পরবর্তী সপ্তাহ ও মাস জুড়ে টাইটা সমাহিত যানগুলো ও তাদের সরঞ্জাম চিহ্নিত করল, পারদর্শী লোকের একটা দল তাদের খনন করে বের করে সেগুলো রথ তৈরি কারিগরদের কাছে পাঠাল যারা পাহাড়ের চূড়ায় একটা কর্মশালা স্থাপন করেছে, শুকনো তাল পাতা দিয়ে ওটার ছাদ দেওয়া। এখানে, তাদের পঞ্চাশ জন এবং কাছেই আরো একশ অস্ত্র মেরামতকারী দিনের বেলা পরিশ্রম করে গেল, দুপুরের তীব্র তাপেও তা বন্ধ রাখল না। কারিগরেরা তলোয়ার, বল্লম ও বর্শাগুলো চকচকে ও ধারালো করল। তারা পুনরায় বান বাঁধল ও মাথাগুলো পুনঃস্থাপন করল। ধীর আগুন দিয়ে তারা তীরগুলো সোজা করল যেগুলো বেঁকে গিয়েছিল। রথ কারিগরেরা প্রতিটি রথ খুলে ফেলল যখন তা বালির নিচ থেকে বেরিয়ে এল; প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করল, রং করল এবং তলদেশ ও প্যানেল শক্ত করল এবং সুষম করল ও তৈলাক্ত পদার্থ চাকায় লাগাল যথার্থ ও ভালোভাবে চলার জন্যে। তারপর তারা তাদের একত্রিত করে গালালায় পাঠাল, ঠিক করা অস্ত্রে পরিপূর্ণ আর্মিদের সজ্জিত করতে যাদের হিল্টো, শাবাকো ও সোক্কো প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
অনেক যান তপ্ত হলুদ বালিয়াড়ির এতো গভীরে চাপা পড়েছিল সে তারা চিরতরে হারিয়ে গেল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ১০৫টা উদ্ধার করল যা পাঁচটি দলকে সজ্জিত করতে যথেষ্ট।
যখন নেফার রাজকীয় রথে চড়ে গালালার ফটক দিয়ে চলল, ম্যারন তার পাশে পাদানিতে অবস্থান নিল।
মিনটাকা ও মেরিকারা এক সাথে থোরের মন্দিরের ত্রিকোনা ছাদে দাঁড়িয়েছিল, এবং করবী ফুলের পাপড়ি তাদের উপর ছিটালো যখন তারা নিচ দিয়ে গেল।
সে খুব সুন্দর। মেরিকারার কণ্ঠে গর্ব ফুটে উঠল। এতো লম্বা ও সুন্দর।
লম্বা, সুন্দর ও শক্তিশালী, মিনটাকা সম্মত হলো। সে এই মিশরের ইতিহাসের সবচাইতে মহান ফারাও হবে।
আমি নেফারের কথা বলি নি। মেরিকারা বলে উঠল।
*
এরই মধ্যে শহরটি ও মিশরের মধ্যে একটা বলিষ্ঠ চোরা যোগাযোগ গড়ে উঠেছে এবং পূর্বের সাগরের সাফাগা বন্দর থেকে নিয়মিত অন্যান্য ক্যারাভান আসতে লাগল। টর্ক ও নাজার ধন-রত্ন দখল করার পর হতে গালালা স্বর্ণ সমৃদ্ধ একটা শহর হয়ে উঠেছে। হায়েনার ন্যায় ব্যবসায়ীরা বহু দূর থেকে হলুদ ধাতুর গন্ধ পেল এবং তাদের পণ্য সামগ্রী দুনিয়ার শেষ প্রান্ত থেকে নিয়ে এল বিক্রি করতে। বর্তমানে এমন কোন বিলাসপণ্য বা প্রয়োজনীয় পণ্য ছিল না যা শহরে পাওয়া যায় না, তাই মিনটাকাকে বুশিরিস এর অশিরিশ মন্দিরের আঙ্গুর বাগান থেকে সর্বোত্তম লাল মদের এক ওয়াগন সংগ্রহ করতে কষ্ট হল না স্বাগত ভোজ সভার জন্যে, যেদিন রথীরা ফিরল সেদিন সন্ধ্যায় যার আয়োজন করল সে।
তার আদেশে কসাইরা দশটি বড় ষাঁড় বিদ্ধ করল ও পোড়ালো এবং সেই সাথে শত শত মুরগি ও হাঁস। নতুন রথের দ্রুত চালানে সতেজ মাছ ও শৈবালে থাকা গলদা চিংড়ির ঝুড়ি এল উপকূল থেকে। অধিকাংশ লম্বা গোঁফওয়ালা কাঁকড়া জাতীয় প্রাণীগুলো তখনো জীবিত ছিল যখন তাদের চি-চি শব্দে ফুটন্ত পানিতে ফেলা হল। শিকারীরা মরুর চতুর্দিক গেল এবং গজলা হরিণ, অরিক্স এবং অস্ট্রিচের মাংস ও ডিম নিয়ে ফিরল।
ভোজ সভাটা তাদের অর্জনের ও নকল ফারাওদের বিরুদ্ধে ছোট জয়ের একটা আনন্দ মুখর উদযাপন ছিল। মদের তীব্র প্রবাহ বয়ে গেল যখন নেফার অতিথিদের স্বাগত জানাতে ও সৈন্য দলের জন্যে পাঁচটি রথ বালির নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে তা ঘোষণা করতে উঠে দাঁড়াল। ঘোড়াগুলো সহ যা আমরা টর্কের শোষণ থেকে মুক্ত করেছি… এই কথায় সবার মাঝে অট্টহাসি ছড়িয়ে পড়ল, …এবং অস্ত্র ও রথসমূহ যা আমাদের এখন আছে, আমরা তা দিয়ে নিজেদের টর্ক ও নাজা থেকে ভালোভাবে রক্ষা করতে সক্ষম। যেমনটা আপনারা জানেন, প্রতিটি দিন যা
অতিক্রম করছে নীলের ব্যানারে। শীঘ্রই এটা আমাদের নিজেদের শুধুমাত্র রক্ষার বিষয় হবে না বরং যা আমাদের কাছে থেকে চুরি হয়েছে তা ফিরিয়ে নেবার এবং ভয়ংকর কাজগুলোর প্রতিশোধ হবে যা ঐ দুই দৈত্য করেছে। তারা তাদের নিজ হাতে প্রকৃত ও মহান রাজাদের খুন করেছে। তারা রাজা অ্যাপেপির খুনী; যে আমার পাশের সম্মানিত রমণীর পিতা, এবং তারা আমার নিজের পিতাকেও হত্যা করেছে, ফারাও ট্যামোসকে। অতিথিরা এখন নিরব ও হত বিস্মিত, নির্দেশনার জন্যে এক জন অন্য জনের দিকে তাকাচ্ছে। তখন হিল্টো উঠে দাঁড়াল। নেফার তাকে অনুমতি দিল এবং তার মুখে প্রশ্ন এল। মহামান্য, আমার অজ্ঞতা ক্ষমা করবেন কারণ আমি একজন সাধারণ মানুষ, কিন্তু আমি বুঝি নি। সমগ্র পৃথিবী জানে রাজা অ্যাপেপি দূর্ঘটনায় মারা গেছে যখন তার জাহাজে আগুন লাগে, যখন বালাসফুরায় তারা সবাই ছিল। কিন্তু এখন আপনি তার মৃত্যুর জন্য দোষটা প্রতারকদের দিচ্ছেন। তা কিভাবে হতে পারে?
আমাদের মাঝে একজন আছে যে ঐ নির্মম রাতের প্রকৃত ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। নেফার হাত বাড়াল ও মিনটাকাকে দাঁড় করাল। অতিথিরা তাকে অভিবাদন দিল কারণ তারা সবাই তাকে তার সৌন্দর্য ও তার মাধুর্যমন্ডিত স্পৃহার জন্যে ভালোবাসে। নেফার তার হাত উঠাতেই তারা শান্ত হলো এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল। সে তাদের সাথে বন্ধু ও সহযোদ্ধার মতো কথা বলল, এখন সে তাদের সাথে তার নিজের ভয় ও দুঃখ ভাগাভাগি করতে সক্ষম। যখন সে শেষ করল তারা খাঁচায় বন্দী ক্ষুধার্ত সিংহের ন্যায় গর্জন করতে লাগল।
