তাই যখনই তার কানে পৌঁছেছে যে ফরাও ট্যামোসিয়ান সাম্রাজ্যের কেউ রেড রোডে অংশ নিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে তার এই চ্যাম্পিয়নদের প্রায় অর্ধ পৃথিবী ঘুরিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে তার বিপক্ষে অংশ নিতে। সে এই খেলাটা পছন্দ করে, আর তাই এ জন্যে কোন খরচা নিতেও সে ইচ্ছুক নয়, উপভোগ করাটাই মূল উদ্দেশ্য।
তার যোদ্ধা ভ্রাতারা প্রাচীন শহরটির এক স্থানে তার ও তার দলের জন্য একটি স্থান প্রস্তুত করে দিল এবং পর দিন তাদের সম্মানে এক ভোজের আয়োজন করা হল, সেখানে শুধু নেফার ও ম্যারনকে নিমন্ত্রণ করা হল না। এর কারণ আর কিছুই নয়, প্রতিযোগীতার পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরিচয় না ঘটানো আর কি।
পরের দিন থেকে আর্টেলার বাহিনী ধারাবাহিক কঠোর অনুশীলনে নেমে পড়ল। যাই হোক টাইটা তার কাছে অপরিচিত কেউ ছিল না। যেদিন আর্টেলা তার বাহুটা হারাল এবং তা আক্রান্ত হয়ে পচন ধরেছিল এবং তার জীবন মরণাপন্ন, তখন টাইটা এগিয়ে এসে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ায় সে অল্পতে রক্ষা পায়। আর্টেলা তাই তাকে তাদের অনুশীলন পর্বে আমন্ত্রণ জানাল এবং সবচেয়ে রূপবতী মেয়েটি তার সেবায় শরবত নিয়ে এল। মেয়েটি টাইটাকে দেখল তার সেই সর্বনাশা মনোহরী দৃষ্টি নিয়ে।
আলোচনার প্রথমে আর্টেলা তাকে সর্বশেষ সংবাদটা দিল যা সে আসার সময় জেনে এসেছে। মিশরীয়দের মেসোপটেমিয়ার অভিযান সম্বন্ধে। যতোদূর সে জেনেছে রাজা সারগন ও তার আর্মি বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং রাজধানী ব্যাবিলিয়নের দেয়ালের ভেতর অবস্থান করছে। এখন তার পতন শুধু সময়ের ব্যাপার। তারপর জয় শেষে ফারাও এর আর্মি শীঘ্রই মিশর ফিরবে এবং গালালার এই ক্ষুদ্র বাহিনী যা তার সাম্রাজ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ তা উচ্ছেদ করতে মনোনিবেশ দিবে। যখন সে এ কথাটা বলল তার চেহারাটা অর্থপূর্ণ দেখাল, যা তার এই প্রাক্তন বন্ধুর জন্যে সময়াচিত সতর্কতার প্রকাশ বৈকি আর কিছু না।
যখন তারা কুশনে হেলান দিয়ে এসব ছাড়াও অন্যান্য বিষয়াদি যেমন রাজনীতি, ক্ষমতা, যুদ্ধ, ওষুধ, যাদু এবং দেবতারদের নিয়ে আলোচনা করল, টাইটা তখন আর্টেলার বাহিনীর অনুশীলন চুপিসারে অবলোকন করে গেল। এই চ্যাম্পিয়ানরা বেঁচেই আছে প্রতিপক্ষকে হত্যার মধ্য দিয়ে এবং এটাই তাদের একমাত্র আরাধনা।
সন্ধ্যা বেলা টাইটা কক্ষে ফিরে দেখতে পেল নেফার ও ম্যারন তার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমি তাদের অনুশীলন দেখেছি এবং আমি তোমাকে সতর্ক করতে চাই এই বলে যে আমাদের আরো অধিক অনুশীলন করতে হবে টিকে থাকতে চাইলে। সে বলল, আর মাত্র হাতে গুনা কয়টা দিন বাকী রয়েছে।
আমাদের খুলে বল, বৃদ্ধ পিতা। নেফার বলল।
প্রথমে যার কথা বলতে হয় সে হল পোলিওস, কুস্তিগীর… টাইটা বলে গেল, এবং তার শক্তি ও কৌশল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। দ্বন্দ্ব যুদ্ধে তার সমকক্ষ আর কেউ না। তারপর সে তার দূর্বলতাটাও বর্ণনা করল, সে খুঁজে পেয়েছে।
*
প্রতিযোগিতার দশ দিন পূর্বে হিল্টো এবং শাবাকো শহরের সবাইকে ইশতেহার পাঠ করে শোনাল। তারা প্রতিযোগিতার যাবতীয় নিয়ম ও ধারাবাহিকতা বর্ণনা করল বিস্তারিত ভাবে।
কুস্তির অগ্নি পরীক্ষায় ফারাও নেফার সেটি লড়বে উর এর পোলিওসের সাথে। জনতা পোলিওসের নাম শুনে হর্ষধ্বনি দিয়ে উঠল। কেননা সে বিখ্যাত এবং সবাই তার সম্বন্ধে জানে। তার ডাক নাম ব্রেক বেকার। সম্প্রতি সে দামেস্কে একজন লোককে হত্যা করেছে, রিং এ–যে তার সতের তম শিকার।
ম্যারন ক্যামবাসিয়েস লড়বে নুবিয়ার সিগাসার সাথে। তাকেও ভালোভাবে চেনে সবাই। লোকজন তাকে কুমীর বলে ডাকে। কারণ কিছু অদ্ভুত রোগে তার দেহের চামড়া শক্ত, খসখসে, উঁচু-নিচু ও কাল হয়ে গিয়েছে। যার ঘষা খেলে যে কারো দেহ ছিঁড়ে যাবে।
তলোয়ার যুদ্ধের অগ্নি পরীক্ষায় ফারাও নেফার সেটি তাওরিনের খামার সাথে লড়বে।
ম্যারন লড়বে ইন্দাসের ড্রোসার সাথে।
ঐ রাতে মিনটাকা ও মেরিকারা দেবীর উদ্দেশ্যে একটি সাদা ভেড়া বলি দিল এবং কেঁদে তাঁর কাছে তাদের প্রিয় মানুষদের রক্ষা করার জন্যে প্রার্থনা জানাল।
*
রেড রোড দৌড়ানোর সাতদিন পূর্বে পাঁচ যোদ্ধা তাদের চিহ্ন রেখা স্থাপন করল। কেউ, যে একজন রাজার বিনুণী করা চুলের গোছা কেড়ে নিতে পারবে, সে-ই অমরত্ব প্রত্যাশা করবে। হিল্টো তাদের অবগতি করল যে এক খন্ড বিনুণী করা চুলের গোছা পাঁচ কিউবিট উঁচুতে বাঁধা থাকবে এবং যে প্রথমে ওটা কেড়ে নিবে কৃতিত্ব তার। সে পাঁচ হাজার টেইল স্বর্ণ পাবে, যা কোন চমৎকার এলাকা কেনার জন্যে যথেষ্ট, যখন সে তার নিজ ভূমে ফিরে যাবে। সেই সাথে পুরস্কার হিসেবে সে রেড রোডের যাবতীয় অস্ত্র নিজের জন্য পাবে। পাঁচ যোদ্ধাকে একে একে হারিয়ে চূড়ান্তে পৌঁছাতে হবে এবং শুরুটা হবে কেন্দ্রীয় চত্বর হতে।
*
প্রতিযোগিতার সাত রাত পূর্বের রাতে মিনটাকা নেফারকে তার বাহুতে নিতে অস্বীকৃতি জানাল। আমার ভালোবাসা তোমাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
হুরাসের পূর্ণিমার একদিন আগে সবাইকে বিশ্রাম নিতে আদেশ করল টাইটা। ডোভ এবং ক্রুসকে ঝর্ণার ধারে মাঠে নীরবে চরতে দেখা গেল। মেরিকারা এক ঝুড়ি কমলা, দুররা কেক ও অন্যান্য ফল নিয়ে ঝর্ণার ধারে ম্যারনের পাশে বসে ঘোড়া দুটোকে দেখছিল। মেরিকারা হাঁটুগেড়ে তার পিছনে বসে চুলগুলো বিনুণী করে দিচ্ছিল পিঠের উপর দিয়ে। সে তার মুখটা ম্যারনের চুলের ভেতর গুঁজে দিল, এক অদ্ভুত ভালো লাগায় সে রাঙা হল। এতো সুন্দর সুবাস। কোন কিছুই যেন আমার কাছ থেকে তোমাকে কেড়ে নিতে না পারে।
