তীরটাও বাতাস অনুভব করল এবং প্রত্যক্ষ ভাবে উড়ার দিক পরিবর্তন করল। এটা লক্ষ্যের দিকে পড়ল, এবং লাল লক্ষ্য বস্তুটার কাছ থেকে তিন হাত দূরে পড়ল।
এই প্রতারক বাতাসের উপর সেথ বমি করুক! নেফার অভিশাপ দিল।
হালকা তীর এটা বেশি অনুভব করবে। টাইটা বলল এবং হেঁটে ছোট এক্কা গাড়ির কাছে ফিরল যা অতিরিক্ত ধনুক ও তীরের খাপ বহন করছে। চামড়ার খাপে মোড়ানো দীর্ঘ বান্ডিল নিয়ে সে ফিরল।
না! নেফার বলল, সে টর্কের বিশাল যুদ্ধের ধনুকটা তখন খুলল। এটা আমাকে আরো ভালো করে!
কখন তুমি এটি টানার শেষ চেষ্টা করেছো? টাইটা তাকে জিজ্ঞেস করল।
যে দিন আমরা এটা মাটির নিচ থেকে বের করলাম। জবাব দিল নেফার।
তোমার জানা উচিত। তুমিও সেখানে ছিলে।
তা ছমাস আগের কথা, টাইটা বলল এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে নেফারের নগ্ন বুকে ও বাহুতে নজর বুলালো। মাংসেপেশী বাঁকানো, সিডার কাঠের ন্যায় শক্ত হয়ে গিয়েছে। সে ধুনকটা তার হাতে দিল।
বিষণ্ণভাবে নেফার ওটা নিয়ে তার হাতে ঘুরালো। সে দেখল এটা মেরামত করা হয়েছে। ধাতুর সুন্দর তার তাতে বাধা হয়েছে এবং তা চকচক করছিল। ধনুকের গুণটা নতুন, সিংহের সামনের পায়ের পেশী তম্ভ শুকিয়ে পাকানো হয়েছে। যততক্ষণ না ওগুলো ব্রোঞ্জের মত শক্ত অনমনীয় হয়েছে।
অসম্মতি তার ঠোঁটে আবার উঠল কিন্তু তারা বেরোলো না কারণ টাইটা তাকে দেখছিল। সে ধনুকটা তুলল এবং জায়গামত তীর না লাগিয়ে তা টানার চেষ্টা করল। অর্ধেক কিউবিট টানার পর তার বাহু জমে গেল এবং মাংসপেশী বুকে আড়া আড়ি শক্ত হয়ে গেল, তবু তা আর নড়ল না। সর্তক ভাবে নেফার চাপটা ছেড়ে দিল এবং ধুনকের গুণ বিশ্রাম নিতে ফিরল।
আমাকে এটা ফিরিয়ে দাও। টাইটা তার থেকে অস্ত্রটা নিতে হাত বাড়াল। তোমার না আছে শক্তি, না রয়েছে সংকল্প।
নেফার তার হাত থেকে ঝাঁকি দিয়ে তা সরিয়ে নিল এবং তার ঠোঁটগুলো চিকন ও সাদা হয়ে গেল, চোখ ঝলসে উঠল। তুমি সব কিছু জান না, বৃদ্ধ মানুষ, যদিও তুমি মনে কর যে সব জান।
সে গাড়ির কাছে পৌঁছে তাকের উপর রাখা খাপ থেকে টর্কের সীল আঁকা দীর্ঘ ভারি তীর গুলোর একটা টেনে নিল। ধনুকটার মত এটাও সমাহিত রথ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সে দীর্ঘ পদক্ষেপে তীর ছোঁড়ার স্থানে ফিরল এবং তার অবস্থান নিল। সে তীরটা লক্ষ্য স্থির করল। তার বক্ষ ফুলে উঠল এবং একটা বড় নিঃশ্বাস নিল সে। একটা চোখ চেপে সে টানতে শুরু করল। ধীরে ধীরে টেনে গুণটার মধ্যবর্তী স্থানে তীরটি নিয়ে এল। বিতৃষ্ণার একটা শব্দ করল সে এবং তার শ্বাস তার গলা দিয়ে শাঁ শাঁ আওয়াজ করে বের হল, তার বাহুর মাংসেপেশী গুলো উঁচু ও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে এবং সে তা পূর্ণ টেনে আনল, গুণটাকে একজন প্রেমিকের মত চুমু খেল তারপর। ঐ একই সময় সে ওটা ছেড়ে দিল এবং ভারি তীরটা লাফ দিয়ে চলে গেল। লক্ষ্যের অনেক উপর দিয়ে ওটা উড়ে গেল, গেল এবং দ্বিগুণ দূরে গিয়ে পড়ল। তারপর পাতলা মাথাটা দূর পাহাড়ে আঘাত করে উজ্জ্বল স্ফুলিঙ্গ তৈরি করল এবং আঘাতের ভয়ংকর শক্তিতে বানটা মট করে ভেঙ্গে গেল।
নেফার অবাক হয়ে তীরটার পিছনে চেয়ে রইল। টাইটা বিড়বিড় করে বলল, সম্ভবত তুমি ঠিক।
নেফার ধনুকটা ফেলে দিল এবং তাকে জড়িয়ে ধরল। তুমি যথেষ্ট জান, বৃদ্ধ পিতা; সে বলল। যথেষ্ঠ আমাদের সবার জন্য।
*
টাইটা এরপর নেফার ও ম্যারনকে মরুভূমিতে নিয়ে গেল, তিন দিন ধরে রুক্ষ ও সুন্দর ভূমিতে ভ্রমণ করল তারা। সে তাদের লুকানো উপত্যকায় নিয়ে গেল যেখানে কালো তরল পাহাড়ের গভীর খাজ দিয়ে চুঁইয়ে পড়ে। এটা সেই পুরা আঠালো বস্তু যা তারা থেইনে ঘোড়া দখলের সময় শিয়ালের পশমি লেজে মেখেছিল।
তারা তাদের সাথে আনা মাটির পাত্রগুলো পূর্ণ করল এবং গালালার কর্মশালায় ফিরল। টাইটা কালো তরল বিশোধন করে ধীর আগুনে তা ফুটালো যতোক্ষণ না এটা সুন্দর সিল্কের মত পিচ্ছিল হল। এটা চাকার নাভি গোলককে পিচ্ছিল, মসৃণ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে, শূকর চর্বি বা অন্য কোন বানানো তেল থেকে বেশি। এটা তোমাকে প্রতি হাজারে পঞ্চাশ কদম বেশি সহায়তা দিবে। সম্ভবত সফলতা ও ব্যর্থতার মধ্যে পার্থক্য এনে দিবে, অথবা এমনকি জীবন ও মরণের মধ্যেও।
নেফার রেড রোডে রাজকীয় রথটা চালানোর ইচ্ছা পোষণ করল, কিন্তু টাইটা তাকে উল্টো জিজ্ঞেস করল, তুমি কি সত্যিই একটা সোনার শবাধারে চড়তে চাও?
সোনার কারুকার্যের ওজন মাত্র দুই টেল। তুমি নিজেই ওটাকে বেশি ভারি করেছে।
এটা তখন দুইশ হবে যখন তুমি সেখানে বেরিয়ে যাবে।
টাইটা ১০৫টা রথের প্রত্যেকটির কাছে গেল যেগুলো তারা বালির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্য থেকে দশটা সে বাছাই করল এবং তাদের খুলে ফেলল। সে কাঠামো ওজন করল এবং যানগুলোর প্রতিটি জোড়ার শক্তি পরীক্ষা করল।
সে চাকাগুলো তাদের নাভি গোলকে ঘোরালো, চোখের মাপে তাদের ঘূর্ণনের নূন্যতম কম্পন বিচার করল। অবশেষে সে তার চূড়ান্ত পছন্দ করল।
সে পছন্দ করা যানের নাভিগোলক বদলে দিল যাতে চাকাগুলো একমাত্র ব্রোঞ্জের পিন দ্বারা ধরে রাখা যায় যেটা হাতুড়ির এক আঘাতেই বের করতে পারা যায়। সে রথটা আবার জোড়া দিয়ে ড্যাশবোর্ড এবং পাশের প্যানেল বাদলে দিল। অতিরিক্ত বিন্দু পরিমাণ ওজন থেকে এটাকে মুক্তি দিল সে। ড্যাশবোর্ড ও প্যানেলের সাহায্য ছাড়া রথীদের সম্পূর্ণ তাদের নিজের ভারসাম্যতা জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হবে এবং রশির একটা ভাঁজ পাদানিতে লাগানো রইল যা তাদেরকে সবচেয়ে রুক্ষ ভূমিতে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করবে। সব শেষে সে চাকার চক্র দন্ডে তেল লাগালো যা মরুর কুয়া থেকে আনা কালো গ্রীজ দিয়ে তৈরি করেছে সে।
