বিশ জন তোক সামনে দৌড়ে গেল খননের যন্ত্রপাতি নিয়ে যা তাদের দেয়া হয়েছে। হিল্টো ও ম্যারনের নির্দেশনায় ও ম্যাগোসের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তারা খনন করতে শুরু করল। যখন গর্তটা বাঁধ সমান গম্ভীর হল তখন খোলা বালি নিচে পড়তে লাগল ততোটাই দ্রুত যতো দ্রুত তারা তা বের করেছে, এবং চেষ্টা দ্বিগুণ করতে হলো তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্যে। খননকারীদের মাথাগুলো দ্রুত চারপাশের মাটির সমতলের নিচে ধীরে ধীরে ডুবে গেল, এমন সময় গর্তের তলা থেকে উত্তেজিত চিৎকার এলো। নেফার সশব্দে দৌড়ে সামনে গেল ও কিনারায় গিয়ে দাঁড়াল।
এখানে কিছু আছে, মহামান্য, একটা লোক গর্তের তলায় হাঁটুগেড়ে বসে আছে।
আমাকে দেখতে দাও, নেফার লাফিয়ে নামল এবং লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে সামনে থেকে সরাল। একটি লুকানো বস্তু উম্মোচিত হলো এখনো চুলে ঢাকা কিন্তু সিডার কাঠের ন্যায় শক্ত।
নেফার টাইটার দিকে তাকাল। এটা একটা ঘোড়ার দেহ! সে ডেকে বলল।
কি রঙের? টাইটা জানতে চাইল। এটা কি কালো?
তুমি কি ভাবে জানলে? নেফার প্রকৃতপক্ষে অবাক হলো না।
ঘোড়ার গলার দড়িতে কি ফারাও টর্ক উরুর স্বর্ণের সীল আছে? টাইটা আরেকটি প্রশ্ন দিয়ে তার প্রশ্নের উত্তর দিল।
খনন করে এটাকে বের কর! নেফার তার চারপাশের ঘর্মাক্ত লোকদের আদেশ দিল। কিন্তু এখন আলতোভাবে। কোন ক্ষতি করো না।
তারা সতর্কতার সাথে কাজ করে গেল, এবার তারা হাত ব্যবহার করল বালি সরাতে। শীঘ্রই তারা কালো ঘোড়াটার সম্পূর্ণ মাথা বের করল যার মাথায় টর্কের স্মারক পরিহিত, স্বর্ণের পাতে খচিত ঠিক যেমনটা টাইটা পূর্বে দেখেছে।
তারপর তারা মৃত দেহটার অবশিষ্টাংশ বের করতে শুরু করল। প্রাণীটা গরম শুষ্ক বালি দিয়ে ভালোভাবেই সংরক্ষিত হয়েছে, মমি করলে যেমনটা হয়। তাছাড়া এর সাথে তার হার্নেসের সঙ্গীটাও পড়ে আছে, অন্য একটা খোঁজ না করা ঘোড়া যা। নেফারের মনে করল কিভাবে সে এই চমৎকার প্রাণীগুলোকে শেষবার দেখেছিল যখন প্রাণীগুলে টর্কের রথ সামনে টেনে নিচ্ছিল কালো হয়ে আসা খামসিনের ধুলোর মেঘের নিচে দিয়ে।
ইতোমধ্যে রাত নেমে এলে কর্মীরা তেলের প্রদীপ জ্বালালো ও গর্তের ধারে তা সাজিয়ে রাখল। সারারাত কাজ করে মৃত ঘোড়গুলোকে বাঁধন থেকে মুক্ত করে বের করল তারা। শুষ্ক মৃত দেহগুলো এতো হালকা যে চারজন লোক সহজেই তা বহন করতে পারল।
তারপর তারা হার্নেসটি বের করে আনল। এটা পুরোপুরি সংরক্ষিত ছিল, এবং নেফার সেটি তার সহিসদের সঙ্গে সঙ্গে কাজে লাগিয়ে দিল–চামড়ায় তেল দিতে এবং স্বর্ণের ও ব্রোঞ্জের অংশগুলো পালিশ করতে।
আবার তারা রথে কাজ করতে ফিরল এবং খনন কারীদের মাঝ থেকে একটা চিৎকার এলো যখন ড্যাশবোর্ডটা ঘিরে থাকা বালি পরিষ্কার হলো। এটা সোনার পাতে ঢাকা এবং প্রদীপের আলায় ঝিকিমিকি করছে, আলোটা তাদের চোখ ধাধিয়ে দিচ্ছে। বল্লমগুলো ও বর্শাগুলো এখনো তাদের পটে বাঁকা পিঠের পাশে রথীর হাতের কাছে প্রস্তুত। প্রতিটি অস্ত্র নিজেই একটা শিল্প। বর্শার হাতলগুলো শক্তির জন্য স্তরে স্তরে বিন্যস্ত এবং ধাতব মাথাগুলো শস্যবিদের ছোট ছুরির ন্যায় ধারালো। তীরগুলো অ্যাভারিসের গ্রিপ্পার তৈরি, বানগুলো সোজা ও যথার্থ; পুচ্ছটা লাল, হলুদ ও সবুজ রঙে রাঙানো, বানের মধ্যে রাজ সীলমোহর আঁকা।
টর্কের বিশাল যুদ্ধের ধনুক এখনো ওটার তাকে রয়েছে এবং শুধুমাত্র ধনুকের তারটা লাগানো বাকি। নেফার বর্শাটা হাতে নিল এবং আফসোস করল যদি তা যুদ্ধে ব্যবহার করার শক্তি তার থাকত।
যখন সমস্ত রথটা অবমোচিত হলো, তারা তলদেশের নিচ দিয়ে রশি ঢুকালো এবং গর্ত থেকে তা টেনে বের করল। সোনার পাতগুলোকে পিটিয়ে এতো পাতলা করা হয়েছে যে এগুলো যানটার ওজনে কমই যোগ করেছে এবং তলদেশটা কালো শক্ত কাঠে তৈরি করা, যা অনেক দূর মিশরের দক্ষিণ সীমান্তের অশুভ রেইন ফরেস্ট থেকে সংগ্রহ করা। এসব গুঁড়ি সর্বোত্তম ব্রোঞ্জ থেকে অধিক স্থিতিস্থাপক, কিন্তু হালকা ও শক্ত। শক্তি না হারিয়ে ওজন বাঁচাতে তারা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এখন সকাল, এবং সূর্য দিগন্তে উঁকি দিচ্ছে। নেফার ও টাইটা রথটা ঘিরে ছিল যখন তা আলোতে ঝিকিমিকি করল। এটা এতো চকচকে ও মাধুর্যময় যে মনে হল ইতোমধ্যে এটা চলছে, শুধু মাত্র প্রেমিকের মতো দুটি গর্বিত ঘোড়ার স্পর্শের অপেক্ষায় নেফার স্বর্ণের কারুকার্যে হাত বুলালো। তা একজন আকর্ষণীয় রমনীর ত্বকের মতই মসৃণ এবং তার হাতের নিচে উষ্ণ।
মনে হচ্ছে এটা একটা জীবন্ত প্রাণী, সে একটা বড় শ্বাস ছাড়ল।
নিশ্চিতভাবে এর চাইতে চমৎকার যুদ্ধের অস্ত্র কখনো তৈরি হয় নি।
পঞ্চাশ বছর আগে আমি লর্ড ট্যানোসের জন্য একটা রথ তৈরি করেছিলাম। টাইটা অবজ্ঞা করল ও মাথা ঝাঁকালো। তোমার ওটা দেখা উচিত ছিল। কিন্তু তা তার সাথে তার কবরে বহুদূরে ইথিপিয়ায় বিশ্রামে এখন।
নেফার হাসি লুকালো–বৃদ্ধ লোকটি কখনোই সর্বোত্তমটা স্বীকার করবে না। তাহলে আমাকে এখন অবশ্যই এই নিচু কারুকার্যের বস্তুটি দ্বারা সম্ভষ্ট থাকতে হবে। সে গম্ভীর ভাবে বলল। এখন শুধু আমার অস্ত্রাগারটা সম্পূর্ণ করতে নীল তলোয়ারটি দরকার যা নাজা আমার পিতার কাছ থেকে চুরি করেছে।
