টর্ক হাসল এবং খেলার ছলে ইশতারের পিচ্ছিল চোখা দাড়ির এক মুঠো টেনে ধরল। সে তা পাকাল যতোক্ষণ না ব্যথায় তার চেহারা বিকৃত হয়ে গেল এবং তার চোখে পানি এল। তুমি আমার সাথে খেলতে চাও যাদুকর? তুমি তো জানই আমি একটা ভালো খেলা খেলতে কতো ভালোবাসি,তাই না?
দয়া করুন মহান মিশর! ইশতার অনুনয় করল। টর্ক তাকে এতো জোরে ধাক্কা দিল যে সে প্রায় রথের পাদানি থেকে পড়ে যাচ্ছিল এবং নিজেকে স্থির রাখতে ড্যাশবোর্ডের পাশ ধরতে হলো তাকে।
এক বছর, তুমি বললে? দুই? তিন? আমার এখানে বসে থাকার অত সময় নেই এবং ব্যাবিলনে সৌন্দর্য ও বিস্ময়গুলো দেখার আমার তাড়া আছে। ইশতার দি মেডি এবং তুমি জান এর অর্থ কি, তাই না?
আমি জানি, প্রভুর ক্ষমতা অসীম এবং আমি একজন মানুষ ছাড়া কিছুই না। নমনীয় ও গরিব।
গরিব! টর্ক তার চেহারার উপর চিৎকার করল। সেথের কসম, ভন্ড তুমি ইতোমধ্যেই আমার এক লাখ সোনা চোষে নিয়েছ এবং এটার জন্য আমি কি দেখতে পারি?
আপনার একটা শহর ও একটা রাজত্ব আছে। মিশরের পর দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী, আমি যা আপনার পায়ে লুটিয়েছি। সে এখন টর্ককে ভালো করে চেনে, জানে ঠিক কতদূর সে যেতে পারে।
আমি শহরটির চাবি চাই, টর্ক তার চেহারা খেয়াল করল, খুশি হল যা সে ওখানে দেখল। সে ইশতারকে ততোখানিই চেনে যতোখানি যাদুকর তাকে চেনে।
এটা হয়তো একটা সোনার তৈরি চাবি হবে; ইশতার গভীর চিন্তিত ভাব নিয়ে বলল। সম্ভবত তিন লাখ সোনা?
টর্ক হাসির একটা বিশাল বিস্ফোরণ বেরিয়ে যেতে দিল এবং তার মাথা বরাবর বর্ম পরিহিত মুঠি দিয়ে আঘাতের নিশানা করল। এটা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ছিল না এবং ইশতার ওটার নিচে সহজেই মাথা নিচু করল।
তিন লাখ দিয়ে আমি আরেকটা সেনা বাহিনী কিনতে পারি। টর্ক তার মাথা নাড়াল এবং তার দাঁড়ির সুতাগুলো প্রজাপতির মেঘের মতই নাচল।
বন্ধু সারগনের রত্নভান্ডারে একশ লাখ পড়ে আছে। একশ থেকে তিন বাদ, একটা ক্ষুদ্র মূল্য।
তা শোধ করার জন্য আমাকে শহরটা দাও। ইশতার এটা আমাকে তিনটা পূর্ণ চাঁদের মধ্যেই দাও এবং আমি তোমাকে সারগনের ভাণ্ডার থেকে দুই লাখ সোনা দেব। সে ওয়াদা করল।
যদি আমি এটা আপনাকে পরবর্তী পূর্ণ চাঁদের আগেই তা দিই? ইশতার কার্পেট ব্যবসায়ীদের মতো তার হাতগুলো এক সাথে ঘষল।
এই কথায় টর্কের দাঁত বের করা হাসি তার চেহারায় আছড়ে পড়ল এবং সে গম্ভীরভাবে বলল, তাহলে তুমি তোমার তিন লাখ পাবে। একটা সুরক্ষিত ওয়াগনের দল বহরও পাবে তাদের বয়ে নেওয়ার জন্য।
*
দুই ফারাও-এর আর্মিরা নীল ফটকের সামনে জামায়েত হল এবং টর্ট সারগনের কাছে একজন দূত পাঠাল যেন শহরটি তৎক্ষণাৎ আত্মসমর্পণ করে। …এ রকম অসাধারণ শৈল্পিক নিদর্শন আগুন থেকে রক্ষার করতে এবং আপনার লোক ও পরিবার এবং জনগণকে তলোয়ার থেকে। যখন টর্ক কৌতুকপূর্ণভাবে তার চাহিদা ভাষায় প্রকাশ করল জবাবে সারগন একগুয়ে ও অবাধ্যতা দেখিয়ে বার্তা বাহকের ছিন্ন মাথা টর্কের কাছে ফেরত পাঠাল। প্রাথমিক প্রাপ্তি শেষ হওয়ার পর টর্ক ও নাজা দেয়ালগুলোকে একবার প্রদক্ষিণ করল। ব্যাবিলিয়নীদের তাদের পূর্ণ শক্তি ও বীর্য দেখানোর অনুমতি দিল।
ইশতার তখন টর্ক ও নাজার সামনে একটি মানচিত্র এনে রাখল।
এটা তোমার অধিকারে কীভাবে এল? নাজা জানতে চাইল।
বিশ বছর আগে রাজা সারগনের আদেশে আমি শহরটা পর্যবেক্ষণ করি এবং এ মানচিত্রটা আমার নিজ হাতে আঁকি। ইশতার জবাব দিল। অন্য কেউ এতো নিখুঁত ও সুন্দর করে পেতে পারবে না।
যদি সে তা অর্পণ করেছিল তবে কেন তুমি তার সারগনকে দাও নি?
আমি দিয়েছি। ইশতার মাথা ঝাঁকালো।
আমি তাকে নিম্নমানের চিত্রটা দিয়েছিলাম যখন গোপনে আমি আসল কপিটা রেখে দিই আপনারা আজ যা আপনাদের সামনে দেখেছেন। আমি জানতাম কেউ এক দিন আমাকে আরো বেশি দিবে যা সারগন দিয়েছে তার থেকেও অনেক বেশি।
আরো এক ঘণ্টা তারা মানচিত্রটা পর্যবেক্ষণ করল, মাঝে মাঝে গুন গুন করে মন্তব্য করল। কিন্তু বেশির ভাগ সময় চুপ ও নিমগ্ন হয়ে রইল তারা। যুদ্ধের জেনারেল হিসাবে যুদ্ধের ময়দানে বৈশিষ্ট্যের জন্য পেশাদারীত্ব পূর্ণ চোখ দিয়ে তারা দেওয়ালগুলো, টাওয়াগুলো ও দুর্গগুলোর গভীরতা ও শক্তির প্রশংসা করতে সক্ষম হল যেগুলো শব্দাতী জুড়ে এক স্তরের পর আরেক স্তর বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
অবশেষে টর্ক টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াল।
কোন দুর্বলতা নেই যা আমি ভবিষ্যৎ বাণী করতে পারি। যাদুকর! তুমি প্রথম বারের মতো সঠিক। ঐ দেয়াল গুড়ো করে ভেঙে প্রবেশ করতে তিন বছরের কঠিন কাজ। তোমাকে এটার চাইতে ভালো করতে হবে তোমার তিন লাখ অর্জন করতে।
পানি, ইশতার ফিসফিস করে বলল। পানির দিকে দেখুন।
আমি পানির দিকে দেখেছি; নাজা তার দিকে চেয়ে হাসল; কিন্তু তা ছিল একটা সাপের হাসি, ঠাণ্ডা এবং পাতলা ঠোঁটের। খালগুলো শহরের প্রতিটি ভবনে যথেষ্ট পানি সরবরাহ করে, সারগনের ছয়টা ভবনের বাগান বাড়িতেও, যেগুলো আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। শহরটাকে পানি দিচ্ছে একশ বছর ধরে।
ফারাওরা সর্বদর্শী, সর্ব জ্ঞানী। ইশতার তাকে মাথা নিচু করে অভিবাদন জানল, কিন্তু এই পানি কোথা হতে আসে?
বিশাল দুই নদী থেকে। নীলের পর দুনিয়ার সবচেয়ে বিশাল নদী ওগুলো। একটা পানির সরবরাহ যা এই একশ বছরেও ব্যর্থ হয় নি।
