গিরিখাতের মুখে একজন দৃশ্যমান হল এবং সৈন্যটি তার ঘোড়া থামাল যখন সে চামড়ার থলেটা পথে পড়ে থাকতে দেখল। সে সতর্কভাবে চারপাশে দেখল এবং তার বাকি সৈন্য তার পিছনে ভিড় করল। এমনকি কুমিরের চামড়ার হেলমেটের নিচ দিয়ে নেফার সোক্কোকে চিনতে পারল এবং তার পিঠে কাঁধের উপর দিয়ে চাবুকটা উঁকি দিচ্ছে।
প্রতিঘাতের উপযুক্ত সময়, নেফার দাঁত চেপে ভাবল। অভিজ্ঞ সৈন্যের ন্যায় সোক্কো সময় নিল পরিস্থিতি বুঝতে, কিছু একটা তার মনে সন্দেহ জাগিয়েছে। সে তার ঘোড়াকে একটু এগিয়ে নিয়ে গেল, বাকিরাও তাকে অনুসরণ করল। সবার দৃষ্টি তখনও থলেটির দিকে, ঘোড়ার পিঠে উবু হয়ে তারা ওটা দেখছে। সোক্কো হঠাৎ আদেশ করল, সবই সতর্ক হও! আমার পিছন দিকটা লক্ষ্য রাখবে। বলেই সে ঘোড়া থেকে নেমে পড়ল। এগিয়ে গিয়ে সে থলেটার উপর থামল। নেফার তখন তার বাম হাতটা উঠিয়ে নির্দেশ দিতেই তার লোকেরা পাথর নিক্ষেপ শুরু করল। তারা একেক জনকে লক্ষ্য স্থির করে আঘাত হানছে এবং হিল্টো ও শাবাকো আগে থেকেই সমঝোতা করে প্রস্তুতি নিয়েছে যেন তাদের উভয়ে একই লক্ষ্যে আঘাত না করে। পাঁচ জন সেনা এমন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হল যেখনে কোন বর্ম পরিধান করা থাকে না, তিন জনের গলায় এবং বাকি দুজন পিছনে ঘাড়ে আঘাত পেল। এই পাঁচ জন ঝুপ করে ঘোড়া থেকে নিচে পড়ে গেল এবং সাথে সাথে তাদের স্টারলেটের খুড়ের নিচে পতিত হলো।
নেফার ও তার লোকজন তখন চিৎকার করতে করতে অ্যাম্বুশ থেকে বেড়িয়ে এল উদ্যত তলোয়ার হাতে, হুরাস এবং সেথের নামে!
প্রথম আঘাতের ঝাঁপটা সামলে যে সকল যোদ্ধা টিকেছিল তারা দ্রুত ঘুরে তাদের মুখোমুখি হলো, কিন্তু শাবাকোর তলোয়ারের আঘাত ফেরানোর মতো পর্যাপ্ত সময় তারা পেল না। ঘোড়াগুলো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, সোক্কোর দুটি ঘোড়া নিজেদের সামলে নিল এবং তার পিঠের আরোহীকে ছুঁড়ে ফেলে দিল।
নেফার সবচেয়ে কাছের লোকটিকে ধরল সে তখনো বসেছিল এবং তাকে কণ্ঠ নালীতে আঘাত করে হত্যা করল। ইত্যবসরে সাক্কো তার তলোয়ার বের করে নেফারের পেটের দিকে তেড়ে এল।
নেফার আঘাতটা ঘুরিয়ে দিল এবং তার ঘোড়া পিছিয়ে গেল। তারপর ঘোড়াটা উভয় খুর দিয়ে সোক্কোতে আঘাত করল, যার একটা ছিল নিরেট আঘাত, বালির উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ল সে। নেফার তাকে শেষ করতে পারার পূর্বে শত্রুদের আরেক জন তার দিকে এগিয়ে এল দ্রুত। তলোয়ার উঁচু করে নেফার আঘাতের নিচ দিয়ে চলে গেল এবং শত্রুকে পাল্টা আক্রমণ করে হত্যা করল।
প্রথম ধাক্কা থেকে সোক্কোর লোকেরা মাত্র সেরে উঠছে, এদিকে ম্যারনও তার পালা সঠিকভাবে পছন্দ করল। সৈন্যদের সাথে এলোমলো লড়াই এর মধ্যে দিয়ে তীব্র ধাওয়া করল সে। এক সৈন্যের হৃদপিন্ড বরাবর আঘাত করে সে বিজেতার চিৎকার দিল। সঙ্গে সঙ্গে সে ফলাটা বিপরীতে ঘুরিয়ে আবার আরেক জনকে হত্যা করল, এক কোপ ঘাড়ের আড়াআড়ি; তার শিকার টুকরো হয়ে মাটিতে পড়ল ছিন্ন মাথা নিয়ে।
সোক্কো তার হেলমেট ও তলোয়ার হারিয়ে ফেলেছে এবং হাঁটুগেড়ে বসে পাগলের মতো হামাগুড়ি দিয়ে তার অস্ত্র আবার ধরার চেষ্টা করল। তার লোকদের মধ্যে এখনো একমাত্র সেই সক্ষম প্রতিরোধ করার জন্য। নেফার তার ঘোড়ার পিঠে শুয়ে কাত হয়ে ভোলা স্থানটা লক্ষ্য করল যেখানে তার কুমীরের চামড়ার বর্ম বুকের অংশে কাঁধের সাথে বাধা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে নিজেকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারল না। সে তার আক্রমণ পরিবর্তন করে হালকা করে তার কব্জি ঘুরিয়ে তলোয়ারের হাতলের কাস্তে আকৃতির ফলার বাঁকা অংশ দিয়ে সোক্কোর ধূসর মাথার পিছনে আঘাত করল। লোকটি উপুড় হয়ে বালিতে পড়ে গেল সাথে সাথে।
নেফার চারপাশে নজর বুলালো নিশ্চিত হতে যে সব কিছু ম্যারনের নিয়ন্ত্রণে কিনা, তারপর পিছলে ঘোড়া থেকে মাটিতে নেমে দাঁড়াল। এমন সময় সোক্কো আর্তনাদ করে তার মাথায় হাত রেখে উঠে বসতে চেষ্টা করল। নেফার সাজোরে তার গোড়ালি তার শত্রুর বুকের উপর রাখল এবং তাকে পিছন হতে ধাক্কা দিয়ে তার তলোয়ারের তীক্ষ্ণ ডগা ধরল তার কণ্ঠে বরাবর। চিৎকার কর সোক্কো, নইলে আমি তোমার মৃত্যুর খবর তোমার মায়ের কাছে, ওই সব একশ দুর্গন্ধময় ছাগলের পালের কাছে পাঠাবো যাদের হাত রয়েছে তোমাকে জন্ম দানে।
একটা বিমূঢ় অভিব্যক্তি সোক্কোর মাঝে স্পষ্ট হলো এবং আড়ষ্ট হয়ে তাকিয়ে রইল।
মহামান্য, সে সজোরো উচ্চারণ করল। আমাকে ক্ষমা করুন, আঘাত করুন, আমার মূল্যহীন জীবন নিয়ে নিন বাজেয়াপ্ত হিসেবে আমার ঐসব অমার্জিত ও অসভ্য শব্দগুলোর জন্যে। আমি গুজবটা শুনেছিলাম যে আপনি এখনো জীবিত কিন্তু আমি আপনার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে কেঁদেছিলাম এবং এই রকম একটা অলৌকিক ঘটনা বিশ্বাস করতে পারি।
নেফার স্বস্তিতে হাসল সে তাকে খুন করতে চায় নি। সে একজন বৃদ্ধ দুবৃত্ত এবং হিল্টো বলেছিল যে সে মিশরের সব আর্মিদের মধ্যে অন্যতম একজন দক্ষ ঘোড়সওয়ার। তুমি কি আমাকে ফারাও হিসেবে তোমার আনুগত্যে শপথ নিবে? নেফার কঠোর ভাবে জানতে চাইল।
আনন্দের সহিত, কারণ সকল দুনিয়া আপনাকে ভয় পায়। আপনার নাম নেফার সেটি, সকল প্রভুর প্রিয় এবং এই মিশরের আলো। আমার হৃদ্স্পন্দন শুধু আপনার জন্যে এবং আমার আত্মা আপনার দায়িত্বের গান গাইবে মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত।
