এই পায়ে চলার পথ যার উপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি তা পুরো নালা জুড়ে বিস্তৃত। ইশতার ব্যাখ্যা করল। যাজকেরা যারা টানেলটা মেরামত করে তারা দ্রুত চলাচলের জন্যে এটা ব্যবহার করে।
এটা কোথা হতে শুরু এবং এর শেষ কোথায়? টর্ক জানতে চাইল।
নদী তটে একটা নিষ্কাশন কূপ রয়েছে, মন্দিরের স্তম্ভের নিচে, যার মধ্যে দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় সেখানে শুরু এবং নালার শেষ প্রান্তে নিনুরতার আরেক মন্দির যা ব্যাবিলনের দেয়ালের অভ্যন্তরে অবস্থিত নীল ফটকের কাছে শেষ হয়েছে; ইশতার ব্যাখ্যা করল। এক মাত্র যাজকেরাই এই টানেলের খবরটা জানে। অন্যরা বিশ্বাস করে পানিটা প্রভুর একটা দয়া। এটা মন্দিরের পরিসরের ঝর্ণা হতে বের হওয়ার পর পানির তোলার চাকার দ্বারা উঠিয়ে প্রাসাদের বাগানগুলোতে অথবা শহরের প্রতিটি কোয়ার্টারের খালগুলোতে পাঠানো হয়।
আমি বিশ্বাস করি, ইশতার দি মেডি, যে তুমি তোমার তিন লাখ অর্জন করার খুব কাছে। টর্ক আনন্দে হাসল। তোমার জন্য এখন যা শুধু অবশিষ্ট তা হচ্ছে এই খরগোশের গর্ত দিয়ে আমাদের পথ দেখানো এবং শহরের বিস্ময়কর সম্পদ, বিশেষ করে রত্ন ভান্ডারের কাছে নিয়ে যাওয়া।
*
টর্ক যুক্তি দেখাল সে শহরের দেয়ালের ভেতরের নিনুরতার প্রধান মন্দিরের যাজকেরা নিয়মিত নদীর মন্দিরের যাজকদের সাথে যোগাযোগ রাখত।
প্রায় নিশ্চিতভাবে তারা এই নালাকে এ দুই গোত্রের মধ্যে সড়ক হিসেবে ব্যবহার করত। আর এটা আবিষ্কার করতে সময় লাগবে না সে নদীর মন্দিরে তাদের ভ্রাতাগনের খারাপ কিছু হয়েছে। তাকে তার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
টর্ক তার সবচেয়ে ভালো ও বিশ্বস্ত দুইশ লোক বাছাই করল, সবাই তার নিজের সিংহ দলের সদস্য। সে তাদের দুই ভাগে ভাগ করল। যখন তারা শহরের রাস্তায় যুদ্ধ করবে তখন প্রথম দলটা নীল ফটক পাহারায় থাকবে এবং তা খুলে রাখবে যতক্ষণ না এটা দিয়ে ফারাও নাজা কিয়াফানের প্রধান সৈন্য বাহিনী প্রবেশ করতে পারে। দ্বিতীয়টা খুব ছোট দল এর কাজ প্রাসাদে তাদের অবস্থান নেওয়া এবং তারা রত্ন দখল করবে সারগনের তা লুকানোর আগেই। যদি তা বয়ে নিতে এক হাজার ওয়াগনের দরকারও হয়। ইশতার তাকে আশস্ত করল।
বাছাই করা ২০০ জনকে সারগনের আর্মির পোশাক পরানো হল যা বন্দীদের ও যুদ্ধের ময়দানের মৃতদের থেকে নেওয়া। তারা গোড়ালির গাট পর্যন্ত লম্বা ডোরাকাটা কাপড় পড়ল, কোমরে বেল্ট লাগানো এবং লম্বা হেলমেট পরল। ইশতার তাদের দেখাল কি ভাবে দাঁড়িয়ে মেসোপটেমিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী কোমর বাঁকা করতে হবে। তারা তাদের শত্রুদের থেকে নিজেদের আলাদা করতে শুধু মাত্র একটা লাল কাপড়ের একটা ফালি পড়ল। আর্মির অনুলেখকেরা দ্রুত শহরের মানচিত্রের অতিরিক্ত কপি বানাল এবং উভয় ডিভিশনের ক্যাপ্টেনদের তা দিল যাতে তারা রাস্তা ও ভবনের অবস্থান জানতে পারে। সন্ধ্যার মধ্যে তারা সবাই জেনে গেল তাদের কি করতে হবে, একবার শহরে প্রবেশের পর।
অন্ধকার নামতেই নাজা শান্তভাবে তার বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে নীল ফটকের বাইরে অবস্থান নিল, শহরে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত। টর্কের লোকেরা তা খুলে দিলেই তার ভেতরে প্রবেশ করবে।
নিনুরতার নদী মন্দিরের উঠানে টর্ক তার ডিভিশন জমা করল। দিনের আলো থাকতেই সে ও ইশতার তাদেরকে এক সারিতে সিঁড়ি দিয়ে নালার সমতলে পথ দেখাল।
কোন তাড়াহুড়া ছিল না, কারণ তাদের এই ভূগর্ভস্ত যাত্রা শেষ করতে যথেষ্ট সময় হাতে রয়েছে। তাদের কীলক দেওয়া স্যান্ডেলের আওয়াজ চাপ দেওয়া হয়েছে চামড়ার মোজা দিয়ে তাই তাদের ভারি পদক্ষেপ অন্ধকার টানেলে প্রতিধ্বনি তুলল না। তার নিরবে এগিয়ে গেল, প্রতি দশজন একটা করে মশাল নিয়ে। তাদের বাম পাশে পানির অনন্ত প্রবাহ অন্ধকারে কলকল শব্দে বয়ে চলেছে। প্রতি এক হাজার কদম পর পর ইশতার প্রভু নিনুরতাকে উপহার ও মন্ত্র দিয়ে শান্তি করার জন্যে থামলো এবং সামনের পথবে যাদুর বাঁধা-বিঘ্ন থেকে মুক্ত করতে যা মৃত যাজকেরা স্থাপন করেছিল।
তুবও এই নিরব হাঁটাটা টর্কের কাছে কাছে সীমাহীন মনে হলো এবং এটা একটা বিস্ময়ের মতো এল যখন ইশতার হঠাৎ করেই থামল ও সামনে নির্দেশ করল, চকচকে সিরামিকের দেয়াল থেকে আলোর ক্ষীণ প্রতিফলন হল। টর্ক তাকে অনুসরণ করা লোকদের থামার ইশারা করল। তারপর, ইশতারের সামনে আগ বাড়ল। তাদের নিজেদের পোশাকের উপর তারা পাগড়ি ও রক্তে মাখা পোশাক পড়ল যা হত্যা করা যাজকদের শরীর থেকে নেওয়া হয়েছে।
যখন তারা আলোর উৎসের দিকে গেল, তারা আরেকটা গ্রিল ঘেয়া ফটক দেখল এবং একটা বিকৃত ছায়া ফটকের উপরে স্থাপিত মশালের আলো থেকে দেয়ালের উপর পড়েছে। যখন তারা কাছাকাছি গেল তারা দেখল যে গ্রিলের অন্য পাশে দুজন পোশাক পরিহিত যাজক টুলের উপর বসে আছে; তারা বাও খেলায় নিমগ্ন। ইশতার তাদের নরম সুরে ডাকতেই তারা চোখ তুলল। মোটা জন দাঁড়াল এবং ফটকের দিকে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে দেখল।
তুমি সিন্নার কাছ থেকে এসেছো? সে জিজ্ঞেস করল।
হ্যাঁ। ইশতার আশ্বস্ত করতে জবাব দিল।
তুমি দেরি করেছ। আমরা রাত নামা থেকে অপেক্ষা করছি। তোমার এখানে কয়েক ঘণ্টা আগে থাকা উচিত ছিল। প্রধান যাজক, অসন্তুষ্ট হবে।
