ভিড়ের কেউ কখনো শূন্য মুঠি অস্ত্র রূপে ব্যবহৃত হতে দেখে নি। তারা বিস্ময়ে চিৎকার দিল। এমনকি ফলাফলে নেফারও হতভম্ব, কারণ সিগাসা একটুও
নড়ে পড়ে আছে। নেফার মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিল এবং আম্পায়ারদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করল, সিগাসা বৃত্ত ত্যাগ করেছে। সে অবশ্যই বাজেয়াপ্ত।
আম্পায়ার চিৎকার করে তার সম্মতি জানাল, নেফার সেটি বিজয়ী! সিগাসা প্রতিদ্বন্দ্বীতার অধিকার হারিয়েছে। আপনি বিজয়ী নেফার সেটি!
নেফার দৌড়ে ম্যারনের কাছে গেল এবং তাকে টেনে দাঁড় করাল। তুমি কি ব্যথা পেয়েছ?
আমার পাঁজর! শূয়রটা ষাঁড়ের মতো আঘাত করেছে। সে বিতৃষ্ণা প্রকাশ করল।
আমাদের যেতে হবে।
হ্যাঁ, অবশ্যই। ম্যারন সোজা হলে এবং কাঁধ ঘুরালো। ব্যাথায় তার মুখটা ছাই এর ন্যায় ধূসর হয়ে আছে। এটা কিছু না। কিন্তু সে তার বুকের পাশ চেপে ধরল যখন তারা দৌড়ে রথে ফিরল। তারা তাদের স্কার্ট এবং চামড়ার বর্ম পরিধান করল দ্রুত।
অনেক সময় লেগে গেছে। আমরা প্রতি সেকেন্ডে ভূমি হারাচ্ছি। যখন তারা হামাগুড়ি দিয়ে রথের পাদানিতে উঠল তখন তারা উভয়ে পিছনে পাহাড়ের খাদ্যের সমতলের নিচে অবস্থান করছিল। বল্লমের মাঠের দিকে সমতলে তারা পিছনে তাকাল। ঐ যে তারা! ম্যারন বিতৃষ্ণার আওয়াজ করল এবং সূর্যালোতে ধুলার মেঘটা বিপদজনক ধূসর ও রহস্যজনক হয়ে উঠল। উড়ন্ত ধুলার নিচে ধাওয়া করা যানগুলো এখনো কালো বিন্দুর মতো, কিন্তু মনে হলো আকারে বাড়ছে।
বলার কিছু ছিল না। ধাওয়াকারীরা কুস্তিগিরদের সাথে লড়বে না। তারা সোজাসুজি পাথরের বৃত্ত পেরিয়ে যাবে। নেফার ও ম্যারন জানত তাদের এগিয়ে থাকা কতটা প্রয়োজন এবং কত দ্রুত তারা এ হোট সুবিধাটা হারাতে পারে। এখন শুধুমাত্র একটা ভুল পদক্ষেপ অথবা ভুল হিসাব সব পাল্টে দিতে পারে।
নেফার লাগাম ঝাঁকি দিল এবং তা দলের উদ্দেশ্যে হাক দিল। ডোভ ও ক্রুস বিশ্রাম নিয়েছে যখন তারা কুস্তি লড়ছিল। এখন তারা সতেজ, তারা বেঁকে গতি তুলল। সামনে পতাকার সারি কোর্স নির্দেশ করছে যা দক্ষিণে বিশাল বাঁক নিয়ে ফিরে গেছে সে দিকে যে দিক থেকে তারা এসেছে।
অর্ধ রাস্তা দিয়ে। ম্যারন আনন্দ প্রকাশ করার চেষ্টা করল কিন্তু তার কণ্ঠ তারা কাঁটা পাজরের ব্যাথায় শক্ত এবং প্রতিটি শ্বাস সে টানছিল ব্যথিত হয়ে। তারা মালভূমি পেরিয়ে অন্য পাশে পৌঁছে গেল সেখানে খাদের কিনারে সমতলগুলো বিশাল পদক্ষেপে তাদের পিছনে পড়তে লাগল। তারা সেচ ভূমির ছোট মাঠ ও ভূমির দিকে নিচে তাকাল, অবাক করা সবুজের বিপরীতে গিরিমাটি ও পিঙ্গল বর্ণ চারপাশের ভূমির এবং গালালার টাওয়ার ও ছাদগুলো এতো ভগ্ন ও মেটো রঙের যে এই দূরত্ব থেকে তাদের মানুষের তৈরি মনে হল না বরং মরুর প্রাকৃতিক দৃশ্য মনে হল।
তারা সামনে দেখল, খাদটা তাদের দিকে দৈত্যের মতো চেয়ে আছে। এটার ঢাল খাড়া এবং অপরিমেয়, ছায়ান্বিত লাল গভীরে পতিত। রাস্তায় ছোট এক দল দর্শনার্থী ছিল যারা পর্বতের চূড়ার প্রান্ত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। এরা হলো সেই দর্শক যারা বল্লমের পরীক্ষা দেখেছে এবং তারা সংক্ষিপ্ত রাস্তা নিয়ে তীরের পরীক্ষা দেখার জন্য তাড়াহুড়ো করছে।
নেফার শক্ত হাতে রথটা চালিয়ে সমতল থেকে নামছিল ঘোড়াগুলোকে তাদের সর্বোচ্চ গতিতে তুলে, ধাওয়াকারীদের থেকে এমনকি কয়েক গজ এগিয়ে জিত ফিরে পাবার চেষ্টা করছে। এটা হল সেই স্থান যেখানে ক্রুস তারা বল্লম পরীক্ষায় তার ভুলের ক্ষতি পূরণ করেছিল। তার বিশাল শক্তি তাদের দ্রুত চালিত করল এবং তার পাশে ডোভকে নতুন হৃদয় দিল। তারা খাদের নিকট পৌঁছে কিনার ধরে দৌড়াল। যদিও কুস এটার পাশে ছিল তুবও সে কখনোই তার পদক্ষেপ ভাঙ্গল না বরং তার মন প্রাণ দিয়ে দৌড়াল। নেফার তার প্রাণ শক্তিটা উঁচুতে উঠতে অনুভব করল।
আমরা এখনো তাদের সেতু পর্যন্ত পিছনে রাখতে পারব। সে বাতাসে চিৎকার করল, চল, কুস! চল, ডোভ।
নেফার সামনে দেখল এবং টাইটার লম্বা, নির্ভুল অবয়বটাকে কিনারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেল। সে খাদ পেরিয়ে ধনুকের লক্ষ্যের দিকে অন্য পাশটা দেখছে এবং সে ঘুরে দেখল না যখন তারা তার পিছনে থামল এবং রথ থেকে লাফিয়ে নামল।
গত সন্ধ্যায় টাইটা ভবিষ্যত্বাণী করেছিল। পশ্চিমের বায়ু প্রবাহ, ধনুক ও খাদ। অতিক্রম ফলাফল নির্ণয় করবে। আমি তোমাদের জন্য ওখানে অপেক্ষা করব।
তারা তাক থেকে ধনুক ও তীরের খাপ নামল এবং ঘোড়াগুলো অপেক্ষারত সাহসীদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে টাইটার সাথে মিলিত হতে দৌড়ে পর্বতের কিনারে গেল।
বল্লম খেলায় আমরা সময় নষ্ট করেছি, নেফার গম্ভীরভাবে তাকে বলল বিশাল যুদ্ধ ধনুকে তীরটা লাগাতে লাগাতে।
কুস খুব ব্যাকুল ছিল, টাইটা বলল, এবং তাই তুমিও। কিন্তু পিছনে দেখে কোন লাভ নেই। সামনে দেখ! সে গভীর খাদের উপর দিয়ে নির্দেশ করল যেখানে লক্ষ্যগুলো একটা হালকা বাঁশের মঞ্চের উপর ঝুলানো।
বল্লম পরীক্ষার মতো, এখানেও পাঁচটা লক্ষ্য। ওগুলো শুকরের ফোলানো মূত্র থলি। প্রত্যেকটা আড়াআড়িভাবে ভারে পাকানো সুতায় ঝুলানো। ওগুলো আলাদা করে ঝুলানো যাতে একটা তীর একটাকেই লক্ষ্যভেদ করে ও অন্যটিকে ভাগ্যক্রমে আঘাত না করতে পারে। সুতাটা যা তাদের ধরে রেখেছিল তা দুই কিউবিট লম্বা যাতে তাদের নড়াচড়ার সুযোগ থাকে। বাতাসের মতই হালকা তারা পশ্চিম বাতাসে নাচল, অপ্রত্যাশিত ভাবে দ্রুত ওঠানামা ও উপর নিচ করছে।
