হিকস্? সে চিন্তিত স্বরে বলল। ঘোড়ার বিষ্ঠাগুলো এখনও তাজা, মাত্র কিছু দিনের পুরানো। এগুলোর উপরের দিক শুকিয়ে গেছে কিন্তু যখন সে একটা দলা ভাঙ্গল ভেতরটা তখনো নরম খুঁজে পেল।
আমাদের বাহিনীর-ই। টাইটা রথের চলার চিহ্নগুলো চিনতে পারল। সর্বোপরি, অনেক দশক আগে সে-ই প্রথম এই শোক দিয়ে তৈরি চাকার নক্সা তৈরি করেছিল। হঠাৎ সে থামল এবং একটা তামার ছোট্ট পাতলা ব্যাজ মাটি থেকে তুলে নিল যা ড্যাশবোর্ড থেকে পড়েছে এবং নরম মাটিতে অর্ধেক ঢুকে ছিল। আমাদের হালকা যানের ডিভিশন, সম্ভবত ফেট রেজিমেন্টের অংশ। যা লর্ড নাজার কমান্ডের অধীন।
তারা এখানে কি করছিল, নিজেদের বহর থেকে এতো দূরে? নেফার জিজ্ঞেস করল, দ্বিধান্বিত, কিন্তু টাইটা কাঁধ উঁচিয়ে ভঙ্গি করল এবং নিজের অস্বস্তি লুকানোর জন্যে ঘুরে চলে গেল।
বৃদ্ধটি বিশ্রামের জন্যে খুব অল্প সময় নিল এবং সূর্য অনেক উপরে থাকতেই যাত্রা শুরু করল। ক্রমশ বার-আম-মাসার স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং মনে হল তাদের সামনে আকাশের অর্ধেক আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছে। তারা পর্বত শ্রেণীর পাদদেশের পাহাড়ের প্রথম সারির কাছে পৌঁছতেই, টাইটা তার ঘোড়াটা পরীক্ষা করল এবং পিছনে তাকাল। দূরের নড়াচড়া তার মনোযোগ আকর্ষণ করল এবং চোখের উপর হাত রেখে তা দেখার চেষ্টা করল। মরুর নিচে ধুলার বিবর্ণ একটা আস্তর তার নজরে এল। বেশ কিছু সময় নিয়ে সে ওটা পর্যবেক্ষণ করল এবং দেখল ওটা পূর্ব দিকে যাচ্ছে, রেড-সীর দিকে। এটা কোন ওরেক্স-এর পাল অথবা যুদ্ধ রথের সারি হবে। সে নেফারকে খুলে কিছু বলল না যে কিনা রাজকীয় বাজপাখি ধরার জন্যে সামনের পর্বত থেকে চোখ সরাচ্ছে না। টাইটা পা দিয়ে ঘোড়ার পেটে আঘাত করল এবং বালকটির পাশে চলে গেল। ঐ রাতে যখন তারা বার-আম-মাসার এর অর্ধেক পথ গিয়ে ক্যাম্প করল, টাইটা তখন শান্তভাবে বলল, আজ আমরা আগুন জ্বালব না।
কিন্তু খুব ঠাণ্ডা, নেফার প্রতিবাদ করল।
এবং আমরা এখানে এতো উন্মুক্ত যে মরুর দশ ক্রোশ দূর থেকে তা স্পষ্ট দেখা যাবে।
কোন শত্রু? নেফারের ভাব পরিবর্তন হয়ে গেল, সচকিত হয়ে আঁধার নেমে আসা চারপাশে তাকাল। দেশদ্রোহী? বেদুইনদের আক্রমণ?
সব সময়ই শত্রু বিরাজমান, টাইটা তাকে বল। মরার চাইতে ঠাণ্ডা ভালো, মাঝ রাতের পর ঠাণ্ডা বাতাস যখন নেফারকে জাগিয়ে দিল এবং তার ঘোড়া স্টারগেজার পা দাপাল ও ডেকে উঠল, সে তার ভেড়ার চামড়ার কম্বলের নিচ থেকে গড়াগড়ি দিয়ে বের হল এবং তাকে শান্ত করতে গেল। সে দেখল টাইটাও ইতোমধ্যে জেগে গেছে এবং একটু দূরে বসে আছে।
ও দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আদেশ দিল এবং নিচু এলাকার দিকে নির্দেশ করল। দূরে আলোর একটা উজ্জ্বল দীপ্তি দেখা যাচ্ছে। ক্যাম্প ফায়ার, টাইটা বলল।
মনে হয় তারা আমাদের ডিভিশনের একটা অংশ। যারা ঐ দাগগুলো রেখে গেছে যা আমরা কাল দেখেছি।
আসলে তারাই, টাইটা সম্মত হল। কিন্তু তারপরও তারা অন্য লোক হতে পারে।
চিন্তা-মগ্ন অনেক সময় পর নেফার বলল, আমি যথেষ্ট ঘুমিয়েছি। খুব ঠাণ্ডা, যাই হোক। আমাদের আবার উঠতে হবে এবং চলতে হবে। পর্বতের পাদদেশে পৌঁছার আগেই এখানে সকাল হোক তা চাই না।
ঘোড়ার উপর সব তুলে নিয়ে তারা চাঁদের আলোয় বন্য ছাগলের তৈরি একটা রুক্ষ পথ ধরে এগোতে লাগল যা তাদেরকে বার-আম-মাসারার পূর্ব দিকে নিয়ে গেল। ফলে যখন সূর্য উঠে যাবে তখন দূর ক্যাম্পের লোকেরা তাদের দেখতে পাবে না।
সূর্যের দেবতা, আমন-রা এর রথ হিংস্রভাবে পূবে ফেটে পড়ছে এবং পর্বত সোনালি আলোয় ঝলমল করছিল। গিরিখাদটা ছায়ার অন্ধকার এবং আলো আধারির পার্থক্যে আরো গম্ভীর দেখাচ্ছে এবং অনেক নিচে জঙ্গলটা আরো বৃহৎ ও ঘন মনে হল।
নেফার পিছনে তাকাল এবং আনন্দে চিৎকার করে উঠল, দেখ! এবং পর্বত চূড়ার দিকে নির্দেশ করল। টাইটা নির্দেশিত পথে তাকাল এবং দুটো কালো দাগ দেখল, যা একটা বড় বৃত্ত তৈরি করে আকাশের দিকে মুখ তুলে আছে। একটার উপর সূর্যালোক পড়ছিল ফলে ওটাকে মনে হচ্ছিল যেন একটা ছুটন্ত তারা।
রাজকীয় বাজ পাখি, টাইটা হাসল।এক জোড়া পাখি। তারা ঘোড়া থেকে সব নামাল এবং এমন একটা জায়গা খুঁজে বের করল যেখান থেকে পাখি দুটোর উপর চোখ রাখা যায়। এতোদূর থেকেও তাদের খুব সুন্দর দেখাল যা-নেফার বর্ণনা করতে পারল না। হঠাৎ করে ছোট পুরুষ পাখিটা বাতাসের বিপরীতে উড়তে লাগল, যেন তার অলস ডানায় হিংস্রতা ভর করেছে।
সে দেখে ফেলেছে, নেফার চিৎকার করে উঠল, একজন প্রকৃত বাজ শিকারীর ন্যায়। ওটাকে এখন দেখ।
এটা যখন নামতে শুরু করল তখন এর গতি এতো দ্রুত হল যে মুহূর্তের জন্যে শিকারটা লক্ষ্যভ্রষ্ঠ হবার নয়। বাজটা একটা বর্শার মতো আকাশ থেকে নেমে এল। একটা পায়রা পাহাড়ের পাদদেশে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। দূর থেকেই নেফার বুঝতে পারল পাখিটা অনাগত বিপদের আভাস পেয়েছে এবং বাজটাকে এড়ানোর চেষ্টা করল। ওটা প্রায় গড়াগড়ি দিয়ে পাগলের মতো উড়ে ভয়ংকর ভাবে নিরাপদ স্থান পাথরটার নিচে যাওয়ার চেষ্টা করল। এক মুহূর্তের জন্যে তার পেটটা বেড়িয়ে ছিল। বাজটা তার থাকু ঐ স্থানটায় ঢুকিয়ে দিল এবং মনে হল বড় পাখিটা রক্তিম ও নীল ধূয়া ছড়িয়ে সব শেষ করে দিল। কবুতরের পালকগুলো সকালের বাতাসে দীর্ঘ মেঘ হয়ে ভেসে চলল এবং বাজটা তার শিকার নিয়ে গিরিখাদের দিকে উড়ে চলে গেল। নেফার যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তার কিছু দূরে খুনীটা তার শিকার সহ এসে বসল। তাদের পতনের আওয়াজ পর্বতের গায়ে প্রতিধ্বনি তুলল এবং গিরিখাদে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
