মেরিকারা জোরে ফুঁপিয়ে উঠল, ওহ্! হাথোর, তাকে মরতে দিওনা, সে মিনটাকার বাহুতে নখ বসিয়ে চামড়ায় উজ্জ্বল লাল দাগ ফেলে দিল, কিন্তু মিনটাকা
তা অনুভবই করল না। সে ভয় নিয়ে দেখছিল যখন লাল পাখিটা দুর্বল ভাবে দুলছিল এবং জনতা বন্য ভাবে গর্জন করল।
কালো পাখিটা বুঝল সে জিতে গিয়েছে এবং তার শক্তি ফিরে এল। সে আবার উড়ে শক্তি সঞ্চয় করে ঘুরল, তার ডানা গুলো প্রসারিত এবং উজ্জ্বলভাবে তা চমকাচ্ছে। পাখিটা তার ভারসাম্য ফিরে পাবার আগেই সে লাল মোরগটাকে আঘাত করল। তারপর পাখিটা কোন রকমে উঠে করুণভাবে দৌড় দিল, তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ভর সহ কেননা কালো পাখিটার ওটার উপর তখন। মেয়েরা গর্জন করে উঠল। তাকে যেতে দে, সেথের কালো ছায়া। তাকে বাঁচতে দে!
লাল পাখিটা তাকে নিয়ে দৌড়াল, প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল তার অধিকতর দুর্বল এবং অবশেষে সে পড়ে গেল।
সে মৃত! কেউ একজন জোরে বলল, লড়াই শেষ। ধাওয়াকারীদের যেতে দাও।
না! সে এখনো জীবিত। মিনটাকা ভয়ংকর ভাবে চিৎকার করে উঠল।
কালো পাখিটা লাল পাখিটাকে ছেড়ে দিল এবং তার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তার শক্তি ও সাহসের শেষটা নিয়ে লাল পাখিটা নিজেকে দাঁড়াতে বাধ্য করল এবং দুলতে দুলতে দাঁড়াল, দুই ডানা বালিতে ঝুলিয়ে এবং তার গালের ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছে।
কালো পাখিটা মনে হল তাদের মধ্যকার দূরত্ব হিসাব করল, তারপর আরো একবার সে শূন্যে উঠল এবং এক মুহূর্তের জন্য তার শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং পায়ের নখগুলো পুরো শক্তিতে ঢুকিয়ে দিল ওটার হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস দিয়ে। লাল মোরগটা তার নিচে গড়িয়ে পড়ল এবং শুয়ে পড়ল। তার চঞ্চ নিরব মৃত্যুর কান্নায় নেতিয়ে পড়ল এবং তার ডানাগুলো ভগ্নভাবে কাঁপছে।
কালো মোরগটা মৃত দেহটার সামনে দাঁড়িয়ে রইল, তার মাথা পিছনে নিয়ে বিজেতার ডাক দিল যা মনে হল মিনটাকার মেরুদন্ড ছিঁড়ে নামল এবং তাতে কাঁপন ধরাল।
প্রভু কথা বলেছেন। এটা শেষ। হিল্টো ছিন্ন ও রক্তাক্ত মৃত দেহটা ঘাড়ে ধরে তুলল এবং বেস এর মন্দিরের পতাকা পড়ে গেল। সে রথীদের দিকে ঘুরল যারা তাদের ঘোড়ার দলের পিছনে গুটি সুটি মেরে আছে।
তোমরা রেড রোডে যেতে মুক্ত! চিৎকার করে বলল সে। মৃত্যু অথবা বিজয়ে সওয়ার হও! দীর্ঘ চাবুকগুলো তখন আওয়াজ তুলল, ঘোড়াগুলো তাদের মাথা নিক্ষেপ করল, তাদের কেশর দোলালো এবং দশটা যুদ্ধের রথ একবারে এক সাথে সভাস্থল ঘুরে এল। মহিলারা চিৎকার দিল এবং পুরুষের উল্লাস করে উঠল। তারপর তারা শহরের ফটক দিয়ে বেরিয়ে পাহাড়ের দিকে চলল, পতাকার সারি অনুসরণ করে।
*
নেফার একটু সময় নিল ঘোড়াগুলোকে প্রশ্রয় দিতে ও আশ্বস্ত করতে; সে প্রতিটির ঘাড়ে একটি করে হাত দিয়ে দাঁড়াল এবং তাদের ফিসফিসিয়ে সাহস জোগাল। তারপর সে দৌড়ে পাদানিতে গিয়ে উঠল এক লাফে। সে তাদের প্রথমে হাঁটার গতিতে, তারপর ধীরে ধীরে দৌড়ের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এল। যখন তারা নিখুঁতভাবে এক তালে সামনে বেগে দৌড়াচ্ছিল তখন সে তাদের গতি কমান্ড দিয়ে পরিবর্তন করল, নীল!
মসৃণভাবে তারা লক্ষ্যের দিকে দ্বিতীয় বারের জন্যে এগোলো এবং তখন সে ম্যারনের হাতে লাগামটা দিল। সে তাকে কোন তিরস্কার করল না, সে জানে ম্যারন এখনো তাদের প্রথম চেষ্টার ব্যর্থতায় কষ্ট পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা এগিয়ে থাকলেও বল্লম পরীক্ষাটা পার হতে পারেনি এখনও। নেফার যতোটা না ব্যর্থ হচ্ছিল ম্যারনের প্রচেষ্টা ছিল বেশি হতাশজনক।
যখন সে তার কব্জিতে চামড়ার ফালিটা প্যাচালো নেফার খেয়াল করল ক্রুসের কানটা কোন সংকেতের অপেক্ষায়, যে আবার পদক্ষেপ ভাঙ্গতে পারে। কিন্তু সে তা সামনে খাড়া করে রেখেছে এবং ঠিক মতো দৌড়াচ্ছে। সে সারিটা নিখুঁতভাবে ধরে রাখল যখন তারা প্রথম লক্ষ্যের সামনে এল এবং তার বল্লমটা মধ্যের লাল বৃত্তে ঢুকে গেল এবার। মনে হল যেন সাথে সাথেই দ্বিতীয় লক্ষ্যটা এসে গেল, সে মসৃণ ভাবে নিক্ষেপ করল এবং তীক্ষ্ম প্রান্ত গভীরভাবে ভেতরের বৃত্তে ঢুকে গেল। তার পাশে ম্যারন চুপ, তার সর্ব শক্তি ও প্রচেষ্টা দিয়ে দলটাকে চালাচ্ছে।
তৃতীয় বল্লমটা সূর্য রশ্মির ন্যায় জ্বলে উঠল যখন তা দূর দূরত্ব অতিক্রম করল এবং শাবাকো আরেকটি আঘাতের জন্যে লাল পতাকা তুলল।
শেষ বলুমটা নেফারের হাতে, চামড়া ফালিটা দৃঢ় ভাবে তার কব্জিতে প্যাচানো, সে ঘোড়াগুলোকে গুন গুন করে বলল, তার কণ্ঠ দৃঢ় ও বিশ্বস্ত, আরো একবার। মাত্র আর একবার আমার জন্যে!
মনে হল জুস নিজেকে একত্রিত করল ও তার চিবুক ঠেসে ধরল, সুন্দর ভাবে সারিটা ধরল সে এবং যখন নেফার নিক্ষেপ ওটা করল সে জানত তা লাল বৃত্তে আঘাত করতে যাচ্ছে। সে তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করল যখন ওটা স্থির হল উড়ন্ত অবস্থাতে।
হা! হা! চলে এসো এবং তারা সামনে বাড়ল মসৃণগতি থেকে পূর্ণ বেগে, এতো জোরালোভাবে যে নেফারকে তার পা দৃঢ় করতে হল এবং পিছনের পতন রোধ করতে রশিটা ধরতে হল।
শাবাকো তার মাথার উপর লাল পতাকাটা দুলালো এবং তার কণ্ঠে পরিষ্কার শোনা গেলম, বাক হারা! মহামান্য! আপনি নিখুঁত!
কিন্তু নেফার জানে তারা কখনো রাস্তাটুকু পুষিয়ে নিতে পারবে না যা তারা হারিয়েছে এবং ধাওয়াকারীরা এরই মধ্যে দ্রুত ও কঠিন ভাবে আসছে তাদের পিছনে।
