তাদের দিকে দেখো না; টাইটা তাকে আদেশ দিল। তাদের নিয়ে ভেবো। শুধু তোমার লক্ষ্য সম্পর্কে চিন্তা কর। নেফার অগ্রসরামান যানের সারির দিকে পিঠ ফেরালো এবং ধনুক তুলে নিল। টান এবং ধরে রাখ। টাইটা বলল। বাতাস আকস্মিক বেগে ধাবিত হল এবং পড়ে গেল। তীরটা নির্ভুলভাবে খাদের উপর দিয়ে চলল এবং চতুর্থ মূত্রথলি বিস্ফোরিত হল।
নেফার খাপ থেকে অন্য একটা তীর টেনে নিল, তারপর সে তার হাতে নিয়ে থামল এবং তার হৃদয়ে হতাশা অনুভব করল। মরুভূমি থেকে একটা ধুলোর দৈত্য ঘুরতে ঘুরতে লক্ষ্যের সারির উপর এল। পিঙ্গল বর্ণে ধুলার পর্দা এবং বালি ও ধ্বংসাবশেষ দূরত্ব আচ্ছন্ন করে দিল এবং তার গভীরতায় একমাত্র অবশিষ্ট মূত্রথলিটা অদৃশ্য হয়ে গেল।
তাদের পিছনে পাহাড়ে উঁচুতে ধাওয়াকারী রথীরা জয়ে চিৎকার করল এবং ঘূর্ণয়মান বাতাসের গর্জন ছাপিয়ে নেফার ডায়ামিওসের কণ্ঠ শুনল, এবার তোমাকে দাঁড়াতে হবে এবং আমার সাথে লড়াই করতে হবে, নেফার সেটি।
তোমার সমাপ্তি হওয়ার পূর্বে আর একটা লক্ষ্য; সোক্কো, আম্পায়ার, কঠোর ভাবে চিৎকার করল।তোমার স্থানে দাঁড়াও।
ওখানে কোন লক্ষ্য সেই, নেফার প্রতিবাদ করল।
নামহীন প্রভুর ইচ্ছা, সোক্কো তাকে বলল, তোমাকে অবশ্যই তার কাছে সম্পর্কিত হতে হবে।
ওখানে? টাইটা চিৎকার করল। আরো অধিক মহান ও শক্তিশালী দেবীর প্রতীয়মান ইচ্ছা আছে। সে গভীর সংকীর্ণ উপত্যকার হলুদ ধুলার অভেদ্য মেঘ নির্দেশ করল।
ঘোলাটে হ্রদের গম্ভীর হতে ভেসে ওটা ছিপির মতো, মূত্রথলিটা তার ভাঙা সুতা নিয়ে এটার নিচে নড়াচড়া করে ধুলার মেঝের শীর্ষে উঠল এবং গরম বাতাসে দ্রুত নড়াচড়া করল।
এবার দেবী লসট্রিসের নামে। টাইটা নেফারকে উৎসাহ দিল। সে-ই একমাত্র একজন যে তোমাকে এখন সাহায্য করতে পারে।
দেবীর নামে! নেফার চিৎকার করল, বিশাল ধনুকটা উপরে তুলে ঝড়ের বন্য আলিঙ্গনের ক্ষুদ্র বেলুটার লক্ষ্যে সে তীর ছুড়ল। উপরে ও আরো উপরে তীরটা উঠল এবং মনে হলো বুঝি এটা বাম দিক দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে, কিন্তু হঠাৎ মূত্রথলিটা নড়ে উঠল এবং তীরটির সাথে সাক্ষাত করতে ডুব দিল। রেজারের মতো ধারালো পাতলা তীরের মাথা এটাকে ভাগ করে খুলে দিল, ওটা বিস্ফোরিত হল এবং কাপড়ের টুকরার মতো বাতাসে ভেসে গেল।
আপনি বিজিত! সোক্কো তাদের চিৎকার করে ছেড়ে দিল। নেফার ধুনকটা ফেলে দিল এবং রথের দিকে দৌড় দিল, ম্যারনও তার পিছনে দৌড় দিল, তার আহত পাঁজর সামাল নিয়ে এবং জনতা উৎসাহ দিল যখন ডোভ ও ক্রুস একসাথে লাফিয়ে আগে বাড়ল। তাদের পিছনে ধাওয়াকারীদের চিৎকার হতাশ ও রাগান্বিত। কিন্তু নেফার পিছন ফিরে তাকাল না।
এক হাজার কদম সামনে ঝুলন্ত সেতুটা পর্বত থেকে পর্বতে ছড়িয়ে আছে, নিচে ভয়ংকর খাদ, কিন্তু ওটাতে পৌঁছার আগে তাদের আগুন অতিক্রম করতে হবে।
*
শাবাকো ছিল সেতু পারাপারের আম্পায়ার। ঘোড়ার পিঠে করে সে বল্লমের পরীক্ষা থেকে দৌড়ে এখানে এসেছে। এখন সে তার পরবর্তী অবস্থান সেতুতে নিয়েছে। এটা হল সমগ্র রেড রোডের সবচেয়ে কঠিন ধাপ।
শিক্ষানবীশদের এখানে একটা পছন্দ থাকে। তারা সেতুতে পৌঁছাতে আগুনের দেয়াল এড়িয়ে যেতে পারে। পরিবর্তে তাদের দীর্ঘ ঘুরে যেতে হবে এবং আরো নিচে উপত্যকা পেরোতে হবে যেখানে পর্বত সুন্দর ভাবে দূরে চলে গিয়েছে। যাই হোক, এটা কোর্সে প্রায় দুই ক্রোশ যোগ করে।
শাবাকো সেতুর মাথায় দাঁড়িয়ে নেফারের রথটাকে ধনুক পরীক্ষা স্থল ত্যাগ করতে দেখল এবং পিছনে খুব কাছে ধাওয়াকারীরা দৌড়ে প্রপাতের কিনারা দিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে।
শাবাকোর সহানুভূতি তার ফারাও এর সাথে। যাই হোক, রেড গডের প্রতি তার আনুগত্যতা তার চেয়ে বেশি জোরালো। যদিও সে তার পুরো হৃদয় দিয়ে নেফারকে বিজিত দেখতে চায়, তবুও তাকে সহানুভূতি দেখানোর সাহস সে করে না। তা তার পবিত্র শপথের বিরুদ্ধে যাবে এবং তার অমর আত্মাকে বিপদে ফেলবে।
সে বেড়াটা বিবেচনা করল। এর দৈর্ঘ্য বরাবর শাবাকোর লোকেরা গুটিসুটি মেরে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে অবস্থান করছে। বেড়াটা একজন লোকের দ্বিগুণ লম্বা এবং শুকনো ঘাসের বান্ডিল দিয়ে তৈরি যা এই গরম, শুষ্ক বাতাসে দাহ্য পদার্থের মতো জ্বলে উঠবে। বেড়াটা অর্ধবৃত্তাকারে নির্মিত; প্রত্যেক প্রান্ত পর্বতের কিনার পর্যন্ত গাথা, যা তার বাহুতে সেতুটা ধরে আছে, এবং ঘুরে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। সেতুর মাথায় পৌঁছাতে শিক্ষানবীশদের অবশ্যই তা ভেঙে যেতে হবে।
শাবাকো অনিচ্ছুক ভাবে চিৎকার করে আগুন লাগানোর আদেশ দিল। মশালবাহীরা এর দৈর্ঘ্য ধরে দৌড় দিল, বেড়ার তলদেশে আগুন ধরিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে তা জ্বলে উঠল। লালচে শিখা ও কালো ধোঁয়ায় ওটা হয়ে উঠল ভয়ংকর রক্তিম এক দেয়াল।
নেফার তাদের সামনে আগুনের দেয়াল উঠতে দেখল। যদিও সে তা আগে থেকে জানত তবুও এখন তার স্পৃহা ভয় পেয়ে কমে গেল এবং সে ঘোড়াগুলোর জন্য ভয় পেল কারণ তারা ইতোমধ্যেই অনেক পরিশ্রম করেছে। সে ক্রুসের কান খেয়াল করল এবং ওগুলোকে সতর্কতার সাথে সামনে পিছনে করতে দেখল যখন প্রাণীটা ধোঁয়ার গন্ধ পেল ও আগুনের শিখা জ্বলতে দেখল এবং বাতাসে তা উঠতে দেখল।
