পোলিওস তার পূর্ণ ওজন নিয়ে তার উপর নেমে এল, কিন্তু নেফার তার পিঠের নিচ দিয়ে পিছলে গেল এবং ডান হাত দিয়ে পোলিওসের হাঁটু জড়িয়ে ধরল, টাইটা তার ডান বৃদ্ধাঙ্গুলটা শক্ত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করেছে–চামড়ার বল পিষত যতোক্ষণ না তা উপরের স্তরে কোন গভীর দাগ না ছাড়ত। এমনকি তারপরও টাইটা সম্ভষ্ট হত না। সে নেফারকে এই অনুশীলন করতে বাধ্য করত যতোক্ষণ না সে বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনীর মধ্যে একটা কড়ি গুড়ো করতে পারত। তারপর সব সময় টাইটা হাঁটুর টুপির নিচে ঠিক স্থানটা স্পষ্ট করেছে যেখানে আঘাতটা আছে এবং চাপের মাধ্যমে তাকে তা পৃথক করতে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। নেফার এবার তা পেল এবং তার বৃদ্ধাঙ্গুল ঢিবির মাথা ও অমিলিত হাঁটুর টুপির মধ্যকার ক্ষতে ঢুকিয়ে দিল।
নেফারের ডান হাতের প্রতিটি মাংসপেশী দাঁড়িয়ে গেল কসরতে এবং চোখগুলো মনে হল কোঠর থেকে বেড়িয়ে যাবে। তারপর হঠাৎ সে তার বৃদ্ধাঙ্গুলের ডগার নিচে কিছু অনুভব করল এবং শেষ একবার চেষ্টা করল। তার বৃদ্ধাঙ্গুল আরো গভীরে ঢুকল, দুর্বল উপলব্ধি এবং পেশীতন্তু ক্যাচ ক্যাচ করল এবং কট করে শব্দ হলো যখন তারা ছিঁড়ে গেল, হাঁটুর টুপিটা নেফারে মুঠিতে উঠে এল বিচ্ছিন্ন হয়ে।
পোলিওস আর্তনাদ করে উঠল, এমন চরম যন্ত্রণার শব্দ করল যে তা দর্শকের চিৎকার পর্যন্ত থামিয়ে দিল, যারা বৃদ্ধের কিনারে ভিড় করেছিল। পোলিওস তার নিজের মুঠি ছেড়ে দিল এবং নেফারকে তার কাছ থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু নেফার গড়িয়ে তার আঘাত এড়িয়ে গেল খুব সহজেই।
হঠাৎ, শিশুর মতো করুণ ও অসহায় হয়ে পোলিওস ফুঁপিয়ে উঠল এবং কুঁকড়ে গেল ব্যথায়। নেফার তার উপর উঠে তার চেহারাটা মাটির দিকে চেপে ধরল। সে তার বাম পা-টা প্যাচিয়ে তার পিছনে তুলল এবং পোলিওস বাঁধা দিতে পারল না। নেফার ভাঙ্গা হাঁটু পিছনে বাকাল যতোক্ষণ না গোড়ালিটা পোলিওসের নিতম্ব স্পর্শ করল এবং তার সব ভর ওটার উপর ছেড়ে দিল। পোলিওস যে ভয়ংকর চিৎকারটা দিল তা কোন মানুষের ছিল না।
আর্তনাদ কর! নেফার আদেশ দিল, কিন্তু পোলিওস ব্যাথায় বোকা হয়ে গেল এবং অবশ হয়ে গেছে। আম্পায়ার নেফারের কাধ স্পর্শ করার জন্য এগিয়ে এল এবং তার জয় নির্দেশ করল।
নেফার লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল এবং পোলিওসকে আর্তনাদ করতে ছেড়ে গেল। তার সামনের দর্শকেরা নিরবে ভাগ হয়ে গেল, তার জয়ের দ্রুততা ও সম্পূর্ণতায় তারা বিস্মিত। নেফার শুনল জনতার কেউ বলছে, সে তার ঐ পা দিয়ে আর কখনো হাঁটতে পারবে না। কিন্তু সে পিছু দেখল না যখন সে অন্য বৃত্তের দিকে দৌড়ে গেল এবং ধাক্কা দিয়ে লোকদের সরিয়ে তার পথ করল যারা ওখানে ভিড় করছিল।
ম্যারন ও সিগাসা–কুমিরটি, বুকে বুকে চেপে আছে। তারা বৃত্তের ভেতরে গড়াগড়ি খেল, প্রথমে একজনের উপর একজন, পরে অন্য জন। নেফার এক নজরে দেখল ম্যারন আঘাতপ্রাপ্ত। সিগাসার রোগান্বিত ত্বক পুরু ও কন্টকময়, ব্যাথার জন্য অভেদ্য এবং সে এখন তা অস্ত্রের মতোই ব্যবহার করছে, নিজেকে তার সাথে ঘর্ষণ করে। ম্যারনের মাংস তা ছিঁড়ে ফেলল, তার বুক ও বাহু থেকে রক্ত ঝরছে। টাইটা তাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছিল, কিন্তু তার অস্বস্তিকর আলিঙ্গনটা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল এবং ম্যারন ছিল আক্রান্ত। নেফার একেবারে ঠিক সময়ে পৌঁছেছে।
রেড রোডের নিয়ম ইচ্ছে করেই শিক্ষানবীশদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। যাই হোক, তারা একজন শিক্ষানবীশকে অন্য জনের সাহায্যে আসার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র তখন যখন সে তার নিজেকে প্রতিপক্ষকে হারাতে পারবে তার পর। এটা হল কয়েকটা সুযোগের একটা যা তারা পেয়েছে। নেফার এর পূর্ণ সুযোগ নিল। যে মুহূর্তে সে বৃত্তে ছিল নেফার থেমে গেল এবং একটা সাদা পাথর তুলে নিল যা একটা পায়রার ডিমের আকৃতির। ম্যারনকে সাহায্য করতে দৌড়ে যাবার মুহূর্তে সে পাথরটা তার তালুর কেন্দ্র স্থলে স্থাপন করল, আঙ্গুলগুলো দিয়ে মুঠো করে ধরল এবং এতে দৃঢ়ভাবে ধরল যে তার আঙ্গুলের গাঁটগুলো পর্যন্ত চাপে সাদা হয়ে গেল। সে তার মুঠকে অস্ত্রে রূপান্তরিত করল মিস্ত্রির হাতুড়ির মতই যা কার্যকর এখন।
জনতা কুমিরের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে সতর্ক করল এবং ম্যারনকে ছেড়ে দিয়ে সে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। সে নেফারের দিকে এগিয়ে এল মাথা নিচু করে। টাইটা তাদের সতর্ক করেছিল যে তার টাক ও গোল খুলিটা দুরমুজের মতই ভয়ংকর। সিগাসা ইতোমধ্যে ম্যারনের দুটো পাজরে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে তার প্রথম আক্রমণেই এবং এখন সে নেফারের সাথে তা করতে যাচ্ছে।
নেফার তাকে আসতে দিল, তার চলন পরিমাপ করল। তারপর দৃঢ়ভাবে পা দুটো স্থাপন করে সে তার বদ্ধ ডান মুষ্ঠি দিয়ে সিগাসার চোয়ালে আঘাত করল সজোরে, সেই নির্দিষ্ট স্থানে যা টাইটা তাদের দেখিয়েছে। সিগাসার নিজের দৌড়ের ওজন ও গতি নেফারের কাঁধের পূর্ণশক্তির সাথে সংঘর্ষ ঘটল আঘাতের পিছনে। বিশাল মাথাটা পিছন দিকে ভেঙে গেল এবং সিগাসার পাগুলো তার নিচে সেদ্ধ খাবারের মতো নরম হয়ে গেল কিন্তু তার ভরবেগ তাকে বয়ে নিল আরো কিছুক্ষণ। তারপর দাগ দেওয়া পাথরের মাঝে হাত পা ছড়িয়ে সে পড়ে রইল।
