দেয়ালের চূড়া পর্যন্ত একটা রাস্থা আছে। দুটি রথ পাশাপাশি চলার মত যথেষ্ট প্রশস্ত। এক ঘণ্টার মধ্যেই সারগন পাঁচ হাজার সেনাকে এটার যে কোন অবস্থানে দিতে পারে যা একটা দখলদার আর্মির জন্য হুমকি স্বরূপ।
টর্ক বিরক্তে শব্দ করল, বুঝাতে চাইল যে সে আকর্ষিত নয়। যে কোন দেয়ালের দুর্বলতা এবং তার নিচে সুড়ং খনন করা থাকতে পারে। আমাদের দুটোর একটি দরকার।
ভিতরে আরেকটা দেয়াল আছে, মহান ফারাও; ইশতার নরম সুরে বিড় বিড় করল। এটা প্রায় প্রথমটার মতই অভেদ্য।
যদি আমরা সরাসরি যেতে না পারি, আমরা একটা ঘোরা পথ খুঁজে নেব। টর্ক কাঁধ উঠাল। ওগুলো কি সারগনের প্রাসাদের বাগান? সে তার দাড়িতে হাত বুলিয়ে সারিবিদ্ধ ভবনগুলো নির্দেশ করল যেগুলো আকাশে বিশাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা এতো দক্ষভাবে একটা আরেকটার উপর নির্মাণ করেছে যে দূর থেকে মনে হচ্ছে একটা ভাসমান উল্টানো পিরামিড, মনে হয় যেন তারা বিশাল ঈগলের মত ডানা ছড়িয়ে মাটির বন্ধন থেকে মুক্ত।
ইশতার তার সদ্য নীল ট্যাটু লাগানো হাত দিয়ে নির্দেশ করল। পাঁচটা সারিবদ্ধ ভবন আছে এক বিশাল উঠান ঘিরে, প্রতিটা প্রথমটার থেকে চওড়া। আন্দর মহলেরই একা রয়েছে পাঁচ হাজার কক্ষ, প্রতিটি সারগনের একটা করে স্ত্রীর জন্যে। তার রত্নভান্ডার প্রাসাদের নিচে গভীর কক্ষে সমাহিত করা। এটা একটা মানুষের মাথার সমান উচ্চতা করে সোনা দ্বারা প্যাক করা।
তুমি কি ঐ বিস্ময়গুলো তোমার নিজের চোখে দেখেছ? টর্ক তাকে চ্যালেঞ্জ করল।
আন্দর মহল দেখি নি। ইশতার স্বীকার করল, কিন্তু আমি রত্নের প্রধান ভন্টে প্রবেশ করেছিলাম এবং আমি আপনাকে সোজাসুজি বলি, রাজা যিনি একজন প্রভু, তার যা আছে আপনার সব আর্মির পর্যাপ্ত ওয়াগন নেই এতো রত্ন বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এবং আমি তোমাকে সোজাসুজি বলি, ইশতার দি মেডি, যে আমি সব সময় নতুন ওয়াগন তৈরি করতে পারি।
টর্ক তার মাথা পিছনে নিয়ে পশুর মতো উচ্চশব্দে হাসল।
ব্যাবিলনে সৈন্য নিয়ে যাওয়াই একটা দীর্ঘ জয়, বিজয়ের অভঙ্গুর রঞ্জু। তাদের রান এর সাথে সাক্ষাত হয়েছিল, সারগনের বড় ছেলে, বাহর- আল-মিলহ এর তীরে; টর্ক ও নাজার রথগুলোর মাঝামাঝি। তারা তার আর্মিকে তুলার মতো ধূলিসাৎ করে দিয়েছে এবং তাদের হ্রদে নিক্ষেপ করেছে যতোক্ষণ না হ্রদের পানি রক্তে লাল হয়। মরদেহগুলো এক পার থেকে অন্য পার পর্যন্ত ছেয়ে যায়।
তারা রান এর ছিন্ন মস্তক তার পিতার কাছে পাঠিয়েছে একটা বর্শায় গেঁথে। দুঃখে পাগল হয়ে সারগন ফাঁদে পা দিয়েছে যা তারা তার জন্য প্রস্তুত করেছিল তারা। যখন নাজা তাকে সামনে থেকে মোকাবেলা করতে তাকে প্রলুব্ধ করল, টর্ক তখন দক্ষিণ দিক ঘুরে এসেছে, এক হাজার রথ নিয়ে পিছনে। যখন সারগন তাদের মালামালের গাড়ি রক্ষা করতে ঘুরে ফিরল, নিজেকে সে ব্রোঞ্জের চকচকে বৃত্তের মধ্যে পেল।
সারগন কোন মতে পঞ্চাশটি রথ নিয়ে পালাল কিন্তু সে ২০০ রথ ফেলে গিয়েছে এবং এগার হাজার লোক তার পিছনে। টর্ক বন্দিদের খোঁজ করল। যা করতে তার দুদিন সময় লাগল। কিন্তু সে প্রতিটি লোককে বলি দিল, এবং অমার্জিত আনন্দ পেল যখন তার প্রতিটি শিকারের চোখের সামনে তাদের ছিন্ন অঙ্গ ঝুলল। তারপর সে তার শিকারদের রক্তক্ষরণে মরার অনুমতি দিয়েছে, তাদের রক্ত সেথের নামে উৎসর্গকৃত, ক্ষুধার্ত প্রভু যে এরকম নিষ্ঠুরতা ভালোবাসে। টর্ক ছিন্ন পুরস্কারগুলো সারগনকে পাঠাল লবণের প্যাকেট করে একশ সিডার কাঠের সিন্দুকে ভরে। একটা সুকৌশল বিপদ সংকেত, যে যখন টর্ক ও নাজা ব্যাবিলনে আসবে সে কি আশা করতে পারবে।
ব্যাবিলন দুই নদীর মাঝখানে সরু নলাকার ভূমির উপর নির্মিত, ইউফ্রেতিস পশ্চিমে এবং টাইগ্রিস পূর্বে। তুড়িৎ পিছু হঠার কারণে সারগন সেতুগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হল না। যে কোন ক্ষেত্রে ঐ ভারি পুড়ানো ইটের পিলার যেগুলোর উপর তারা নির্মিত ভাঙ্গতে এক সৈন্যবাহিনী লাগবে। সারগনের আর কোন সেনাবাহিনী ছিল না, তার একটা শেষ পদাতিক বাহিনী অবশিষ্ট ছিল কেবল সেতুগুলোকে রক্ষা করার জন্য, কিন্তু তারা মনোবলহীন এবং তাদের রথ ছিল না তাদের। তারা দুই ফারাও এর বিরুদ্ধে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। টর্ক জীবিতদের হাত ও পা বেঁধে তাদের সেতুর কেন্দ্রস্থলের উঁচু স্থান থেকে প্রশস্ত নদীতে ফেলে দিয়েছে এবং মিশরের সৈন্যরা পাচিলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের আপন আনন্দ অনুভব করল যখন তারা ডুবল। এখন ব্যাবিলন তাদের সামনে। এক বছরের একটু বেশি লাগল যখন তারা অ্যাভারিস থেকে যাত্রা শুরু করেছে।
তুমি সুরক্ষাগুলো জান ইশতার। তুমি তাদের নকশা করতে সাহায্য করেছিলে। শহর পতনে কত সময় লাগবে? টর্ক অস্থিরভাবে জিজ্ঞেস করল। আমার কত সময় লাগবে দেয়ালগুলো ভাঙ্গতে।
দেয়ালগুলো অজেয়, মহামান্য। ইশতার বলল।
আমরা দুজনেই জানি এটা সত্য নয়, টর্ক তাকে বলল। যথেষ্ট সময় লোক জন ও সংকল্প থাকলে কোন দেয়াল তৈরি হয় না যা ভাঙ্গতে পারা যায় না।
এক বছর, ইশতার চিন্তিতভাবে বিড়বিড় করল। অথবা দুই বছর, হয়তোবা তিন। কিন্তু তার ট্যাটু খুঁচিত চেহারায় একটা প্রতারণা ভাব রইল এবং তার চোখগুলো ছিল ধূর্ত ও কুটিল।
