তাদের মধ্যকার বিশাল উন্মুক্ত খাদ সঠিকভাবে দূরত্ব পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব করে তুলল এবং পশ্চিমা ঘূর্ণবাতাস বৃত্তাকারে পর্বতে বয়ে গেলে। খাদের এপাশে বাতাসের ধাক্কা ও দিক তারা যা অনুভব করল তা অন্যপাশ থেকে ভিন্ন হবে। যাই হোক এটা তীরগুলোকে ততোটাই আক্রমণ করবে যতোটা লক্ষ্যগুলোকেও করছে।
দূরত্ব কত হবে, বৃদ্ধ পিতা? নেফার জিজ্ঞেস করল, খাপ থেকে একটা দীর্ঘ। তীর পছন্দ করতে করতে। ঐ সকালের প্রথমে টাইটা এই খাদের কিনার বরাবর সমকোণবিশিষ্ট ত্রিভুজের একপাশ পরিমাপ করেছে। তারপর সে অন্য পাশের লক্ষ্যের কোণটা মেপেছে একটা ভূতুড়ে আয়োজন করে। তারের একটা বোর্ডের উপর সে এসব পরিমাপ এমনভাবে ব্যবহার করেছে যা নেফারের কাছে অবোধ্য, খাদ পেরিয়ে দূরত্ব পরিমাপ করতে।
একশত পঞ্চাশ কিউবিট, টাইটা তাকে এখন বলল। নেফার এই তথ্য তার নিজের বাতাসের গতি ও দিকের হিসাবের সাথে যোগ করল এবং সে তার অবস্থান পর্বতের ভাঙা কিনারে নিল। ম্যারন তার হাতে হালকা সৈনিকের ধনুকটা নিয়ে তার পাশে দাঁড়াল।
হুরাস ও দেবীর নামে, নেফার প্রার্থনা করল, চল আমরা শুরু করি। তারা একই সাথে তীর ছুঁড়ল।
নেফারের তীর মঞ্চের আড়াআড়ি কাঠের উপর দিয়ে পড়ল, অনেক দীর্ঘ ও উঁচুতে। ম্যারনের তীর বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কোণে উঠল লক্ষ্যের দূর দিয়ে। যখন এটা উচ্চতার শীর্ষে পৌঁছে ধীর হলো, বাতাস তখন এটার নিয়ন্ত্রণ নিল এবং ওটা বামে সরে গেল, প্রায় এটা দূরত্বের সীমায় ঝুলন্ত ওঠানামা করা শূকরের মূত্রথলে সারির দিকে পড়ল, মাঝের লক্ষ্যে পরিষ্কার আঘাত করল এবং তারা ফট আওয়াজ শুনল যখন তা বিস্ফোরিত হল এবং যাদুর এক ঘাতের মতোই অদৃশ্য হয়ে গেল।
দর্শকদের মধ্য থেকে একটা অনন্দের চিৎকার এল এবং আম্পায়ার উচ্চ কণ্ঠে তা বলল, কিন্তু ম্যারন বিড়বিড় করল যখন সে অন্য একটা তীর নিল। ওটা সৌভাগ্য ছিল।
আমি যে কোন সৌভাগ্য নিব যা তোমার খাপে আছে। নেফার বলল, বাক হার!, ভ্রাতা, বাক-হার!
তারা আবার নিক্ষেপ করল, এবার ম্যারনের তীর আগেই পড়েই গেল, পর্বতের পাথরে লেগে ঝনঝন শব্দ করল। নেফারেরটা মূত্রথলিটির ডান দিকে ১/২ কিউবিট দূর দিয়ে এড়িয়ে গেল এবং বাতাসের জন্য সেথকে অভিশাপ দিল যা সে পাঠিয়েছে। বল্লমের ন্যায় রেড রোড়ের নিয়ম তীরের সংখ্যার উপর কোন নিয়ন্ত্রণ দেয়নি, শুধুমাত্র শর্ত ছিল যে তাদের ওগুলো রথে বহন করতে হবে শুরু থেকে, এটা ওজন ও সংখ্যার মধ্যকার হিসাব। তারা প্রত্যেকে পঞ্চাশটা করে তীর এনেছে। কিন্তু ম্যারনের তীর থেকে নেফারের প্রতিটি তীর লম্বা, অর্ধেক বেশি ওজন।
তারা ছাড়ল এবং ভুল করল; আবার ছাড়ল এবং আবার ভুল করল। টাইটা বাতাস ও প্রত্যেক তীরের উড্ডয়ন দেখল। সে তার সব শক্তি তার চারপাশে জমা করল ঘাতক বাতাসের শক্তি ও তেজ অনুভব করার জন্য। সে প্রায় তা দেখতে পারল, এটার প্রবাহ ও শক্তি পানির পরিষ্কার ঝর্ণার স্রোতের মতো।
লক্ষ্যের একই স্থানে ধরে রাখ? সে নেফারকে আদেশ দিল। কিন্তু আমার নির্দেশের অপেক্ষা করো।
নেফার পুরো শক্তিতে গুণ টেনে ধরল এবং তার ডান হাতের প্রতিটি মাংসপেশী কাঁপল করতে যা সে ধরে আছে।
টাইটা বাতাস পরখ করল ও তার অংশ হয়ে গেল, তার নিজের সত্তার গভীরে তা অনুভব করল। এখন! সে ফিসফিস করে বলল এবং তীরটা খাদের উপরে উঁচুতে লাফিয়ে ছুটে গেল এবং বাতাসে একটু দুলল। তারপর উঁচুতে থাকা বাজপাখির মতো মনে হল যখন এটা নিজেকে একত্রিত করল এবং লক্ষ্যের দিকে ঝুঁকল। মূত্রথলি ফট করে উঠল যখন এটা তা আঘাত করল এবং জনতা গর্জে উঠল। পরের টা! টাইটা আদেশ দিল এবং নেফার টানল তার বাহু উঁচু করে এবং দ্বিতীয় মূত্রথলির ডান দিক বরাবর।
এবার। টাইটা ফিসফিস্ করে বলল। মনে হল বৃদ্ধ মানুষটি তার মনের শক্তি দিয়ে তীরটার গতি নিয়ন্ত্রণ করছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে আঘাত করার পূর্বে পশ্চিমা বাতাস বিদ্বেষ পূর্ণভাবে ওটাকে একপাশে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু তীরটা লাইন বজায় রাখল এবং মূত্রথলি বিস্ফোরিত হল তীক্ষ্ম কাটার আওয়াজ করে।
পরেরটা লাগাও! টাইটা ফিসফিসাল, ধরে রাখ! এবং একটুর জন্যে এখন এইবার তীরটা প্রায় মূত্র থলিটা স্পর্শ করে ফেলেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলটা একপাশে লাফিয়ে সরে যায়। নেফার আবার টাইটার নির্দেশে তীর ছুড়ল এবং একটা তীরের সমান দীর্ঘ উঁচু দিয়ে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হল এবং চলে গেল। বিশাল ধনুকটাকে নিয়ে কাজের ক্লান্তি খুব বেশি, তার ডান হাত ব্যথা করছে এবং পেশী আপনা আপনি সংকুচিত হচ্ছে ও লাফাচ্ছে।
বিশ্রাম নাও? টাইটা আদেশ দিল। লসট্রিসের কবজটা তোমার ডান হাতে নাও এবং বিশ্রাম কর।
নেফার ধনুকটা এক পাশে রেখে মাথা প্রার্থনার ভঙ্গিতে নত করে দাঁড়িয়ে রইল, সোনার মাদুলিটা ডান হাতে নিয়ে। সে অনুভব করল শক্তি তার ধনুক নিক্ষেপের হাতে ফিরে আসতে শুরু করেছে। ম্যারন এখনো ছোট ধনুক দিকে চেষ্টা করছে কিন্তু তার কাটা পাজরের ব্যথা তার উপর প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কষ্ট দিচ্ছে এবং যন্ত্রণার ঘাম তার বিবর্ণ মুখ বেয়ে পড়ছিল।
ঐ সময় পর্বতের চূড়ার লোকজন নড়ে উঠল ও ঘুরে গেল এবং উঁচু সমতলে ফিরে তাকাল। কেউ একজন চিৎকার করল, তারা আসছে এবং চিৎকারটা জনতা তুলে নিল, যতোক্ষণ না চিৎকার কানে তালা লাগিয়ে দিল। নেফার তার মাথা তুলে আকাশের সীমায় প্রথম রথটা দেখল। লাগাম ধরা ডায়ামিওসকে চেনার জন্য এটা যথেষ্ট কাছে ছিল; তার সোনালি চুল বাতাসে পিছনে উড়ছে। তার পিছনে সারি ধরে ধাওয়াকারীদের অন্য রথগুলোও এল। ক্ষীণভাবে সে চালকদের ঘোড়াগুলোর উদ্দেশ্যে চিৎকার করতে শুনল এবং রুক্ষ ভূমিতে চাকার ঘড় ঘড়ানি শব্দটাও।
