার রক্ষীদের ক্যাপ্টেনকে উচ্চ কণ্ঠে আদেশ দিল যে দৌড়ে গেল, যখন ফিরল তার হাতে রক্ত লেগেছিল। সে এক গুচ্ছ ভারি চাবি বহন করছে, তাদের কোনটা হাতের সমান লম্বা। টর্ক গ্রিলের তালায় দুটা দিয়ে চেষ্টা করল এবং দ্বিতীয়টা প্রাচীন এই নির্মাণশৈলীকে ঘুরিয়ে দিল। ফটকটা ক্যাচ ক্যাচ করে খুলে গেল।
টর্ক উঁকি দিয়ে দেখল একটা প্যাচানো সিঁড়ি অন্ধকারে নেমে গেছে। নীবর ফাঁকা স্থানের বাতাসটা ঠাণ্ডা ও স্যাঁত-সেঁতে এবং সে অনেক নিচে বয়ে চলা পানির আওয়াজ শুনল।
মশাল আনন? সে আদেশ করল; এবং ক্যাপ্টেন তার দলের চারজনকে তার মাথা উপর মশাল ধরে রাখতে বলল। টর্ক সরু অরক্ষিত সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল। সে সাবধানে এগোল, কারণ সিঁড়ির ধাপগুলো ছিল কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল। বয়ে যাওয়া পানির শব্দ জোরালো হল যখন সে নেমে গেল। ইশতার ঘনিষ্টভাবে তাকে অনুসরণ করল।
এ মন্দির ও এর নিচের টানেলগুলো প্রায় পাঁচ শত বছর পূর্বে নির্মিত। সে টর্ককে বলল।
অবশেষে টর্ক তলদেশে পৌঁছল এবং একটা পাথুরের ভিত্তিতে নামল। কম্পমান মশালের আলোতে সে দেখল তরা একটু বাঁকানো ছাদের প্রশস্ত টানেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছাদ ও দেয়ালগুলো সিরামিকের টাইলসের উপর জ্যামিতিক ভাবে দাঁড়ানো। টানেলের উভয় প্রান্ত গভীর অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।
ইশতার দেয়াল থেকে একটুকরো ফাংগাস তুলে প্রবাহের মধ্যে ছুঁড়ে মারল, যা দ্রুত নালার নিচে বয়ে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। এটা একজন মানুষের চেয়ে বেশি গভীর। সে বলল এবং টর্ক রক্ষীদের ক্যাপ্টেনের দিকে তাকাল যেন সে ঐ বক্তব্যটা বিবেচনা করতে চায়।
